28/10/2026
❤️❤️❤️ নিষেধাজ্ঞা দিয়েও থামানো যায়নি: ইরান এখন বিশ্বের ৩ নম্বর গ্যাস উৎপাদক!
আমেরিকার ৪৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা, ইউরোপের চাপ, সবকিছুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইরান এখন বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম গ্যাস শক্তি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিজেই এই ঘোষণা দিয়েছেন।
❤️❤️কত গ্যাস উৎপাদন করে ইরান?
পেজেশকিয়ান বলছেন, ইরান এখন বছরে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস উৎপাদন করছে। এই সংখ্যাটা শুনতে ছোট মনে হলেও, এটা বিশাল। এই উৎপাদন দিয়ে ইরান এখন বিশ্বে ৩ নম্বর স্থানে চলে এসেছে।
১ নম্বরে আমেরিকা, ২ নম্বরে রাশিয়া, আর ৩ নম্বরে ইরান।
কিন্তু আসল গল্পটা অন্য জায়গায় - ইরান নিজেই সবচেয়ে বড় ভোক্তা!
ইরান শুধু উৎপাদনেই বড় না, খাওয়ার দিকেও বড়। ইরান বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্যাস ভোক্তাদের মধ্যে একজন।
❤️❤️এর মানে কি?
এর মানে হলো, ইরান যত গ্যাস তোলে, তার বিরাট একটা অংশ নিজের দেশের ভেতরেই পুড়িয়ে ফেলে। বাড়িতে রান্না, বিদ্যুৎ উৎপাদন, কারখানা, শীতকালে হিটিং - সবকিছুতেই গ্যাস লাগে।
ফলে রপ্তানি করার মতো গ্যাস কমে যায়। ইরান চাইলেও কাতার বা রাশিয়ার মতো গ্যাস বিক্রি করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে না। কারণ তার নিজের জনগণেরই এত গ্যাস দরকার।
❤️❤️নিষেধাজ্ঞা তাহলে কি করলো?
পশ্চিমারা ভেবেছিল, নিষেধাজ্ঞা দিলে ইরানের তেল-গ্যাস শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু হয়েছে উল্টো।
ইরান নিজের প্রযুক্তি দিয়ে, নিজের ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের মতো বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস তুলছে। তারা প্রমাণ করেছে, নিষেধাজ্ঞা দিয়ে একটা দেশের মাটির নিচের সম্পদ আটকানো যায় না।
❤️❤️ইরানের শক্তি কোথায়?
আসল শক্তি হলো, ইরানের হাতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্যাস মজুদ আছে। মাটির নিচে এখনো প্রায় ৩৪ ট্রিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস পড়ে আছে।
আমেরিকা চাইলেও এই মজুদ শেষ করতে পারবে না।
কিন্তু সমস্যাটা কোথায়?
সমস্যা হলো অপচয়। ইরানে গ্যাস এত সস্তা যে মানুষ ইচ্ছামতো ব্যবহার করে। সরকার ভর্তুকি দিয়ে গ্যাস দেয়। ফলে কেউ সাশ্রয় করে না।
এই কারণে ইরানের অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের সংকট হয়, শীতকালে অনেক শহরে গ্যাসের চাপ কমে যায়।
পেজেশকিয়ান এই কথাটা স্বীকারও করেছেন। তিনি বোঝাতে চাইছেন, ইরান উৎপাদনে বিশ্বসেরা হলেও, এখন তাকে ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে, যাতে এই গ্যাস রপ্তানি করে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা যায়।
❤️❤️শেষ কথা:
৩০০ বিলিয়ন ঘনমিটার - এই সংখ্যাটা শুধু একটা সংখ্যা না, এটা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরানের একটা চপেটাঘাত।
তারা প্রমাণ করেছে, তুমি আমাদের ব্যাংক বন্ধ করতে পারো, তেল বিক্রি আটকাতে পারো, কিন্তু আমাদের মাটির নিচের গ্যাস আর আমাদের ইঞ্জিনিয়ারদের মেধা আটকাতে পারবে না।