26/04/2022
গরীবের টাকাগুলো সব আটকে আছে আমাদের ব্যাংক একাউন্টে। আসুন এগুলো আজই রিলিজ করে দেই।
যাকাত দুনিয়ার কোন ট্যাক্স নয় যে ফাঁকিঝুঁকি দিয়ে রক্ষা পাওয়া যাবে। এটা আল্লাহর নির্ধারিত ফরজ ট্যাক্স। গরীবের হক। ফাঁকি দিয়ে রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়। বিত্তশালীদের উপর ফরজ ২.৫ শতাংশ যাকাতের অর্থগুলো যেন আটকে না রাখি।
যারা সারাবছর ঘুষ-দূর্নীতি ও হারাম উপার্জন করেছেন তাদের যাকাত নাই। কারন হারাম সম্পদের পুরো ১০০ শতাংশই দান করে দিতে হবে। এটা ওয়াজিব। কারণ এ সম্পদের মালিক ব্যক্তি নয়। কাজেই সুদ, ঘুষ, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট, বিদেশে অর্থ পাচার , কালো টাকা, অন্যায়ভাবে দখলকৃত সম্পত্তি ইত্যাদি সর্ব প্রকার হারাম সম্পদ তাৎক্ষণিকভাবে সওয়াবের নিয়ত ছাড়াই দান করে দিয়ে নিজেকে দায়মুক্ত করে নিতে হবে।
ইসলামে কালিমায়ে শাহাদাত ও নামাজের পরই যাকাতের স্থান। যাকাত একটি ফরয বিধান। সুতরাং যাকাত ফরজ জেনেও কেউ তা অস্বীকার করলে সে কাফের হয়ে যাবে। আর যে যাকাত প্রদানে কৃপণতা করবে বা পরিমাণের চেয়ে কম দিবে, সে কঠিন শাস্তির উপযুক্ত হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “এবং যারা সোনা ও রূপা পুঞ্জীভূত করে রাখে, আর তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে না, তুমি তাদের বেদনাদায়ক আযাবের সুসংবাদ দাও। যেদিন জাহান্নামের আগুনে তা গরম করা হবে, অতঃপর তা দ্বারা তাদের কপালে, পার্শ্বে এবং পিঠে সেঁক দেয়া হবে। (আর বলা হবে) ‘এটা তা-ই যা তোমরা নিজদের জন্য জমা করে রেখেছিল। সুতরাং তোমরা যা জমা করেছিলে তার স্বাদ উপভোগ কর” (সূরা তওবা: ৩৪-৩৫)। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: “আল্লাহ যাকে সম্পদ দান করেছেন, অতঃপর সে তার যাকাত প্রদান করল না, কিয়ামতের দিন তার জন্য বিষধর সাপ সৃষ্টি করা হবে। যার দুটি চোঁয়াল থাকবে, যা দ্বারা সে তাকে কিয়ামতের দিন পেঁছিয়ে ধরবে। অতঃপর তার দু’চোয়াল পাকড়ে বলবে: আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার সঞ্চিত ধন”।[বুখারি: ৮৪০৩]
এই রমজানে আমরা সবাই কত কষ্ট করে রোজা রাখছি। নামাজ পড়ছি। কিন্তু নামাজ রোজার মত ফরজ বিধান যাকাত কি পরিপূর্ণভাবে আদায় করছি?