05/08/2026
আল্লাহ মানুষকে ভালো মন্দের জ্ঞান দিয়েছেন। তার বিধান বুঝার জ্ঞানও দিয়েছেন। কুরআন বুঝার সবচেয়ে বড় মাধ্যম বিবেক কাজে লাগানো।
.
(সূরাঃ আশ-শামস ৯১, আয়াত ৭,৮)"শপথ মানুষের এবং তাঁহার, যিনি উহাকে সুঠাম করিয়াছেন, অতঃপর উহাকে উহার অসৎকাজ ও উহার সৎকাজের জ্ঞান দান করিয়াছেন।"
.
আর যারা বিবেক বা কমনসেন্সকে কাজে লাগায় না, যা জানার বিষয় না, তা জানতে চায়, অহেতুক প্রশ্ন করে বিতর্ক করে, বিধান আর রীতির পার্থক্য বুঝেনা, প্রাকৃতিক নিয়মের জ্ঞান নেই, ভালো, মন্দ আলাদা করতে পারেনা, তাদেরকে আল্লাহ মুক, বধির, পশু বলে তিরষ্কার করেছেন। বিবেক কাজে লাগিয়ে কুরআন বুঝার চেষ্টা না করে, অবান্তর প্রশ্নকারীদের জন্য আল্লাহর এই আয়াত....
.
(সূরাঃ আল-আরাফ ৭, আয়াত ১৭৯)"আমি তো বহু জিন ও মানবকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করিয়াছি ; তাহাদের হৃদয় আছে কিন্তু তদ্দ্বারা তাহারা উপলব্ধি করে না, তাহাদের চক্ষু আছে তদ্দ্বারা দেখে না এবং তাহাদের কর্ণ আছে তদ্দ্বারা শ্রবণ করে না; ইহারা পশুর ন্যায়, বরং উহারা অধিক পথভ্রষ্ট উহারাই কান্ড জ্ঞানহীন।"
.
(সূরাঃ আল-আনফাল ৮, আয়াত ২২)"আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম জীব সেই বধির ও মূক যাহারা কিছুই বোঝে না।"
.
খাওয়া-পরা ও সাজ-সজ্জার আয়াত কুরআন এ আছে, কিন্তু পদ্বতি নাই, তাহলে কি আমরা খাইনা? আমরা খাই, পরি। কিন্তু এসব পদ্বতি শেখার জন্য আমাদের কোন বই দরকার হয়নি। কারণ আল্লাহ ভালোমন্দের জ্ঞানসহ অনেক বিবেক প্রাকৃতিকভাবে দিয়েছেন, আর চিরাচরিত নিয়মতো অনেক আছেই। কুরআন বিরোধী না হলে আমরা বিজ্ঞান, ইতিহাস, হাদীস, তাফসীর, লালন, বঙ্কিম সবকিছুর সাহায্য নিব এবং আমরা সে পদ্বতিতেই চলব। তাই নিজের যাপিত জীবন দিয়ে কুরআনকে প্রশ্নবিদ্ব করবেন না। জীবন যাপনের জন্য, আগেই কুরআন দেখুন। অবান্তর প্রশ্ন করে কেবল অবিশ্বাসীরাই। যে পদ্বতি কুরআনে নাই তা ইসলামের অংশ নয়। তবে জীবন ধারণের জন্য যেকোন পদ্বতি সৃষ্টি করা যাবে কুরআনের মুলনীতি ঠিক রেখে। একজন মুসলিম তাই করে।
.
জীবন যাপনের জন্য কুরআনের সুত্র ব্যাবহার করুন, যেকোন জ্ঞানগর্ভ বইয়ের ও বাস্তবতার সাহায্য নিন। নিজের মত জীবন পদ্বতি তৈরী করে সমস্যা সৃষ্টি করে, কুরআনের কাছে সমাধান চাইবেন না। নিজের মত পদ্বতি বানাবেন আর কুরআনকে জিজ্ঞাসা করবেন, এটা নাই কেন? এটা আল্লাহর উপর ধৃষ্টতা যা একজন প্রকৃত মুসলমান করতে পারে না।
.
কুরআনে আল্লাহ বলেছেন সব আছে। এর মানে এই নয় যে আলু-পটলের দামের হিসাবও আছে। কারণ এটা কুরআনের সবকিছুর মধ্যে পড়েনা। এক আহাম্মকের এমন প্রশ্ন দেখেছিলাম। প্রকৃত মানুষ হওয়ার জন্য ’কমনসেন্স‘ খুবই জরুরী বিষয়। আলু-পটলের দামের হিসাব ব্যাবসা সংক্রান্ত বিষয়। হারাম -হালাল, প্রতারণা-বাটপারির জ্ঞান থাকলে ব্যাবসা সংক্রান্ত এই প্রশ্ন কুরআনকে কেউ করবেনা। তবে মগজ প্রতিবন্ধীরা এটা বুঝবেনা। তারা এমন প্রশ্ন করে। তারা ধর্ম, বিজ্ঞান, ব্যাবসা, উপন্যাস ও ইতিহাসেরই পার্থক্য বুঝেনা। সব বিষয়কে এক পাল্লায় মাপে। এদের চেয়ে ভালো ও সৎ ব্যাবসা পদ্বতি জানে নাস্তিক ও ইহুদী নাসারা, তাও কুরআন ছাড়া। আর এরা শিখেছে ধর্মব্যাবসা। কিন্তু প্রকৃত ধর্ম ও ব্যাবসা শিখে নাই।
.
এদের জরুরী বিষয় হল টয়লেটের দোয়া মুখস্ত করা। আর মানুষকে ঢ়িলা-কুলুখ মারা। আল্লাহর কথা মত যে ভালো- মন্দের এই বিবেক পায়নি সে আলু-পটলের দামের হিসাব কুরআনের কাছে চাইবে, এটাই স্বাভাবিক। তারা পরিত্যাজ্য। আল্লাহ কারো মতামতের উপর নির্ভর করে কুরআন পাঠাননি। বরং তিনি পাঠিয়েছেন সব মানুষ কুরআন মত চলবে। উদ্ভট সমস্যা নিজে তৈরী করলে সমাধানের জন্য সেইম লেভেলের উদ্ভট সমস্যার বইই আপনার প্রয়োজন। গুজব প্রয়োজন, পেশীশক্তি প্রয়োজন, দল বা তরীকা প্রয়োজন। সেই অবান্তর সমাধান কুরআনের কাছে আশা করা যায়না। কুরআন স্বতন্ত্র কিতাব। কুরআন নির্দেশ দেয় সার্বজনীন স্বতন্ত্রভাবে। যে কারো তৈরী করা সমস্যা দেখে নয়।
.
যারা কুরআনের মেসেজ উপলব্ধি না করে শুধু মুখস্থ তেলাওয়াত শিখে নামাজ পড়ানোর চাকরি পায় আর নামাজ পড়িয়ে ভাবে ধর্ম তাদের উপর নির্ভরশীল, তাদের দ্বারা কুরআন এর সত্য বলা সম্ভব না।
.
(সূরাঃ সাবা ৩৪, আয়াত ৬)"যাহাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হইয়াছে তাহারা জানে যে, তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে তোমার প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তাহাই সত্য ; ইহা পরাক্রমশালী প্রশংসার্হ আল্লাহ্র পথনির্দেশ করে।"
.
আর যারা গোড়ামি ধরে রাখে, বুঝে পড়ার ইচ্ছা ও চেষ্টা না করে শুধু প্রশ্ন করে, তাদের জন্য কুরআন এবং কুরআনের জ্ঞান কোনটাই বোধগম্য নয় ৷
.
(সূরাঃ নাহল ১৬, আয়াত ১০৮)"উহারাই তাহারা, আল্লাহ্ যাহাদের অন্তর, কর্ণ ও চক্ষু মোহর করিয়া দিয়াছেন এবং উহারাই কান্ড জ্ঞানহীন।"
.
এরা একটা প্রশ্ন দ্বারা আল্লাহর কথা ঢেকে দিতে চায়, "পারলে সুরা ফাতিহা সহিহ ভাবে তেলাওয়াত করে শুনাও তো? তুমিতো তেলাওয়াতই করতে পারো না, আইছো কুরআনের কথা বলতে।
.
আচ্ছা,আল্লাহ এতিমের সম্পদ ভক্ষন করতে নিষেধ করেছেন, নইলে কঠোর শাস্তি দিবেন। এই আদেশ কি আল্লাহ সুর করে শুনতে চাইবেন? যিনি সুর করে শোনাতে পারবেন, তার কি এই কাজের শাস্তি হবে না? আল্লাহ কিতাব নাযিল করেছন কি সুরেলা কন্ঠে তেলাওয়াত করে প্রতিযোগিতা করার জন্য নাকি কিতাব অনুযায়ী চলার জন্য?
.
মাদ্রাসা থেকে পাস করে, সুন্দর কন্ঠে এডভান্স টাকা নিয়ে ওয়াজ মাহফিলে যেয়ে হাসায়ে কাঁদায়ে শ্রোতাদের বিমুগ্ধ করে ভুরিভোজ করে, সুর করে, ছন্দ মিলিয়ে কবিদের মত আল্লাহর বিধানকে বিকৃত করে উপস্থাপন করে আর অধিকাংশ লোক তাদের অনুসরণ করে। এভাবেই ঢেকে যায় আল্লাহর আদেশ।
.
(সূরাঃ আশ-শোয়ারা ২৬, আয়াত ২২৪)"এবং কবিদেরকে অনুসরণ করে বিভ্রান্তরাই।"
.
বিশ্বজুড়ে আজ কুরআন তেলাওয়াতের প্রতিযোগিতা। কে কত সুন্দর সুর করে পড়তে পারে তার উপর সফলতা। এভাবেই শয়তান সফল, অধিকাংশকে আল্লাহর পথ থেকে সরিয়ে ফেলে। সবাই সুরেই মুগ্ধ। না হয় আদেশ জানা, না হয় আদেশ পালন।
.
কুরআন ব্যাখ্যার দ্বায়িত্ব নিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ। তিনি বারবার বলেছেন আমি কুরআন ব্যাখ্যাসহ নাযিল করেছি, প্রতিটি বিষয়ের বিস্তারিত, স্পষ্ট বর্ণনা আছে এতে। এর একেকটি আয়াত, অপর আয়াতকে ব্যাখ্যা করে। এতে উদাহরণ, উপমা দেয়া হয়েছে যাতে মানুষ সহজে বোঝে। এটাই মানুষের লিখিত বই আর আল্লাহর বইয়ের পার্থক্য।
.
(সূরাঃ নাহল ১৬, আয়াত ৮৯)"সেই দিন আমি উত্থিত করিব প্রত্যেক সম্প্রদায়ে তাহাদেরই মধ্য হইতে তাহাদের বিষয়ে এক একজন সাক্ষী এবং তোমাকে আমি আনিব সাক্ষীরূপে ইহাদের বিষয়ে। আমি আত্মাসমপর্ণকারীদের জন্য প্রত্যেক বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ, পথনির্দেশ, দয়া ও সুসংবাদস্বরূপ তোমার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করিলাম।"
.
(সূরাঃ হুদ ১১, আয়াত ১,২)"এই কিতাব প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞের নিকট হইতে; ইহার আয়াতসমূহ সুস্পষ্ট, সুবিন্যস্ত ও পরে বিশদভাবে বিবৃত যে, তোমরা আল্লাহ্ ব্যতীত অন্যের ‘বিধিবিধানমান্য করিবে না, অবশ্যই আমি তাঁহার পক্ষ হইতে তোমাদের জন্য সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা।"
.
আর যারা কুরআন ব্যাখ্যার নামে হাদিস, তাফসির লেখেন, তাদের কি উপরে বলা আল্লাহর কথাগুলো চোখে পড়ে নি? তাই আল্লাহ প্রশ্ন করেছেন "তারা কি কুরআন সম্পর্কে গভীর চিন্তা করে না? না তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?
.
(সূরাঃ মুহাম্মদ ৪৭, আয়াত ২৪)"তবে কি উহারা কুরআন সম্বন্ধে অভিনিবেশ সহকারে চিন্তা করে না? না উহাদের অন্তর তালাবদ্ধ?"
.
কুরআন বহির্ভুত হাদিস ও ইসলামের ইতিহাস পড়ে মুফতি, মাওলানা, মুহাদ্দিস, শায়খুল হাদিস খেতাব পাওয়ার পর, তারা আর কুরআন নিয়ে চিন্তা বা গবেষনা করে না। কারণ কুরআনকে মেনে নিলে তাদের দীর্ঘ দিনের অর্জিত জ্ঞান ও সার্টিফিকেট বাতিল হয়ে যায়।
.
যাদের পুরো কুরআন বুঝে পড়া নেই আমি তাদের প্রশ্নের উত্তর দেই না, কেননা আল্লাহ অজ্ঞদের এড়িয়ে যেতে আর কিতাবের জ্ঞান নেই তাদের সালাম দিয়ে সরে যেতে বলেছেন যদি আল্লাহর আয়াত নিয়ে উপহাস করা হয় সেখান থেকে ও সরে যেতে বলেছেন। আর বলেছেন কুরআন জ্ঞানীদের জন্য। যারা না বুঝে মুখস্থ করে তাদের জন্য নয়।
.
(সূরাঃ আল-আরাফ ৭, আয়াত ১৯৯)"তুমি ক্ষমাপরায়ণতা অবলম্বন কর, সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং অজ্ঞদেরকে এড়াইয়া চল।"
.
(সূরাঃ আত-তাওবাহ ৯, আয়াত ১১)"..জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য আমি আয়াতসমূহ স্পষ্টরূপে বিবৃত করি।"
.
কুরআনের কথাগুলি জ্ঞানীদের জন্য। এভারেজ বা যারা প্রচলিত, প্রতিষ্ঠিত ধ্যান ধারণার বাইরে চিন্তা করতে পারে না, অধিকাংশ দ্বারা যারা প্রভাবিত আর ধর্ম যাদের আয়ের মাধ্যম তাদের জন্য নয়। যারা জ্ঞানে সুগভির ও বোধশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া কেউ কুরআন থেকে শিক্ষা গ্রহন করে না ৷
.
(সূরাঃ আল-আনকাবুত ২৯, আয়াত ৪৩)"এই সকল দৃষ্টান্ত আমি মানুষের জন্য দেই, কিন্তু কেবল জ্ঞানী ব্যক্তিরাই ইহা বুঝে।"
.
এই কুরআন হলো প্রগাঢ় জ্ঞানসম্পন্ন কিতাব ৷ এর জ্ঞান আহরনের জন্য প্রচুর সময় ব্যায় করা জরুরী আল্লাহর উপর আস্থা রেখে জ্ঞান আহরনের চেষ্টাকারীকে আল্লাহ জ্ঞান দান করেন ৷
.
(সূরাঃ আল-বাকারা ২, আয়াত ২৬৯)"তিনি যাহাকে ইচ্ছা হিক্মত/জ্ঞান/প্রজ্ঞা প্রদান করেন এবং যাহাকে হিক্মত/জ্ঞান/প্রজ্ঞা প্রদান করা হয় তাহাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়; এবং বোধশক্তিসম্পন্ন লোকেরাই শুধু শিক্ষা গ্রহণ করে।"