Lamia Cosmetics Zone

Lamia Cosmetics Zone Whis

আলহামদুলিল্লাহ বাংলাদেশ জিতছে 😍😍আমি যেদিন খেলা দেখি সেদিন বাংলাদেশ হারে 😫তাই আজকে ৪০ ওভারে যখন শুনলাম ৩০০+ তারপর খেলা দে...
17/06/2019

আলহামদুলিল্লাহ বাংলাদেশ জিতছে 😍😍
আমি যেদিন খেলা দেখি সেদিন বাংলাদেশ হারে 😫
তাই আজকে ৪০ ওভারে যখন শুনলাম ৩০০+ তারপর খেলা দেখলাম।।
হোক না আমার খেলা দেখা তারপরও যদি বাংলাদেশ জিতে তবে সেটাই আমার জন্য অনেক কিছু।
শুভ কামনা টিম টাইগার।

সবচেয়ে কৃতজ্ঞজাতী জাপান ভালোবাসি এই মানুষ গুলোকে।জাপান কেনো আমাদের এতো সাহায্য করে?হলি আর্টিজানের ঘটনায় দুই নারী সহ ৯ জন...
17/06/2019

সবচেয়ে কৃতজ্ঞজাতী জাপান ভালোবাসি এই মানুষ গুলোকে।
জাপান কেনো আমাদের এতো সাহায্য করে?

হলি আর্টিজানের ঘটনায় দুই নারী সহ ৯ জন জাপানী নিহত হয়েছিলেন।
এদের মধ্যে ৬ জনই ছিলেন মেট্রো রেল প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সদস্য। সেই সময় প্রায় ছয় মাস তিন সেতুর কাজ বন্ধ রাখে জাপানের তিন নির্মাতা কোম্পানি। এজন্য প্রকল্প মেয়াদ ৬ মাস বাড়ানোরও আবেদন করে তারা। কিন্তু সেই ৬ মাস তো দূরে থাক, আগের সময় এক মাস হাতে থাকতেই নির্মাণ শেষ করেছে তারা। কেবল তাই নয়, ‘ভেলকি’ দেখিয়েছে তিন সেতুর মোট নির্মাণ ব্যয় থেকে বেঁচে যাওয়া ৭৩৮ কোটি টাকা সরকারকে ফেরত দিয়েও।
জাপান কেনো বাংলাদেশকে এত সহযোগিতা করে ? কারণটা অনেকেরই হয়তো জানে আবার অনেকেই হয়তো জানে না!যারা জানেন না তাদের জন্যে-
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে জাপান বাংলাদেশ এর পক্ষ নেয়। এমনকি যুদ্ধপরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে কাছের বন্ধু হিসেবে জাপানের ভূমিকা ছিলো অনেক। বাংলাদেশের প্রতি জাপানের এই ধরনের স্বার্থহীন বন্ধুত্বসুলভ আচরণ আন্তর্জাতিক সম্পর্কে সাধারণত দেখা যায় না। জাপানের বাংলাদেশকে এরূপ সাহায্যদানের পিছনে রয়েছে একটি ইতিহাস !
জাপানীরা ১৯৩৭ সালে নানকিং (এখন নানজিং) এ চাইনিজদের কচুকাটা করেছিলো।
খুন, ধর্ষণ মিলিয়ে এমন নৃশংসতা কমই দেখেছে বিশ্ব। "The Flowers of War" নামে একটি মর্মস্পর্শী মুভি আছে এই গণহত্যা নিয়ে। জাপানীরা এর আগে পরেও লাখে লাখে মরেছে-মেরেছে। শেষতক দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জব্দ জাপান বাধ্য হয়ে রক্তের নেশা ছেড়ে জাতি গঠনে মনযোগ দিয়েছিলো বলেই আজ তারা পৃথিবীর অন্যতম সভ্য জাতিতে পরিণত হতে পেরেছে।
এই জাতি গঠনের পিছনে জাপানীরা চিরকৃতজ্ঞ কুষ্টিয়ায় জন্ম নেয়া একজন বাঙালির কাছে।
মিত্রপক্ষের চাপ সত্বেও ইন্টারন্যাশনাল যুদ্ধাপরাধ টাইব্যুনালের ‘টোকিও ট্রায়াল’ ফেজে এই বাঙালি বিচারকের দৃঢ় অবস্থানের কারণেই জাপান অনেক কম ক্ষতিপূরণের উপরে বেঁচে গিয়েছিলো। নয়ত যে ক্ষতিপূরণের বোঝা মিত্রপক্ষ ও অন্য বিচারকরা চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, তার দায় এখন পর্যন্ত টানতে হত জাপানকে। সেক্ষেত্রে ঋণের বোঝা টানতে টানতে জাতি গঠনের সুযোগই আর পাওয়া হত না জাপানের।
সেই সময়েই জাপানী সম্রাট হিরোহিতো কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে বলেছিলেন, “যতদিন জাপান থাকবে, বাঙালি খাদ্যাভাবে, অর্থকষ্টে মরবেনা। জাপান হবে বাঙালির চিরকালের নিঃস্বার্থ বন্ধু”
এটি যে শুধু কথার কথা ছিলো না, তার প্রমাণ আমরা এখনো দেখতে পাই। জাপান এখনো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নিঃস্বার্থ বন্ধু। এই ঘটনার প্রায় ৬৫ বছর পর ঢাকার গুলশানে হোলি আর্টিসান হামলায় প্রাণ গেলো নয় জাপানিজ বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারের। জাপান তখনও পাশে ছিলো বাংলাদেশের।
আর কুষ্টিয়ায় জন্ম নেয়া সেই বাঙালি বিচারকের নাম এখনো জাপানী পাঠ্যপুস্তকে পাঠ্য। তাঁর নামে জাপানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বেশ কিছু মেমোরিয়াল ও মনুমেন্ট।
এই বিস্মৃত বাঙালির নাম বিচারপতি রাধা বিনোদ পাল (১৮৮৬-১৯৬৭)। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারক ছাড়াও জীবদ্দশায় অনেক বড় বড় দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে তিনি কুষ্টিয়ায় নিজ গ্রামের স্কুল ও রাজশাহী কলেজের ছাত্র ছিলেন। কর্মজীবনের শুরুতে ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে প্রভাষক ছিলেন। কিছুদিন ময়মনসিংহ কোর্টে আইন ব্যবসাও করেছিলেন। নেটফ্লিক্সে টোকিও ট্রায়াল (Tokyo Trial) নামের সিরিয়াল রয়েছে। যেখানে রাধা বিনোদের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ইরফান খান।
রাধা বিনোদ পাল ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য খুলে দেয়া এক জানালার নাম ! এই মেধাবী বাঙালিকে আমরা প্রায় কেউই মনে রাখিনি। বাঙালির মেধাগত বীরত্বের এই চমৎকার অধ্যায়টা জানে খুব অল্প মানুষ!

16/06/2019

সকাল সকাল ঘুম থেকে জেগে অনুভব করলাম ঠান্ডায় গলা বসে গেছে।গলা দিয়ে কোনো স্বর বের হচ্ছে না।ভাঙ্গা গলা নিয়ে বের হলাম কলেজের উদ্দেশ্যে।

রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলাম কলেজ যাবেন কিনা সে আমার হাতে পাঁচ টাকার একটা নোট ধরিয়ে দিলো।

রিকশাওয়ালার দিকে রাগি ভাব নিয়ে তাকিয়ে বললাম,আমাকে কি আপনার ভিক্ষুক মনে হচ্ছে!

উনি বললেন,এর বেশি আর নাই।সকাল থেইকা একটাও ক্ষ্যাপ পাই নাই।বোবা মানুষ গো দেখলে আমার আবার ভীষন মায়া লাইগা যায়।যাও মাইয়া যা মন চায় কিইনা খাও।

নিজেকে বোবা বোবা আবিষ্কার করতে লাগলাম।বিরক্ত হয়ে বাসে উঠে পরলাম।

পাশে এক আংকেল বসেছেন।তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন,মা তুমি কোথায় যাবে?

এইতো কলেজ যাবো আংকেল।

গলা দিয়ে কোনো কথাই বের হলো না শুধু ফ্যাসফ্যাস শব্দ ছাড়া।

উনি আমার দিকে কেমন মায়া মায়া দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন,আহারে আমার মেয়ের বয়সী একটা মেয়ে আল্লাহতালা ওকে বাকশক্তি দেননি।একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে উনি সিটে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

গলা নিয়ে কি বিপদে পরলাম সবাই আমাকে বোবা ভাবছে।

বাসের হেল্পার এই সুযোগটা কাজে লাগালো।ভাংতি নেই বলে টাকা ফেরত দেয়নি।বলেছে নামার আগে দিয়ে দেবে।এখন আমি টাকা চাইছি সে কিছুতেই টাকা দিচ্ছে না।আমার গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বের হচ্ছে না।আমি আমার পাশে বসা আংকেলকে ডেকে বললাম,আংকেল উনি আমার টাকা ফেরত দিচ্ছে না।

কিন্তু আংকেল কি বুঝতে কি বুঝলেন।ভেবেছেন বাসের হেল্পার আমার সাথে কোনো অসভ্যতা করেছে।আংকেল ছেলেটাকে কষে এক চড় মারলেন।

সবাই হা করে তাকিয়ে আছে।ছেলেটা ভয়ে আমার টাকা ফেরত দিয়ে দিলো।

ক্লাসে গিয়ে স্যারের ভয়ে বই দিয়ে মুখ ঢেকে বসে আছি।আজকে পড়া না পারলে বলেছে পুরো ক্লাস দাড় করিয়ে রাখবে। কিন্তু খুজে খুজে স্যার আমাকে ঠিক বের করলেন।আমাকে স্যার পড়া জিজ্ঞেস করলেন।আমি ফ্যাসফ্যাস করে বললাম স্যার ঠান্ডায় আমার গলা ভেঙ্গে গেছে।এ যাত্রায় স্যার আর আমাকে বোবা ভাবেননি।পড়ার হাত থেকে বেচে গিয়েছিলাম।

ক্লাস শেষে বাসার উদ্দেশ্যে হাটছি এমন সময় অনুভব করলাম গলার আওয়াজ কিছুটা ফিরে এসেছে।কিন্তু কেমন ছেলে কন্ঠের মতো হয়ে গেছে।হঠাৎ ফোন বেজে উঠল।আম্মু ফোন করেছে।ফোন ধরে হ্যালো বলতেই আম্মু সাথে সাথে ফোন কেটে দিলো।কেটে আবার কল করেছে।

কি হলো আম্মু ফোন কাটলা কেনো!

না না রং নাম্বার।

কি ব্যাপার আম্মু কল কেটে দিলো আবার রং নাম্বার বলছে হলো টা কি!!

একটু পরে আম্মু আবার কল দিয়েছে।ফোন ধরতেই আম্মু বলল,

এই ছেলে কে তুমি! আমার
মেয়ের ফোন তোমার কাছে কিভাবে গেলো!!

মানে! কি বলছো এসব আম্মু আমিই তো কথা বলছি।

ফাজলামো হচ্ছে আমার সাথে।আজ আসুক ও বাসায়।

বাসায় গিয়ে ফ্রেস হওয়ার ও সময় দিলোনা আম্মু।প্রশ্নের উপর প্রশ্ন করেই যাচ্ছে।

ছেলেটা কে!ছেলেটা কে!!ছেলেটা কে!!!

আম্মু কোনো ছেলে ফোন ধরেনি।আমি ধরেছি, আমার গলা ভেঙ্গে এরকম স্বর বদলে গিয়েছিলো।

আবার ফাজলামো করছিস! কই তোর গলা ভাংছে! দিব্যি ভালো ভাবে কথা বলছিস তুই।

ইতো মধ্যেই আবিষ্কার করলাম আমার গলা পুরোপুরিভাবে ঠিক হয়ে গেছে।কিন্তু এখন আম্মুকে কিভাবে বিশ্বাস করাবো!

আম্মু রেগে ঘটককে ফোন করে বলল,আজকে বিকালেই ছেলে পক্ষকে নিয়ে আমার মেয়েকে দেখতে আসবেন।

আমি অসহায়ের মতো গালে হাত দিয়ে বসে বসে ভাবছি গলা ভাঙ্গা নিয়ে প্রথমে ভিক্ষুক,তারপর বোবা মেয়ে,আর এখন ফাইনালি বিয়ে!
এবারে বোধহয় বিয়ে ভাঙার জন্য বোবার অভিনয়টা সত্যিই করতে হবে।

Zannatul Eva

15/06/2019

ছয় বছরের ভালবাসাকে জলাঞ্জলি দিয়ে বাবার কথায় আমি রাজি হয়ে গেলাম। বাবার পছন্দ করা ছেলের সাথে বিয়েতে মত দিয়ে দিয়েছি আমি। এখন নিজেকে সবহারা মানুষের মতো মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন আমি কোন ভিখারিনী। নিজের বলতে আমার আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
আমার কাজিনদের মধ্যে সবচেয়ে যে মানুষটাকে আমি সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি সে হচ্ছে আমার বড় ফুপুর ছেলে রায়হান। এই মানুষটাকে আমি ছোটবেলা থেকেই প্রচণ্ড রকম পছন্দ করি। আমি যখন সদ্য অষ্টম শ্রেণীতে উঠি,তখন রায়হান ভাই এইচ এস সি দিয়ে ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার জন্য ঢাকা এলেন। আর আমাদের বাড়ি থেকেই তিনি তার পড়ালেখা চালিয়ে যাবেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। সেই তখন থেকেই রায়হান ভাইয়ের প্রতি একটা আলাদা টান অনুভব করতে শুরু করি। আমার পুরোটা জুড়ে শুধুই তিনি। ভার্সিটি বন্ধ হলে উনি যখন নিজের বাড়ি যেতেন আমার খুব কষ্ট হতো। ওনাকে না দেখলে যে আমার দিনই শুরু হতো না।
আমার কাছে ভালবাসার অপর নাম রায়হান ভাই।
এক তিক্ত দুপুরে উনি আমায় ডাক পাঠালেন। হ্যা ঐ দুপুর টা তিক্তই ছিল। কেন তিক্ত, তা বলছি। ওনার রুমের দরজায় গিয়ে কড়া নাড়তেই উনি আমায় রুমে আসতে বললেন। আমি গিয়ে তার বেডের উপর বসলাম। আমার মনে ছিল হাজারো কৌতূহল। কি বলতে ডেকেছেন উনি আমায়, তবে কি উনিও আমাকে,,,, ভাবতে ভাবতে রায়হান ভাইয়ার ডাক।
-----মৌরী।
-----হুঁ বলো।
-----আমার তোর সাথে কিছু কথা ছিল।
-----হ্যা বলোনা।
-----আসলে আমার খুব হেসিটেট হচ্ছে। মানে তোকে কথাগুলো কিভাবে বলবো বা তুই কথাগুলো ঠিক কিভাবে নিবি আমি ঠিক বুঝতে পারছি না।
আমি তখন একদম হান্ড্রেড পার্সেন্ট নিশ্চিত হলাম উনিও আমাকে ভালবাসেন আর সে কথা বলতেই এতো হেসিটেট করছেন।
-----তুমি বলো রায়হান ভাই। আমি কিছু মনে করবো না।
-----আমি আসলে একজনকে পছন্দ করি। প্রচণ্ড রকম পছন্দ করি। বলতে পারিস প্রেমে পড়ে গেছি তার।
আমি চাতক পাখির মতো তার দিকে উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলাম। শুধুমাত্র তার মুখে নিজের নামটুকু শোনার আশায়। কিন্তু,,,,
-----তোর বান্ধবী শিলা আছে না? আমার মনে হয় আমি ওর প্রেমে পড়ে গেছি। তুই কি আমায় এ ব্যাপারে কোন সাহায্য করতে পারবি?
আমার মনে হচ্ছিল আমি তক্ষুনি জ্ঞান হারাবো। গলা ধরে আসছিল আমার। কাঁপা গলায় শুধু উত্তর দিলাম, "করবো"। তারপর এক সেকেন্ডও অপেক্ষা করিনি সেখানে। দৌঁড়ে নিজের রুমে এস পড়েছিলাম। বাবা মা যে তখন ড্রয়িংরুমে বসেছিল তা আমি বেমালুম খেয়ালি করলাম না। বালিশে মুখ গুঁজে চিৎকার আটকানোর প্রাণপণ চেষ্টা করতে লাগলাম। হঠাৎ মাথায় কারো হাতের স্পর্শ পেলাম। ঘুরে তাকিয়ে বাবা মা দুজনকেই দেখে বেশ অবাক হয়ে গেছিলাম। তারা কি হয়েছে জানতে চাইলে প্রথমে মুখে কুলুপ এঁটে থাকলেই পরে বলতে বাধ্য হলাম। অন্য কোন বাবা মা হলে হয়ত মেয়েকে শাসন করতো বা কয়েক ঘা লাগিয়ে দিতো। কিন্তু আমার বাবা আমাকে অবাক করে দিয়ে বললেন বড় ফুপুর সাথে আমাদের বিয়ে নিয়ে কথা বলবেন। এমনকি মাও সে কথায় সায় দিলেন। আমি বাবাকে অনুরোধ করলাম এখনি কিছু না বলতে। বাবা রাজি হলেন।
এর কিছুদিন পর শিলার সাথে রায়হান ভাই এর রিলেশন করিয়ে দিলাম। কি অদ্ভুত তাই না। ভালবাসি যে, তার আবদার পূরণ না করে পারি কিভাবে। রায়হান ভাইকে তখন মাত্রাতিরিক্ত হাসিখুশি লাগতো। আমি বুঝতে পারতাম শিলার সাথে তার প্রেম বেশ জমে উঠেছে। কিন্তু সেই প্রেম স্থায়ী হলো না। কেবল এক মাস পর জানলাম তাদের ব্রেকাপ হয়েছে আর শিলা অন্য আরেকটা ছেলের সাথে প্রেম করছে। রায়হান ভাই তখন একদম ভেঙে পড়লেন। আশ্চর্য হলেও সত্যি শিলার সাথে যখন তিনি হাসিখুশি থাকতেন তখন আমার মোটেও খারাপ লাগতো না। বরং ওর সাথে ব্রেকাপের পর ওনার দুঃখী দুঃখী মুখটা দেখলেই আমায় রাজ্যের কষ্ট পেয়ে বসতো।
সে সময়টা আমি সঙ্গ দিয়েছি রায়হান ভাইকে। অনেকটা স্বাভাবিক করে তুলেছিলাম। রাতের পর রাত তার বিছানার পাশে বসেই কাটিয়ে দিতাম। তার ঘুমন্ত চেহারাটা আমার নেশা ধরাত। তাকে অজস্র বার বোঝাতে চেয়েছি আমি তাকে ভালবাসি, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি বারংবার। দেখতে দেখতে অনেকগুলো বছর কেটে গেলো। রায়হান ভাইয়ের চাকরি হয়ে গেলে। ফুফু তার জন্য মেয়ে দেখতে শুরু করলেন। এমনকি রীতিমত পছন্দও করে ফেললেন। তার এংগেজমেন্টের দিন আমি খুব সন্তর্পণে নিজের চোখের কোণের জল টুকু বারবার মুছে নিয়েছি। বাবা মাকে আটকেছি অনেক কষ্টে। তারাও দাঁতে দাঁত চেপে পুরো অনুষ্ঠানে সামিল ছিলেন। বাবা মার একমাত্র সন্তান বলেই হয়ত এতো আদরের আমি।
কিন্তু ঝামেলা হলো তখন যখন বাবা আমায় বিয়ে দেয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগলেন। তার শুধু এক কথা, রায়হান ভাই পারলে আমি কেন নই, আমি কেন শুধু শুধু তার জন্য কষ্ট পাব। অবশেষে অনেক ইমোশনাল ব্ল্যাকমেল এর পর আমি রাজি হলাম।
আজ রাতের আকাশটা বড়ই বিষণ্ণ। একদম আমার মতো। সেদিনের সেই তিক্ত দুপুর টা কি মধুর হতে পারতো না, রায়হান ভাইয়ের উড বি ওয়াইফ এর জায়গায় কি আমি থাকতে পারতাম না? এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ খেয়াল হলো, আমার অনুভূতি ছিল কেবলই এক তরফা। বাস্তবে এর কোন নাম নেই। আমার অনুভূতি গুলো ছিল অপ্রকাশিত। ঝুম বৃষ্টি নামছে। এখন ছাদে যাওয়াটা খুব দরকার। আমি ভিজবো। ছাদে দাঁড়িয়ে একা একাই নিজের ভাগ্যকে দোষারোপ করে কাঁদছিলাম। হঠাৎ মনে হলো আমি এখানে একা নই, আরো কেউ আছে। কিন্তু এদিক ওদিক তাকিয়েও কাউকেই চোখে পড়লো না।
আজ আমার এংগেজমেন্ট। আংটি বদলের পালা শেষ। আমি একবারের জন্যও আজ রায়হান ভাইয়ের দিকে তাকাইনি। আজ আমার কাঁদলে চলবে না। তার দিকে তাকালে আমি নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারবো না আমি জানি। তাই খুব সাবধানে তাকে এড়িয়ে চলছি। ছেলে পক্ষ চলে যাওয়ার পর আমি হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। হাতের দিকে নজর পড়তেই বুকটা কেঁপে উঠলো। এই আঙুলে আমি কেবল রায়হান ভাইয়ের নামের আংটিই পড়তে চেয়েছিলাম। ভাগ্য আমার সাথে এ কেমন খেলা খেললো।
একা থাকতে ইচ্ছে করছিল খুব তাই দৌঁড়ে ছাদে চলে এলাম। কিন্তু আমি এখানে একা নই। রায়হান ভাইও আছেন। উনি উল্টো দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমি যেতেই পিছনে ঘোরা অবস্থাতেই বললেন,
-----এতো রাতে ছাদে এসেছিস কেন মৌরী?
-----ইয়ে মানে এমনিই আরকি।
-----উঁহু। এটা তোর একদমই উচিৎ হয়নি।
-----কি বলছো?
-----হ্যা? কি বলছি? হ্যা হ্যা বলছি শোন। জানিস আমি না বড্ড বোকা। সারাজীবন কেবল মরীচিকার পেছনেই ছুটলাম।
-----আমি কিছু বুঝতে পারছি না।
-----এতো কাছে থেকেও আসল মানুষটাকে চিনতে পারলাম না। যে আমায় আমার খারাপ সময়ে সামলেছে তাকে বুঝতে পারলাম না আমি। তার ভালবাসাকে নেহাতি মানবতা ভেবে বসেছিলাম।
আমার হাত পা কাঁপছে। রায়হান ভাই এসব কি বলছে।
-----আমি এতোটাই বোকা যে নিজের অনুভূতি টাকেও বুঝতে পারিনি। এটাকেও স্বাভাবিক বলেই ধরে নিয়েছিলাম। কিন্তু আজ যখন তোকে চোখের সামনে অন্য কারো হয়ে যেতে দেখছিলাম তখন বুকের মধ্যে কেমন যেন ব্যথা অনুভব করলাম। এর কারণ খুঁজতে গেলে অবচেতন মনই উত্তর দিলো আমি তোকে ভালবাসি। হ্যা ভালবাসি আমি তোকে।
আমি ঢোক গিলে কোন মতে বললাম, কিন্তু এটা ঠিক না রায়হান ভাই।
তখনি রায়হান ভাই আমার দিকে ঘুরে তাকালেন। চোখদুটো রক্তবর্ণ ধারণ করেছে। এ কোন রায়হান ভাই। আজ যে তাকে বড্ড অচেনা লাগছে আমার। রায়হান ভাই আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আমাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরলেন।
-----হ্যা ঠিক না। তুই একদম ঠিক করিস নি। আমাকে তুই ভালবাসিস এ কথা, বর্ষণরত বৃষ্টিকে নয়, তোর আমাকে জানানো উচিৎ ছিল।
আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি। তবে সেদিন তিনিই ছিলেন ছাদে। তার উপস্থিতিই অনুভব করেছিলাম আমি সেদিন। হুঁশ হলো যখন তার হাতের চাপ আমার কব্জিতে দ্বিগুণ অনুভব করলাম। হাতের চুড়ি যেন কেটে বসে যাচ্ছিল। আমি আর্তনাদ করে উঠলাম।
-----আহ! রায়হান ভাই আমার লাগছে।
-----চুপ একদম চুপ। আরেকবার ভাই বললে তোর ঠোঁট সেলাই করে দেবো। জামাই ডাকবি আমায় এখন থেকে।
রাতেই রায়হান ভাই থুড়ি আমার রায়হান জামাই পুরো বাড়ি মাথায় তুললেন। জেদ ধরলেন কাজি ডাকার জন্য। এতে কেউ অবাক হলো না বরং কাজিকে ডেকে আনলেন। যেন এমনটা হবে এটা তারা জানতেন। তাদের এই ব্যবহারে আমি যারপরনাই অবাক হলাম।
বাসর ঘরে বসে আছি আর ভাবছি যা হলো তা কি সত্যি নাকি জেগে জেগে কোন স্বপ্ন দেখছি। হঠাৎ রায়হান ভাই রুমে এসেই আমার হাতে চিমটি বসিয়ে দিলেন। আমি তার দিকে বড় বড় চোখ করে তাকাতেই তিনি ফিক করে হেসে দিলেন।
-----মিসেস রায়হান, যা হচ্ছে সব সত্যি। আপনি কোন স্বপ্ন দেখছেন না।
আমি অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছি। কারো হাসি এতো সুন্দরও হতে পারে বুঝি। এ হাসি দেখে যে আমি খুন হতেও রাজি।
#রায়হান_ভাই

ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ইনকাম করেন এই এপটি দিয়ে।যারা সারাদিন অনলাইনে আমার মত ঘুমিয়ে থাকেন, ফোনে এই এপটা ইন্সটল করে রাখুন। মাঝে মাঝ...
14/06/2019

ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ইনকাম করেন এই এপটি দিয়ে।

যারা সারাদিন অনলাইনে আমার মত ঘুমিয়ে থাকেন, ফোনে এই এপটা ইন্সটল করে রাখুন। মাঝে মাঝে ওপেন করবেন মন চাইলে।

২০$ হইলে টাকা তুলতে পারবেন। মন চাইলে আমার দেওয়া রেফার কোড ইউজ করতে পারেন। কারো সমস্যা হলে ইনবক্স করতে পারেন।
প্রমোকোডঃ PREMK35E

13/06/2019

সারারাত অফিসের কাজ কমপ্লিট করে ফজরের নামাজ পড়ে ঘুমোতে গেলাম। ইচ্ছে বেলা ১১ টা নাগাদ ঘুমোবো। কিন্তু মোবাইল বেচারার অহেতুক চিল্লানিতে সকাল আটতাতেই ঘুম ভেঙ্গে গেলো। ফোন হাতে নিয়ে দেখি অথৈর আম্মু ইতিমধ্যে বারো তেরোটা ফোন দিয়ে দিয়েছেন। তেরো নম্বর ফোনটা আলস্যের জন্যে ইচ্ছে করেই পিক করিনি। চৌদ্দ নাম্বার ফোনটা আসতেই পিক করলাম। ফোন পিক করতেই ওপাশ থেকে আন্টি বললেন,
‘হ্যালো শাহীন?’

‘জ্বী আন্টি বলেন।’

‘বাবা তুমি কি ঘুমোচ্ছিলে?’

‘ঐ আরকি। অফিসের কাজ জমা পরে ছিলো। ওগুলো কমপ্লিট করতে কর‍তেই রাত শেষ তাই ফজরের নামাজ পড়েই ঘুমোতে আসলাম একটু।’

‘ওহ আচ্ছা বাবা আমি দুঃখিত। আসলে আমি বুঝতে পারিনি। তোমার ঘুমের ডিস্টার্ব করলাম।’

‘আরে আন্টি কি যে বলেন না। আচ্ছা কেনো ফোন দিয়েছেন সেটা বলেন? অথৈ কি আবারো সমস্যা করতেছে?’

‘হ্যা বাবা। তুমি ঠিক ধরেছো। অথৈ আজকে একটু বেশিই পাগলামো করতেছে। কাল সারাদিন তো কিছু মুখে দেয়ই নি। রাতেও না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলো। এখন রাত পেরিয়ে সকাল তাও কিছু খাবেনা বলে জেদ ধরেছে। তুমি না আসা অবধি কিছুই খাবেনা হয়তো। সময় থাকলে একটু আসতে পারবা বাজান?’

‘আচ্ছা আন্টি আমি আসতেছি। আপনি কোনো টেনশন নিয়েন না।’

এরপর আমি ফোনটা রেখে ঘুম ঘুম চোখেই গেলাম ফ্রেশ হতে। ফ্রেশ হয়ে এসে নাস্তাটা সেরেই বেড়িয়ে পড়লাম অথৈদের বাসার উদ্দেশ্যে। একটা রিক্সা ডেকে চেপে বসলাম ওটায়। আর ভাবতে থাকলাম সেদিনের কথাগুলো....

অথৈ আমার গার্লফ্রেন্ড। অথৈ নামটা আমারই দেওয়া। ওর ভালো নাম নাদিয়া রহমান। আমি অথৈ নামেই ডাকি। আমার দেখাদেখি এখন প্রায় সকলেই ওকে অথৈ বলে ডাকে। অবশ্য আমার দেখাদেখি না। ওরে অথৈ বলে না ডাকলে ও সাড়া দেয়না বলেই সবাই বাধ্য হয়েই ডাকে হয়তো। ওর আর আমার রিলেশনের মাঝখানে কিন্তু কম বাধা ছিলোনা। এই যে আন্টি এখন চুন থেকে পান কষতেই ফোন দেয়। সেই আন্টিই আমাদের রিলেশনের ঘোর বিরোধী ছিলেন। কিভাবে যে সবকিছু এতো সহজেই বদলে গেলো। আমিও ওদের ফ্যামিলির একজন হয়ে গেলাম।
সবকিছু বদলেছে মানে সবকিছুই বদলে গেছে। অথৈ ও বদলে গেছে। হুটহাট ওর কি যে হলো! ও আর আগের মতো স্বাভাবিক নয়। মানুষিকভাবে অসুস্থ। ওর চালচলন বাচ্চাদের মতো হয়ে গেছে। বাচ্চাদের মতো জেদ ধরে এটা ওটার জন্যে। মাঝেমাঝে তো অযথাই একা একা হাসে, একা একা কথা বলে।

ওর এই সমস্যাটা হয়েছে মাসদুয়েক আগে থেকে। ফ্যামিলি থেকে ওকে বিয়ের জন্যে প্রেশার দিচ্ছিলো। আর আমি জবের জন্যে ট্রাই করতে করতে ক্লান্ত। ও চেয়েছিলো যাতে আমরা পালিয়ে যাই কিন্তু আমি পারছিলাম না। বলছিলাম কয়েকদিনের জন্যে অপেক্ষা করতে কিন্তু সেটা ওর পক্ষে সম্ভব ছিলোনা। শেষমেশ একটা ছেলে দেখে বিয়ের দিনক্ষন ঠিক করে নিলো ওর ফ্যামিলি। আমিও বড় ছেলে নাটকের মতো ওকে শেষ বিদায় দিয়ে দিলাম। ও আমার কাছ থেকে ফেরার সময় মোটেও কান্না করেনি। ভাবলাম হয়তো খুব সহজেই সে ব্যাপারটা মেনে নিয়েছে। কিন্তু আমি পারছিলাম না। ওখান থেকে ফিরে এসে আবার জবের জন্যে উঠেপড়ে লেগে যাই। অবশ্য একটা ভালো জবও জুটিয়ে ফেলেছিলাম। কিন্তু ততোক্ষণে সব শেষ। আমার ধারণা এতোদিনে ওর বিয়ে হয়ে যাওয়ার কথা। তাই ওকে হারানোর বেদনায় এ যুগের দেবদাসের মতো দিনকাল কাটাতে হচ্ছিলো।

কিন্তু হটাৎ এক বিকেলে আন্টির ফোন পেয়ে খুব অবাক হই। তারচেয়ে আরো দিগুণ অবাক হই অথৈর অসুস্থতার খবর শুনে। এক দৌড়ে সেদিন অথৈইদের বাসায় যাই। গিয়ে দেখি অথৈ আর আগের মতো স্বাভাবিক নয়। খুব কান্না পাচ্ছিলো। অথৈ অবশ্য আমাকে দেখে চিনতে ভুল করেনি। আমি যে সোফাটায় বসি ও ওটার পাশে বসে। তারপর বাচ্চাদের মতো আমার সাথে দুষ্টুমি শুরু করে দেয়। একবার আমার মাথার চুল ধরে টানে তো আরেকবার আমায় সোফা থেকে টেনে ফ্লোরে বসায়। যদিও ওর এই অবস্থা দেখে খুব মর্মাহত ছিলাম, তবুও ওর বাচ্চামিগুলো ভেতর থেকে উপভোগ করছিলাম। মনেমনে খোদাকে ধন্যবাদ দিয়েছিলাম এই জন্যে যে, এটলিস্ট অথৈ আমার জীবন থেকে এখনো হারিয়ে যায়নি বলে।

রিক্সায় বসে অথৈর কথা ভাবতে ভাবতে ইতিমধ্যে অথৈদের বাসায় পৌঁছে গেলাম। অথৈদের বাসার গেট পেরিয়ে ওদের ড্রয়িংরুমে ডুকতেই অথৈ দৌড়ে এসে বললো,
‘তুমি এতো লেইট করলে কেনো আসলে? আজ কতোদিন ধরে কেউ আমার সাথে পুতুল খেলেনা। পুতুলের বিয়ে দেয়না।’

‘আচ্ছা এখন আমি আসছি তো। এবার তোমার পুতুলের বিয়েটা হবেই।’ আমি একটু আহ্লাদী গলায় বললাম।
কিন্তু ও কিছুতেই গললো না। আমার সাথে উল্টো আড়ি দিয়ে বসে আছে। অনেক কষ্টে ওর আড়ি ভেঙ্গেছিলাম। তাও প্রতিদিন একবার আসার প্রমিস করে। তারপর আসলো বাসায় ফেরার পালা। ওর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ফেরার সময় আন্টি আমায় ডেকে নিয়ে বললেন,
‘দেখো শাহীন তোমার কাছে আমি খুব লজ্জিত। আজ তুমি অথৈর এই অবস্থায় পাশে না দাঁড়ালে যে কি হতো আল্লাহ জানে। যাইহোক আমি চাচ্ছিলাম ওকে দেশের বাইরে পাঠাতে কিন্তু ও ওখানে তোমায় ছাড়া আরো বেশি অসুস্থ হয়ে না যায় সেই ভয়ে আর বাইরে পাঠানোর সাহস পাচ্ছিনা। তাছাড়া আগের ছেলেপক্ষ ওকে এই অবস্থাতেই বিয়ে করতে রাজি। কিন্তু আমি কোনো ভরসা পাচ্ছিনা। কি যে করি বাবা...’

আন্টির কথায় কি বলবো বুঝতেছিনা। তবুও মনে অনেকটা সাহস যুগিয়ে বললাম,
‘দেখেন আন্টি যা হওয়ার হয়েছে। তবুও আমি অথৈ কে খুব ভালোবাসি এটা আপনিও জানেন। আপনি রাজি থাকলে আমি ওকে এই অবস্থাতেই বিয়ে করতে রাজি। যেহেতু অথৈ আমায় ছাড়া কিছু বুঝেনা সেহেতু মনে হয়না আমি ভুল কিছু বলছি। যদিও এই কথাগুলো আমার মা বাবার বলা উচিত ছিলো। কিন্তু আমাকেই বলতে হলো যেহেতু আপনি বিয়ের টপিক তুলেছেন।’

আন্টি অনেকক্ষণ ভেবেচিন্তে আমার হাত ধরে বললেন,
‘বাবা আমিও এটাই চাই। চক্ষুলজ্জায় বলতে পারছিলাম না। তোমার ফ্যামিলি রাজি থাকলে আমার কোনো আপত্তি নেই।’

‘আচ্ছা আন্টি আমি আগামী শুক্রবারেই আমার আম্মু-আব্বুকে নিয়ে আসবো। আপনি কোনো চিন্তা কইরেন না। এবার আসি...’

এইবলে আমি অথৈদের বাসা থেকে বেড়িয়ে পড়লাম। মনেমনে খুব খুশি আমি। অবশেষে আমার অথৈকে আমিই বউ হিসেবে পাচ্ছি। নিজেকে পৃথিবীর সবচাইতে সু-ভাগ্যবান একজন পুরুষ মনে হচ্ছিলো।

আজ সেই শুক্রবার। সকাল সকাল ওদের বাসায় এসে পড়লাম আমি সঙ্গে আমার আম্মু আব্বু। আমার আব্বু এই মুহূর্তে অথৈর আম্মুর সাথে আমার আর অথৈর ব্যাপারে কথা বলছেন। আর আমি অথৈর রুম থেকে শুনার চেষ্টা করতেছি তারা কি বলে। তারপর অনেক্ষণ কথা বলে, বাবা কি ভেবে একজন কাজী ডেকে নিয়ে আসেন। কাজী এনে আর দেড়ি না করে আমার সাথে অথৈর বিয়ে পড়িয়ে দেন।
কি আজব আসলাম বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করতে অথচ ফিরবো বিয়ে করা বউ নিয়ে। ব্যাপারটা কেমন গোলমেলে হয়ে গেলো।
তারপর কি আর করা বিয়ে যেহেতু করবোই তাহলে নাহয় একটু আগেই করে নিলাম। সারাদিন অথৈদের বাসায় থেকে দুপুরের খাবার খেয়ে, বিকেলে অথৈকে সাথে নিয়ে বাসায় ফিরলাম। বাসায় ফিরে দেখি, বাবার ফোন পেয়ে ছোট বোন আশেপাশের ছোটবড় ছেলেমেয়েদের নিয়ে পুরো বাড়ি সহ বাসর ঘরটাও সাজিয়ে রেখেছে। অথৈ তো বাসার আলোকসজ্জা দেখে অনেক খুশি।

এখন রাত বারোটা বাজে প্রায়। অথৈ বাসরঘরে আমার জন্যে অপেক্ষা করতে করতে অধৈর্য হয়ে হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছে। জেগে থাকলেই বা কি আসে যায়, দেখা যাবে পুতুলের বিয়ে দিতে দিতেই রাত পার করতে হবে। তবুও আমি ব্যাপক খুশি এই ভেবে যে, অথৈ আমার ছিলো; আমারি থাকবে। আমি দরজা খোলে রুমে ডুকতেই দেখি অথৈ এখনো সজাগ। আমি শেরওয়ানি খোলে টিশার্ট পড়ে বেলকনিতে আসলাম। আমার পিছুপিছু অথৈও আসলো। এসে আমার পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বললো,
‘শাহীন।’

‘হ্যা অথৈ বলো।’

সে তখন শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো,
‘একদিন ভার্সিটিতে থাকতে মঞ্চ নাটকে অভিনয়ের সময় তুমি বলেছিলে, আমি নাকি অভিনয়ে দক্ষ নই। অথচ আজ আমি অভিনয়ে দশে দশই পাবো।’

আমি কিছুটা অবাক হয়ে ওকে টেনে আমার সামনে এনে ওর চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞেস করলাম,
‘অভিনয়?’ আমার চোখেমুখে আনন্দের ছাপ স্পষ্ট। আমার বুঝতে বাকি রইলোনা কিছুই। অথৈ তখন একগাল মুচকি হেসে বললো,
‘হ্যা অভিনয়। আমাকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসার পরিক্ষায় তো তুমি অনেকবার পাশ করেছো। এবার আমি মানষিক অসুস্থার অভিনয়ে পাশ করে আমার সেরা পুরষ্কার টা পেলে দোষ কোথায়?’

আমি তখন অথৈকে আমার বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে, এই রাতের বিশাল আকাশের তারার পানে তাকিয়ে ভাবি, এমন অভিনয় সবার জীবনে অন্তত একবার হলে মন্দ কি?

গল্পঃ অভিনয়
© Shahin Chieez

12/06/2019

পার্লারের মেয়েটা যখন তার দক্ষ হাত দুটো দিয়ে আমার মুখে তৃতীয়বারের মত ম্যাসেজিং ক্রিম টা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ম্যাসাজ করে দিচ্ছিলো, আমার তখন মনে হচ্ছিলো আমার মুখের উপরের চামড়া টা এক্ষুণি খসে পড়ে যাবে। বান্ধবীদের মুখে শুনেছি, পার্লারে ফেসিয়াল করার সময় নাকি ঘুম চলে আসে। কিন্তু আমি তো চামড়া হারানোর ভয়েই ঘুমোতে পারছি না। আর মুখটাও কেমন যেন কুটকুট করছে। সেই কখন থেকে ডলে যাচ্ছে তো যাচ্ছেই। পাক্কা ১ ঘন্টা ঘষামাজার পর ফেসিয়াল পর্ব শেষ হল। অনেক আশা নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চেহারা টা ভাল করে দেখে খুব হতাশ হলাম। ভেবেছিলাম অরেঞ্জ ফেসিয়াল করে একদিনেই আলতা সুন্দরী হয়ে যাব। কিন্তু আমার শ্যাম বর্ণের চামড়ায় আহামরি কোনো পরিবর্তন চোখে পড়লো না। একা থাকলে পার্লারের মেয়েগুলো কে বোকা বোকা প্রশ্ন করে জ্বালাতে পারতাম কিন্তু এখন সাথে ছোট খালামণি আছেন তাই এই দুঃসাহস দেখানো যাবে না। পার্লারের কাজ শেষ করে স্কুল পড়ুয়া গ্যাঁদা বাচ্চাদের ন্যায় ছোট খালামণির হাত ধরে বাসায় চলে আসলাম। খালামণির ভাষ্যমতে, বিয়ের আগে নাকি মেয়েদের একবারের জন্যে হলেও পার্লারে ঢুঁ মেরে আসা লাগে। তাই নিতান্ত বাধ্য হয়েই আমাকে পার্লারে ফেসিয়াল করতে যেতে হয়েছিলো। আগে অবশ্য দু একবার ভ্রু প্লাক করেছি,তবে ফেসিয়ালের অভিজ্ঞতা ছিল না। যাই হোক আসল কথায় আসা যাক, আর মাত্র সাতদিন পর আমার শুভ বিবাহ। অবশ্য শুভ নাকি অশুভ তা এখনি বলা যাচ্ছে না। কারণ যার সাথে আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে তাকে আমি একদমই চিনি না। এমনকি বাস্তবে এখন পর্যন্ত দেখিও নি। শুধু ছবি তে দেখেছি। আর শুনেছি ৫'১০" হাইটের সুগঠিত দেহের উজ্জ্বল শ্যামলা চেহারার সুদর্শন পুরুষ একজন। ১০০% পিউর এরেঞ্জ ম্যারেজ করতে যাচ্ছি। তাই আনন্দের চেয়ে ভয়ের মাত্রা টা বেশি। সম্পূর্ণ অচেনা অজানা একটা লোক বিয়ের প্রথম রাতেই আমার শরীরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে,ব্যাপার টা মনে হলেই গা ঘিনঘিন করে উঠে আমার। আমার মধ্যে এমন কিছু নেই যা দিয়ে আমি আমার স্বামী কে মুগ্ধ করতে পারবো। না আছে আহামরি রূপ, না আছে কোনো গুণ। অতি সাধারণ বলা চলে। তাই শরীর ছাড়া স্বামী কে দেয়ার মত কিছুই নেই আমার।

আমার হবু স্বামীর নাম প্রত্যয়। ভদ্রলোক একটা প্রাইভেট কোম্পানি তে জব করছেন। আমার শ্বশুর শ্বাশুড়ি নেই, একটা ননদ আর দেবর আছে। নির্ঝঞ্ঝাট পরিবার বলা যায়। আমি যেমন মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হয়েছি, প্রত্যয়ও তেমন মধ্যবিত্ত পরিবারের ই ছেলে। তাই শ্বশুরবাড়ি তে মানিয়ে নেয়ার ঝামেলা খুব একটা হবে না বলে আশা করা যায়। পারিবারিকভাবে মেয়েদের বিয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত তাদের থেকে আরেকটু উঁচু বংশের ছেলে দেখা হয়। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে ব্যাপার টা তেমন হয় নি। সমানে সমানে ঠিক করা হয়েছে। প্রত্যয় কে বাবার খুব পছন্দ হয়েছে। এতটা পছন্দের কারণ বাবা আমাদের কাউকে বলেন নি বা বলার প্রয়োজন মনে করেন নি হয়তো। তাছাড়া প্রত্যয় দেখতে শুনতেও খারাপ না। আমার মত এত সাধারণ একটা মেয়ের জন্য এর থেকে বেশি কিছু আশা করা বোকামি।

জারিফের ভূত আমার মাথা থেকে পুরোপুরি নামে নি এখনো। আমিও এই ভূত নামানোর কোনো বৃথা চেষ্টা করি নি। বিয়ে ঠিক হওয়ার পর থেকে আমি নিজেকে সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করে নিয়েছি। অতিরিক্ত আবেগগুলো কে মাটিচাপা দিয়ে দিয়েছি। রূঢ় বাস্তবতা কে আঁকড়ে ধরেছি। জারিফের সাথে আমার কিন্তু কোনো গল্প নেই,তবে কৌতুক আছে। এই যেমন আমার মনের কথা খোলাসা করে বলার পর জারিফ আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলো, এটা তো এক ধরনের কৌতুক ই, তাই না? আবার যেমন, ফিরিয়ে দেয়ার সময় বলেছিলো,

"দেখো তানহা, আমি তোমাকে এতদিন বন্ধুর চেয়ে বেশি কিছু ভেবে এসেছি ঠিকই কিন্তু প্রেমিকা হিসেবে কখনো ভাবতে পারি নি। তোমার সংগ আমার ভাল লাগে কিন্তু তোমাকে সংগী হিসেবে চাই নি। তোমার হাসি আমার খুব ভাল লাগে কিন্তু কখনো তোমার হাসির কারণ হওয়ার ইচ্ছে জাগে নি। তোমাকে আমার অনেক ভাল লাগে কিন্তু কখনো ভালবাসি নি।"

এটাও কি কৌতুকের চেয়ে কোনো অংশে কম?

জারিফের সরল স্বীকারোক্তি আমার পবিত্র অনুভূতিগুলো কে অবমূল্যায়ন করেছে ঠিকই কিন্তু আমার মনে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে নি। আমি জানি, জারিফের প্রত্যাখানের পেছনে আসল কারণ টা হচ্ছে "আমার মোটামুটি রকমের চেহারা"। আমি বুঝতে পারতাম, জারিফের মন আমার কাছে পড়ে থাকলেও তার নজর কাড়তো ভার্সিটির সেই মাখন সুন্দরীগুলো। আসলে আমার মত মোটামুটি চেহারার মেয়েদের কোনো গল্প থাকে না। গল্প তো থাকে মাখন সুন্দরীদের। কবিদের কাল্পনিক কবিতায় ই যেখানে আমাদের ঠাঁই হয় না, সেখানে বাস্তবে কারো কল্পনায় ঠাঁই পাওয়ার আশা করাটা নিতান্তই বোকামি।

জারিফ ছিল আমার তিন ব্যাচ সিনিয়র। টানা তিন বছর আমাদের তথাকথিত "বন্ধুত্বের চেয়ে একটু বেশি" সম্পর্ক ছিল। মাত্র দু'মাস হল জারিফের সাথে আমার যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে। এত তাড়াতাড়ি জারিফের নেশা কাটানো সম্ভব না।

দেখতে দেখতে বিয়ের দিন ঘনিয়ে এলো আর আমার টেনশন বাড়তে লাগলো। ফুলসজ্জার কথা মনে হলেই আমার কপাল বেয়ে ঘাম ঝড়তে থাকে। "স্বামী" শব্দ টি এতদিনে আমার কাছে একটা আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। আমার কাছে মনে হয় স্বামী মানেই হচ্ছে, জৈবিক চাহিদা নিবারণ আর বংশবৃদ্ধি করা। মাঝে মাঝে ভাবি, স্বামী ছাড়া সংসার করা যায় না কেন?

একদিন বিকেলবেলা মা আমার চুলে তেল লাগিয়ে দিতে দিতে বলছিলেন,

- জামাই বাবা তোর সাথে কথা কইতে চায় একবার। ফোন দিবার পারে, ঠিক কইরা কথা কইস।

প্রতিউত্তরে আমি শুধু মাথা ঝাঁকিয়ে সম্মতি জানিয়েছিলাম।

পরদিন সন্ধ্যে বেলা মাগরিবের নামাজের পর একটা আননোন নাম্বার থেকে কল আসে আমার মোবাইলে। রিসিভ করে আমি "হ্যালো" বলার পর ওপাশ থেকে কেউ একজন সালাম জানালেন,

- আসসালামু আলাইকুম, আমি প্রত্যয় বলছিলাম।

- ওয়ালাইকুম সালাম, জ্বী বলুন।

- কেমন আছেন?

- ভালো, আপনি?

- আলহামদুলিল্লাহ্‌, আমি শুধু একটা কথা জানার জন্য আপনাকে কল করেছি।

- কি কথা?

- আপনার কি এই বিয়েতে সম্মতি আছে?

- হুম।

মনের অজান্তেই মুখ দিয়ে "হুম" শব্দ টি বের হয়ে গিয়েছিলো। অবশ্য এছাড়া আর কি ই বা বলার ছিল আমার! বিয়ের আগে এই এতটুকুই কথা হয়েছিলো আমাদের।

যেদিন বিয়ে তার এক সপ্তাহ পর বৌভাতের তারিখ ঠিক করা হল। আমার শ্বশুরবাড়ি তে নাকি এটাই রেওয়াজ, বিয়ের এক সপ্তাহ পর বৌভাত করে। বিয়ের আয়োজন ওত জাঁকজমকভাবে করা হচ্ছে না। আমার বাবার এসব পছন্দ না। কম খরচের বিয়েতে বরকত বেশি থাকে, তাই বাবা খুব সাদাসিধেভাবে বিয়ের আয়োজন করেছেন। আমার অবশ্য এতে বিন্দুমাত্র কোনো আক্ষেপ নেই। কারণ এই বিয়ে তে তো আমি মন থেকেই সায় দিতে পারছি না। বিয়ের দিন পার্লার থেকে লোক আনানো হল আমাকে সাজিয়ে দেয়ার জন্য। আমাদের বাসার ছাদের উপরে প্যান্ডেল টাঙিয়ে খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করা হল। দুপুরের দিকে বিয়ে পড়ানো হয়ে গেলে খাওয়াদাওয়া শেষ করে বিকেলের মধ্যে বরযাত্রী আমাকে নিয়ে বিদায় হয়ে গেল। বিদায়ের বেলায় আমার কান্না যেন থামছিলোই না। মা, বাবা আর ছোট বোন টা কে ছেড়ে চলে আসার সময় আমার বুক টা ফেটে যাচ্ছিলো।

শ্বশুরবাড়ি পৌঁছাতে পৌঁছাতে সন্ধ্যে হয়ে গিয়েছিলো। নিয়মকানুন সেরে ননদদের সাথে সময় কাটাতে কাটাতে রাত ১০ টা বেজে যায়। সময় যত যাচ্ছে আমার আতঙ্ক যেন আরো বাড়ছে। রুম থেকে সবাই চলে যাওয়ার পর আমি বিছানা ছেড়ে উঠে শাড়ি পালটে ফ্রেশ হতে চলে গেলাম। মেকআপ উঠিয়ে প্রায় ১ ঘন্টা লাগিয়ে শাওয়ার নিলাম। আমার চাচী শ্বাশুড়ি গরম পানি দিয়ে গোসল করতে বলেছিলেন কিন্তু আমি "না" করে দিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম লাগবে না। কিন্তু গোসল করে বের হওয়ার পর শরীরে কাঁপুনি উঠে গেল। টাওয়াল দিয়ে চুলগুলো কোনোরকম মুছে বিছানায় গিয়ে কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়লাম। তারপর আর কিছু মনে নেই আমার।

সকালে ঘুম ভাঙলো কপালে কারো হাতের কোমল স্পর্শ পেয়ে। চোখ মেলে তাকিয়ে প্রত্যয় কে আমার উপর ঝুঁকে থাকতে দেখে আমি হুড়মুড় করে উঠে বসলাম। তা দেখে প্রত্যয় বললেন,

- আরে কি করছেন? শুয়ে থাকুন, আপনার জ্বর এখনো সারে নি।

ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলাম,

- জ্বর মানে?

প্রত্যয় মুচকি হাসলেন,

- শীতের রাতে এতক্ষণ সময় নিয়ে গোসল করে আপনি জ্বর বাঁধিয়ে ফেলেছেন। খাওয়ার জন্য আপনাকে এত করে ডাকলাম, আপনি উঠলেন ই না। তাই মেডিসিনও খাওয়াতে পারি নি।

আমাকে চুপ থাকতে দেখে প্রত্যয় নাস্তা আনার কথা বলে চলে গেলেন। আমি মনে করতে চেষ্টা করলাম,রাতে আমার সাথে কিছু হয়েছিল কি না। কিন্তু কিছুই মনে পড়ছে না। অনুমানিক ধারণা নেয়ার জন্য কাপড়চোপড় ঠিকঠাক আছে কিনা দেখে নিলাম। নাহ, সব ঠিকই আছে। এর মধ্যে প্রত্যয় নাস্তা নিয়ে চলে এলেন,

- নিজের হাতে খেতে পারবেন তো?

- পারবো।

নাস্তার প্লেট টা আমার হাতে দিয়ে একটা চেয়ার টেনে তিনি আমার পাশে বসে রইলেন। একটার অর্ধেক পরোটা খাওয়ার পর আমি আর খেতে পারলাম না। তেঁতো স্বাদ মুখে লেগে আছে। প্রত্যয় তা বুঝতে পেরে আমাকে আর জোর করলেন না। আমার এঁটো করা বাকি নাস্তাটুকু অনায়াসে খেয়ে নিলেন।
আমি অবুঝের মত জিজ্ঞেস করে বসলাম,

- আপনার অফিস নেই?

খেতে খেতে তিনি উত্তর দিলেন,

- ১০ দিনের ছুটি নিয়েছি।

নাস্তা করে মেডিসিন খাওয়ার পর জ্বর অনেকটা কমে গেল। সারাদিনে প্রত্যাশার সাথে খুব ভাব জমে গেল আমার। প্রত্যাশা আমার ননদ। ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে। খুব মিষ্টি আর লক্ষ্মী মেয়ে। সকালের পর প্রত্যয় কে আর আশেপাশে কোথাও দেখতে পাই নি। বাসায় মানুষজনও তেমন ছিল না। দুই ফুফু শ্বাশুড়ি আর আমার দেবর ননদ শুধু। বাকি মেহমান সব কাল রাতেই চলে গিয়েছে। নতুন বউ আমি তাই রুম থেকে খুব একটা বের হই নি। দুপুরে খাওয়ার সময় প্রত্যাশা কে চুপিচুপি জিজ্ঞেস করেছিলাম "ওর ভাইয়্যা কোথায়"। ফুফু শ্বাশুড়ি এটা বুঝতে পেরে বলেছিলেন,

- প্রত্যয়ের লাইগ্যা বইয়্যা থাইক্যা লাভ নাই। তারে রাইতের আগে আর পাওন যাইবো না। বন্ধু গো লগে আড্ডায় মইজা আছে। তোমার খাওন তুমি খাও। জামাইয়ের লগে একসাথে খাওনের সময় এহনো শেষ হইয়্যা যায় নাই।

ফুফুর কথা শুনে সবাই মুখ টিপে হাসাহাসি শুরু করে দিয়েছিলো। খুব লজ্জা পেয়েছিলাম আমি তখন।

সন্ধ্যের পর প্রত্যয় বাসায় আসলেন। তাকে দেখে আবার আতঙ্ক কাজ করতে শুরু করলো আমার মনের ভেতর। রাত হতে তো বেশি দেরী নেই! খুব করে চাচ্ছিলাম, রাতে যেন আমার আবার জ্বর আসে। ঠিকই রাতে আমার জ্বর বেড়ে গেল। খাওয়াদাওয়া শেষ করে প্রত্যয় রুমে আসার আগেই আমি কাথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়লাম। কখন ঘুমিয়েছি মনে নেই।

খুব ভোরে ঘুম ভেঙে গেলে পাশ ফিরে দেখলাম, প্রত্যয় আমার পাশে গুটিশুটি মেরে শুয়ে আছেন। বেশ কিছুক্ষণ অপলক তাকিয়ে ছিলাম প্রত্যয়ের ঘুমন্ত মুখটার দিকে। বিয়ের পর এই প্রথম আমি আমার স্বামী কে এত মনোযোগ দিয়ে দেখছি। চাপ দাড়ি, উজ্জ্বল শ্যামলা চেহারাটায় মায়া যেন ঠিকরে পড়ছে। প্রত্যয় কে নড়তে দেখে আমি আবার চোখ বন্ধ করে ঘুমের ভান ধরে রইলাম। কিছুক্ষণ পর টের পেলাম, প্রত্যয় আমার কপালে হাত দিয়ে জ্বর আছে কিনা দেখে আলতো করে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিচ্ছে। এই স্পর্শ পাওয়ার সাথে সাথে আমার প্রতিটি শিরা উপশিরার ভেতর দিয়ে কেমন যেন একটা ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল। আমি অনুভব করতে পারছিলাম, এ এক পবিত্র অনুভূতি।

সকালে প্রত্যয়ের চোখ লাল দেখে জিজ্ঞেস করেছিলাম,

- আপনার চোখ লাল কেন?

প্রত্যয় শুধু বলেছিলেন,

- ও কিছু না।

ড্রেসিংটেবিলের সামনে বসে চুল আঁচড়াচ্ছিলাম, তখন প্রত্যাশা এসে বললো,

- জ্বর কমেছে ভাবী?

- হ্যাঁ।

- কমবে না! ভাইয়্যা দুই রাত ধরে যা সেবা দিচ্ছে!

প্রত্যাশার মুচকি হাসি দেখে আমার সন্দেহ হল। ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলাম,

- সেবা দিচ্ছে মানে?

- গত দুই দিন তুমি ঘুমিয়ে যাওয়ার পর ভাইয়্যা অনেক রাত পর্যন্ত তোমার কপালে জলপটি দিয়ে দিয়েছিলো। তোমার মাথার কাছে বসে বসে ঝিমিয়েছেও বেশ কিছুক্ষণ।

নিজের উপর খুব রাগ হচ্ছিলো আমার। ছিঃ একটু আগে এসব কি ভাবছিলাম!

বিকেল বেলা প্রত্যয় জোর করে আমাকে ডক্টরের কাছে নিয়ে গেলেন। চেকআপ করে ডক্টর বললেন, ভাইরাস জ্বর। ভয়ের কিছু নেই। আর শরীরে দূর্বলতা আছে।
ডক্টর দেখিয়ে বের হয়ে রিক্সা নেয়ার সময় রাস্তার ওপাশে দাঁড়ানো ফুচকাওয়ালার দিকে চোখ গেল আমার। প্রত্যয় আমাকে নিয়ে রাস্তা পার হলেন। রাস্তা পার হওয়ার সময় খুব যত্ন নিয়ে আমার বামহাত টা আগলে ধরলেন। তারপর ফুচকাওয়ালার কাছে গিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন,

- এক প্লেটে চলবে?

আমি শুধু হা হয়ে তাকিয়ে রইলাম। আমি তো উনাকে বলি নি আমার ফুচকা খেতে ইচ্ছে করছে!

ফুচকা খাওয়ানোর পর আমাকে অনেকগুলো কাঁচের চুড়িও কিনে দিলেন। কাঁচের চুড়ি আমার খুব পছন্দ, এটাই বা উনি কি করে জানলেন! সেদিন আমি খুব খুশি হয়েছিলাম।

এভাবে ধীরে ধীরে প্রত্যয়ের সাথে আমার সম্পর্ক টা স্বাভাবিক হতে লাগলো। আর "স্বামী" নামটার প্রতি ভয়টাও আস্তে আস্তে কাটতে শুরু করলো। একবার কথায় কথায় প্রত্যয় বলছিলেন,

- আপনি চোখে কাজল পড়েন না? চোখে কাজল পড়লে আপনাকে কিন্তু খুব সুন্দর দেখাবে।

এতটা দরদ নিয়ে কেউ আগে কখনো আমাকে বলে নি যে,চোখে কাজল পড়লে আমাকে সুন্দর দেখাবে। এমনকি জারিফও না। প্রতিদিন সকালে আমি ঘুমিয়ে আছি ভেবে আমার কপালে চুমু দেয়া, এখানে আমার কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা, আমার কিছু লাগবে কিনা নিয়মিত তদারকি করা, প্রত্যয়ের এই ছোট ছোট ব্যাপারগুলো আমাকে ঘায়েল করে দিচ্ছিলো দিনে দিনে।

এক রাতে আমি বিছানায় শুয়ে শুয়ে বই পড়ছিলাম। প্রত্যয় কখন রুমে এসেছে খেয়াল করি নি। আনমনে বই পড়তে পড়তে যখন খেয়াল করলাম, প্রত্যয় আমার কাছে এগিয়ে আসছে, আমি খুব অস্বস্তি বোধ করে সরে যেতে নিলাম। প্রত্যয় আমার ভুল ভেঙে দিয়ে আমার পাশে পড়ে থাকা ল্যাপটপ টা হাতে নিয়ে বললেন,

- এটা নিতে এসেছিলাম। ভয় পাবেন না, আপনার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমি কিছু করবো না।

এটা বলে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই আবার পেছনে ফিরলেন,

- কিন্তু তাই বলে আবার ভেবে বসবেন না "আমি অক্ষম"। যেদিন সম্মতি পাবো, সেদিন আপনাকে স্বর্গ দেখিয়ে দিবো।

প্রত্যয়ের শেষ কথাটা আমার বুকের বাম পাশে গিয়ে বিঁধলো একদম।

বৌভাতের দু'দিন আগে সকালবেলা মীনা কল দিলো। মীনা আমার ক্লাসমেট। আমি কল রিসিভ করলাম,

- হ্যালো মীনা।

- কেমন আছিস তানহা?

- ভালো আছি। তুই হঠাৎ কি মনে করে?

- তোর নতুন সংসারের খবর নিতে ইচ্ছে করলো তাই কল দিলাম।

- আর খবর। বিয়ের দিন রাতেই জ্বর বাঁধিয়ে ফেললাম।

- আল্লাহ্‌ কি বলিস! এখন কেমন আছিস?

- এখন জ্বর নেই। ঠিক আছি। তোর কথা বল।

- আমার তো নতুন কোনো কথা নেই তবে নতুন একটা খবর আছে।

- কি খবর?

- জারিফ মীরার সাথে চুটিয়ে প্রেম করছে। আমরা সবাই খুব অবাক হয়েছি, জারিফের মত ছেলে মীরা কে কিভাবে চুজ করলো! জারিফের রুচি এমন, সত্যি আমাদের জানা ছিল না।

মীনার সাথে কথা শেষ করে আমি ধপ করে বিছানায় বসে পড়লাম। মীনার কথাগুলো কানে বাজছে তখনো। ভার্সিটির মধ্যে সুন্দরীদের শীর্ষে মীরার নাম রয়েছে। সবাই তার রূপের যতটা প্রশংসা করে, তার চেয়েও বেশি নিন্দা করে তার চরিত্রের। মাসে মাসে বয়ফ্রেন্ড চেঞ্জ করার সুনাম রয়েছে মীরার। আমি ভাবতে পারছিলাম না, জারিফ কিভাবে মীরা কে পছন্দ করলো!

সেদিন সারাদিন আমার খুব মন খারাপ ছিল। না, এই মন খারাপ জারিফের জন্যে না। ভুল মানুষের পেছনে আমার মূল্যবান অনুভূতিগুলো নষ্ট করার আক্ষেপে।

আমার মন খারাপ বুঝতে পেরে প্রত্যয় আমাকে জিজ্ঞেস করলেন,

- আপনার মন খারাপ?

আমি প্রত্যয়ের দিকে ঘুরে বসে পালটা প্রশ্ন করলাম,

- কখনো কাউকে ভালবেসেছেন আপনি?

প্রত্যয় খানিকক্ষণ চুপ থেকে উত্তর দিলেন,

- আসলে ভালবাসা জিনিস টা খুব পবিত্র। বিয়ের আগে কাউকে ভালবেসে আমি সেই পবিত্রতা নষ্ট করতে চাই নি। আর এ যুগের ভালবাসা মানেই অবাধ মেলামেশা। যদিও দুই একটা ব্যতিক্রম পাওয়া যাবে। তবে মিথ্যে বলবো না, ভাল না বাসলেও, ভার্সিটি তে একজন কে আমার খুব ভাল লাগতো। তার গানের গলা ছিল খুব সুন্দর। মূলত আমি তার গানের প্রেমে পড়েছিলাম।

- প্রপোজ করেছিলেন?

প্রত্যয় এবার প্রশস্ত হাসি দিলেন,

- ভাল লাগতো, ভাল তো বাসতাম না। তাই প্রপোজ করার কথা মাথায় আসে নি কখনো। তাছাড়া আমাকে দিয়ে আর যাই হোক, প্রেম হবে না। গার্লফ্রেন্ডের প্যানপ্যানানি সহ্য করার মত আদর্শ বয়ফ্রেন্ড আমি কখনো হতে পারবো না। আর এমনিতেও কেউ আমার প্রেমে পড়বে না। তাছাড়া আমার বউয়ের জন্যে আমার সব ভালবাসা জমিয়ে রেখেছি আমি। ওকে আমি আমার সব কিছু উজার করে দিবো।

কথা শেষ করে আমার চোখে চোখ পড়তেই প্রত্যয় কি যেন একটা অজুহাত দেখিয়ে আমার সামনে থেকে চলে গেলেন। প্রত্যয় চলে যাওয়ার পর আমি জারিফ আর প্রত্যয় কে পাশাপাশি রেখে হিসেব মিলাতে শুরু করলাম, একজন সুন্দরের পূজারী আর অন্যজন পবিত্রতার!

এই ক'দিনে আমি নিজের অজান্তে একটু একটু করে প্রত্যয় কে আবিষ্কার করেছি। কিছু কিছু মানুষদের দূর থেকে দেখে প্রেমে পড়া যায় না, কিন্তু তার সান্নিধ্যে কিছু সময় জড়িয়ে থাকলে প্রেমে পড়তে বাধ্য হতে হয়। প্রত্যয় হচ্ছে তেমনি একজন মানুষ। আজকাল প্রত্যয় একটু চোখের আড়াল হলেই আমার অস্থিরতা শুরু হয়ে যায়। প্রত্যয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য মরিয়া হয়ে থাকি সবসময়। ওর মধ্যে আমি কখনো কোনো ভণিতা বা ছলনা খুঁজে পাই নি। এই মানুষ টা কে আমার কাছে খুব স্বচ্ছ মনে হয়। মানুষটার সংস্পর্শে যতক্ষণ থাকি,ততক্ষণ নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ লাগে।

আগে ভাবতাম পারিবারিকভাবে বিয়ে হওয়া মানে নিজের শখ আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে সারাজীবন আরেকজনের দাসত্ব করে যাওয়া। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে আর প্রত্যয়ের মত এমন একজন জীবনসঙ্গী পেলে এরেঞ্জ ম্যারেজেও সুখী হওয়া সম্ভব। আবার জারিফের মত প্রেমিক হলে লাভ ম্যারেজেও জীবনটা কে নিজ দায়িত্বে তেজপাতা করে দেয়া যায়। এই পৃথিবী তে জারিফদের সংখ্যা বেশি হলেও, প্রত্যয়দের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। নয়তো "ভালবাসা" নামক শব্দটার কোনো অস্তিত্ব থাকতো না।

রাতে খাওয়াদাওয়ার পর আমি কাপড় ভাঁজ করছিলাম আর প্রত্যয় ল্যাপটপে কাজ করছিলেন। আমি প্রত্যয়ের সামনে গিয়ে খুব কৌতুহলী হয়ে জানতে চাইলাম,

- আমাকে আপনার কেমন লাগে?

আচমকা এমন প্রশ্ন শুনে প্রত্যয় চোখ তুলে তাকালেন কিন্তু ঘাবড়ালেন না। খুব স্বাভাবিকভাবে উত্তর দিলেন,

- শারীরিকভাবে মায়াবতী লাগে আর মানসিকভাবে আমার অর্ধাংগিনী।

তারপর ল্যাপটপ বন্ধ করে পাশ ফিরে শুয়ে পড়লেন। আর আমি স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। অর্ধাংগিনী শব্দ টা তে প্রচণ্ড ঘোর লেগে গেল আমার।

আজ আমার বৌভাত। পার্লারে না সেজে বাসায় নিজে নিজে সাজতে ইচ্ছে করলো। এ কথা প্রত্যয় জানার পর ঘরে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন,

- আপনি নাকি পার্লারে যাবেন না?

আমি শাড়ির আঁচল ঠিক করতে করতে বললাম,

- হুম। যাব না। একা একাই সাজবো। চোখে গাঁঢ় করে কাজল টেনে দিবো।

- আপনাকে কেউ কিছু বলেছে?

- না তো। আমি নিজের ইচ্ছায় ই পার্লারে যাচ্ছি না। কেন, সাদাসিধে সাজে আপনার পোষাবে না বুঝি?

কিছু একটা ভেবে প্রত্যয় আবদার করে বসলেন,

- আমি যদি আপনার সামনে বসে থাকি তাহলে কি আপনার সাজতে অসুবিধে হবে?

মুচকি হেসে বললাম আমি,

- না, অসুবিধে হবে না।

প্রত্যয় দরজা টা লাগিয়ে দিয়ে বিছানায় গিয়ে আয়েশ করে বসলেন।

আমি সাজতে শুরু করলে আচমকা প্রত্যয় আমাকে থামিয়ে দিলেন,

- এই ওয়েট ওয়েট। একটা সিগারেট ধরাতে পারি? আসলে কাঙ্ক্ষিত কিছু দেখতে বসলে আমার সিগারেট টানতে হয়। নয়তো মজা পাই না। এমনিতে আমি খুব একটা সিগারেট খাই না।

আমি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালাম না। কাজল টা হাতে নিয়ে শুধু বললাম,

- সিগারেটের গন্ধে আমার কোনো এলার্জি নেই।

তারপর নিশ্চিন্তে প্রত্যয় একটা সিগারেট ধরালেন।

যতক্ষণ আমি সাজছিলাম,ততক্ষণ প্রত্যয় আমার দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিলেন আর সিগারেটের ধোঁয়া উড়াচ্ছিলেন।

সাজ কমপ্লিট হয়ে যাওয়ার পর প্রত্যয় এসে আমার পেছনে দাঁড়ালেন। আয়নায় প্রত্যয় কে দেখে আমি যেন থমকে গেলাম। ক্ষণে ক্ষণে হার্টবিট মিস করতে লাগলাম। আমার কাঁধে হাত রেখে প্রত্যয় বললেন,

- অদ্ভুত রকমের সুন্দর লাগছে আপনাকে।

আমি ঘুরে দাঁড়িয়ে লজ্জায় চোখ বন্ধ করে কাঁপা কাঁপা ঠোঁটে শুধু এতটুকু বলতে পারলাম,

- ভালবাসি।

আর প্রত্যয় বোকার মত প্রশ্ন করলেন,

- আমি কি আপনার হাত টা ধর‍তে পারি?

আমি চোখ খুলে দুষ্ট হাসি হেসে প্রত্যয়ের শার্টের কলার খামচে ধরে প্রত্যয় কে আরো কাছে টেনে নিয়ে আসলাম। চোখে চোখ রেখে ফিসফিস করে বললাম,

- ভালবাসি'র প্রতিউত্তরে ভালবাসি'ই বলতে হয়, অনুমতি প্রার্থনা নয়।

এর মধ্যে দরজায় কড়া নেড়ে প্রত্যাশা তাড়া দিতে শুরু করলো,কমিউনিটি সেন্টারে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে।

স্টেজে বসে থেকে আমি শুধু প্রত্যয় কে দেখছিলাম বারবার। ব্লাক কালার ব্লেজার আর ব্লু কালার শার্টে আজ খুব ম্যানলি লাগছে ওকে। আমন্রিত অতিথিদের সাথে কথা বলার ফাঁকে ফাঁকে প্রত্যয় তার দুষ্ট চাহনি দিয়ে আমাকে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন,

"আজ রাতে সত্যিই আমাকে স্বর্গ দেখিয়ে দিবেন"

ারিগর (কাল্পনিক)

#রিপোস্ট

#লিখা- Nusrat Khan Ani

Address

Santahar, Alamdighi, Bogra
Santahar
5891

Telephone

+8809638422778

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Lamia Cosmetics Zone posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Lamia Cosmetics Zone:

Share

Category