Al hadis

Al hadis group

18/01/2022
এখানে যাবতীয়  কসমেটিক্স পাওয়া জায়
19/07/2021

এখানে যাবতীয় কসমেটিক্স পাওয়া জায়

08/05/2021

যুব সমাজের আদর্শ হিসেবে রাসূল (সাঃ)

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) যেমন ছিলেন পরিপূর্ণ মানুষ, তেমনই ছিলেন একজন পরিপূর্ণ আদর্শ যুবক৷ পৃথিবীতে যত ভালো গুণ আছে এর সব গুণের সমাবেশ ঘটেছিল হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর মধ্যে৷ এককথায়, তিনি ছিলেন সর্বগুণের আধার৷
রাসুল (সা.)-এর চরিত্র সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী’ (সুরা কালাম-৪)।
ফরাসি খেক আলফ্রেড তার তুর্কির ইতিহাসের প্রথম খন্ডে লিখেছেন, ‘দার্শনিক, বক্তা, ধর্ম প্রচারক, যোদ্ধা, আইন রচয়িতা, ধর্মমতের ও প্রতিমাবিহীন ধর্ম পদ্ধতির সংস্থাপক মুহাম্মদ (সা.) কে মানুষের মহত্তের যতগুলো মাপকাঠি আছে তা দিয়ে মাপলে, কোনো লোক তাঁর চেয়ে মহত্ হতে পারবে না৷’
মহামানব মুহাম্মদ (সা.) যৌবনে পদার্পণ করে চরম নোংরা পরিবেশে লালিত-পালিত হয়েও নিজের যৌবনকে কলঙ্কমুক্ত রাখতে সক্ষম হন৷ যে সমাজে অবৈধ প্রেম, কুদৃষ্টি বিনিময় ও ব্যভিচার যুবকদের জন্য ছিল গর্বের ব্যাপার, সে সমাজে এ অসাধারণ যুবক নিজের দৃষ্টিকেও কলুষিত হতে দেননি৷ যেখানে অলিগলিতে ছিল মদ তৈরির কারখানা এবং ঘরে ঘরে ছিল পানশালা, বসত মদ্যপানের জমজমাট কবিতা পাঠের আসর, সেখানে এ যুবক এক ফোঁটা মদও মুখে তোলেননি৷ যেখানে জুয়া জাতীয় অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল, সেখানে আপাদমস্তক পবিত্রতায় মন্ডিত এ যুবক (সা.) জুয়া স্পর্শও করেননি৷ নষ্ট গানবাজনা যেখানে সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, সেখানে তিনি এসব অপসংস্কৃতির ধারেকাছেও ঘেঁষেননি৷
তাই তার জীবনের শৈশব-কৈশোর, যৌবন-বার্ধক্য প্রতিটি মুহুর্তেই তিনি ছিলেন সমগ্র মানবতার জন্য উত্তম আদর্শ৷ এর সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, যারা আল্ল্নাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে (৩৩-সুরা আহযাব: ২১)৷
আজকের যুব সমাজ কিভাবে রাসূল (সাঃ) এর আদর্শ থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে একজন আলোকিত মানুষে পরিণত হতে পারে কিভাবে রাসূল (সাঃ) এর মতো একটি আদর্শ সমাজ বির্নিমাণে ভূমিকা রাখতে পারে তা তাঁর (সাঃ) এর জীবন থেকে আমরা আলোচনা করবো৷
১৷ ন্যায়ের পক্ষে হোক নিজের অবস্থান যৌবনেই :
তখন রাসূল (সাঃ) এর বয়স ছিলো মাত্র ২০ বছর৷ কুরাইশ ও কাইস গোত্রের মাঝে পুরানো শত্রুতার কারণে যুদ্ধ বাঁধে৷ এই যুদ্ধে কুরাইশগণ ন্যায়ের উপর ছিলো৷ মুহাম্মাদ (সা) কুরাইশদের পÿে যুদ্ধে যান৷ যুদ্ধে কুরাইশদের জয়ী হয়৷ এই যুদ্ধেরই নাম ফিজারের যুদ্ধ৷
এ সম্পর্কে রাসূল (সাঃ) বলেন, আমি আমার চাচাগণের দিকে শত্রুদের ছুঁড়ে মারা তীর ও বর্শাগুলো কুড়িয়ে তাদের কাছে দিতাম৷
২৷ সমাজ সংস্কারে যুবকদের ৫ দফা কর্মসূচী :
একটি শান্তির সমাজ প্রতিষ্ঠায় সে সমাজের অশান্তি দূর করা, জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা, দারিদ্র বিমোচনের উদ্যোগ নেওয়া, বিপদগ্রস্থদের সাহায্য করা এবং কোন অন্যায়কারীকে প্রশ্রয় না দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে৷
রাসূল (সাঃ) যৌবনকালীন সময়ে যুদ্ধ ছিলো আরবদের নেশা৷ শত শত পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিলো৷ মানুষের কোন নিরাপত্তা ছিলো না৷ সবাই আতংকের মধ্যে দিন কাটাতো৷ আয যুবাইর ইবনু আবদিল মুত্তালিব ছিলেন একজন কল্যাণকামী ব্যক্তি৷ তিনি এই অবস্থার পরিবর্তনের লÿ্যে বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে মত বিনিময় করেন৷ অনুকুল সাড়াও পেলেন৷ শিগগিরই গড়ে উঠলো একটি সাংগঠন৷ নাম তার হিলফুল ফুদুল৷ মুহাম্মাদের (সা) বয়স তখন সতর বছর৷ তিনি সানন্দে এই সংগঠনের অন্তর্ভূক্ত হন৷ এটি হয়ে ৫৯১ সালে যখন রাসূল (সাঃ) এর বয়স মাত্র ২১৷
হিলফুল ফুদুলের পাঁচ দফা –
১৷ আমরা দেশ থেকে অশান্তি দূর করবো৷
২৷ পথিকের জান-মালের হিফাজাত করবো৷
৩৷ অভাবগ্রস্থদের সাহায্য করবো৷
৪৷ মাযলুমের সাহায্য করবো৷
৫৷ কোন যালিমকে মক্কায় আশ্রয় দেবো না৷
অনেক দশক পরে হিলফুল ফুদুল গঠন বিষয়ে স্বয়ং রাসূল (সাঃ) বলেছিলেন –
‘‘ আমি আবদুল্লাহ ইব্‌ন জুদ’আন-এর ঘরে সম্পাদিত অঙ্গীকারের সময় উপস্থিত ছিলাম৷ এর বদলে অনেকগুলো লাল উট অর্জন করাও আমি পছন্দ করব না৷ ইসলামেও যদি এ জাতীয় কোন অঙ্গীকারে আমাকে ডাকা হয় তবে অবশ্যই তাতে আমি সাড়া দেব৷’’
৩৷ বিশ্বস্থতাই যৌবনে করে জনপ্রিয়ঃ
হিলফুল ফুযূল গঠন ও তার পরপরই যবরদস্ত কুরায়েশ নেতার কাছ থেকে বহিরাগত মযলূমের হক আদায়ের ঘটনায় চারিদিকে তরুণ মুহাম্মাদের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল৷ সবার মুখে মুখে তিনি ‘আল-আমীন’ অর্থাত্ বিশ্বস্ত ও আমানদার বলে অভিহিত হ’তে থাকেন ৷ অল্পবয়স হওয়া সত্ত্বেও কেউ তার নাম ধরে ডাকতো না৷ সবাই শ্রদ্ধাভরে ‘আল-আমীন’ বলে ডাকত ৷ তাঁর বিশ্বস্ততার বিষয়ে প্রসিদ্ধ সীরাতগ্রন্থ ইবনু হিশাম এ বর্ণিত আছে- ‘‘আব্দুল্লাহ বিন আবুল হামসা বলেন, নবুঅত পূর্বকালে আমি রাসূল (ছাঃ) এর নিকট থেকে কিছু খরীদ করেছিলাম৷ সেখানে মূল্য পরিশোধে আমি কিছু বাকী রাখি৷ অতঃপর আমি তাকে ওয়াদা করি যে, এই স্থানেই আমি উক্ত মূল্য নিয়ে আসছি৷ পরে আমি ভুলে যাই৷ তিন দিন পরে স্মরণ হলে আমি এসে দেখি রাসূল (সাঃ) সেখানেই দাঁড়িয়ে আছেন৷ অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, তুমি আমাকে কষ্ট দিলে৷ তিন দিন ধরে আমি এখানে তোমার অপেক্ষায় আছি’
৪৷ সম্প্রতি ও ঐক্য বজায় রাখার চর্চা যৌবনে শুরু :
পাহাড়ের উপত্যকায় অবস্থিত কাবা৷ একবার পাহাড়ের পানি এসে তার দেয়াল ভেঙ্গে ফেলে৷ কুরাইশদের নতুনভাবে গড়ে তোলে কাবার দেয়াল৷ নির্মাণ কালে হাজরে আসওয়াদ কাবার কোণ থেকে সরিয়ে রাখা হয়৷ দেয়াল নির্মাণের পর পাথরটি আবার স্বাস্থানে বসাতে হবে৷
কুরাইশদের সব খান্দান এই মহান কাজ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করলো৷ এই নিয়ে শুরু হলো বিবাদ৷ যুদ্ধ বেঁধে যাবার উপক্রম৷ আবু উমাইয়াহ ইবনুল মুগীরাহ প্রস্তাব দেন যে, যেই ব্যক্তি সবার আগে প্রাঙ্গণে পৌঁছাবে তার উপর এই বিরোধ মীমাংসার ভার দেয়া হবে৷ সে যেই সিদ্ধান্তে দেবে তা সবাই মেনে নেবে৷ সকলে এই প্রস্তাব মেনে নেয়৷
অতপর দেখা গেলো সকলের ধীর পদে এগিয়ে আসছেন এক যুবক মুহাম্মদ (সা) সবাই ছুটে এলো তাঁর কাছে৷ ফায়সালার দায়িত্ব তুলে দিলো তাঁর হাতে৷ তিনি একটি চাদর আনার নির্দেশ দেন৷ চাদর এনে ছিলো হলো৷ মুহাম্মাদের (সা) নিজ হাতে হাজরে আসওয়াদ তুলে চাদরের মাঝখানে রাখলেন৷ হাজরে আসওয়াদ স্থাপন করতে ইচ্ছুক প্রত্যেক খান্দানের এক একজন প্রতিনিধকে চাদর ধরে উপরে তুলতে বললেন৷ সকলে মিলে পাথরটি নিয়ে এলো কাবার দেয়ালের কাছে৷ মুহাম্মাদের (সা) চাদর থেকে পাথরটি তুলে যথাস্থানে বসিয়ে দিলেন৷ সবাই খুশী৷ এড়ানো গেলো একটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ৷
এই ঘটনাটি ঘটেছিলো ৬০৫ সালে যখন রাসূল (সাঃ) এর বয়স ছিলো ৩৫৷ গবেষক কন্সট্যানটিন গোর্গুয়ের মতে ‘ মুহাম্মদ (সাঃ) যেভাবে চিন্তা করেছে সেটা তারা সৃজনী ক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়৷ তার মধ্যে যদি এ ধরনের ক্ষমতা না থাকত, তাহলে সে নবী হতে পারত না৷’
৫৷ কর্ম ও সততা চর্চার শুরু হোক যৌবনেইঃ
বহুদিন ধরে রাসূল (সাঃ) ব্যবসায়ী হিসেবে কাজ করেছেন৷ প্রতারনা, লোক-ঠকানো, নিজের স্বার্থ উদ্ধারে অন্যকে ব্যবহার তত্কালীন সমাজের নিত্যদিনের চিত্র৷ তাই বলে রাসূল (সাঃ) ব্যবসা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেননি নিজেকে৷ আবার সমাজের মূলধারার সাথে মিশেও যাননি৷ সমাজের বিবেকহীন চর্চায় লিপ্ত হননি, বরং তিনি মন্দ পরিবেশ থেকে খুঁজে নিয়েছেন ভালোকে৷ আল-সা’ইব নামক সত্ ব্যবসায়ীর সাথে সফল ব্যবসায়িক জুটি গড়ে তুলেছেন৷ নিজের পণ্যের খারাপ দিক তিনি অবলীলায় বলে দিতেন৷ এ ব্যাপারে তাঁর সুনাম ছিলো৷ দাম নিয়ে বাদানুবাদ করতেন না৷ রাসূল (সাঃ) আল-সা’ইরে কাছ থেকে শিখেছেন দুর্নীতির হাতছানি যে-সমাজে সুলভ, সেখানে কিভাবে সত্ভাবে জীবিকা উপার্জন করা যায়৷
৬৷ আদর্শ স্বামী হবার উপযুক্ত সময় এই যৌবনঃ
মাত্র ২৫ বছর যৌবনেই বিশ্বস্ততা ও চারিত্রিক মাধুর্যতার জন্য খাদিজা (রাঃ) সাথে রাসূল (সাঃ) এর বিয়ে হয়৷ খাদিজা (রাঃ) আনহা বলেছিলেন, তিনি তাঁকে ভালোবাসেন তাঁর (রাসূল (সাঃ) এর দয়া, সততা ও সত্যবাদিতার জন্য৷ অথচ রাসূল (সাঃ) স্ত্রীর প্রতি দায়িত্ব আর স্ত্রীর অধিকার থেকে তিনি খাদিজার সাথে আচরণ করেননি বরং ব্যবহার ছিলো নিজের পূণ্যগুণে৷ এই মমতাময় বৈবাহিক সম্পর্কের ইংগিতেই পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে –
(২-সুরা বাক্বারা: ২৩৭) পারস্পরিক ব্যাপারে তোমরা উদারতা ও সহৃদয়তার নীতি ভুলে যেয়ো না৷
৭৷ যৌবনেই হোক আদর্শ বন্ধুত্ব নির্বাচনঃ
তত্কালীন আরব সমাজেও আজকের মতো বিদেশী, মূর্তিপূজারী ও খ্রিস্টান সব মতের মানুষ ছিলো৷ রাসূল (সাঃ) যুবক বয়সে বন্ধু হিসেবে বেছে নিয়েছেন সুশিক্ষিত ও শ্রদ্ধাবান লোকদের৷ যৌবনে রাসূল (সাঃ এর ৩জন বন্ধুর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে যেমন-
আবু বকর আস–সিদ্দীকঃ যিনি কখনো মন পান করেননি, মূর্তিপূজা করেননি৷ তারপরও সামাজিক ছিলেন ছিলেন জনপ্রিয় মানুষ৷
হাকিম ইবন্‌ হিযামঃ বুদ্ধিমান ও দানশীল নেতা যিনি হাজীদের মেহমানদারি করতেন৷
জাবরা আর–রুমিঃ সুশিক্ষিত, বহুভাষী, বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের সম্পর্কে ছিলো তার অগাধ জ্ঞান৷
মহানবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.) [৫৭০-৬৩২ খ্রি.] এক মহামানবের জীবন৷ যিনি সমগ্র মানবতার জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন রহমত হিসেবে৷ যার জীবনের প্রতিটি মুহুর্তে আমাদের জন্য রয়েছে শিক্ষা৷ তা শিশু, যুবক, প্রবীণ সবার জন্য৷ আর রাসূল (সাঃ) নিজেই বলেছেন তাকে প্রেরণ করা হয়েছে শিক্ষক হিসেবে৷ তাই আজকের যুব সমাজ যদি তাদের আদর্শ হিসেবে রাসূল (সাঃ) এর যৌবনের আদর্শ লালন করে তবে তা প্রত্যেক যুবকের জন্য সম্মাণ ও গৌরবের৷ আর এই আদর্শের বলিয়ান যুব সমাজই পারবে একদিন এই বাংলাদেশকে মদীনার ইসলামী সমাজের মতো একটি ইসলামী সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখতে৷
– মোঃ আতিকুর রহমান

29/04/2021

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

ہُوَ اللّٰہُ الَّذِیۡ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۚ عٰلِمُ الۡغَیۡبِ وَ الشَّہَادَۃِ ۚ ہُوَ الرَّحۡمٰنُ الرَّحِیۡمُ ﴿۲۲﴾

ہُوَ اللّٰہُ الَّذِیۡ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۚ اَلۡمَلِکُ الۡقُدُّوۡسُ السَّلٰمُ الۡمُؤۡمِنُ الۡمُہَیۡمِنُ الۡعَزِیۡزُ الۡجَبَّارُ الۡمُتَکَبِّرُ ؕ سُبۡحٰنَ اللّٰہِ عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ ﴿۲۳﴾

ہُوَ اللّٰہُ الۡخَالِقُ الۡبَارِئُ الۡمُصَوِّرُ لَہُ الۡاَسۡمَآءُ الۡحُسۡنٰی ؕ یُسَبِّحُ لَہٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ ۚ وَ ہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ﴿۲۴﴾
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

২২। হুওয়াল্লাহুললাজি লা ইলাহা ইল্লাহু- আলিমুল গাইবি ওয়াশশাহাদাতি হুওয়ার রাহমানুর রাহিম।

২৩। হুওয়াল্লাহুল লাজি লা ইলাহা ইল্লাহু- আল মালিকুল কুদ্দুসুসসালামুল মু’মিনুল মুহাইমিনুল আজিজুল জাব্বারুল মুতাকাব্বির। সুবহানাল্লাহি আম্মা ইউশরিকুন।

২৪। হুওয়াল্লাহুল খালিকুল বারিউল মুছাওয়্যিরু লাহুল আসমাউল হুসনা। ইউসাব্বিহু লাহু মা ফিচ্ছামাওয়াতি ওল আরদি ওহুয়াল আজিজুল হাকিম।
বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

২২। তিনিই আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোন মা‘বূদ নেই, তিনি অদৃশ্য এবং দৃশ্যের পরিজ্ঞাতা; তিনি দয়াময়, পরম দয়ালু।

২৩। তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোন মা‘বূদ নেই। তিনিই অধিপতি, তিনিই পবিত্র, তিনিই শান্তি, তিনিই নিরাপত্তা বিধায়ক, তিনিই রক্ষক, তিনিই পরাক্রমশালী, তিনিই প্রবল, তিনিই অতীব মহিমান্বিত; যারা তাঁর শরীক স্থির করে আল্লাহ তা হতে পবিত্র ও মহান।

২৪। তিনিই আল্লাহ, সৃজনকর্তা, উদ্ভাবক, রূপদাতা, সকল উত্তম নাম তাঁরই। আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সমস্তই তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
ফজিলতঃ

(১) যে ব্যক্তি সকালে তিনবার ‘আউজু বিল্লাহিচ্ছামিয়িল আলিমিমিনাশ শাইত্বানির রাজিম, পাঠ করার পর সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠ করবে তার জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত সত্তর হাজার ফেরেশতা রহমতের দোয়া করবে। আবার সন্ধ্যায় পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত ঐ মর্তবা লাভ করবে এবং সে মারা গেলে শহীদের মৃত্যু হাসিল হবে।

(২) হাদিসে আছে, “যে ব্যক্তি সকালে তিনবার ‘আউ-যুবিল্লা-হি চ্ছামি-য়িলয়ালী-মিমিনাশশাইত-ন রিরজী-ম’ পাঠ করার পর সূরা হাশরে শেষের তিন আয়াত পাঠ করবে, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য সত্তর হাজার রহমতের ফেরেশতা নিযুক্ত করে দিবেন। তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত রহমতের জন্য দোয়া করবে। সেদিন সে মারা গেলে শহিদের মৃত্যু হাসিল হবে । যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এভাবে পাঠ করবে, সে-ও সকাল পর্যন্ত এই মর্তবা লাভ করবে”। (সুবহানআল্লাহ)

(৩) সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠের ফজিলত
তিরমিযি শরীফে হযরত মা’কাল ইবনে ইয়াসার (রাঃ) এর বর্ণিত রেওয়ায়েত ।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন : যে ব্যক্তি সকালে ৩ বার “আউযুবিল্লাহিস্সামিউল আলিমি মিনাশ শাইতোয়ানির রাজিম” পাঠ করার পর

هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ

“হু আল্লা হুল্লাজী লা(আ) ইলাহা ইল্লা হু। আলিমুল গাইবী ওয়াশ শাহাদাতী হুয়ার রাহমানুর রাহীম।

هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ

হু আল্লা হুল্লাজী লা(আ) ইলাহা ইল্লা হু। আল মালিকুল কুদ্দুসুস সালামুল ম্যু মিনুল মুহাইমিনুল আজিজুল জাব্বারুল মুতাকাব্বির। ছুব হানাল্লাহী আম্মা ইউশরিকুন।

هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْأَسْمَاء الْحُسْنَى يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ

হু আল্লাহুল খালেকুল বারিয়্যুল মুছাওরেলাহুল আছমা(আ)উল হুছনা। ইউ ছাব্বিহু লাহু মা ফিছ ছামা ওয়াতি ওয়াল আরদ্ ওয়া হুয়াল আজীজুল হাকীম।

“সুরা হাশরের সর্বশেষ তিন আয়াত পাঠ করিবে । আল্লাহ তায়ালা তাহার জন্য ৭০ হাজার ফেরেশতা নিযুক্ত করে দিবেন,তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত পাঠকারীর জন্য রহমতের দোয়া করবে। যেদিন এই আয়াত তিনটি পাঠ করিবে সেদিন পাঠকারী মারাগেলে শহীদের মউত হাসিল করিবে। যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এভাবে পাঠ করিবে সেও একই মর্তবা লাভ করিবে। (সুবহানআল্লাহ)

22/03/2020

শপথ ও মানত অধ্যায় (৬১৬৮-৬২৫



➢ ৬১৬৮ মুহাম্মাদ ইবনু মূকাতিল আবূল হাসান (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবূ বকর (রাঃ) কখনও কসম ভঙ্গ করেননি, যতক্ষন না আল্লাহ তাঁআলা কসমের কাফফারা সংক্রান্ত আয়াত নাযিল করেন। তিনি বলতেন আমি যেকোন ব্যাপারে কসম করি। এরপর যদি এর চেয়ে উত্তমটি দেখতে পাই তবে উত্তমটই করি এবং আমার কসম ভজের জন্য কাফফারা আদায় করে দেই।

➢ ৬১৬৯ আবূ নূমান মুহাম্মাদ ইবনু ফাযল (রহঃ) আব্দুর রহমান ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবদুর রহমান ইবনু সামুরা! তুমি নেতৃত্ব চেয়ো না। কেননা, চাওয়ার পর যদি নেতৃত্ব পাও তবে এর দিকে তোমাকে সোপর্দ করে দেয়া হবে। আর যদি না চেয়ে তা পাও তবে তোমাকে এর জন্য সাহায্য করা হবে। কোন কিছুর ব্যাপারে যদি কসম কর আর তা ব্যতীত অন্য কিছু মাঝে কল্যাণ দেখতে পাও তবে স্বীয় কসমের কাফফারা আদায় করে তার চেযে উত্তমটি অবলম্বন কর।

➢ ৬১৭০ আবূ নূমান (রহঃ) আবূ বুরদা (রাঃ) -এর পিতা আবূ মূসা আশ আরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি একদা আশ আরী সম্প্রদায়ের একদল লোক সঙ্গে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এলাম একটি বাহন সংগ্রহ করার জন্য। তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি তোমাদেরকে বাহনদিতে পারব না। আর আমার কাছে এমন কোন জন্তু নেই যার উপর আরোহণ করা যায়। বর্ণনাকারী বলেনঃ এরপর আল্লাহ যতক্ষন চাইলেন, ততক্ষন আমরা সেখানে অবস্হান করলাম। এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে অতীব সুন্দর তিনটি উষ্ট্রী আনা হল। তিনি সেগুলোর উপর আমাদেরকে আরোহন করালেন। এরপর আমরা যখন চলতে লাগলাম তখন বললাম অথবা আমাদের মাঝে কেউ বলল, আল্লাহর কসম! আল্লাহ আমাদেরকে বরকত প্রদান করবেন না। কেননা, আমরা যখন নযী -এর কাছে বাহন চাইতে এলাম তিনি আমাদেরকে বাহন দিবেন না বলে কসম করলেন। এরপর আমাদেরকে আরোহণ করালেন। চল আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে যাই এবং তাঁকে সে কথা স্বরণ করিয়ে দেই। এরপর আমরা তার কাছে এলাম। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে আরোহণ করাইনি বরুং আল্লাহ তাআলা আরোহণ করিয়েছেন। আল্লাহর কসম! আমি যখন আল্লাহর ইচ্ছা মূতাবিক কোন কসম করি আর তা ব্যতীত অন্যটির মাঝে যদি মঙ্গল দেখি তখন কসমের জন্য কাফফারা আদায় করে দেই। আর যেটা মঙ্গলকর সেটাই করে নেই এবং স্বীয় কসমের কাফফারা আদায় করে দেই।

➢ ৬১৭১ ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমরা (দুনিয়ায়) সর্বশেষ আগমনকারী আর কিয়ামতের দিন হব অগ্রগামী। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহর কসম! তোমাদের মাঝে কেউ আপন পরিজনের ব্যাপারে শপথকারী হলে আল্লাহর নিকট সে গুনাহগার হবে ঐ ব্যাক্তির তুলনায়, যে কাফফারা আদায় করে দেয় যা আল্লাহ তায়ালা অপরিহার্য করে দিয়েছেন।

➢ ৬১৭২ ইসহাক ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি আপন পরিবারের ব্যাপারে কসম করে এর উপর অটল থাকে সে সবচেয়ে বড় গোনাহগার, যা কাফফারা পূর্ন করে না।

➢ ৬১৭৩ কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা একটি বাহিনী প্রেরণ করলেন আর তাদের আমীর নিযুক্ত করলেন উসামা ইবনু যায়িদকে। কতিপয় লোকতাঁর নেতৃত্বের ব্যাপারে সমালোচলা করল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাড়িয়ে বললেনঃ তোমরা তাঁর নেতৃত্বের ব্যাপারে সমালোচনামুখর হচ্ছ। ইতিপূর্বে তার পিতার নেতৃত্বের ব্যাপারেও তোমরা সমালোচলা করেছিলে। আল্লাহর কসম! সে অবশ্যই নেতৃত্বের যোগ্য ছিল। আর মানুষের মাঝে সে আমার নিকট প্রিয়তম ব্যাক্তি ছিল। তারপরে নিশ্চয়ই এ উসামা অন্য সকল মামুষের চেয়ে আমার নিকট অধিক প্রিয়।

➢ ৬১৭৪ মুহাম্মদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কসম ছিল ‘মুকাল্লিবিল কুলুব’ বলা। অর্থাৎ অন্তরের (আল্লাহর) কসম।

➢ ৬১৭৫ মূসা (রহঃ) জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কায়সারের (রোম সমরাট) পতনের পরে আর কোন কায়সার হবে না। কিসরা (পারস্যের বাদশাহ) এর যখন পতন হল তখনও তিনি বললেনঃ এরপর আর কোন কিসরা হবে না। কসম ঐ মহান সত্তার যার হাতে আমার প্রান! অবশ্যই এদের দু-জনের অগাধ সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় তোমরা খরচ করবে।

➢ ৬১৭৬ আবূল ইয়ামান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিসরা যখন ধংস হবে তারপরে আর কোন কিসরা হবে না। আর কায়সার যখনি ধ্বংস হবে তখন আর কোন কায়সার হবে না। কসম ঐ সত্তার। যার হাতে মুহাম্মাদ -এর প্রাণ! এদের ধন-সম্পদ অবশ্যই তোমরা আল্লাহর রাস্তায় ব্যায় করবে।

➢ ৬১৭৭ মুহাম্মদ (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ হে উম্মাতে মুহাম্মাদী আল্লাহর কসম! আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে তবে অবশ্যই তোমরা কম হাসতে-এবং অধিক ক্রন্দন করতে।

➢ ৬১৭৮ ইয়াহইয়া ইবনু সুলায়মান (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু হিশাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা একদা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি তখন উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-এর হাত ধরেছিলেন। উমর (রাঃ) তাঁকে বললেনঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমার প্রাণ ব্যতীত আপনি আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয়। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, ঐ মহান সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! এমন কি তোমার কাছে তোমার প্রাণের চেয়েও আমাকে অধিক প্রিয় হতে হবে। তখন উমর (রাঃ) তাকে বললেনঃ এখন আল্লাহর কসম! আপনি আমার কাছে আমার প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয়। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে উমর! এখন (তোমার ঈমান ণূর্ণ হয়েছে)।

➢ ৬১৭৯ ইসমাঈল (রহঃ) আবূ হুরায়রা ও যারিদ ইবনু খাসিদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেছেনঃ, একদা দু- ব্যাক্তি ঝগড়া করতে করতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলো। তন্মধ্যে একজন বলল, আল্লাহর কিতাবের ভিত্তিতে আমাদের মাঝে মীমাংসা করে দিন। দূ-জনের মাঝে (অপেক্ষাকৃত) বুদ্ধিমান দ্বিতীয় লোকটি বলল, হ্যা। ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবের ভিত্তিতে মীমাংসা করে দিন। আর আমাকে কিছু বলার অনুমতি দিন। তিনি বললেনঃ বল। লোকটি বললঃ আমার পুত্র এ লোকটির নিকট চাকর হিসাবে ছিল। (মালিক বলেনঃ ‘আসিফ’ শব্দের অর্থ চাকর)আমার পূত্র এর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যাভিচার করেছে। লোকেরা বলেছে যে, আমার পূত্রের (শাস্তি) রজম হবে। সুতরাং আমি একশ- বকরী ও একটি বাঁদী নিয়ে তার ফিদইয়া প্রাদান করেছি। এরপর আমি আলিমদের নিকট এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছি। তারা আমাকে জানালেন যে, আমার পূত্রের একাশ বেত্রাঘাত ও এক বছরের দেশান্তর হবে। আর রজম হবে এর স্ত্রীর। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কসম ঐ মহান সত্তার, যার হাতে আমার প্রান! আমি তোমাদের উভয়ের মাঝে অবশ্যই আল্লাহর কিতাব ভিত্তিক মীমাংনা করে দেব। তোমার বকরী ও বাদী তোমাকেই ফিরিয়ে দেয়া হবে। তিনি তাঁর পূত্রকে একশ বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য দেশান্তর করলেন। আর উনায়স আসলামীকে হুকুম করা হল অপর লোকটির স্ত্রীর কাছে যাওয়ার জন্য। সে যদি (ব্যাভিচার) স্বীকার করে তরে তাকে রজম করতে। সে তা স্বীকার করল, সুতবাং তাকে রজম (পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা) করল।

➢ ৬১৮০ আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) আবূ বাকরা (রাঃ) সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আসলাম, গিফার, মুযায়না এবং জুহায়না বংশ যদি তামীম, আমির ইবনু সাসাআ, গাতফান ও আসা’দ বংশ থেকে উত্তম হয় তা হলে তোমাদের কেমন মনে হয়? তারা তো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাহাবাগন বললেনঃ হ্যা, তখন তিনি বললেনঃ কসম ঐ মহান সত্তার যার হাতে আমার প্রান। নিশ্চয়ই তারা এদের চেয়ে উত্তম!

➢ ৬১৮১ আবূল ইয়ামান (রহঃ) । আবূ হুমায়দ সাঈদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যাক্তিকে রাজস্ব আদায়কারী নিযুক্ত করে পাঠালেন। সে কাজ শেষ করে তাঁর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসুলুল্লাহ! এটা আপনার জন্য আর এ জিনিসটি আমাকে হাদিয়া দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি তোমার মা-বাবার ঘরে বসে রইলে না কেন? তা হলে তোমার জন্য হাদিয়া পাঠাত কি না তা দেখতে পেতে? এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার ওয়াক্তের সালাত (নামায/নামাজ) দাড়িয়ে গেলেন এবং তাশাহুদ পাঠ করলেন ও আল্লাহ তা আলার যথোপযুক্ত প্রসংসা করলেন। এরপর বললেনঃ রাজস্ব আদায়কারীর অথবা কি হল? আমি তাকে নিযুক্ত করে পাঠালাম আর সে আমাদের কাছে এসে বলছে, এটা সরকারী রাজস্ব আর এ জিনিস আমাকে হাদিয়া দেওয়া হয়েছে। সে তার বাবা-মার ঘরে বসে রইল না কেন? তা হলে দেখত তার জন্য হাদিয়া দেওয়া হয় কি না? ঐ মহান সত্তার কসম! যার হাতে মুহাম্মাদ -এর প্রাণ, তোমাদের মাঝে কেউ যদি কোন বস্তুতে সামান্যতম খিয়ানত করে, তা হলে কিয়ামতের দিন সে ঐ বস্তুটিকে তার কাঁধে বহন করা অবস্হায় আসবে। সে। বস্তুটি যদি উট হয় তা হলে উট আওয়াজ করতে থাকবে। যদি গরু হয় তবে হারা হারা করতে থাকবে। আর যদি বকরী হয় তরে বকরী আওয়াজ করতে থাকবে। আমি পৌছিয়ে দিলাম। রাবী আবূ হুমায়দ বলেনঃ এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হস্ত মুবারক এতটূকু উত্তোলন করলেন যে, আমরা তার দু-কালের শুভ্রতা দেখতে পেলাম। আবূ হুমায়দ বলেনঃ এ কথাগুলো যায়িদ ইবনু সাবিতও আমার সঙ্গে শুনেছে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে। সুতরাং তোমরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে পার।

➢ ৬১৮২ ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) আবূ হুরায়ারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবূল কাসিম বলেছেনঃ ঐ মহান সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মদ এর প্রাণ! আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে, তা হলে তোমরা অবশ্যই অধিক ক্রন্দন করতে আর অল্প হাসতে।

➢ ৬১৮৩ উমর ইবনু হাফস (রহঃ) আবূ যর গিফারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেলাম। তখন তিনি কাঁবা গৃহের ছায়ায় বসে বলছিলেনঃ কাঁবা গৃহের রবের কসম! তারা ক্ষতিগ্রস্ত। কাবা গৃহের রবের কসম! তারা ক্ষতিগ্রস্ত। আমি বললাম, আমার অথবা কি? আমার মাঝে কি কিছু (ক্রটি) পরিলক্ষিত হয়েছে? তিনি বলছিলেন, এমন অবস্থায় আমি তার কাছে বসে পড়লাম। আমি তাকে থামাতে পারলাম না। যতক্ষনের জন্য আল্লাহ চাইলেন আমি চিন্তায় আচ্ছন্ন রইলাম। এরপর আমি আরয করলাম, আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান। ঐ সমস্ত লোক কারা ইয়া রাসুলুল্লাহ! তিনি বললেনঃ এরা লে ঐ সকল লোক যারা অধিক সম্পদের অধিকারী। তবে হ্যা, ঐ সমস্ত লোক স্বতন্ত্র যারা এরুপ, এরুপ ও এরুপ (ক্ষেত্রে খরচ করে)।

➢ ৬১৮৪ আবূল ইয়ামান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একদা সুলায়মান (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আমি আজরাতে নববইজন স্ত্রীর সাথে মিলিত হব, যারা প্রত্যেকেই একটি করে সন্তান জন্ম দেবে, যারা হরে অশ্বারোহী জিহাদ করবে আল্লাহর রাস্তায়। তাঁর সঙ্গী বলল, ইনশা আল্লাহ (বলুন)। তিনি ইনশা আল্লাহ বললেনঃ না। অতঃপর তিনি সকল স্ত্রীর সলেই মিলিত হলেন। কিন্তু কেবলমাত্র একজন স্ত্রীই গর্ভবতী হলেন, তাও এক অপূর্ণাঙ্গ সন্তান প্রসব করল। ঐ মহান সত্তার কসম! যার হাতে মুহাম্মাদ প্রাণ। তিনি যদি ইনশা আল্লাহ বলতেন, তাহলে সকলেই আরোহী হয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করত।

➢ ৬১৮৫ মুহাম্মাদ ইবনু সালাম (রহঃ) বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য একদা রেশমের এক টুকরা বস্ত্র হাদিয়া পাঠানো হল। লোকেরা তার সৌন্দর্যও মসৃনতা দেখে অবাক হয়ে পর্যায়ক্রমে হাতে নিয়ে দেখছিল। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি এটি দেখে অবাক হচ্ছ? তাঁরা উত্তর দিলেন, হ্যা, ইয়া রাসুলুল্লাহ! তিনি বললেনঃ ঐ মহান সত্তার কসম। যার হাতের মুঠোয় আমার প্রান। নিশ্চয়ই জান্নাতে সা’দর রুমাল এর চেয়েও উত্তম হবে। আবূ আবদুল্লাহ (বুখারী) (রহঃ) বলেনঃ তবে শুবা এবং ইসরাঈ আবূ ইসহাক থেকে যে বর্ণনা করেছেন তাতে ‘অল্যাযি নাফসি’ কথাটি বলেননি।

➢ ৬১৮৬ ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) আয়িশা সিদ্দীকা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হিন্দা বিনত উতবা ইবনু রাবীআ (একদা) বলল, ইয়া রাসুলুল্লাহ এমন এক সময় ছিল যখন ভূপৃষ্টে যারা বাস করছে তাদের মাঝে আপনার অনুসারী যারা তারা লাঞ্ছিত হোক এটা আমি খুবই পছন্দ করতাম। (এখানে বর্ণনার মাঝে তিনি ‘আখবাআ’ বলেছেনঃ, না ‘খাবাআ’ বলেছেনঃ এ সম্পর্কে রাবী ইয়াহইয়ার সন্দেহ রয়েছে।)কিন্তু আজ আমার কাছে এর চেয়ে অধিক প্রিয় কিছুই নেই যে, তাবুতে মাঝে আপনার অনুসারীরা সম্মানিত হোক। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কসম ঐ মহান সত্তার, যার হাতে মুহাম্মাদ -এর প্রাণ। এ মর্যাদা আরও বর্ধিত হোক। হিন্দা বললোঃ আবূ সুফিয়ান নিশ্চয়ই একজন কৃপন লোক। তার মাল থেকে (তার পরিজনকে) কিছু খাওয়ালে এতে কি আমার কোন অন্যায় হবে? তিনি বললেনঃ না। তবে তা (শরীয়তসম্মত) পন্থায় হতে হবে।

➢ ৬১৮৭ আহমাদ ইবনু উসমান (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সময় ইয়ামানী চামড়ার কোন এক তাবুতে তার পৃষ্ট মুবারক হেলান দিয়েছিলেন। তখন তিনি তাঁর সাহাবীদের প্রতি লক্ষ্য করে বললেনঃ তোমরা বেহেশতীদের এক-চতুর্থাংশ হবে, এতে কি তোমরা খুশি আছ? তারা বললেনঃ হ্যা। তিনি বললেনঃ তোমরা বেহেশতীদের এক-তৃতীয়াংশ হবে, এতে কি তোমরা খুশি নও! তারা বললেনঃ হ্যা। তিনি বললেনঃ কসম ঐ মহান সত্তার, যার হাতে মুহাম্মাদ এর প্রাণ! নিশ্চয়ই আমি কামনা করি তোমরা বেহেশতীদের অর্ধেক হবে।

➢ ৬১৮৮ আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, কোন এক ব্যাক্তি অপর এক ব্যাক্তিকে ‘কুলহুয়াল্লাহু আহাদ’ পাঠ করতে শুনলেন। তিনি তা বারংবার পাঠ করছিলেন। প্রভাত হলে তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খেদমতে হাযির হলেন এবং এ সম্পর্কে তার কাছে উল্লেখ করলেন। আর উক্ত ব্যাক্তি যেন উক্ত সুরা তিলাওয়াতকে কম গুরত্ব দিচ্ছিলেন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কসম ঐ মহান সত্তার, যার হাতে আমার প্রাণ! নিশ্চয়ই এ সূরা কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।

➢ ৬১৮৯ ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) । আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এ কথা বলতে শুনেছেন যে, তোমরা রুকু- ও সিজদা পূর্নভাবে আদায় কর। ঐ মহান সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ। তোমরা যখন রুকু এবং সিজদা কর তখন আমি তোমাদেরকে আমার পিছন থেকে দেখতে পাই।

➢ ৬১৯০ ইসহাক (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিত যে, আনসার সম্প্রদায়ের জনৈক নারী নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খেদমতে হাযির হল; সঙ্গে ছিল তার সন্তান-সন্ততি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ঐ মহান সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! মানুষের মাঝে তোমরা আমার নিকট সর্বধিক প্রিয়। তিনি এ কথাটি তিনবার বললেনঃ।

➢ ৬১৯১ আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমর ইবনু খাত্তার (রাঃ)-কে কোন বাহনের উপর আরোহণ অবস্হায় পেলেন। তিনি তখন তাঁর পিতার নামে কসম করছিলেন। তিনি বললেনঃ সাবধান। আল্লাহ তাঁআলা তোমাদেরকে তোমাদের পিতৃপূরুষদের নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন। কেউ যদি কসম করতে চায় সে যেন আল্লাহর নামে কসম করে নতুবা চুপ থাকে।

➢ ৬১৯২ সাঈদ ইবনু ওফায়র (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি উমর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন ষে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁআলা তোমাদের পিতা-পিতামহের নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন। উমর (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহর কসম! যখন থেকে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এ কথা বলতে শুনেছি, তখন থেকে আমি সেচ্ছায় বা ভূলক্রমে তাদের নামে কসম করিনি। মুজাহিদ (রহঃ) বলেছেনঃ ‘আউ আসারাতি মিন ইল্‌মিন’ দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে জ্ঞানগত বিষয় নকল করা। অনুরুপ উকায়ল, যুবায়দী ও ইসহাক কালবী (রহঃ) যুহরী (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনু উয়ায়নাহ ইবনু উমর (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমর (রাঃ)-কে বলেছেন।

➢ ৬১৯৩ মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) আন্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের পিতা-পিতামহগণের নামে কসম করো না।

➢ ৬১৯৪ কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) যাহদাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাদের গোত্র জারাম এবং আশআরী গোত্রের মাঝে বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ব ছিল। আমরা (একদা) আবূ মূসা আশ আরীর সঙ্গে ছিলাম। তার কাছে খাবার পেশ করা হল, যার মাঝে ছিল মুরগীর গোশত। তাইমিলাহ গোত্রের এক লাল রঙের ব্যাক্তি তাঁবু কাছে ছিল। সে দেখতে গোলামদের মত। তিনি তাকে খাবারে অংশগ্রহণ করার জন্য আহবান করলেন। তখন সে লোকটি বলল, আমি এ মুরগীকে এমন কিছু খেতে দেখেছি যার কারণে আমি একে ঘৃণা করছি। তাই আমি কসম করেছি যে, মুরগী আর খাব না। তিনি বললেনঃ ওঠ, আমি এ সম্পর্কে অবশ্যই তোমাকে একখানা হাদীস বলব। একথা আমি কতিপয় আশ আরীর সঙ্গে বাহন সংগ্নহের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এলাম। তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি তোমাদেরকে বাহন দিতে পারব না। আর বাহন যোগ্য এমন কিছুই আমার কাছে নেই। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে গনীমতের কিছু জন্তু এল। তিনি আমাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং বললেনঃ আশ আরী লোক গুলো কোথায়? এরপর আমাদের জন্য পাচটি উৎকৃষ্ট মানের সুদানি উট দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করলেন। আমরা যখন চলে গেলাম তখন চিন্তা করলাম আমরা এ কি করলাম? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো কসম করেছিলেন আমাদেরকে বাহন দেবেন না বলে। আর তার কাছে কোন বাহন তো ছিলও না। কিন্তু এরপর তিনি তো আমাদেরকে আরোহনের জন্য বাহন দিলেন। আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কসমের কথা ভুলে গিয়েছি। আল্লাহর কসম! এ বাহন আমাদের কোন কল্যাণে আসবে না। সুতরাং আমরা তার কাছে ফিরে গেলাম এবং তাকে বললাম যে আমাদেরকে আপনি আরোহন করাবেন এ উদ্দেশ্যে আমরা তো আপনার কাছে এসেই ছিলাম। আপনি কসম করেছিলেন যে আপনি আমাদেরকে কোন বাহন দিবেন না। আর আপনার কাছে এমন কোন কিছু ছিলও না, যাতে আমাদেরকে আরোহন করাতে পারেন। তখন বলেছিলেনঃ আমি তোমাদেরকে আরোহণ করাইনি বরং আল্লাহ তা’আলা করিয়েছেন। আল্লাহর কসম! আমি যখন কোন কসম করি আর তার অন্যটির মাঝে যদি অধিক মঙ্গল দেখতে পাই তা হলে যা মঙ্গল তাই বাস্তবায়িত করি এবং আমি কসম ভঙ্গ করি।

➢ ৬১৯৫ আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সে ব্যাক্তি কসম করে এবং বলে, লাত ও উযযার কসম-, তখন সে যেন বলে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ আর যে ব্যাক্তি তার স্বশব্দে বলে “এস জুয়া খেলি, তখন এর জন্য তার সাদাকা করা উচিৎ।

➢ ৬১৯৬ কুতায়বা (রহঃ) ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্নিত যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি স্বর্নের আংটি তৈয়ার করালেন এবং তিনি তা পরিধান করতেন। পরিধানকালে তার পাখরটি হাতের ভিতরের দিকে রাখলেন। তখন লোকেরাও (এরুপ) করল। এরপর তিনি মিস্বরের উপর বসে তা খুলে ফেললেন এবং বললেনঃ আমি এ আংটি পরিধান করেছিলাম। এবং তার পাথর হাতের ভিতরের দিকে রেখেছিলাম। অতঃপর তিনি তা ছুড়ে ফেলে দিলেন। আর বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি এ আংটি আর কোনদিন পরিধান করব না! তখন লোকেরাও আপন আপন আংটিগুলো খুলে ফেলল।

➢ ৬১৯৭ মুআল্লা ইবনু আসা’দ (রহঃ) সাবিত ইবনু যিহাক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যাক্তি ইসলাম ধর্ম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের কসম করলে সেটা ঐ রকমই হবে যে রকম সে বলল। তিনি (আরও বলেন) কোন ব্যাক্তি যে কোন জিনিসের মাধ্যমে আত্নহত্যা করবে, জাহান্নামের আভনে তাকে ঐ জিনিস শাস্তি দেয়া হবে। কোন মুমিনকে লানত করা তার হত্যা তুল্য। আবার কোন মুমিনকে ফূফরীর অপবাদ দেওয়াও তার হত্যা তূল্য।

➢ ৬১৯৮ আমর ইবনু আসিম (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছেন যে, বনী ইসরাঈল সম্প্রদায়ের তিন ব্যাক্তিকে আল্লাহ তা-আলা পরীক্ষা করতে চাইলেন এবং একজন ফেরেশতা পাঠালেন। ফেরেশতা কুষ্ঠরোগীর কাছে এল। সে বলল, আমার যাবতীয় উপায়-উপকরণ ছিন্ন হয়ে গেছে। এখন আমার জন্য আল্লাহ ছাড়া, অতঃপর তুমি ছাড়া কোন গত্যন্তর নেই। এরপর পূরো হাদীস বর্ণনা করলেন।

➢ ৬১৯৯ কাবীসা ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে কসম পূর্ন করতে হুকুম করেছেন।

➢ ৬২০০ হাফস ইরন উমর (রহঃ) উসামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদা উসামা ইবনু যায়িদ, সা’দ ও উবাই (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলেন। এমন সময় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জনৈক কন্যা তাঁর কাছে এ মর্মে খবর পাঠালেন যে, আমার পুত্র মরনাপন্ন অবস্হায় আছে। সূতরাং তিনি যেন আমাদের কাছে তশরীফ আনেন। তিনি উত্তরে সালামের সাথে এ কথা বলে পাঠালেন যে, আল্লাহ তাঁআলা যা দান করেন আর যা নিয়ে নেন সব কিছুই তো আল্লাহর জন্য। আর সব কিছুই আল্লাহর নিকট নির্ধারিত আছে। অতঃপব তোমার জন্য ধৈর্য ধারণ করা এবং পুণ্য মনে করা উচিত। এরপর তার কন্যা কসম দিয়ে আবার খবর পাঠালেন। এতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাওয়ার জন্য দাড়ালেন। আমরাও তার সঙ্গে দাঁড়ালাম। (সেখানে পৌছে) তিনি যখন বসলেন, সন্তানটি তাঁর সামনে আনা হল। তিনি তাকে নিজের কোলে নিয়ে বসালেন আর শিশুটির শ্বাস নিঃশেষ হয়ে আসছিল। এতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দু-চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে এলো। তখন সা’দ বললেনঃ ইয়া রাসুলুল্লাহ! এ কি ব্যাপার? তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে রহমত, যা আল্লাহ তাঁআলা তার বান্দাদের মাঝে যাকে ইচ্ছা তার মনের ভিতরে দিয়ে থাকেন। আর আল্লাহ তাঁআলা তো কেবলমাত্র তাঁর দয়াদ্র বান্দাদের ওপরই দয়া করে থাকেন।

➢ ৬২০১ ইসমাঈল (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সে মুসলমানের তিনটি সন্তান মৃত্যুবরণ করেছে (সে যদি ধৈর্য ধারণ করে) তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না, হ্যা, কসম পূর্ণ করার জন্য (জাহান্নামের উপর দিয়ে পুলসিরাত) অতিক্রম করতে যতটুকু সময় লাগে।

➢ ৬২০২ মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) হারিসা ইবনু ওয়াহাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি। আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতী লোকদের সম্পর্কে অবহিত করব না? তারা হবে দুনিয়াতে দূর্বল, মাজলুম। তারা যদি কোন কথায় আল্লাহর ওপর কসম করে ফেলে তবে আল্লাহ তা-আলা তা পূর্ণ করে দেন। আর যারা জাহান্নামে যাবে তারা হবে অবাধ্য, ঝগড়াটে ও অহংকারী।

➢ ৬২০৩ সা’দ ইবনু হাফস (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে একদা প্রশ্ন করা হল যে, সর্বোত্তম মানুষ কে? তিনি বললেনঃ আমার সময়ের মানুষ। এরপর তাদের পরবর্তী লোকেরা, এরপর তাদের পরবর্তী লোকেরা। এরপরে এমন লোক (পৃথিবীতে) আসবে যে তাদের সাক্ষী কসমের উপর অগ্রগামী হবে- আর কসম সাক্ষীর উপর অগ্রগামী হবে। রাবী ইবরাহীম বলেন যে, আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন আমাদের সাথীরা সাক্ষী এবং অঙ্গীকারের সাথে কসম করতে নিষেধ করতেন।

➢ ৬২০৪ মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ কোন মুসলমান ব্যাক্তির মাল আত্মসাৎ করার জন্য অথবা বলেছেনঃ তার ভাইয়ের মাল আত্নসাৎ করার জন্য যে ব্যাক্তি মিথ্যা কসম করবে, আল্লাহ তায়াআলার সাথে তার মুলাকাত হবে এমতাবস্থায় যে আল্লাহ তার উপর ক্রোধান্বিত থাকবেন। এ কথারই সত্যয়নে আল্লাহ তাঁআলা নাযিল করেনঃ যারা আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে (পরকালে তাদের কোন অংশ নেই)। বারী সুলায়মান তাঁর বর্ণিত হাদীসে বলেনঃ আশআছ ইবনু কায়স (রাঃ) যখন পার্শ দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন জিজ্ঞাসা করেন, আবদুল্লাহ তোমাদের কাছে কি বর্ণনা করেছেন? উত্তরে লোকেরা তাকে কিছু বলল। তখন আশআছ (রাঃ) বললেনঃ এ আয়াত তো আমার আর আমার এক সঙ্গীর ব্যাপারে নাযিল হয়েছে? আমাদের দু, জনের মাঝে একটি কুপের ব্যাপারে ঝগড়া ছিল।

➢ ৬২০৫ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ (আল্লাহ) আমি তোনার ইজ্জতের আশ্রয় চাই। আবূ হুরায়রা (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যাক্তি কিয়ামতের দিন) জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝামাঝি যানে থাকবে। সে তখন আরয করবে, হে প্রভু! আমার চেহারাটি জাহান্নামের দিক থেকে ফিরিয়ে দাও। তোমার ইজ্জতের কসম। এ ছাড়া আর কিছুই আমি তোমার কাছে চাইব না। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাঁআলা বলবেনঃ এ পুরস্কার তোমার আর এরুপ দশ গুণ। আবূ আইউব (রাঃ) বলেনঃ তোমার ইজ্জতের কসম! তোমার বরকত থেকে আমি অমুখাপেক্ষী নই।

➢ ৬২০৬ আদম (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জাহান্নাম সর্বদাই বলতে থাকবে- আরও কি আছে? এমন কি রাবুল ইজ্জত তাতে তাঁর পা রাখবেন। ব্যাছ, ব্যাছ, জাহান্নাম বলবে, তোমার ইজ্জতের কসম! সেদিন তার একাংশ অপরাংশের সাথে মিলিত হয়ে যাবে। শুবা, কাতাদা (রহঃ) থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

➢ ৬২০৭ ওয়াইসী ও হাজ্জাজ (রহঃ) ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উরওয়া ইবনু যুবায়র, সাঈদ ইবনু মূসা য়্যাব, আলকামা ইবনু ওয়াক্কাস ও উবায়দুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে নযী -এর সহধর্মিনা আয়িশা (রাঃ)-এর অপবাদ সংক্রান্ত হাদীস বর্ণনা করেন। অপবাদ রটনাকারীরা যখন তাঁর সম্পর্কে যা ইচ্ছে তাই অপবাদ করল, তখন আল্লাহ তা’আলা তাঁকে পূত-পবিত্র বলে প্রকাশ করে দিলেন। রাবী বলেনঃ উপরোক্ত বর্ণনাকারীগণ প্রত্যেকেই হাদীসের এক একটি অংশ আমার কাছে বর্ণনা করলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দণ্ডায়মান হলেন এবং আবদুল্লাহ ইবনু উবাই এর প্রতিশোধ নেয়ার জন্য জিজ্ঞাসা করলেন। এরপর উসায়দ ইবনু হুযায়র (রাঃ) দাড়ালেন এবং সা’দ ইবনু উবাদা সম্পর্কে বললেনঃ আল্লাহর কসম, অবশ্যই আমরা তাকে হত্যা করব।

➢ ৬২০৮ মুহাম্মাদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ‘লা ইয়ুখাযু কুমুল্লাহ’ আয়াত- খানা “লা আল্লাহ” (না, আল্লাহর কসম) এবং ‘বালা আল্লাহ’ (হ্যা, আল্লাহর কসম) এ জাতীয় কথা বলা সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়।

➢ ৬২০৯ খাল্লাদ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আর আবূ হুরায়রা (রাঃ) অত্র হাদীস মারফূ” হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ) নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁআলা আমার উম্মাতের সে সমস্ত ওয়াসওয়াসা মাফ করে দিয়েছেন যা তাদের মনে উদয় হয় বা যে সব কথা মনে মনে বলে থাকে; যতক্ষন না তা কাজে পরিণত করে বা সে সম্পকে কারও কাছে কিছু বলে।

➢ ৬২১০ উসমান ইবনু হায়সাম (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন খূতবা দিতেছিলেন। তখন এক ব্যাক্তি উঠে দাড়াল এবং আরয করল, ইয়া রাসুলুলাহ! আমি ধারণা করলাম যে, অমুক অমুক আমলের পূর্বে অমুক অমুক রুকন হবে। এরপর অপর এক ব্যাক্তি উঠে দাঁড়াল এবং আরয করল, ইয়া রাসুলুল্লাহ! অমুক অমুক আমলের পূর্ব অমুক আমল হবে, (অর্থাৎ তারা যবেহ, হলক ও তাওয়াফ) এই তিনটি কাজ সাম্পর্কে জানতে চাইল। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ করতে পার- কোন দোষ নেই। ঐ দিন যে সম্পর্কেই জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেনঃ করতে পার কোন দোষ নেই।

➢ ৬২১১ আহমাদ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে আরয করল যে, আমি তো প্রস্তর নিক্ষেপের পূর্বে যিয়ারত করে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই। আরেক ব্যাক্তি বলল, আমি তো যবেহ করার পূর্বে মাথা মুণ্ডন করে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই। অপর ব্যাক্তি বলল, আমি তো প্রস্তর নিক্ষেপের পূর্বে যবেহ করে ফেলেছি! তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই।

➢ ৬২১২ ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে লাগল। আর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মসজিদের এক কোণে অবস্হান করছিলেন। লোকটি তাঁর কাছে এসে তাকে সালাম করল। তিনি বললেনঃ ফিরে যাও এবং সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে নাও। কেননা, তুমি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করনি। তখন সে ফিরে গেল এবং সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করল। পুনরায় এসে তাঁকে সালাম করল। তিনি উত্তরে বললেনঃ তোমার উপরও সালাম। তুমি ফিরে যাও এবং সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে নাও। কেননা, তুমি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করনি। তৃতীয়বার লোকটি বলল, দয়া করে আমাকে অবহিত করে দিন। তিনি ইরশাদ করলেনঃ যখন তুমি সালাত (নামায/নামাজ) দণ্ডায়মান হবে তখন খুব ভালভাবে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নেবে। এরপর কিবলা মুখী হবে। তারপর তাকবীরে তাহরীমা বলবে। এরপর কুরআন মজীদ থেকে যা তোমার জন্য সহজ তিলাওয়াত করবে। এরপর ধীরস্হিরভাবে রুকু করবে। এরপর মাথা উত্তোলন করবে। এমনকি সঠিকভাবে দাড়িয়ে যাবে। এরপর সিজদা করবে ধীরস্হিরভাবে। এরুপর (সিজদা থেকে) মাথা উত্তোলন করবেঃ এমন কি সোজা হয়ে এবং ধীরস্হিরভাবে বসে যাবে। এরপর পূনরায় সিজদা করবে ধীরস্হিরভাবে। তারপর সিজদা থেকে মাথা উত্তোলন করবে। এমন কি সোজা হয়ে দাড়িয়ে যাবে। এরপর তোমার সমস্ত সালাত (নামায/নামাজ)ই এরুপ করবে।

➢ ৬২১৩ ফারওয়া ইবনু আবূল মাগরা (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উহুদের যূদ্ধে মুশরিকরা প্রকাণ্ডভাবে পরাজয় বরণ করে। ইবলিস চিৎকার করে বলল, হে আল্লাহর বান্দ্বারা! তোমরা পিছনের দিকে ফির। এতে সামনের লোকগুলো পিছনের দিকে ফিরল। তারপর পিছনের লোকদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। হুযায়ফা ইবনু ইয়ামন (রাঃ) আকমিক তার পিতাকে দেখে মুসলমানদের প্রতি লক্ষ্য করে বললেনঃ এ তো আমার পিতা, আমার পিতা। আল্লাহর কসম! তারা ফিরল না। পরিশেষে তারা তাকে হত্যা করল। হুযায়ফা (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন। উরওয়া (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর কসম! মৃত্যু পর্যন্ত হুযায়ফা (রাঃ)-এর নিকট তার প

Address

Rangpur
5620

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Al hadis posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category