21/07/2016
মধু একটি বিশেষ নেয়ামত। এটি একটি জান্নাতি নেয়ামত। এতে রয়েছে প্রাকৃতিকভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। মধু রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধিসহ
নানাবিধ উপকার সাধন করে।
কোরআনে এর নেয়ামতের বর্ণনা প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
'তোমার পালনকর্তা মৌমাছিকে আদেশ দিলেন, পর্বতে, গাছে ও উঁচু চালে গৃহ নির্মাণ করো। এরপর সব ধরনের ফল থেকে খাও এবং আপন পালনকর্তার উন্মুক্ত পথে চলো। তার পেট থেকে
বিভিন্ন রঙের পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্য রয়েছে শিফা (রোগ আরোগ্য) নিশ্চয়ই এতে
চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।'
(সূরা নাহল : ৬৮-৬৯)।
হাদিসে মধুর উপকারিতার বর্ণনা :
প্রিয়নবী (সা.) বলেন, 'মধুতে আরোগ্য
নিহিত আছে।' (বোখারি : ৫২৪৮)।
আয়েশা (রা.) বলেন, প্রিয়নবী (সা.)
এর কাছে মধু ও মিষ্টান্ন খুব প্রিয় ছিল।
(বোখারি : ৫২৫০)।
রাসুল (সা.) বলেন,
'যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন সকালে মধু চেটে খাবে, তার বড় ধরনের কোনো রোগ হবে না।' (ইবনে মাজাহ : ৩৪৪১)।
আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, এক
ব্যক্তি প্রিয়নবী (সা.) এর খেদমতে
হাজির হয়ে বলল, আমার ভাই উদরাময়
রোগে ভুগছেন। তখন প্রিয়নবী (সা.)
বললেন, তাকে মধু পান করাও। কথা
মতো সে ব্যক্তিকে মধু পান করানো
হলো। কিন্তু তাতে কোনো ফল হলো
না। সেই ব্যক্তি আবার এসে বলল, ইয়া
রাসুলাল্লাহ! আমি তাকে মধু পান
করিয়েছি; কিন্তু তার উদরাময় আরও
বৃদ্ধি পেয়েছে। তখন প্রিয়নবী (সা.)
বললেন, 'আল্লাহ সত্য বলেছেন, তোমার
ভাইয়ের উদর মিথ্যুক।' এরপর ওই ব্যক্তিকে
পুনরায় মধু পান করানো হলে তখন সে সুস্থ
হয়ে গেল। (বোখারি : ৫২৫২)।
সাহাবায়ে কেরাম মধু পানে খুবই আগ্রহী ছিলেন। জাবেন ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, একদা রাসুল
(সা.) কে মধু হাদিয়া দেয়া হলো। তিনি আমাদের মাঝে তা বণ্টন করে দিলেন। আমি আমার অংশ নিলাম। অতঃপর বললাম, আমি কি আরও
অতিরিক্ত নিতে পারব? তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ। আরও নাও।
(ইবনে মাজাহ : ৩৪৪২)।
মোহাম্মদ ইবনে শুরাহবিল বর্ণনা করেন,
তোমাদের কাছে কেউ মধু ও সুগন্ধি
নিয়ে এলে তা ফিরিয়ে দিও না।
(মারিফাতুস সাহাবা : ৬৬৪)।
মধুতে বিদ্যমান কল্যাণকর উপাদান :
মধুতে প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান
থাকে। ফুলের পরাগের মধুতে থাকে ২৫
থেকে ৩৭ শতাংশ গ্লুকোজ। ৩৪ থেকে
৪৩ শতাংশ ফু্রুক্টোজ, ০.৫-৩.০ শতাংশ
সুক্রোজ এবং ৫.১২ শতাংশ মন্টোজ।
এছাড়া ১২ শতাংশ অ্যামাইনো এসিড,
২৮ শতাংশ খনিজ লবণ এবং ১১ ভাগ
এনকাইম। এতে চর্বি ও প্রোটিন নেই।
১০০ গ্রাম মধুতে ২৮৮ ক্যালরি থাকে।
মধুর শারীরিক উপকারিতা : মধুতে
রয়েছে নানাবিধ শারীরিক
উপকারিতা। নিম্নে কিছু উল্লেখ করা
হলো-
১. শক্তিবর্ধক : মধু ভালো শক্তি প্রদায়ী
খাদ্য। দেহে তাপ ও শক্তির ভালো উৎস।
২. হজমে সহায়ক : এতে বিদ্যমান শর্করা
সহজেই হজম হয়। পেট রোগীর জন্য আদর্শ
খাদ্য মধু।
৩. কোষ্ঠকাঠিন্য দূরকারক : মধুতে আছে
ভিটামিন বি কমপ্লেক্স। এটা কোষ্ঠকাঠিন্য ও অমস্নতা দূর করে।
৪. রক্তশূন্যতা দূরকারক : মধু রক্তের
হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করে
বলে এটি রক্তশূন্যতায় বেশ ফলদায়ক।
এতে আছে খুব বেশি পরিমাণে কপার,
লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ।ফুসফুস রোগ
নিরাময় করে।
৫. সুনিদ্রা আনয়নকারী : মধু অনিদ্রা দূর
করে। রাতে শোয়ার আগে এক গ্লাস
পানির সঙ্গে দুই চা চামচ মধু মিশিয়ে
খেলে এটি গভীর ঘুমের কাজ দেয়।
৬. যৌন দুর্বলতায় : পুরুষের মধ্যে যাদের
যৌন দুর্বলতা রয়েছে তারা যদি
প্রতিদিন মধু সেবন করেন তাহলে এ
দুর্বলতা দূর হবে।
৭. প্রশান্তিদায়ক পানীয় : হালকা গরম
দুধের সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করলে তা
উৎকৃষ্ট পানীয়ে পরিণত হয়।
৮. পাকস্থলীর সুস্থতায় : মধু পাকস্থলীর
সুস্থতা বজায় রাখে। অরুচি, বমি,
বুকজ্বলা ইত্যাদি দূর করে।
৯. দৃষ্টিশক্তিবর্ধক : মধু দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি
করে। গাজরের রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে
খেলে দৃষ্টিশক্তির উন্নতি হয়। মধু ওজন
কমাতেও ভূমিকা রাখে।
১০. তারুণ্য ধরে রাখতে : মধু ত্বকের
তারণ্য বজায় রাখে। ত্বকের ভাঁজ পড়া
ও বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে। শরীরের
সামগ্রিক শক্তি উৎপাদন ও তারুণ্য বৃদ্ধি
করে।
১১. হাড় ও দাঁতের গঠন : মধু হাড় ও দাঁতের
গঠনে সহায়ক, মধুতে বিদ্যমান
ক্যালসিয়াম দাঁত, হাড়, চুলের গোড়া
শক্ত রাখে। নখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে,
ভঙ্গুরতা দূর করে।
১২. উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে : নিয়মিত
মধু পানে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রিত হয়।
রক্ত উৎপাদনে সহায়ক : মধুতে রক্ত
উৎপাদনকারী আয়রন রয়েছে।
১৩. রোগ প্রতিরোধ শক্তিবর্ধক : মধু
শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়।
শরীরের ভেতর ও বাইরে যে কোনো
ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করার
ক্ষমতাও সৃষ্টি করে। জীবনীশক্তি বৃদ্ধি
করে।
১৪. স্মৃতিশক্তিবর্ধক : মধু স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি
করে। নিয়মিত মধু পানে স্মৃতিশক্তি
সতেজ হয়। শিশুর ছয় মাস বয়সের পর থেকে
নিয়মিত অল্প করে মধু পান করানো
উচিত। এতে শিশুর গঠন, দেহের বৃদ্ধি ও
মানসিক বিকাশ সুন্দর হবে।
[[ ঘরে বসে পেতে অর্ডার করুন ৷ রাজশাহী ফ্রি হোম ডেলিভেরি ৷]]