10/04/2026
মাজারের পুকুরের সিঁড়িতে বসে ছিল একটি অসহায় কুকুর। বারবার চেষ্টা করেও সে পিছল ঘাট বেয়ে উপরে উঠতে পারছিল না। ঠিক কাছেই একজন মানুষ দাঁড়িয়ে ছিল—চাইলেই হাত বাড়িয়ে তাকে তুলে আনতে পারতো। কিন্তু সে এগিয়ে আসেনি।
ধীরে ধীরে একটি কুমির এগিয়ে আসে। খুব ধীর গতিতে। যেন সে জানে—শিকার পালাতে পারবে না।
শেষ পর্যন্ত কুকুরটি বাঁচতে পারেনি।
এই ঘটনায় আমরা শুধু একটি প্রাণীর মৃত্যু দেখিনি। আমরা দেখেছি মানুষের নিষ্ক্রিয়তা, নিষ্ঠুরতা, আর দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি অমানবিক সংস্কৃতির প্রতিফলন।
প্রশ্ন হচ্ছে—এখানে কি শুধু কুকুরটির ওপরই সহিংসতা হয়েছে?
না।
কুমিরটির ওপরও হয়েছে।
কেন একটি বন্য প্রাণীকে তার স্বাভাবিক আবাসস্থল থেকে সরিয়ে এনে মাজারের পুকুরে আটকে রাখা হবে? কেন তাকে “মানত পূরণের মাধ্যম” বানানো হবে? কেন জীবন্ত প্রাণী খাওয়ানো হবে তার সামনে—যেন সে মানুষের ইচ্ছা পূরণ করবে?
এটি ধর্ম নয়। এটি কুসংস্কার।
মানুষ যুগের পর যুগ বিশ্বাস করে এসেছে—মাজারে প্রাণী দিলে মানত পূরণ হয়, সন্তান হয়, রোগ সারে, পড়াশোনায় মন বসে, সংসার ঠিক হয়। এই বিশ্বাসের নামে অসংখ্য হাঁস, মুরগি, ছাগল—এমনকি কুকুর পর্যন্ত জীবন্ত অবস্থায় কুমিরের সামনে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
এতে দুইটি প্রাণীর প্রতিই অবিচার হচ্ছে—
একটি প্রাণীকে বলি দেওয়া হচ্ছে,
আরেকটি প্রাণীকে বন্দি রেখে মানুষের কুসংস্কারের যন্ত্র বানানো হচ্ছে।
কুমিরের স্থান সুন্দরবনের মুক্ত জলাশয়, মাজারের পুকুর নয়।
এই সংস্কৃতি বন্ধ না হলে ভবিষ্যতেও এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
সরকারের কাছে দাবি—
মাজারের পুকুরে বন্দি কুমিরগুলোকে তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
মানতের নামে জীবন্ত প্রাণী হত্যার এই অমানবিক প্রথা বন্ধ করা হোক।
মানবিক সমাজ গড়তে হলে—সব প্রাণীর জন্যই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। 🐕🐊
Collected post