08/11/2025
যখনই দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত হবেন,গোপনে সদকাহ্ করে দিবেন। অভাব দেখা দিলে সদকাহ্ করে দিবেন। কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে সদকাহ্ করে দিবেন। আর আল্লাহর কাছে দুআ করবেন,সদকাহ্-র উসিলায় রব্ব যেন আপনার জরুরত পূর্ণ করে দেন। নেক আমলের উসিলা দিয়ে দুআ করলে দুআ কবুল হয়৷
একবার একটা পোস্টের কমেন্টে পড়েছিলাম__এক আপুর খুব চুল পড়তো৷ আপুটা চুল পড়া কমার নিয়্যাতে সদকাহ্ করে দিয়েছিলেন। আল্লাহর রহমতে ওই বোনের চুল পড়া কমে গিয়েছিলো৷ সুবহানআল্লাহ! সদকাহ্ কতই না উপকারী!
সদকাহ্-র উসিলায় আল্লাহ বিপদ ঠেকিয়ে দেন। রোগ থেকে মুক্তি দেন। আয়-রোজাগার,রিজিকে বারাকাহ্ দেন। সদকাহ্ এমন এক আমল,যেই আমলের প্রতিদান আল্লাহ দিবেনই। আল্লাহর জন্য যা করবেন,তার বিনিময়ে আল্লাহ আপনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিবেন। সদকাহ্ এমন এক আমল,যা দুনিয়া ও আখিরাতে নগদ কল্যাণ বয়ে আনে৷
টাকা-পয়সা সদকাহ্ করতে না পারলেও আশেপাশের কুকুর-বিড়ালকে খাবার-পানি দিবেন। এসবও সদকাহ্! তাও না পারলে মানুষের সাথে উত্তম ব্যবহার করবেন। মানুষের উপকার করার চেষ্টা করবেন।
সদকাহ্-র মধ্যে সদকায়ে জারিয়া সবচেয়ে উত্তম। সদকায়ে জারিয়ার কারণে আপনার মৃত্যুর পরও আপনার কবরে নেকি পৌঁছে যাবে৷ সম্ভব হলে গাছ লাগাবেন। গাছের ফল-পাকুড় আপনি খেতে না পারলেও পাখি,পোকামাকড় খাবে। সেটাও সদকাহ্। কেউ না খেয়ে মাটিতে পড়ে গেলেও সদকাহ্। চুরি হয়ে গেলেও সদকাহ্। গাছ লাগালে লস নেই কোনো।
মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণে সাহায্য করবেন। মানুষকে নেক আমল শেখানোর চেষ্টা করবেন৷ ভালো ভালো বই হাদিয়া দিবেন,যা পড়ে উপকারী ইলম অর্জন করা যাবে৷ উপকারী ইলমও সদকায়ে জারিয়া!
অল্প অল্প করে টাকা জমাবেন কুরআনের জন্য। সেই টাকা দিয়ে কারো তাজউইদ কোর্সের ফি দিবেন। অথবা কুরআন কিনে দিবেন। নিজে যদি শুদ্ধভাবে কুরআন শেখাতে পারেন,তবে কুরআন শেখাবেন। এসবের প্রত্যেকটাই সদকায়ে জারিয়া!
আল্লাহর কাছে দুআ করবেন। উত্তম সম্পদ চাইবেন,যা তাঁর সন্তুষ্টি অনুযায়ী তাঁর পথে ব্যয় করা যাবে। আল্লাহর পক্ষ থেকেই সব আসে। আমরা যা ব্যয় করি,তাও আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। ব্যয় করার যে তওফিক, সেটাও আল্লাহর পক্ষ থেকেই। তাই আল্লাহর কাছে নেক আমলের তওফিক চাইবেন। দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ চাইবেন।