08/09/2022
আমি তখন মাদানীনগর মাদরাসায় নিচের দিকে পড়ি। দরসি কিতাবাদির পাশাপাশি অন্যান্য পড়াশোনার প্রতিও প্রবল ঝোঁক। স্কুলের ক্লাস নাইন পর্যন্ত প্রায় সবগুলো বাংলা বই পড়ে ফেলেছি। আলিয়ারও পড়া শেষ অনেকগুলো। বইপুস্তক যা পাই, একটা একটা গিলে খাই।
সেই কাঁচা বয়েসেই মাসিক আলকাউসারের মতো অতি গম্ভীর পত্রিকাটি আগাগোড়া পড়তাম। মাঝেমধ্যেই সেখানে মিশনারি, দাওয়াহ, নওমুসলিম বিষয়ক কারগুজারি ও উত্তরণপ্রস্তাবনামূলক লেখাজোখা ছাপা হতো। আমি আশ্চর্য হয়ে দেখলাম, শুধু আলকাউসারে না, আরও বিভিন্ন পত্রিকায় এসব বিষয়ে মোটামোটি লেখালেখি হচ্ছে এবং আমাদের আলেমসমাজের প্রতি নানামুখী এত চাপ, এখনো তারা এদিকটায় ব্যাপক আকারে মনোযোগ দেবার ফুরসত পাচ্ছেন না।
দেখতে দেখতে হেদায়াতুন্নাহুতে উঠে গেলাম। মাদানীনগর মাদরাসার বর্তমান শাইখুল হাদিস সিলেটের হুযুরের ছেলে নাঈম আমার সহপাঠী ও বন্ধু ছিল। একদিন কথায় কথায় নাঈমকে বললাম, দেশের ভেতর এতকিছু হচ্ছে, আমার ইচ্ছে করে শরীরের দাওয়াহর ময়দানে হাজিরা দিই।
কয়েক দিন পর পরীক্ষার খেয়ার চলছে। নাঈম এসে আমাকে বলল, আপনি যে দাওয়াহর ময়দানে যেতে চাইছিলেন, এই আগ্রহ এখনো আপনার আছে?
আমি বললাম, আলবৎ আছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা কি করা যায়?
নাঈম মুখটা আগের চেয়ে দ্বিগুণ উজ্জ্বল করে বলল, ব্যবস্থা আছে, আমি আপনার নাম দিচ্ছি, এই বন্ধে আমাদের জালালাইন জামাত থেকে একটা জামাত উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে বের হবে, আমি সেখানে আপনার নাম দিয়ে দিচ্ছি। জামাতের জিম্মাদার মিজান ভাই, তিনি আপনার দেখাশোনা করবেন, কোনো সমস্যা হবে না। আরও ভালো হয় আমার সঙ্গে চলেন, আমি এক্ষুনি সবার সঙ্গে আপনার পরিচয় করিয়ে দিই।
সেই শুরু হলো। কখনো উত্তরবঙ্গ, কখনো দুর্গম রাঙামাটি অথবা বান্দরবানের সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গ, কক্সবাজার, নেত্রকোনা—দাওয়াহর ময়দানের আমার দেখা সংকট ও দৃশ্যাবলির বিস্তর বর্ণনা আছে এ দুটি বইয়ের ছত্রে ছত্রে।
বাংলায় বাজে গির্জার বাঁশি আলহামদুলিল্লাহ ইতোমধ্যে ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এত এত বড় মানুষ বুযুর্গানে কেরাম বইটা পড়ে আমাকে দুআ দিয়েছেন অভিব্যক্তি জানিয়েছেন, আমি সেসব লিখতে শুরু করলে আলাদা একটি পাণ্ডুলিপি হয়ে যাবে। আসলে লেখালেখি করে দিনশেষে আমরা এ দুআ ও ভালোবাসাগুলোর জন্যই তো মুখিয়ে থাকি!
রঙিন উপাসনা যখন লিখতে শুরু করি, সেসময় এনজিও কেন্দ্রিক একটা প্লট আমার মাথায় ঘুরছিল। প্রতিদিন একটু একটু করে টানা কয়েক কিস্তি লিখে ফেললাম। তারপর নিয়মিত অভ্যাস আমার ওপর ভর করল। ফেলে রাখলাম। এর ভেতর আরও কয়েকটা কাজ ধরেছি এবং একই নিয়মে কয়েক কিস্তি লিখে ফেলে রেখেছি।
রঙিন উপাসনা আমি প্রতিদিনকার লিখিত অংশ ফেসবুকে শেয়ার করতাম। এর ফলে যা হয়েছে, দ্রুত লিখে শেষ করার জন্য কিছু প্রিয় ভাই আমাকে নিয়মিত তাগাদা দিতে থাকেন। তারপর বছরখানেক পর যখন আমি আবার ফাইলটি খুলে বসি, তখন আমার মাথায় পুরোপুরি দাওয়াহ কেন্দ্রিক চিন্তা ভর করছে। আমি উপাসনার গল্প এনজিও থেকে টেনে নিয়ে গেলাম মিশনারির অন্দরমহলে। আমার ক্ষুদ্র জীবনের না বলা অভিজ্ঞতাগুলো আমি উপন্যাসের চরিত্রগুলোর মধ্যে ফুটিয়ে তুলেছি। যেহেতু এটির দুএকটি সামান্য দৃশ্য কাল্পনিক, আর সব সত্য কাহিনি; এমনকি অধিকাংশ নাম ও স্থানও ঠিকঠাক তুলে ধরা হয়েছে, ফলে উপন্যাসের গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে বইটা হয়ে উঠেছে মোটামুটি তথ্য ও তত্ত্ববহুল।
রঙিন উপাসনা আপাতত স্টকে নেই। শিগগিরই ছাপার সম্ভাবনাও নেই। অথচ অনেকেই বইটা খুঁজছেন। এই যখন অবস্থা, গত সপ্তাহে আচমকা প্রকাশক নক দিয়ে জানালেন, বইটির অল্প কিছু কপি পাওয়া গেছে। আপনি চাইলে এগুলো পাঠকের হাতে তুলে দেওয়া যায়। আমি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিলাম, এই কয়েক কপি সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে নামমাত্র মূল্যে ছেড়ে দেওয়া হোক।
বই : বাংলায় বাজে গির্জার বাঁশি (মিশনারি ও দাওয়াহ বিষয়ক বই)
খুচরা বিক্রয় মূল্য ১৪০ টাকা
বই : রঙিন উপাসনা (মিশনারি বিষয়ক উপন্যাস)
খুচরা বিক্রয় মূল্য ১৬০ টাকা
একত্রে দুটি অথবা যেকোনো একটি নিতে কল করুন : 01883427165
Omar Ali Ashraf