23/07/2025
দুপুর বেলা বাসা থেকে খেয়ে অফিসে ঢুকবো, এমন সময় বিমানের খবরটা পেলাম। বয়স হয়ে গেসে এই পোড়ার শহরে, জানতাম কি হতে যাচ্ছে, তাও দোয়া করলাম যতটা কম হয়। তারপর যা হল/হচ্ছে, আজব।
প্রথম জানতে পারলাম পাইলট নিজের জীবন বাজি রেখে চেষ্টা করে নিহত হয়েছেন, তারপর জানতে পারলাম তিনি শেষ মুহূর্তে ইজেক্ট করেন। অনেক হতাহতের খবর পেলাম। মানুষের আহাজারি থেকে বেশি শুনলাম, সেনাবাহিনী আর বিমান বাহিনি এতো তাড়াতাড়ি আসলো কি ভাবে, তারপর শুনলাম ওনারা মৃতের সংখ্যা বলতে চাচ্ছেন না, তারপর শুনলাম রিক্সাওালা রা বেশি ভাড়া চাচ্ছে, তারপর শুনলাম রাজনীতিবিদরা কেন ওখানে, তারপর শুনলাম এটা সেনাবাহিনির পি আর আর ইমেজ পরিস্কারের চেষ্টা, তারপর শুনলাম এই জেট শহরের উপরে কেন, তারপর শুনলাম এই জেট অবসলিট, তারপর শুনলাম বার্ন গড কে ফেরত আনেন, তারপর শুনলাম ছুটি নিয়ে আলাপ এবং দিলো কি না সেইটা নিয়ে আলাপ, তারপর শুনলাম এক বিদেশি হ্যাকার গ্রুপ আগেই বলসিল, তারপর শুনলাম পাইলটকে হিরো বানাবেন না, তারপর শুনলাম সচিবালয় ঘেরাও, ওখানে আওয়ামী লিগ ব্যাক, তারপর শুনলাম না না, উনি জুলাই যোদ্ধা, তারপর শুনলাম পাঁচ কোটি আর এক কোটি অনুদান, তারপর শুনলাম আলাদা করে কবরস্থান করার জায়গা, তারপর শুনলাম ডাইনি আমলে কেনা জেট এগুলা, তারপর শুনলাম আজকে যারা তাদের দৈনন্দিন জিবনের ছবি শেয়ার করবে তাদের ডিলিট, তারপর শুনলাম কেন রাজধানীর ভেতরে সেনানিবাস আর এখানে কেন জেট উড়ানো হবে তাও প্রশিক্ষনের জেট। শেষে শুনলাম আমাদের বিমান বাহিনি খু ব ই সতর্ক, প্রশ্নই উঠে না ফল্টী বিমান আকাশে উড্ডয়ন।
৩৩০ টা শব্দ লিখলাম, কোথাও বললাম না এত গুলা বাচ্চা মারা গেছে। এই ৩৩০ টা শব্দের মধ্যে আমি আপনি আমরা সবাই।
পৃথিবীর যেকোনো দেশে, ইতর ধরনের দেশ না হলে, কি প্রচণ্ড শক্তি দিয়ে শিশুদের নিরাপত্তা দেয় এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমাদের দেশে এত গুলো বাচ্চা মারা যাবার একটা দুর্ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় তামাশা বানানো হয়। ( আমরাই না বলে রাষ্ট্র)। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাইলটের সমাধি হয় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়, নিখোঁজের লিস্ট ক্লিয়ার হয় না। ৩৩০ টা শব্দ বলা যায়, বাচ্চা গুলার হারানোর কথা না বলে। একটা দুর্ঘটনাস্থল কিভাবে কন্ট্রোল করতে হয় তা আমরা জানি না, সেখানে যেয়ে ভিড় করতে হয় না, ওখানে যেয়ে কন্টেন্ট বানাতে হয় না এটা আমরা জানি না। আমার মতে এখানে সব থেকে বেশি কন্সিস্টেন্ট ছিলেন আমাদের রিক্সা ওয়ালা মামা রা। জাতি গত ভাবে আমরা যে একটা সুবিধাবাদি জাতি এই জায়গাতে তারা অনড়।
কিসের মানুষ পোড়ে, আগে টাকা ডাবল তারপর উঠেন। এটাই আমরা। নোংরা। মানুষের বাচ্চা না।
আমি আমার বাচ্চাটাকে দেখি, আর মনে মনে বলি ………
শূয়র সব।
Copy - asif newaz