28/09/2025
আসসালামু আলাইকুম।
জ্ঞাত মাত্রেই ‘পাতক্ষীর’ শ্রুতিপূর্বক জিভে জল আসে। তা-ই সহজাত। মুন্সীগঞ্জ তথা বিক্রমপুরের অত্যন্ত সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের অন্যতম অংশ পাতক্ষীর।
উৎপাদিত পাতক্ষীর যদি সিরাজদিখানের হয়, তবেতো ভাষাতীত! সিরাজদিখানের পাতক্ষীর দেশব্যপী ব্যপক সমাদৃত যা উল্লেখ বাহুল্যের অবতারনা মাত্র।
সিরাজদিখানের পাতক্ষীরের বয়স দেড়শ বছর অতিক্রান্তের পথে। স্থানীয় লোকজন এ খাবার নিয়ে গর্ববোধ করেন। পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী আর ইছামতীর দেশ মুন্সীগঞ্জ। এ অঞ্চলের মানুষ ভোজনবিলাসী। অতিথি আপ্যায়নে তাদের জুড়ি মেলা ভার। এখানকার পাতক্ষীরের (পাতার ক্ষীর) সুনাম সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই। এমন ক্ষীর সারা দেশে আর কোনো অঞ্চলে তৈরি হয় না।
সিরাজদিখান বাজারের রাজলক্ষী মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক খোকনচন্দ্র ঘোষ। তাঁর ভাই প্রয়াত সুনীলচন্দ্র ঘোষ এটি চালু করেছিলেন। তিনি ছিলেন পাতক্ষীর তৈরির মশহুর কারিগর। লোকে বলে, তাঁর হাতে জাদু ছিল। তাঁর তৈরি পাতক্ষীর যারা খেয়েছে, তারা ভুলতে পারে না। খোকন বললেন, ‘ব্রিটিশ আমল থেকে বংশপরম্পরায় আমরা এ পাতক্ষীর তৈরি করি।
যেভাবে তৈরি হয় ঃ
খোকন ঘোষের কাছ থেকেই জানা গেল, প্রথম প্রথম এ পাতক্ষীর একটু পাতলা হতো; কিন্তু একসময় দেখা গেল আরো কিছুটা ঘন করলে এর স্বাদ বেড়ে যায়। মজাদার হয়। তাই ঘন করেই এখন তৈরি হচ্ছে। এক কেজি ক্ষীর তৈরিতে ছয় কেজি দুধ লাগে। প্রথমে দুধ একটি পাত্রে নিয়ে জ্বাল দিতে হয়। জ্বাল দিতে দিতে যথেষ্ট পরিমাণ ঘন হলে নামিয়ে আনা হয়। তবে নামিয়ে আনার কিছু আগে অল্প পরিমাণ চিনি মেশানো হয়। নামিয়ে আনার পরপরই ঢেলে দেওয়া হয় কলাপাতার ওপর। একটু ঠান্ডা হলে ধীরে ধীরে জমে দইয়ের আকার ধারণ করে। পাতার ওপর ঢালা হয় বলেই এটি পাতক্ষীর। সে আমলে ইংরেজরাও পাতক্ষীরের সমঝদার ছিল। বাবুদের পাতে তো প্রতি বেলায়ই পাতক্ষীর লাগত। এ ছাড়া বিশেষ অনুষ্ঠানে পাতক্ষীর অতিথি আপ্যায়নে এগিয়ে থাকত। এখনো কিন্তু ২৫ ডিসেম্বরের বড়দিনে বিদেশি কূটনীতিকদের আপ্যায়ন করতে বঙ্গভবনে পাতক্ষীর থাকে। প্রবাসীদের জন্য স্বজনরা এটি লোক মারফত বিদেশে পাঠিয়ে থাকেন।
চোখ রাখুন Sweetbank এ 😋😋😋
★★★মূল্যঃ হাফ কেজি ৪৫০ টাকা। ★★★
অর্ডার করতে ইনবক্স অথবা 01303634794.