Shri Ganesh Creations

Shri Ganesh Creations We Think! We Sink! beyond Creation... We Link! beyond Creations...

     #শালিধান  #প্রকাশিতব্য  #নতুনবই ১৪ আগস্ট, ২০২৪। শোক বদলে গেল ক্ষোভে, ক্ষোভ থেকে জন্ম নিল দ্রোহ। 'রাত দখল' শব্দবন্ধে...
25/10/2024

#শালিধান #প্রকাশিতব্য #নতুনবই

১৪ আগস্ট, ২০২৪। শোক বদলে গেল ক্ষোভে, ক্ষোভ থেকে জন্ম নিল দ্রোহ। 'রাত দখল' শব্দবন্ধের মধ্যে দিয়ে প্রকাশিত হল চিরাচরিত নিষেধের বেড়া ভাঙার প্রত্যয়। প্রতিধ্বনিত হল পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার শৃঙ্খল ভাঙার আহ্বান। এক সঙ্গে, এক স্বরে গর্জে উঠল লক্ষ-কোটি নারী। তরুণী চিকিৎসক তিলোত্তমার ধর্ষণ ও খুনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন, মূলত নারীদের আন্দোলন হলেও পুরুষের অংশগ্রহণ এতটুকু কম ছিল না কোনোখানে। বাংলা তথা ভারত এমন স্বতঃস্ফূর্ত গণ-আন্দোলনের সাক্ষী খুব কমই থেকেছে।

ব্যক্তি স্বাধীনতা, লিঙ্গ বৈষম্য, কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা সর্বোপরি সমানাধিকার যেমন এই আন্দোলনের অন্যতম দাবি, একই সঙ্গে দুর্নীতিগ্রস্থ রাষ্ট্র তথা সমাজব্যবস্থার ওপর অনাস্থা প্রকাশও এই বিদ্রোহের পরতে পরতে প্রকাশ পেয়েছে। ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটিত হওয়ার নেপথ্য রহস্য এবং প্রশাসনিক অতিসক্রিয়তার কারণ জানার সাহস যুগিয়েছে এই গণ-আন্দোলন। এই দ্রোহের প্রেক্ষিত, আবেদন, অভিমুখ, প্রভাব এবং উদ্‌যাপনের ইতিবৃত্তকে দুই মলাটে ধরে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে শালিধান প্রকাশন। এই সংকলন অভূতপূর্ব এই আন্দোলনের একটি দলিল হয়ে থাকবে বর্তমান ও ভাবী প্রজন্মের কাছে।

আমরা কৃতজ্ঞ এই সংকলনের সকল লেখক, সম্পাদক মানসী সিনহা এবং প্রচ্ছদ শিল্পী সনাতন তিলোত্তমা দিন্দার কাছে। আমাদের আনত অভিবাদন নারীশক্তিকে।

     #শালিধান  #প্রকাশিতব্য  #নতুনবই১৪ আগস্ট, ২০২৪। শোক বদলে গেল ক্ষোভে, ক্ষোভ থেকে জন্ম নিল দ্রোহ। 'রাত দখল' শব্দবন্ধের...
24/10/2024

#শালিধান #প্রকাশিতব্য #নতুনবই

১৪ আগস্ট, ২০২৪। শোক বদলে গেল ক্ষোভে, ক্ষোভ থেকে জন্ম নিল দ্রোহ। 'রাত দখল' শব্দবন্ধের মধ্যে দিয়ে প্রকাশিত হল চিরাচরিত নিষেধের বেড়া ভাঙার প্রত্যয়। প্রতিধ্বনিত হল পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার শৃঙ্খল ভাঙার আহ্বান। এক সঙ্গে, এক স্বরে গর্জে উঠল লক্ষ-কোটি নারী। তরুণী চিকিৎসক তিলোত্তমার ধর্ষণ ও খুনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন, মূলত নারীদের আন্দোলন হলেও পুরুষের অংশগ্রহণ এতটুকু কম ছিল না কোনোখানে। বাংলা তথা ভারত এমন স্বতঃস্ফূর্ত গণ-আন্দোলনের সাক্ষী খুব কমই থেকেছে।

ব্যক্তি স্বাধীনতা, লিঙ্গ বৈষম্য, কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা সর্বোপরি সমানাধিকার যেমন এই আন্দোলনের অন্যতম দাবি, একই সঙ্গে দুর্নীতিগ্রস্থ রাষ্ট্র তথা সমাজব্যবস্থার ওপর অনাস্থা প্রকাশও এই বিদ্রোহের পরতে পরতে প্রকাশ পেয়েছে। ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটিত হওয়ার নেপথ্য রহস্য এবং প্রশাসনিক অতিসক্রিয়তার কারণ জানার সাহস যুগিয়েছে এই গণ-আন্দোলন। এই দ্রোহের প্রেক্ষিত, আবেদন, অভিমুখ, প্রভাব এবং উদ্‌যাপনের ইতিবৃত্তকে দুই মলাটে ধরে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে শালিধান প্রকাশন। এই সংকলন অভূতপূর্ব এই আন্দোলনের একটি দলিল হয়ে থাকবে বর্তমান ও ভাবী প্রজন্মের কাছে।

আমরা কৃতজ্ঞ এই সংকলনের সকল লেখক, সম্পাদক মানসী সিনহা এবং প্রচ্ছদ শিল্পী সনাতন তিলোত্তমা দিন্দার কাছে। আমাদের আনত অভিবাদন নারীশক্তিকে।

     #শালিধান  #প্রকাশিতব্য  #নতুনবই  #প্রবন্ধ‘আমার হরিনামে রুচি কারণ পরিনামে লুচি।' এ বড় সত্য উচ্চারণ। নিত্যপুজো থেকে ত...
16/10/2024

#শালিধান #প্রকাশিতব্য #নতুনবই #প্রবন্ধ

‘আমার হরিনামে রুচি কারণ পরিনামে লুচি।' এ বড় সত্য উচ্চারণ। নিত্যপুজো থেকে তেরো পার্বণ, দেবদেবীকে ভোগ সাজিয়ে তুষ্ট করতে না পারলে বুঝি ভোজোনেষু বাঙালির শান্তি হয় না। ভোগের গন্ধ নাকে এলেই আস্বাদনের অপেক্ষা করে বাঙালি।

অঞ্চল ভেদে, সমাজ, অর্থনৈতিক অবস্থা অনুযায়ী ভক্ত মনের সাধ মিটিয়ে দু’ হাত উজার করে ভোগ সাজান। এসবের মধ্যে ফুটে ওঠে বাঙালির খাদ্য-সংস্কৃতির চিত্র। পান্তাভাত, খিচুড়ি, ফলমূল, মাছ, মাংস, ফলার কী নেই ভোজের তালিকায়! সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর লৌকিক দেবতা থেকে শুরু করে শারদীয় উৎসবের ভোগের তারতম্য তো আছেই সঙ্গে মধ্যযুগের বণিক থেকে নিষাদ জাতির অন্দরমহলের পাকশালের বিবিধ ব্যঞ্জন লিপিবদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে এই গ্রন্থটিতে।

এই গ্রন্থটি ভোজনবিলাসী বাঙালির প্রতি সুকন্যার নিবিড় অধ্যাবসায়ের নৈবেদ্য। অধ্যায়গুলি পড়তে পড়তে চেতনা এবং রসনা উভয়ই সিক্ত হবে, নিশ্চিত।

প্রচ্ছদশিল্পী: Rituparna Khatua

   #শালিধান  #ইস্টবেঙ্গল  #লালহলুদ       ইস্টবেঙ্গল শুধু একটা ক্লাবের নাম নয়, ইস্টবেঙ্গল শুধুমাত্র সাফল্যের নাম নয়, ইস্ট...
11/08/2024

#শালিধান #ইস্টবেঙ্গল #লালহলুদ



ইস্টবেঙ্গল শুধু একটা ক্লাবের নাম নয়, ইস্টবেঙ্গল শুধুমাত্র সাফল্যের নাম নয়, ইস্টবেঙ্গল কেবলমাত্র একটা জাতির ইতিহাস নয়। ইস্টবেঙ্গল এক চিরন্তন ধ্রুব সত্য। ইস্টবেঙ্গল একটা সভ্যতা, ইস্টবেঙ্গল হাজার প্রতিকূলতার মধ্যে বেঁচে থাকার কারণ, ইস্টবেঙ্গল একটা ইনস্টিটিউশন।

সংঘর্ষ, প্রতিকূলতা, অপমান-লাঞ্ছনা আর ব্যর্থতার দাগ মুছতে মুছতে সাফল্যের সোনালি ডানায় উড়াল দিয়ে ভারতীয় ফুটবলের ‘বেঞ্চমার্ক’ হয়ে ওঠার রূপকথার নামই ইস্টবেঙ্গল। শতাব্দীপ্রাচীন এই ক্লাবের সমর্থকরা আজও ‘ছিন্নমূল উদ্‌বাস্তু’ তকমায় গর্বিত হয়। পিঠের চামড়ায় লেগে থাকা কাঁটাতারের দাগের যন্ত্রণা প্রশমিত হয় বিপক্ষের জালে চামড়ার গোলক জড়িয়ে দেওয়ার আদিম উল্লাসে। শতাব্দীপ্রাচীন এই ক্লাবের আবেগ, উচ্ছ্বাস, ভালোবাসা, অপমান, ব্যর্থতা-সাফল্যের গল্পগাছা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ময়দানের আনাচে-কানাচে, খবরের কাগজের পুরোনো এডিশনে, স্মৃতির পাতায়, বাস্তবের রুক্ষতায়, আগামীর স্বপ্নে।

ইস্টবেঙ্গলের ইতিহাস এতটাই বিস্তৃত যে তা একটামাত্র বইতে লিখে ফেলা কার্যত অসম্ভব। তবুও নিরলস প্রচেষ্টায়, সাংবাদিক জীবনের অভিজ্ঞতায় না-জানা, অজানা, স্বল্প-জানা সেই সব গল্পগাছা একত্রিত করে বিশিষ্ট সাংবাদিক অর্ঘ্য বন্দ্যোপাধ্যায় লিখে ফেলেছেন আস্ত একটা বই।

লাল-হলুদের ডায়েরি
অর্ঘ্য বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রকাশক: শালিধান
মুদ্রিত মূল্য: 399/-

প্রাপ্তিস্থান:

কলেজ স্ট্রিট:
👉 দে'জ পাবলিশিং
👉 দে বুক স্টোর (দীপুদা)
👉 আদি দে বুক স্টোর
👉 শব্দ
👉 অরণ্যমন

বর্ধমান:
👉 শ্রী গণেশ ক্রিয়েশনস্ (হোয়াটস্ অ্যাপ): 7001877312
👉 নবনী বুক স্টল: 9474785338

👉 নিজস্ব ওয়েব স্টোর:
https://shalidhan.in/product/lal-haluder-diary/
👉 অ্যামাজন:
http://www.amazon.in/dp/8195611699?ref=myi_title_dp

বৃষ্টি চলছে... অফার চলছে...
04/07/2024

বৃষ্টি চলছে... অফার চলছে...

      #শালিধান  #উপন্যাসপ্রাপ্তিস্থান:কলেজ স্ট্রিট:👉 দে'জ পাবলিশিং👉 দে বুক স্টোর (দীপুদা)👉 আদি দে বুক স্টোর👉 শব্দ👉 অরণ্য...
16/06/2024


#শালিধান #উপন্যাস

প্রাপ্তিস্থান:

কলেজ স্ট্রিট:
👉 দে'জ পাবলিশিং
👉 দে বুক স্টোর (দীপুদা)
👉 আদি দে বুক স্টোর
👉 শব্দ
👉 অরণ্যমন

বর্ধমান:
👉 শ্রী গণেশ ক্রিয়েশনস্ (হোয়াটস্ অ্যাপ): 7001877312
👉 নবনী বুক স্টল: 9474785338

👉 নিজস্ব ওয়েব স্টোর:
https://shalidhan.com

👉 অ্যামাজন:
https://www.amazon.in/dp/8195919030?ref=myi_title_dp

 #বইয়েরখোঁজ  #প্রবন্ধ #বইয়েরপাতাথেকেবাংলা কথাসাহিত্যর সূচনা অবশ্যই ভবানীচরণ, প্যারীচাঁদ বা কলীপ্রসন্নের কলমে। ভবানীচরণে...
18/05/2024

#বইয়েরখোঁজ

#প্রবন্ধ
#বইয়েরপাতাথেকে

বাংলা কথাসাহিত্যর সূচনা অবশ্যই ভবানীচরণ, প্যারীচাঁদ বা কলীপ্রসন্নের কলমে। ভবানীচরণের ‘নববাবুবিলাস’ ও ‘নববিবিবিলাস’ যেন উনিশ শতকের বাবু কালচার ও বেশ্যা সংস্কৃতির এক অনুপুংখু ম্যনুয়েল। কলকাতার ধনী যুবকের লাম্পট্য, পরস্ত্রী সম্ভোগ ও বহু নারীগমনের কেচ্ছা সম্বলিত পুস্তক ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দূতীবিলাস’। কলকাতার সম্পন্ন পরিবারগুলোতে পুরুষতান্ত্রিক যৌন অবরোধের ভিতর গৃহস্থ মেয়েদের নিজস্ব শারীরিক উপভোগ বা সমকামীতার এর ছবি পাওয়া যায় ‘দূতীবিলাসে’। প্যারীচাঁদ মিত্রের ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’-তে আছে সমাজ যৌনতার কথা। কিন্তু এই সময়ের লেখকেরা নৈতিক দিক দিয়ে সকলেই ছিলেন প্রায় বিবেকের ভূমিকায়।

বলা যায়, কথা সাহিত্যের যথার্থ আত্মপ্রকাশ বঙ্কিমচন্দ্রের হাতে। তিনি যৌন মানসিকতার শৃঙ্খলায় কঠোরভাবে বিশ্বাসী ছিলেন। বাংলা দেশে ‘প্রেম’ নামক পদ্ধতিটির আবিষ্কারক বঙ্কিমচন্দ্র। বঙ্কিমের কালে এবং বঙ্কিমের কলমে নারীর শরীরে ফুটেছিল কমল হীরের দ্যুতি। বঙ্কিমচন্দ্রের সাহিত্যে নারী ও এবং প্রেমের ভূমিকা নিয়ে খুব তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন পূর্ণেন্দু পত্রী,
“বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর সারা জীবনে যা কিছু লিখেছেন তার অর্ধেক বিষয় ভালোবাসা, বাকি অর্ধেক ধর্ম, সমাজ ও ইতিহাস। বঙ্কিমচন্দ্র ভালোবাসা নিয়ে যা কিছু লিখেছেন, তার অর্ধেকটা জুড়ে নারী। বাকি অর্ধেকটা সমাজ-সংস্কার এবং সংঘাত। বঙ্কিমচন্দ্র নারীদের নিয়ে যা কিছু লিখেছেন তার অর্ধেকটা জুড়ে তাদের রূপ, তাদের সৌন্দর্যের মোহ, তাদের দৈহিক আকর্ষণ বাকি অর্ধেকটা হৃদয়ের ভিতরকার নদ-নদী, জল, জলস্তম্ভ এবং জোয়ার ভাঁটা।” অর্থাৎ এক কথায় দাঁড়াল রূপবতী রমনীরাই বঙ্কিমচন্দ্রের যা কিছু সৃষ্টির অর্ধেক।

কথাসাহিত্যের চারা গাছকে বাঁচানোর দায়িত্ব ছিল বঙ্কিমের একক কাঁধে। ফলে তাঁকে এগোতে হয়েছে খুব সাবধানে। সমাজ-স্বাস্থ্যের নজরদার বঙ্কিমের পক্ষে অসম্ভব ছিল হৃদয়চর্চার কাহিনি রচনা করা। বিষবৃক্ষের ‘কুন্দনন্দিনী’ বা কৃষ্ণকান্তের উইলে ‘রোহিণী’ চরিত্র চিত্রায়নে তিনি যৌনতাকে ব্যবহার করেছেন কাহিনির প্রয়োজনে। প্রয়োজন ফুরোতেই তিনি তাদের মেরে ফেলেছেন। ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় বঙ্কিমের সমসময়ের। তিনি তাঁর ‘রূপসী হিরণ্ময়ী’ আখ্যানে হিরণ্ময়ীর পরপুরুষ সম্ভোগের কথা রাখঢাক না করেই বলেছেন পরে অবশ্য তিনি হিরণ্ময়ীর এই প্রবণতার জন্য তাকে মারাত্মক শাস্তি দিয়েছেন।

তারপর এলেন রবীন্দ্রনাথ। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসাবে যৌনতাকে তিনি দেখেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের ‘নষ্টনীড়’, ‘চোখের বালি’ ও ‘ঘরে বাইরে’ তৎকালীন সমালোচকদের কাছে নিন্দিত হয়েছিল। নিন্দুকদের মতে যৌনতাকে আশ্রয় করেই এই গল্পগুলির বিস্তার। তিনি বাংলা সাহিত্যে সৌন্দর্যতত্ত্বের পুরোহিত (High priest of beauty) এই সৌন্দর্যও তাঁদের কাছে যৌনভাবের সৌন্দর্য ছাড়া কিছু নয়। রবীন্দ্রনাথের ‘ঘরে বাইরে’ উপন্যাস তকমা পেল উদ্দাম কামপ্রবৃত্তির পোশাকি রূপের; যেখানে রোমান্সের সঙ্গে যৌনতাকে মেশানো হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ পূর্ণতার প্রতীক যৌবনের জয়গানে মুখর। বারবার কামনা করেছেন তার স্পর্শ, যৌবনকে দেখেছেন সুন্দর ও সত্য হিসেবে। আসলে দৃষ্টির আড়ালে যে গভীর গোপন মনের রসায়ন সেই মগ্নচৈতন্যের লুকোনো কারখানার সন্ধানে নেমেছেন সৃষ্টিশীল রবীন্দ্রনাথ তাঁর উপন্যাসের নারী চরিত্রদের অবলম্বন করে। ‘চোখের বালি’-র মহেন্দ্র-বিনোদিনী অথবা ‘ঘরে বাইরে’র বিমলা-সন্দীপের নানাবিধ যৌনতার সূক্ষ্ম বর্ণনা অত্যন্ত পরিশীলিত ভাবে আছে। রক্তমাংসের কামনা মূর্ত হয়ে উঠেছিল সন্দীপের মধ্যেও। বিমলাও চঞ্চল হয়েছে বার বার। নীতিবোধে আক্রান্ত রবীন্দ্রনাথ মহেন্দ্র-বিনোদিনী বা বিনোদিনী-বিহারীকে চুম্বন পর্যন্ত এগোতে দেননি।
“বিনোদিনী বিহারীর গলদেশ বাহুতে বেষ্টন করিয়া বলিল, জীবনসর্বস্ব, জানি তুমি আমার চিরকালের নও, কিন্তু আজ এক মুহূর্তের জন্য আমাকে ভালবাসো! তারপর আমি আমাদের সেই বনে-জঙ্গলে চলিয়া যাইব, কাহারও কাছে কিছু চাহিব না। মরণ পর্যন্ত রাখিবার আমায় কিছু একটা দাও— বলিয়া বিনোদিনী তাহার ওষ্ঠাধর বিহারীর কাছে অগ্রসর করিয়া দিল।”

ব্যস্, ওই পর্যন্ত। শিল্পে সাহিত্যে যৌনতার নিবিড় প্রকাশ রবীন্দ্রনাথের না-পসন্দ ছিল। তাই দেখা যায়, তাঁর উপন্যাসে বা গল্পে এমন কোন জায়গা নেই যেখানে রবীন্দ্রনাথের চিত্রিত চরিত্রেরা সংযম হারিয়েছে। সাহিত্যে ও তাঁর রচনায় যৌনতা আছে, কিন্তু তার প্রকাশভঙ্গি পরিশীলিত, অন্যরকম। রবীন্দ্রনাথের রচনায় কামনা থাকলেও কামের জায়গা ছিল না। তিনি কোথাও বাস্তবতার নামে উচ্ছৃঙ্খলতার প্রশ্রয় দেননি।
বলা বাহুল্য, সে যুগের নীতিবোধ, সামাজিক প্রেক্ষিত এ জাতীয় ঘটনা দেখাবার প্রতিকূল ছিল। তাতে পাঠক আনুকূল্য পাওয়া সম্ভব হত না। পাঠকপ্রিয় রবীন্দ্রনাথ এরকম ঝুঁকি নিতে পারেননি। বঙ্কিমচন্দ্রের মতো না মেরে বিধবা বিনোদিনীকে তিনি কাশী পাঠিয়ে দিয়েছেন আর সন্দীপ পালিয়েছে উত্তরের ট্রেনে চেপে। এইসব ঝামেলার চরিত্র নিয়ে রবীন্দ্রনাথও হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন।

এবার শরৎচন্দ্র। বিরোধীদের কথায়, ‘রবীন্দ্রনাথের নষ্টনীড় ও চোখের বালির একটা মিলিত সংস্করণ বাহির হইয়াছে তাহার নাম শ্রীযুক্ত শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘চরিত্রহীন’। কিছু নীতিবাদী প্রাবন্ধিকের ধারণা হয়েছিল যৌনতা আমদানি করে অশ্লীল ও দুর্নীতিগ্রস্থ সাহিত্য লিখে শরৎচন্দ্র দেশের মানুষকে নরকস্থ হবার পথ দেখাচ্ছেন। এখানে উল্লেখ্য শরৎচন্দ্রের লেখা ‘প্রবাসী’র কাছে প্রকাশযোগ্য বলে বিবেচিত হয়নি। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ চরিত্রহীনের কিরণময়ী ও সাবিত্রীর দিকে। বুদ্ধদেব বসু তো লিখেই ফেললেন “সাবিত্রীর মতো মেসের ঝি থাকলে আমরা মেসেই পড়ে থাকতুম।”

শরৎসাহিত্যেও যৌনতা আছে তবে তা শিল্পসম্মত উঁচু মানের পর্দায় বাঁধা। উঁচুদরের রসিক না হলে তার প্রকাশভঙ্গি ধরা মুশকিল। শ্রীকান্ত চতুর্থ পর্বে রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্তকে এক জায়গায় বলছে - ‘তোমাকে কী বিনামূল্যে অমনি অমনিই নেব তার ঋণ পরিশোধ করব না? আর আমিও যে তোমার জীবনে সত্যি করে এসেছিলুম যাওয়ার আগে সেই আসার চিহ্ন রেখে যাব না? এমনি নিষ্ফলা চলে যাব? কিছুতেই তা আমি হতে দেব না।’ এই কথার পিছনে যে ইঙ্গিত লুকিয়ে আছে তা যৌনতারই নামান্তর। তবে শরৎচন্দ্রের নায়ক-নায়িকারা সব সময়ই যৌনমিলন হতে নিজেদের দূরে রেখেছে।
শরৎচন্দ্রের কোমল শান্ত-মৃদু যৌনতাকে অতিক্রম করে ধুর্জটিপ্রসাদ তাঁর ‘অন্তঃশীলা’ উপন্যাসে লিখলেন রমলাদেবীর কথা। শরৎচন্দ্রের সুরেশ অচলা লোকলজ্জার জন্য যা করতে পারেনি তাই করে দেখিয়ে দিল রমলা-খগেন। জগদীশ গুপ্তর যৌনতার জগৎ আরও তীব্র আরও তিক্ত। জগদীশ গুপ্ত লিখলের ‘লঘুগুরু’, ‘রতি ও বিরতি’, ‘শ্রীমতী রোমন্থন’, ‘তাতল সৈকত’। লঘুগুরুর জগৎ সম্পর্কে প্রশ্ন তুললেন রবীন্দ্রনাথ। যৌনতার এক বিচিত্র উদাহরণ জগদীশ গুপ্তের ‘অরুপের রাস’ গল্পটি। ছোটবেলার খেলার সঙ্গী পাড়ার কানুদাকে ভালোবেসেছিল রাণু। কিন্তু কানুদার শরীরকে সে পায়নি। তাই কানুদার শরীরের স্পর্শ লেগে থাকা কানুদার স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সংসর্গ করে রাণু কানুদার শরীরের স্বাদ নিয়েছে।

বিভূতি সাহিত্যেও নর-নারীর প্রেম আছে কিন্তু সৃষ্ট প্রেমের কাহিনীতে যৌবনের দাহ, মিলনের জন্য নর-নারীর তীব্র ব্যাকুলতার প্রকাশ নেই। বিভূতিভূষণ যে প্রেমের তীব্রতা বা যৌন আকর্ষণ সম্পর্কে একেবারে অজ্ঞ ছিলেন তা নয়। তাঁর ‘অথৈ জল’ নামে উপন্যাসে শহুরে প্রেম দেখাতে গিয়ে তিনি অনেকখানি আদিরসের সাহায্য নিয়েছিলেন। তবুও বলা যায় তার সৃষ্ট প্রেমিকা নারী কামনাময়ী নয়, নায়কচিত্তে সে দেহতৃষ্ণা জাগায় না, সে মমতাময়ী কল্যাণী প্রতিমা।

নালিশ শোনা যায় যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখায় জীবন থেকে যৌনতা বেশি। যে দুটি বই নিয়ে এই নালিশ তা হল ‘চতুষ্কোন’ উপন্যাস এবং ‘সরীসৃপ’ গল্পগ্রন্থ। তবে এই দুটিই শুধু নয়, ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ সহ মানিকের প্রথম দিকের সমস্ত রচনাই যৌনতা মিশ্রিত মনস্তাত্ত্বিক রচনা। মানিক মনে করেন প্রেম হোক, কাম হোক, যৌনতা হোক, এ রহস্য জীবনেরই রহস্য, এ বিস্ময় জীবনেরই বিস্ময়। যৌনতা জীবনের একটি সুস্থ, প্রধান, অত্যাজ্য অংশ। তাঁর গল্প উপন্যাসে যৌনতা এসেছে জীবন রূপায়ণের অনিবার্য তাগিদে। মানিক কখনই যৌনতা সর্বস্ব নন। বরং বিবেকহীন যৌনতাকে তিনি তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। মানুষের অবচেতন মনের আলো-আঁধারের লীলার অপূর্ব শিল্পগুণান্বিত অথচ শক্তিশালী বিশ্লেষন আমরা মানিক সাহিত্যেই পাই।

কবিতায় যৌনগন্ধী শব্দ থাকার জন্য শিক্ষকতার চাকরি হারাতে হয়েছিল জীবনানন্দ দাশকে। তখনো তাঁর একটিও গল্প উপন্যাস প্রকাশিত হয়নি। যে সময়ে জীবনানন্দ দাশ গল্প উপন্যাসগুলো লিখেছিলেন তখন তাঁর বয়স ত্রিশ থেকে চল্লিশের মধ্যে। সে সময়টা যৌনবোধ ও যৌনযন্ত্রণার তীব্র দাপাপদাপির বয়স। স্বভাবিকভাবে যৌনতা তাঁর গল্পে উপন্যাসে উঠে এসেছে, তবে তা যৌন উত্তেজনার আগুন পোহানোর জন্য নয়। মূলত দাম্পত্য জীবনের স্থিরতা অস্থিরতাকে কেন্দ্র করেই তাঁর গল্প উপন্যাসে উঠে এসেছে নারী ও যৌনপ্রসঙ্গের দ্বন্দ্ব সংঘাত। প্রেম জীবনানন্দর কাছে শরীরী-মিলনের সার্থকতা নয়, বরং তা অপ্রাপ্তির ধূসরতা।

‘’সাহিত্যে লালসা ইতি পূর্বে স্থান পায়নি বা এর পরে স্থান পাবে না এমন কথা সত্যের খাতিরে বলতে পারিনে’’ রবীন্দ্রনাথ যখন একথা বলছেন ততদিনে বাংলা সাহিত্যে উচ্ছৃঙ্খলতা আর অসংযমের বাঁধভাঙা বন্যা দেখা দিয়েছে। তারুণ্যের জয়পতাকা ওড়াবার নামে ‘কল্লোলে’র লেখকরা শালীনতা, শোভনতা ও সুমার্জিত রুচিবোধকে ধুলোয় কাদায় টেনে নামিয়ে দিয়েছেন। অশ্লীলভাবে দেহবাস্তবের নগ্নতাকে উদ্ঘাটন করে বাংলা সাহিত্যের কোমল লাজুক বাতাবরণকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।

কাম The Desire
বর্ণালী রায়
প্রকাশক: শালিধান
মুদ্রিত মূল্য: 449/-

পাওয়া যাচ্ছে...

কলেজ স্ট্রিট:
👉 দে বুক স্টোর (দীপু)
👉 ভারতী বুক স্টল
👉 আদি দে বুক স্টোর
👉 দে’জ পাবলিশিং
👉 অরণ্যমন
👉 শব্দ

👉 নিজস্ব অনলাইন স্টোর: https://shalidhan.com/product/kama-the-desire/

👉 আমাজন: https://www.amazon.in/dp/8196020732?ref=myi_title_dp

(হোয়াটস্অ্যাপ): 7001877312

   #শালিধান #খোলাচিঠি #বইয়েরপাতাথেকেসাংবাদিকতা শিখছি ২০১৪ থেকে। তার দুই বছর পর, ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহ...
15/05/2024



#শালিধান
#খোলাচিঠি
#বইয়েরপাতাথেকে

সাংবাদিকতা শিখছি ২০১৪ থেকে। তার দুই বছর পর, ২০১৬ সালের ৩১ আগস্ট সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণকে অবৈধ ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট।
সেইদিন আমি প্রথম সিঙ্গুরে যাই বুদ্ধবাবু। গ্রামে সেদিন উল্লাস আর আনন্দের রোলে কান পাতা দায়।
সারাদিন খবর সংগ্রহের কাজ সেরে বিকেলবেলা স্থানীয় একটি ভাতের হোটেলে ঢুকেছি পেটে কিছু দেব বলে। সেখানে টিভি চলছে, আর টিভিতে সেদিনের সবথেকে বড় খবর গমগম করছে। ‘লাঙল যার, জমি তার’ জাতীয় কিছু একটা লেখা ভাসছে পর্দায়।
‘আর যারা কারখানা চেয়েছিল তাদের মতামত? জমি ফেরত তো তারা চায়নি। তারাই তো সংখ্যায় বেশি।’
ঘাড় বেঁকিয়ে বোঝার চেষ্টা করলাম ‘ইচ্ছুক’দের সমর্থনে এমন জোরালো আওয়াজ কোথা থেকে উঠছে। দেখি হোটেলে ঢোকার মুখে বাঁ-হাতে ছোট্ট ক্যাশ কাউন্টারের পিছনে বসে থাকা চশমা পরা মাঝবয়সি ভদ্রলোকের ঠোঁটদুটি তখনও আক্ষেপের ভারে বেঁকে রয়েছে।
ভাবলাম খাওয়া সেরে ভদ্রলোককে খানিক ‘বাজিয়ে’ দেখব। যেমন ভাবা তেমন কাজ। কিন্তু ভদ্রলোককে কিছু বলব কী, আমি সাংবাদিক বুঝে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বললেন, “আমি নই স্যার। আজকের খবর আপনি ওইদিকে পাবেন”। তার তর্জনী তখন গ্রামের ভিতরের দিকে তাক করা। অর্থাৎ আজকে যাদের ‘বড়ই সুখের দিন’, আমার তাদেরকেই প্রশ্ন করা উচিত।
যারা দীর্ঘদিন সিঙ্গুর কভার করেছেন তাঁদের জন্য বিষয়টা হয়তো মামুলি। কিন্তু আমার আনকোরা কানে বড্ড বেজেছিল কথাটা সেদিন। সত্যিই তো, যারা কারখানা চেয়েছিল তাঁদের স্বপ্নগুলির কী হবে?

কাট টু নভেম্বর ২০১৬

বুদ্ধবাবু, সেদিন হাতে কোনো স্টোরি নেই। আপনি তো জানেন, সাংবাদিকতার এই এক বড় ক্রাইসিস।
কী করা যায় ভাবতে ভাবতেই ঠিক করলাম একবার সিঙ্গুরের দিকে ঘুরে আসা যাক। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সেখানে সরকারি উদ্যোগে অধিগৃহীত জমির পুরোনো চরিত্র ফেরানোর কাজ চলছে।
জাতীয় সড়কের উপর দিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে সিঙ্গুরের সেই বহুচর্চিত জমির কাছে পৌঁছতে দেখি কারখানার বেশিরভাগটাই ভেঙে ফেলা হয়েছে। জমির পাশের রাস্তাটা জুড়ে সরকারি আধিকারিক ও কর্মীদের জন্য ক্যাম্প তৈরি হয়েছে। সেইখানেই ডাঁই করে রাখা রয়েছে কারখানার ভগ্নাবশেষ, লোহা-লক্কড়।
জাতীয় সড়ক পেরিয়ে এসে লোকজন বিনা বাধায় সেইসব লোহার টুকড়ো কাঁধে করে তুলে নিয়ে চলে যাচ্ছে। হয়তো সেই লোহার পাত ইত্যাদি, যেগুলি সরকারের নিলাম করার কথা ছিল সেইগুলির মধ্যে একাংশের কালোবাজারি হয়ে যেত। জানতে পারিনি।
তবে যেটা জানতে পেরেছিলাম তা হল এই যে এই ৯৯৭ একর জমির এক বৃহদাংশেরই কৃষিজ চরিত্র ফিরিয়ে দেওয়া অসম্ভব। সূত্র কে? আজ্ঞে সূত্র একটি নয়, তিনটি।
প্রথম দুইজন হলেন, সরকারি কর্মীদের জন্য তৈরি হওয়া একটি ক্যাম্পে কর্মরত কৃষি দফতরের দুজন আধিকারিক। আরেকজন হলেন তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু মহাশয়। তিনজনেই স্বীকার করে নিয়েছিলেন যে গোটা জমির পুরোনো চরিত্র ফিরিয়ে আনা অসম্ভব।
তাহলে? জমি তো ফিরল। কিন্তু সে তো ‘চরিত্রহীন’। এত আনন্দ আয়োজন সবই যে বৃথা তার পুরোনো চরিত্র ছাড়া। মনে প্রশ্ন এল, যাঁরা চাষের আশায় জমি ফেরত চেয়েছিলেন তাঁদের স্বপ্নগুলির কী হবে?
---------------
অর্কময় দত্ত মজুমদার (সাংবাদিক)

খোলা চিঠি: মাননীয় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সমীপেষু
সম্পাদনা: পার্থ দেব, মৈনাক সেনগুপ্ত
প্রকাশক: শালিধান
মুদ্রিত মূল্য: 299/-

প্রাপ্তিস্থান:

কলেজ স্ট্রিট:
👉 দে'জ পাবলিশিং
👉 ভারতী বুক স্টল
👉 দে বুক স্টোর (দীপুদা)
👉 আদি দে বুক স্টোর
👉 অরণ্যমন
👉 শব্দ

বর্ধমান:
👉 শ্রী গণেশ ক্রিয়েশনস্ (হোয়াটস্ অ্যাপ): 7001877312
👉 নবনী বুক স্টল: 9474785338

👉 নিজস্ব ওয়েব স্টোর:
https://shalidhan.com

👉 অ্যামাজন:
http://www.amazon.in

মাঠের লড়াই মাঠেই থাক...         #লালহলুদ  #সবুজমেরুন
10/03/2024

মাঠের লড়াই মাঠেই থাক...

#লালহলুদ #সবুজমেরুন

08/03/2024
   #বইয়েরখোঁজ  #ব‌ইয়েরপাতাথেকে  #কবিজন্মসে তুরন্ত বাড়ি থেকে বেরিয়েই অটো পেয়ে গেল। তার বাড়ি থেকে খুব দূর তো নয়, দুটো অট...
08/02/2024


#বইয়েরখোঁজ
#ব‌ইয়েরপাতাথেকে
#কবিজন্ম

সে তুরন্ত বাড়ি থেকে বেরিয়েই অটো পেয়ে গেল। তার বাড়ি থেকে খুব দূর তো নয়, দুটো অটোর মামলা। একসঙ্গে দু’তিনটে সিঁড়ি টপকে টপকে যখন ঋজুর বাড়ির বেল টিপল, তখন সে হাঁপাচ্ছে। ঋজু দরজা খুলে বললেন, কত লাইন চলে গেল। কত কবিতা। তুমি এলে না বলে।
চিরন্তনী মরমে মরে গেল। কিন্তু তার পক্ষে আরো তাড়াতাড়ি সম্ভব ছিল না যে!
সে দরজার মুখে দাঁড়িয়েছিল। ঋজু বললেন, এসো, এসো। ধরো। ওই খাতা-পেন নাও। তাড়াতাড়ি।
চিরন্তনী দ্রুত প্রস্তুত হয়ে নিল। ঋজু যথারীতি সারা ঘরে পায়চারি করছেন, আর কপাল থেকে চাঁদি অবধি দীর্ঘ কৃশ আঙুল দিয়ে চেপে চেপে হাত টানছেন। পঙ্‌ক্তি আসছে লাভার মতো। সদ্য উৎসারিত উত্তপ্ত শব্দমালা।

‘আমার তো স্পর্ধা বলতে সামান্য এ উদ্যত তর্জনী
কে তাকে ধারণ করবে, কবিতায় সিক্ত তোর যোনি?
তুই যদি না বলিস, সে কঠিন প্রত্যাখ্যানে
আমার শব্দগুলি পড়ে থাকবে এখানে ওখানে,
তোর যত পবিত্রতা, আমার পাপের দোষ তত
জীবনের নগ্ন শব ছড়িয়ে থাকবে ইতস্তত...’

একটা কবিতা শেষ হল। ঋজু চেয়ারে এসে বসলেন। হঠাৎ বললেন, উফ, কবিতা আসছে তো আসছেই। তুমি অত ঝুঁকে বোসো না, আমি উন্মাদ হয়ে যাচ্ছি।
চিরন্তনী হকচকিয়ে গেল। ঝুঁকে বোসো না মানে কী? সে কীভাবে বসেছে? সে সোজা হয়ে বসার চেষ্টা করল। এর সঙ্গে ঋজুর উন্মাদ হয়ে যাওয়ার কী সম্পর্ক?
ঋজু বললেন, আমি দেখে ফেলেছি, দেখে ফেলেছি।
চিরন্তনী সিঁটিয়ে গেল। কী বলছেন ঋজু? বা, কী বলতে চাইছেন? সে বিস্মিত গলায় বলল, কী?
----তোমার স্তনসন্ধি।
চিরন্তনীর মাথাটা ঘুরে উঠল। সে টের পেল সে ঘামতে শুরু করেছে। ঋজু চেয়ার ছেড়ে উঠলেন, খুব কাছে এসে ফিসফিস করে বললেন, ওখানে আমার কবিতা রাখতে দেবে? চিরন্তনীর তখনও মাথা ঘুরছে। এবার তার নিঃশ্বাস আরো দ্রুত হল। ঋজু বললেন, ওখানে আমার কবিতা রাখতে চাই, একবার দেখতে চাই। দেবে দেখতে?
চিরন্তনী থরথর করে কাঁপছে। ঋজু তার সাদা হয়ে যাওয়া মুখ দু’হাতে তুলে ধরে ঠোঁটে চুমু খেলেন। চিরন্তনী নিষ্ক্রিয় হয়ে রইল। কী করে এর উত্তর দেবে সে জানে না।
ঋজু আবার বললেন, আমায় দেখতে দেবে না? শুধু একবার?
চিরন্তনী সম্মোহিতের মতো জামার বোতামে হাত দিল। সে নিষ্ক্রিয় হলেও তার হাত যেন স্বয়ংক্রিয়। বোতাম খুলতেই ঋজু তার স্তনে হাত রাখলেন। ফিসফিস করে বললেন, ছুঁতে দাও। আড়াল রেখো না। তিনি আলতো হাতে চিরন্তনীর অন্তর্বাস সরিয়ে দিলেন। চিরন্তনী যেন সম্মোহিতের মতোই স্থির। ঋজু খানিকক্ষণ একদৃষ্টিতে সেদিকে তাকিয়ে থাকলেন। তারপর চাপা স্বরে বললেন, কবিতা! কবিতা! কবিতা মূর্তিমতী, আমাকে তোমার আশীর্বাদ দাও, কৃপা করো। আমাকে ছেড়ে যেও না। ছেড়ে গেলে আমি মরে যাব।
তাঁর চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। সেই মুহূর্তে চিরন্তনীও উন্মাদ হয়ে গেল। স্খলিত বসনেই সে দু’হাত দিয়ে ঋজুকে বুকে চেপে ধরল। তারপর সে এক আগ্রাসী চুম্বন। কিন্তু চুম্বনে ঋজুই বেশি পটু। চিরন্তনীর মুখে তোলপাড় করছে ঋজুর জিভ। কেটে যাচ্ছে অনাদি অনন্ত কাল। তারপর ঋজু বিচ্ছিন্ন হয়ে বললেন, আমি তোমার পোশাক ঠিক করে দিই?

উপন্যাস: কবিজন্ম
লেখক: মন্দাক্রান্তা সেন
প্রকাশক: শালিধান
মুদ্রিত মূল্য: 250/-

শালিধান অনলাইন: https://shalidhan.com/product/kobijonmo/
অ্যামাজন: https://www.amazon.in/dp/8196020791?ref=myi_title_dp

Address

Mousumi Club (1st Floor), 36, Nutanpally, Burdwan
Bardhaman
713101

Opening Hours

Monday 9:30am - 9:30pm
Tuesday 9:30am - 9:30pm
Wednesday 9:30am - 9:30pm
Thursday 9:30am - 9:30pm
Friday 9:30am - 9:30pm
Saturday 9:30am - 9:30pm

Telephone

+917001877312

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Shri Ganesh Creations posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Shri Ganesh Creations:

Share

Category