12/10/2022
পিঠে ব্যাকপ্যাক, ব্যাকপাকের ভিতরে নানান রকমের শব্দ ধারণ যন্ত্র। মাথায় গামছা, হাতে বুমস্টিক এবং মাক্রোফোন স্ট্যান্ড এক সাথে বাঁধা। চলচ্চিত্র সম্পাদক, সাউন্ড ডিজাইনার, কালারিষ্ট জনাব সুজন মাহমুদ সংগ্রহ করছেন সাঁতাও চলচ্চিত্রের প্রয়োজনীয় সাউন্ড।
গ্রামের পর গ্রাম হেঁটে পাড়ি দিচ্ছেন চলচ্চিত্রটির সঠিক শব্দ ধারণের জন্য। এমনি করে দিনে প্রায় ৬ কিলো মিটারের চেয়েও বেশি পথ হেটে হেটে পাড়ি দিতে হয়েছে তাঁকে। এই দেশে শব্দ দূষণ শহর থেকে গ্রামে এমন কোন জায়গা বাদ নেই যে পৌছায়নি। বর্তমানে আমাদের আনন্দের বহিঃপ্রকাশ হয় উচ্চ শব্দে মাইক বাজিয়ে। একটি গ্রামে উচ্চ শব্দে কেউ মাইক বাজালে তা দিনে প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলো জুড়ে শুনতে পাওয়া যায়। আর রাত হলে তো ৯/১০ কিমি পার হয়ে যায়। এমনি করে যদি প্রত্যেক গ্রামে একটি করে পরিবার আনন্দ প্রাকশ করে তাহলে বাংলাদেশের মোট আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিমি -এর কোন জায়গাটি শব্দ দূষণ মুক্ত থাকে বলুন! এরপর যান্ত্রিক শব্দ তো আছেই।
শব্দ দূষণ নতুন কোন বিষয় নয়। কিন্তু এর ভয়াবহতা দিন দিন নতুন করে সমস্যা তৈরী করছে জীববৈচিত্র্যের জন্য।
সঠিক শব্দটি সংগ্রহের জন্য যখন গ্রামের পর গ্রাম পাড়ি দিচ্ছিলেন সাউন্ড ডিজাইনার সুজন মাহমুদ তখন তাঁকে দেখে নানান কৌতূহলী গ্রামবাসীর নানান প্রশ্নের তালিকা নিম্নরূপ-
১। কোন জমি রেকর্ড করলেন?
২। আপনারা কি রাস্তা মাপলেন?
৩। পাখি মারলেন নাকি?
৪। কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন?
৫। ডেঙ্গু মশার ঔষধ দিতে আসছেন?
৬। বিষয়টা বুঝলাম না?
৭। প্রশ্ন বোধক হাসি?
৮। শুটিং করেন তো ক্যামেরা কই?
৯। মাছ মারতে যাচ্ছেন?
১০। আপনারা সাংবাদিক না?
ইত্যাদি নানান রকমের সৃজনশীল প্রশ্ন। বিষ্ময়ের বিষয় বিশ্রাম নেয়ার ফাঁকে ফাঁকে এগুলো প্রশ্নের উত্তর দেয়ার পরও সবাই তার নিজ নিজ প্রশ্নের অবস্থান থেকেই সম্পূরক প্রশ্ন করছে। হতে পারে শব্দ দূষণের এই দেশে মানুষ অন্য আর একজন মানুষ থেকে শুরু করে প্রকৃতির আর কোন শব্দই শুনে না তাই নিজের কথা ছাড়া আর কিছুই বুঝচ্ছে না।
খন্দকার সুমন
চলচ্চিত্র নির্মাতা
ঢাকা, ১২/১০/২০১৯