25/05/2025
গল্পের নাম: “লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড”
বৃষ্টি ভেজা এক সকালে আমি হঠাৎ আমার বাসের সিটে একটা ডায়েরি খুঁজে পাই। ডায়েরিটা ভিজে গিয়েছিলো, কিন্তু ভেতরে লেখা পাতাগুলো স্পষ্ট।
লেখাগুলো পড়তে পড়তে আমি যেন ওর মনের ভেতর ঢুকে যাচ্ছিলাম। ডায়েরির প্রতিটি পৃষ্ঠা তার একাকীত্ব, আশা আর ভয়কে তুলে ধরছিলো। লেখাগুলোতে বারবার একই নাম — “আলোর খোঁজে”।
একদিন কলেজের করিডোরে দেখি ওকে — নিস্তব্ধ চোখ, কাঁধে ভিজে চুল, কিন্তু ডায়েরির লেখার মতোই একরকম আলো ওর চোখে। ওর নাম তনিমা।
আমি প্রথমে ভয় পেয়েছিলাম, কেমন করে বলবো যে আমি ওর ডায়েরি পড়ে ফেলেছি? কিন্তু সাহস করে ওকে ডেকে বললাম, “তোমার ডায়েরিটা আমি পেয়েছিলাম। কিছু লেখা পড়ে ফেলেছি। হয়তো… মাফ চাই।”
তনিমা প্রথমে থমকে গেলো, তারপর একটু হেসে বললো, “তুমি আমার লেখা পড়েছো? কেমন লেগেছে?”
সেই থেকে আমাদের বন্ধুত্বের শুরু। আমি ওকে নতুন খাতা কিনে দিতাম, ও আমাকে গল্প শোনাতো — সে কীভাবে হারিয়ে যাওয়া জিনিস খুঁজে পেতে পছন্দ করে। আমাদের বন্ধুত্ব যেনো একটা লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড কাউন্টারের মতো — হারানো ভরসা, হারানো স্বপ্ন খুঁজে পাওয়ার গল্পে ভরা।
কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম, তনিমা তার ডায়েরিতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায়। ওর জন্য প্রেম মানে ছিলো নিজের ভেতরের ছায়াগুলো আঁকড়ে থাকা, কারো সঙ্গে ভাগাভাগি নয়।
একদিন ও বললো, “আমার ভালোবাসা কাগজে বাঁচে, বাস্তবে নয়। তুমি আমার লেখা ভালোবেসে ফেলেছো, কিন্তু হয়তো আমাকে নয়।”
আমি চুপ করে ওর ডায়েরিটা ফেরত দিলাম। ও বললো, “লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডে সব জিনিস একদিন হারিয়েই যায়… হয়তো এটাই শেষ দেখা।”
আজও কোনো পুরোনো খাতা দেখলেই তনিমার লেখা মনে পড়ে যায় — ভালোবাসা, যা শুরু হয়েছিলো হারিয়ে যাওয়া ডায়েরির পাতায়… আর শেষ হয়েছিলো সেখানেই।