24/12/2025
‘কুসুমদলের বেড়া, তারি মাঝে ছায়া,
সেথা বসে করি আমি কল্পমধু পান—
বিজনে সৌরভময়ী মধুময়ী মায়া,
তাহারি কুহকে আমি করি আত্মদান—’
ফুলের নির্যাস থেকে মৌচাকে, সেখান থেকে এল আপনার ঘরে—মধু। কবিগুরুর ‘কল্পনামধুপ’ কাব্যে পরপর দুটি চরণে মধুর দুই রূপের বিবরণ দিয়েই শুরু করলাম। ‘মধু’ পান আর ‘মধু’ময়ী। মধু দিয়ে রূপচর্চা নিয়েই যখন লেখা, তখন শুরুটা ‘মধু’ময়ই হোক নাহয়। মধুময় রূপচর্চায় সুন্দর, সুস্থ, মধুর রূপের আদ্যোপান্ত ক্রমশ প্রকাশ্য।
মধু কেবল রূপেরই নয়, পুষ্টিগুণেরও বটে। ‘মধু’ খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ কারণে কোনো বাধা (যেমন ডায়াবেটিস) না থাকলে যে কেউ খেতে পারবেন।
মধুতে কি কি রয়েছে।
• মধুতে গ্লুকোজ ও ফ্রুকটোজ নামক দুই ধরনের সুগার থাকে। অবশ্য সুক্রোজ ও মালটোজও খুব অল্প পরিমাণে আছে।
• মধু নির্ভেজাল খাদ্য। এর শর্করার ঘনত্ব এত বেশি যে, এর মধ্যে কোনো জীবাণু ১ ঘণ্টার বেশি সময় বাঁচতে পারে না।
• মধুতে ভিটামিন এ, বি, সি প্রচুর পরিমাণ বিদ্যমান। অনেক প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদানও আছে। যেমন- এনজাইম বা উৎসেচক, খনিজ পদার্থ (যথা পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাঙ্গানিজ), এছাড়াও প্রোটিন আছে।
• মধুতে কোনো কোলস্টেরল নেই। সুস্থ অসুস্থ যে কেউ মধু খেতে পারেন। সুস্থ মানুষ দিনে দু’চা-চামচ মধু অনায়াসে খেতে পারেন। বেশি খেতে চাইলে শর্করা জাতীয় খাদ্য ভাত, রুটি, আলু কমিয়ে খেতে হবে। অন্যথা মোটিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে পরিমিত পরিমাণ খেলে মোটা হওয়ার ভয় নেই।
• হজমের গোলমাল, হার্টের অসুখ, ডায়াবেটিস প্রভৃতিরোগে আধা চা-চামচ এর বেশি মধু না খাওয়াই ভালো।
• পোড়া, ক্ষত ও সংক্রমণের জায়গায় মধু লাগালে দ্রুত সেরে যায়।
• রোজ সকালে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে ১ চা–চামচ মধু ও ১ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। ত্বক ভেতর থেকে সুস্থ থাকবে।