শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা

Directions Website Contact the business

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ ক?

02/12/2016

আসুন শ্রীমদ্ভগবদ গীতা সম্পর্কে কিছু তথ্য
জানি।
১.শ্রীমদ্ভগবদ গীতা কি?
উ.ভগবান শ্রীকৃষ্ণনের অমৃত বাণী বা গান।
২.সংস্কৃতি ভাষায় গীতার অর্থ কি?
উ: গান।
৩.শ্রীমদ্ভগবত গীতির রচিয়তা কে?
উ:মহর্ষি ব্যাস দেব।
৪.শ্রীকৃষ্ণ গীতার জ্ঞান প্রথম কাকে
দিয়েছিল?
উ:সূর্য্য দেব বিবস্বানকে।৪/১
৫.কত বছর আগে সূর্য্য দেব এই জ্ঞান পেল?
উ:এখন থেকে ১২,০৪,০০,০০০ আগে।
৬.সূর্য্য দেব পরে এই জ্ঞান কাকে
দিয়েছিল?
উ:মানব জতির জনক মনুকে।
৭.এখন থেকে কত বছর আগে মনু পেয়েছে?
উ:আজ থেকে ২০,০০,০০০ বছর আগে।
৮.মনু এই গীতার জ্ঞান কাকে দিেয়ছিল?
উ: ইক্ষাকুকে।
৯.পুনরায় ভগবান শীকৃষ্ণ ঐই গীতার জ্ঞান
কাকে দিয়েছিল?
উ:পান্ডু পুত্র অর্জুনকে।
১০.কত বছর আগে অর্জুন এই জ্ঞান লাভ করে?
উ:এখন থেকে প্রায় ৫,২০০ বছর আগে।
১১.মহাভারতের কোন অংশে এই গীতার
জ্ঞান আছে?
উ:মহাভারতের ভীষ্মপর্বের ২৫-৪২ অধ্যায়ের।
১২.গীতাকে শপ্তশতী বলা হয় কেন?
উ:গীতায় ৭০০ শ্লোক আছে তাই।
১৩.গীতায় কয়টি শ্লোক আছে?
উ:শ্লোক সংখ্যা ৭০০ টি।
১৪.গীতায় কয়টি অধ্যায় অাছে?
উ: অধ্যায় সংখ্যা ১৮ টি
১৫.গীতার কয়টি নাম রয়েছে?
উ:১৮টি ১.গঙ্গা ২.গীতা ৩.সাবিত্রী ৪.সীতা
৫.সত্যা ৬.পতিব্রতা ৭.ব্রহ্মবিদ্যা
৮.ব্রহ্মাবলী ৯.ত্রিসন্ধ্যা ১০.মুক্তিগেহিনী
১১.অর্ধমাত্রা ১২.চিতানন্দা ১৩.ভবগ্নী
১৪.ভ্রান্তিনাশিনী ১৫.বেদত্রয়ী ১৬.পরানন্দা
১৭.তত্ত্বার্থ ১৮জ্ঞানমঞ্জুরী
১৬.গীতায় কে কয়টি শ্লোক বলেছিল?
উ:ধৃতরাষ্ট ১টি,সঞ্জয় ৪০টি,অর্জুন
৮৫টি,শ্রীকৃষ্ণ ৫৭৪.
১৭.গীতা কোন ছন্দে রচিত?
উ:অনুষ্টুপ ছন্দে রচিত ,তবে কিছু শ্লোক
ত্রিষ্টুপ ছন্দে রচিত।
১৮.অনুষ্টুপ ও ত্রিষ্টুপ শ্লোক সংখ্যা কত?
উ:অনুষ্টু শ্লোক সংখ্যা ৬৪৫টি,ত্রিষ্টুপশ্লোক
সংখ্যা ৫৫টি।
১৯.অনুষ্টুপ ও ত্রিষ্টুপ ছন্দ কত অক্ষর বিশিষ্ট?
উ:অনুষ্টুপ ছন্দের প্রতিটি শ্লোক ৩২ অক্ষর
বিশিষ্ট,ত্রিষ্টুপ ছন্দের প্রতিটি শ্লোক ৪৪
অক্ষর বিশিষ্ট
২০.গীতায় অর্জুন ও শ্রীকৃষ্ণের কয়টি নাম
উল্লেখ করা হয়েছে?
উ:অার্জুনের ২০টি নাম ও শকৃষ্ণের ৩৩টি নাম।
২১.গীতার ১-৬ অধ্যায়কে কি বলে?
উ:কর্ম ষটক
২২.গীতার ৭-১২ অধ্যায়বে কি বলে?
উ:ভক্তি ষটক।
২৩.গীতার ১৩-১৮ অধ্যায়কে কি বলে?
উ: জ্ঞান ষটক।
২৪.শ্রীকৃষ্ণ এই গীতার জ্ঞান কত দিন
দিয়েছিল?
উ:যুদ্ধের মাঝখানে ১৮ দিনে।
২৫.শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে এই জ্ঞান কত মিনিটে
প্রদান করেছিল?
উ: মাত্র ৪০ মিনিটে।
২৬.কোন গ্রন্থকে পঞ্চম বেদ বলা হয়?
উ:শ্রীমদ্ভগবদ গীতা।
২৭.কোন অধ্যায়কে গীতার সারসংক্ষেপ বলা
হয়?
উ:২য় অধ্যায়কে।
২৮.কোন গ্রন্থকে সকল ধর্মীয় গ্রন্থের সার
সংক্ষেপ বলা হয়?
উ:গীতা।
২৯.মানুষের সকল পাপ কিভাবে নষ্ট হয়?
উ:গীতা পড়ে ও গীতার জ্ঞান কাজে
লাগিয়ে।
৩০.শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে কিভাবে পূজা করতে
বলেছেন?
উ:ভক্তি সহকারে পত্র,পুষ্প,ফল,জল অর্পনের
মাধ্যমে।৯/২৬
৩১.অর্জুন কখন বুঝতে পারলেন শ্রীকৃষ্ণ
ভগবান বা পরমেশ্বর ?
উ: ১১অধ্যায়ের বিশ্বরুপ-দর্শনযোগের
মাধ্যমে।
৩২.শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে কার উপাসনা ও আশ্রয়
নিতে বলেছে?
উ: ১২অধ্যায়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সাকার
উপাসনা ও আশ্রয় নিতে বলেছেন।
লেখার মাধ্যমে যদি কোন ভূল হয় সবাই ক্ষমা
সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
হরে কৃষ্ণ।
সংগৃহীতঃ

গীতার প্রনাম মন্ত্র-।অজ্ঞান তিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জন শলাকায় ।।চক্ষুরুন্মীলিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরুবে নমঃ ।।১।শ্রীচৈতন্য মনো...
11/10/2015

গীতার প্রনাম মন্ত্র-।
অজ্ঞান তিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জন শলাকায় ।।
চক্ষুরুন্মীলিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরুবে নমঃ ।।১।
শ্রীচৈতন্য মনোহভিষ্টং স্থাপিতং যেন ভূতলে ।।
সয়ং রূপঃ কদা মহ্যং দদাতি সপদান্তিকম্ ।।২।
বন্দেহহং শ্রীগুরুঃ শ্রীযুত পদকমলমংশ্রীগুরূন
বৈষ্ণবাশ্চঃ ।।
শ্রীরূপং সাগ্রজাতং সহগণরঘুনাথানিত্যং তং সজীবম্ ।৩।
স্বাদ্বৈতং সাবধুতং পরিজনসহিতং কৃষ্ণচৈতন্যদেবং ।।
শ্রীরাধাকৃষ্ণপদান সহগন ললীতা-শ্রীবিশাখান্বিতাংশ্চ
।।৪।
হে কৃষ্ণ করুনাসিন্ধো দীনবন্ধু জগত্পথে ।।
গোপেশ গোপিকাকান্ত রাধাকান্ত নমহস্তুতে ।।৫।
তপ্ত কাঞ্চনগৌরাঙ্গি রাধে বৃন্দবনেশ্বরি ।।
বৃষভানুসুতে দেবী প্রণমামী হরিপ্রিয়ে ।।৬।
বাঞ্ছাকল্পতরুভ্যশ্চ কৃপাসিন্ধুভ্য এব চ ।।
পতিতানাং পাবেনেভ্যো বৈষ্ণবেভ্যো নমো নমঃ
।।৭।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ ।।
শ্রী অদ্বৈত গদাধর শ্রীবসাদি গৌর ভক্তবৃন্দ ।।৮।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে ।।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা/চতুর্থঅধ্যায় – জ্ঞানযোগ< শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা←তৃতীয়অধ্যায় –কর্মযোগশ্রীমদ্ভগবদ্গীতাচতুর্থ অধ্যায় –জ্ঞানয...
01/09/2015

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা/চতুর্থ
অধ্যায় – জ্ঞানযোগ
< শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা
←তৃতীয়
অধ্যায় –
কর্মযোগ
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা
চতুর্থ অধ্যায় –
জ্ঞানযোগ
পঞ্চম অধ্যায়
–
সন্ন্যাসযোগ →
শ্রীভগবানুবাচ
ইমং বিবস্বতে যোগং
প্রোক্তবানহমব্যযম্।
বিবস্বান্মনবে প্রাহ
মনুরিক্ষ্বাকবেঽব্রবীৎ॥ ১
এবং পরংপরাপ্রাপ্তমিমং রাজর্ষযো
বিদুঃ।
স কালেনেহ মহতা যোগো নষ্টঃ
পরংতপ॥ ২
স এবাযং মযা তেঽদ্য যোগঃ প্রোক্তঃ
পুরাতনঃ।
ভক্তোঽসি মে সখা চেতি রহস্যং
হ্যেতদুত্তমম্॥ ৩
অর্জুন উবাচ
অপরং ভবতো জন্ম পরং জন্ম বিবস্বতঃ।
কথমেতদ্বিজানীযাং ত্বমাদৌ
প্রোক্তবানিতি॥ ৪
শ্রীভগবানুবাচ
বহূনি মে ব্যতীতানি জন্মানি তব
চার্জুন।
তান্যহং বেদ সর্বাণি ন ত্বং বেত্থ
পরংতপ॥ ৫
অজোঽপি সন্নব্যযাত্মা
ভূতানামীশ্বরোঽপি সন্ ।
প্রকৃতিং স্বামধিষ্ঠায
সংভবাম্যাত্মমাযযা॥ ৬
যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি
ভারত।
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং
সৃজাম্যহম্॥ ৭
পরিত্রাণায সাধূনাং বিনাশায চ
দুষ্কৃতাম্।
ধর্মসংস্থাপনার্থায সংভবামি যুগে
যুগে॥ ৮
জন্ম কর্ম চ মে দিব্যমেবং যো বেত্তি
তত্ত্বতঃ।
ত্যক্ত্বা দেহং পুনর্জন্ম নৈতি
মামেতি সোঽর্জুন॥ ৯
বীতরাগভযক্রোধা মন্মযা
মামুপাশ্রিতাঃ।
বহবো জ্ঞানতপসা পূতা
মদ্ভাবমাগতাঃ॥ ১০
যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব
ভজাম্যহম্ ।
মম বর্ত্মানুবর্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ
সর্বশঃ॥ ১১
কাঙ্ক্ষন্তঃ কর্মণাং সিদ্ধিং যজন্ত ইহ
দেবতাঃ।
ক্ষিপ্রং হি মানুষে লোকে
সিদ্ধির্ভবতি কর্মজা॥ ১২
চাতুর্বর্ণ্যং মযা সৃষ্টং
গুণকর্মবিভাগশঃ।
তস্য কর্তারমপি মাং
বিদ্ধ্যকর্তারমব্যযম্॥ ১৩
ন মাং কর্মাণি লিম্পন্তি ন মে
কর্মফলে স্পৃহা।
ইতি মাং যোঽভিজানাতি কর্মভির্ন
স বধ্যতে॥ ১৪
এবং জ্ঞাত্বা কৃতং কর্ম পূর্বৈরপি
মুমুক্ষুভিঃ।
কুরু কর্মৈব তস্মাত্ত্বং পূর্বৈঃ পূর্বতরং
কৃতম্॥ ১৫
কিং কর্ম কিমকর্মেতি কবযোঽপ্যত্র
মোহিতাঃ।
তত্তে কর্ম প্রবক্ষ্যামি যজ্জ্ঞাত্বা
মোক্ষ্যসেঽশুভাত্॥ ১৬
কর্মণো হ্যপি বোদ্ধব্যং বোদ্ধব্যং চ
বিকর্মণঃ।
অকর্মণশ্চ বোদ্ধব্যং গহনা কর্মণো
গতিঃ॥ ১৭
কর্মণ্যকর্ম যঃ পশ্যেদকর্মণি চ কর্ম যঃ।
স বুদ্ধিমান্মনুষ্যেষু স যুক্তঃ
কৃত্স্নকর্মকৃত্॥ ১৮
যস্য সর্বে সমারম্ভাঃ
কামসংকল্পবর্জিতাঃ।
জ্ঞানাগ্নিদগ্ধকর্মাণং তমাহুঃ
পণ্ডিতং বুধাঃ॥ ১৯
ত্যক্ত্বা কর্মফলাসঙ্গং নিত্যতৃপ্তো
নিরাশ্রযঃ।
কর্মণ্যভিপ্রবৃত্তোঽপি নৈব
কিংচিত্করোতি সঃ ॥ ২০
নিরাশীর্যতচিত্তাত্মা
ত্যক্তসর্বপরিগ্রহঃ।
শারীরং কেবলং কর্ম কুর্বন্নাপ্নোতি
কিল্বিষম্॥ ২১
যদৃচ্ছালাভসংতুষ্টো দ্বন্দ্বাতীতো
বিমত্সরঃ।
সমঃ সিদ্ধাবসিদ্ধৌ চ কৃত্বাপি ন
নিবধ্যতে॥ ২২
গতসঙ্গস্য মুক্তস্য
জ্ঞানাবস্থিতচেতসঃ।
যজ্ঞাযাচরতঃ কর্ম সমগ্রং
প্রবিলীযতে॥ ২৩
ব্রহ্মার্পণং ব্রহ্ম হবির্ব্রহ্মাগ্নৌ
ব্রহ্মণা হুতম্।
ব্রহ্মৈব তেন গন্তব্যং
ব্রহ্মকর্মসমাধিনা॥ ২৪
দৈবমেবাপরে যজ্ঞং যোগিনঃ
পর্যুপাসতে।
ব্রহ্মাগ্নাবপরে যজ্ঞং
যজ্ঞেনৈবোপজুহ্বতি॥ ২৫
শ্রোত্রাদীনীন্দ্রিযাণ্যন্যে
সংযমাগ্নিষু জুহ্বতি।
শব্দাদীন্বিষযানন্য ইন্দ্রিযাগ্নিষু
জুহ্বতি॥ ২৬
সর্বাণীন্দ্রিযকর্মাণি প্রাণকর্মাণি
চাপরে।
আত্মসংযমযোগাগ্নৌ জুহ্বতি
জ্ঞানদীপিতে॥ ২৭
দ্রব্যযজ্ঞাস্তপোযজ্ঞা
যোগযজ্ঞাস্তথাপরে।
স্বাধ্যাযজ্ঞানযজ্ঞাশ্চ যতযঃ
সংশিতব্রতাঃ॥ ২৮
অপানে জুহ্বতি প্রাণং প্রাণেঽপানং
তথাপরে।
প্রাণাপানগতী রুদ্ধ্বা
প্রাণাযামপরাযণাঃ॥ ২৯
অপরে নিযতাহারাঃ প্রাণান্প্রাণেষু
জুহ্বতি।
সর্বেঽপ্যেতে যজ্ঞবিদো
যজ্ঞক্ষপিতকল্মষাঃ॥ ৩০
যজ্ঞশিষ্টামৃতভুজো যান্তি ব্রহ্ম
সনাতনম্।
নাযং লোকোঽস্ত্যযজ্ঞস্য কুতোঽন্যঃ
কুরুসত্তম ॥ ৩১
এবং বহুবিধা যজ্ঞা বিততা ব্রহ্মণো
মুখে।
কর্মজান্বিদ্ধি তান্সর্বানেবং
জ্ঞাত্বা বিমোক্ষ্যসে॥ ৩২
শ্রেযান্দ্রব্যমযাদ্যজ্ঞাজ্জ্ঞানযজ্ঞঃ
পরংতপ।
সর্বং কর্মাখিলং পার্থ জ্ঞানে
পরিসমাপ্যতে॥ ৩৩
তদ্বিদ্ধি প্রণিপাতেন পরিপ্রশ্নেন
সেবযা।
উপদেক্ষ্যন্তি তে জ্ঞানং
জ্ঞানিনস্তত্ত্বদর্শিনঃ॥ ৩৪
যজ্জ্ঞাত্বা ন পুনর্মোহমেবং যাস্যসি
পাণ্ডব।
যেন ভূতান্যশেষেণ দ্রক্ষ্যস্যাত্মন্যথো
মযি॥ ৩৫
অপি চেদসি পাপেভ্যঃ সর্বেভ্যঃ
পাপকৃত্তমঃ।
সর্বং জ্ঞানপ্লবেনৈব বৃজিনং
সংতরিষ্যসি॥ ৩৬
যথৈধাংসি
সমিদ্ধোঽগ্নির্ভস্মসাত্কুরুতেঽর্জুন।
জ্ঞানাগ্নিঃ সর্বকর্মাণি
ভস্মসাত্কুরুতে তথা॥ ৩৭
ন হি জ্ঞানেন সদৃশং পবিত্রমিহ
বিদ্যতে।
তত্স্বযং যোগসংসিদ্ধঃ কালেনাত্মনি
বিন্দতি ॥ ৩৮
শ্রদ্ধাবাঁল্লভতে জ্ঞানং তত্পরঃ
সংযতেন্দ্রিযঃ।
জ্ঞানং লব্ধ্বা পরাং
শান্তিমচিরেণাধিগচ্ছতি॥ ৩৯
অজ্ঞশ্চাশ্রদ্দধানশ্চ সংশযাত্মা
বিনশ্যতি।
নাযং লোকোঽস্তি ন পরো ন সুখং
সংশযাত্মনঃ॥ ৪০
যোগসংন্যস্তকর্মাণং
জ্ঞানসংছিন্নসংশযম্।
আত্মবন্তং ন কর্মাণি নিবধ্নন্তি
ধনংজয॥ ৪১
তস্মাদজ্ঞানসংভূতং হৃত্স্থং
জ্ঞানাসিনাত্মনঃ।
ছিত্ত্বৈনং সংশযং
যোগমাতিষ্ঠোত্তিষ্ঠ ভারত॥ ৪২

23/08/2015

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা/তৃতীয়
অধ্যায় – কর্মযোগ
< শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা
←তৃতীয়
অধ্যায় –
কর্মযোগ
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা
দ্বিতীয় অধ্যায় –
সাংখ্যযোগ
চতুর্থ অধ্যায়
–
জ্ঞানযোগ →
অর্জুন উবাচ
জ্যাযসী চেত্কর্মণস্তে মতা বুদ্ধির্জনার্দন।
তত্কিং কর্মণি ঘোরে মাং নিযোজযসি কেশব॥ ১
ব্যামিশ্রেণেব বাক্যেন বুদ্ধিং মোহযসীব
মে।
তদেকং বদ নিশ্চিত্য যেন
শ্রেযোঽহমাপ্নুযাম্॥ ২
শ্রীভগবানুবাচ
লোকেঽস্মিন্দ্বিবিধা নিষ্ঠা পুরা প্রোক্তা
মযানঘ।
জ্ঞানযোগেন সাংখ্যানাং কর্মযোগেন
যোগিনাম্॥ ৩
ন কর্মণামনারম্ভান্নৈষ্কর্ম্যং পুরুষোঽশ্নুতে।
ন চ সংন্যসনাদেব সিদ্ধিং সমধিগচ্ছতি॥ ৪
ন হি কশ্চিত্ক্ষণমপি জাতু তিষ্ঠত্যকর্মকৃত্।
কার্যতে হ্যবশঃ কর্ম সর্বঃ প্রকৃতিজৈর্গুণৈঃ॥ ৫
কর্মেন্দ্রিযাণি সংযম্য য আস্তে মনসা স্মরন্।
ইন্দ্রিযার্থান্বিমূঢাত্মা মিথ্যাচারঃ স উচ্যতে॥ ৬
যস্ত্বিন্দ্রিযাণি মনসা নিযম্যারভতেঽর্জুন।
কর্মেন্দ্রিযৈঃ কর্মযোগমসক্তঃ স বিশিষ্যতে॥ ৭
নিযতং কুরু কর্ম ত্বং কর্ম জ্যাযো হ্যকর্মণঃ।
শরীরযাত্রাপি চ তে ন প্রসিদ্ধ্যেদকর্মণঃ॥ ৮
যজ্ঞার্থাত্কর্মণোঽন্যত্র লোকোঽযং
কর্মবন্ধনঃ।
তদর্থং কর্ম কৌন্তেয মুক্তসঙ্গঃ সমাচর॥ ৯
সহযজ্ঞাঃ প্রজাঃ সৃষ্ট্বা পুরোবাচ প্রজাপতিঃ।
অনেন প্রসবিষ্যধ্বমেষ
বোঽস্ত্বিষ্টকামধুক্॥ ১০
দেবান্ভাবযতানেন তে দেবা ভাবযন্তু বঃ।
পরস্পরং ভাবযন্তঃ শ্রেযঃ পরমবাপ্স্যথ॥ ১১
ইষ্টান্ভোগান্হি বো দেবা দাস্যন্তে
যজ্ঞভাবিতাঃ।
তৈর্দত্তানপ্রদাযৈভ্যো যো ভুঙ্ক্তে স্তেন
এব সঃ॥ ১২
যজ্ঞশিষ্টাশিনঃ সন্তো মুচ্যন্তে সর্বকিল্বিষৈঃ।
ভুঞ্জতে তে ত্বঘং পাপা যে পচন্ত্যাত্মকারণাত্॥
১৩
অন্নাদ্ভবন্তি ভূতানি পর্জন্যাদন্নসংভবঃ।
যজ্ঞাদ্ভবতি পর্জন্যো যজ্ঞঃ কর্মসমুদ্ভবঃ॥ ১৪
কর্ম ব্রহ্মোদ্ভবং বিদ্ধি ব্রহ্মাক্ষরসমুদ্ভবম্।
তস্মাত্সর্বগতং ব্রহ্ম নিত্যং যজ্ঞে প্রতিষ্ঠিতম্॥
১৫
এবং প্রবর্তিতং চক্রং নানুবর্তযতীহ যঃ।
অঘাযুরিন্দ্রিযারামো মোঘং পার্থ স জীবতি॥ ১৬
যস্ত্বাত্মরতিরেব স্যাদাত্মতৃপ্তশ্চ মানবঃ।
আত্মন্যেব চ সংতুষ্টস্তস্য কার্যং ন বিদ্যতে॥ ১৭
নৈব তস্য কৃতেনার্থো নাকৃতেনেহ কশ্চন।
ন চাস্য সর্বভূতেষু কশ্চিদর্থব্যপাশ্রযঃ॥ ১৮
তস্মাদসক্তঃ সততং কার্যং কর্ম সমাচর।
অসক্তো হ্যাচরন্কর্ম পরমাপ্নোতি পূরুষঃ॥ ১৯
কর্মণৈব হি সংসিদ্ধিমাস্থিতা জনকাদযঃ।
লোকসংগ্রহমেবাপি সংপশ্যন্কর্তুমর্হসি॥ ২০
যদ্যদাচরতি শ্রেষ্ঠস্তত্তদেবেতরো জনঃ।
স যত্প্রমাণং কুরুতে লোকস্তদনুবর্ততে॥ ২১
ন মে পার্থাস্তি কর্তব্যং ত্রিষু লোকেষু কিংচন।
নানবাপ্তমবাপ্তব্যং বর্ত এব চ কর্মণি॥ ২২
যদি হ্যহং ন বর্তেযং জাতু কর্মণ্যতন্দ্রিতঃ।
মম বর্ত্মানুবর্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্বশঃ॥ ২৩
উত্সীদেযুরিমে লোকা ন কুর্যাং কর্ম চেদহম্।
সংকরস্য চ কর্তা স্যামুপহন্যামিমাঃ প্রজাঃ॥ ২৪
সক্তাঃ কর্মণ্যবিদ্বাংসো যথা কুর্বন্তি ভারত।
কুর্যাদ্বিদ্বাংস্তথাসক্তশ্চিকীর্ষুর্লোকসংগ্রহম্॥
২৫
ন বুদ্ধিভেদং জনযেদজ্ঞানাং কর্মসঙ্গিনাম্।
জোষযেত্সর্বকর্মাণি বিদ্বান্যুক্তঃ সমাচরন্॥ ২৬
প্রকৃতেঃ ক্রিযমাণানি গুণৈঃ কর্মাণি সর্বশঃ।
অহংকারবিমূঢাত্মা কর্তাহমিতি মন্যতে॥ ২৭
তত্ত্ববিত্তু মহাবাহো গুণকর্মবিভাগযোঃ।
গুণা গুণেষু বর্তন্ত ইতি মত্বা ন সজ্জতে॥ ২৮
প্রকৃতের্গুণসংমূঢাঃ সজ্জন্তে গুণকর্মসু।
তানকৃত্স্নবিদো মন্দান্কৃত্স্নবিন্ন বিচালযেত্॥ ২৯
মযি সর্বাণি কর্মাণি সংন্যস্যাধ্যাত্মচেতসা।
নিরাশীর্নির্মমো ভূত্বা যুধ্যস্ব বিগতজ্বরঃ॥ ৩০
যে মে মতমিদং নিত্যমনুতিষ্ঠন্তি মানবাঃ।
শ্রদ্ধাবন্তোঽনসূযন্তো মুচ্যন্তে তেঽপি
কর্মভিঃ॥ ৩১
যে ত্বেতদভ্যসূযন্তো নানুতিষ্ঠন্তি মে মতম্।
সর্বজ্ঞানবিমূঢাংস্তান্বিদ্ধি নষ্টানচেতসঃ॥ ৩২
সদৃশং চেষ্টতে স্বস্যাঃ প্রকৃতের্জ্ঞানবানপি।
প্রকৃতিং যান্তি ভূতানি নিগ্রহঃ কিং করিষ্যতি॥ ৩৩
ইন্দ্রিযস্যেন্দ্রিযস্যার্থে রাগদ্বেষৌ ব্যবস্থিতৌ।
তযোর্ন বশমাগচ্ছেত্তৌ হ্যস্য পরিপন্থিনৌ॥ ৩৪
শ্রেযান্স্বধর্মো বিগুণঃ পরধর্মাত্স্বনুষ্ঠিতাত্।
স্বধর্মে নিধনং শ্রেযঃ পরধর্মো ভযাবহঃ॥ ৩৫
অর্জুন উবাচ
অথ কেন প্রযুক্তোঽযং পাপং চরতি পূরুষঃ।
অনিচ্ছন্নপি বার্ষ্ণেয বলাদিব নিযোজিতঃ॥ ৩৬
শ্রীভগবানুবাচ
কাম এষ ক্রোধ এষ রজোগুণসমুদ্ভবঃ।
মহাশনো মহাপাপ্মা বিদ্ধ্যেনমিহ বৈরিণম্॥ ৩৭
ধূমেনাব্রিযতে বহ্নির্যথাদর্শো মলেন চ।
যথোল্বেনাবৃতো গর্ভস্তথা তেনেদমাবৃতম্॥
৩৮
আবৃতং জ্ঞানমেতেন জ্ঞানিনো নিত্যবৈরিণা।
কামরূপেণ কৌন্তেয দুষ্পূরেণানলেন চ॥ ৩৯
ইন্দ্রিযাণি মনো বুদ্ধিরস্যাধিষ্ঠানমুচ্যতে।
এতৈর্বিমোহযত্যেষ জ্ঞানমাবৃত্য দেহিনম্॥ ৪০
তস্মাত্ত্বমিন্দ্রিযাণ্যাদৌ নিযম্য ভরতর্ষভ।
পাপ্মানং প্রজহি হ্যেনং জ্ঞানবিজ্ঞাননাশনম্॥ ৪১
ইন্দ্রিযাণি পরাণ্যাহুরিন্দ্রিযেভ্যঃ পরং মনঃ।
মনসস্তু পরা বুদ্ধির্যো বুদ্ধেঃ পরতস্তু সঃ॥ ৪২
এবং বুদ্ধেঃ পরং বুদ্ধ্বা সংস্তভ্যাত্মানমাত্মনা।
জহি শত্রুং মহাবাহো কামরূপং দুরাসদম্॥ ৪৩

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা/দ্বিতীয়অধ্যায় – সাংখ্যযোগ< শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা←প্রথম অধ্যায় –অর্জুনবিষাদযোগশ্রীমদ্ভগবদ্গীতাপ্রথম অধ্যায...
22/08/2015

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা/দ্বিতীয়
অধ্যায় – সাংখ্যযোগ
< শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা
←প্রথম অধ্যায় –
অর্জুনবিষাদযোগ
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা
প্রথম অধ্যায় –
সাংখ্যযোগ
তৃতীয়
অধ্যায় –
তৃতীয়
অধ্যায় –
কর্মযোগ →
সঞ্জয় উবাচ
তং তথা কৃপয়াবিষ্টমশ্রুপূর্ণাকুলেক্ষণম্।
বিষীদন্তমিদং বাক্যমুবাচ মধুসূদনঃ।। ১
শ্রীভগবান্ উবাচ
কুতস্ত্বা কশ্মলমিদং বিষমে সমুপস্থিতম্।
অনার্যজুষ্টমস্বর্গ্যমকীর্তিকরমর্জুন।। ২
ক্লৈব্য মাম্ম গমঃ পার্থ নৈতৎ ত্বয্যুপপদ্ম্যতে।
ক্ষুদ্রং হৃদয়দৌর্বল্যং ত্যক্ত্বোত্তিষ্ঠ পরন্তপ।। ৩
অর্জুন উবাচ
কথং ভীষ্মমহং সংখ্যো দ্রোণঞ্চ মধুসূদন
ইষ্যুভিঃ প্রতিযোৎস্যামি পূজার্হাবরিসূদন।। ৪
গুরূনহত্বা হি মহানুভাবন্
শ্রেয়ো ভোক্তুং ভৈক্ষ্যমগীহ লোকে।
হত্বার্থকামাংস্তু গুরূনিহৈব
ভুঞ্জীয় ভোগান্ রুধির-প্রদিগ্ধান্।। ৫
ন চৈতদ্বিদ্মঃ কতরন্নো গরীরো
যদ্বা জয়েম যদি না নো জয়েয়ুঃ।
যানেব হত্বা ন জিজীবিষাম-
স্তেহবস্থিতাঃ প্রমুখে ধার্তরাস্ট্রাঃ।। ৬
কার্পণ্যদোষোপহতস্বভাবঃ
পৃচ্ছামি তাং ধর্মসংমূঢ়চেতাঃ।
যচ্ছ্রেয়ঃ স্যান্নিশ্চিতং ব্রৃহি তম্মে
শিষ্যস্তেহহং শাধি মাং ত্বাং প্রপন্নম্।। ৭
ন হি প্রপশ্যামি মমাপনুস্যাৎ
যচ্ছোকমুচ্ছোষ্ণমিন্দ্রিয়াণাম্।
অবাপ্য ভূমাসবপত্নমৃগ্ধং
রাজ্যং সুরাণামপি চাধিপত্যম্।। ৮
সঞ্জয় উবাচ
এবমুক্ত্বা হৃষীকেশং গুড়াকেশঃ পরন্তপঃ।
ন যোৎস্য ইতি গোবিন্দমুক্ত্বা তূষ্ণীং বভূব হ।।
৯
তমুবাচ হৃষীকেশঃ প্রহসন্নিব ভারত।
সেনয়োরুভয়োর্মধ্যে'বিসীদন্তমিদং বচঃ।। ১০
শ্রীভগবাচ উবাচ
অশোচ্যানবশোচত্ত্বং প্রজ্জাবাদাশ্চে ছাষসে।
গতাসূনগতাসূংশ্চ নানুশোচস্যি পন্ডিতাঃ।। ১১
ন ত্বেবাহং জাতু নাসং ন ত্বং নেমে জনাধিপাঃ।
ন চৈব ন ভবিষ্যামঃ সর্বে বয়মতঃপরম্।। ১২
দেহিনোহস্মিন্ যধা দেহে কৈমারং যৌবনং জরা।
তথা দেহান্ত্রপ্রপ্তির্ধীরস্তত্র ন মুহ্যতি।। ১৩
মাত্রাস্পর্শাত্তু কৌন্তয় শীতোষ্ণসুখদুঃখদাঃ।
আগমাপায়িনোহনিত্যাস্তাংস্তিতিক্ষস্ব ভারত।। ১৪
যং হি ন ব্যখয়ন্ত্যেতে পুরুষং পুরুষর্ষভ।
সমদুঃখসুখং ধীরং সোহম্রুতত্বায় কল্পতে।। ১৫
নাসতো বিদ্যতে ভাবো নাভাবো বিদ্যতে সতঃ।
উভয়োরপি দৃষ্টোহস্তস্ত্বনয়োস্তত্ত্বদশিভিঃ।।
১৬
অবিনাশি তু তদ্বিদ্ধি যেন সর্বমিদং ততম্।
বিনাশমব্যয়স্যাস্য ন কশ্চিৎ কর্তুনর্হতি।। ১৭
অন্তবস্তু ইমে দেহা নিত্যস্যোক্তাঃ শরীরিণঃ।
অনাশিনোহপ্রেমেয়স্য তস্মাদ্ যুধ্যস্ব ভারত।। ১৮
য এনং বেত্তি হন্তারং যশৈনং মনস্যতে হতম্।
উভৌ নৌ ন বিজানীতো নায়ং হন্তি ন হস্যতে।। ১৯
ন জায়তে ম্রিয়তে বআ কদাচিৎ
নায়ং ভূত্বা ভবিতা বা ন ভূয়।
অজো নিত্যঃ শাশ্বতোহয়ং পুরাণ্যে
ন হন্যতে হস্যমানে শরীরে।। ২০
বেসাবিনাশিনং নিত্য য এনমজমব্য্যম্।
কথং স পুরুষঃ পার্থ কং ঘাতয়তি হন্তি কম্।। ২১
বাসংসি জীর্ণানি যথা বিহায় নবানি গৃহ্যুতি নরোহপরাণি।
তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণান্যন্যানি সংয্যাতি নবানি
দেহী।। ২২
নৈনং ছিন্দন্তি শস্ত্রাণি নৈন্য দহতি পাবকঃ।
ন চৈনং ক্লেদয়স্ত্যাপো ন শোষয়তি মারুতঃ।। ২৩
অচ্ছেদ্যোহয়মদাহ্যাহয়মক্লেদ্যোহশোষ্য
এব চ।
নিত্যঃ সর্বগতঃ স্থাণুরচলোহয়ং সনাতনঃ।
কাব্যক্তোহয়মচিত্যহত্তমবিকার্যোহয়মুচ্যতে।।
২৪
তস্মাদেবং বিদিত্বৈনং নানুশোচিতুমর্হসি। ২৫
অথ চৈনং নিত্যজাতং নিত্যং বা মন্যসে মৃতম্।
তথাপি কং মহাবাহো নৈনং শোচিতুমর্হসি।। ২৬
জাতত্ত হি ধ্রুবো মৃত্যুর্ধ্রুবং জন্ম মৃতস্য চ।
তস্মাদপরিহার্যেহর্থে ন ত্বং শোচিতুমর্হসি।। ২৭
অব্যক্তাদীনি ভূতানি ব্যক্তমধ্যানি ভারত।
অব্যক্তনিধনাষ্যব তত্র কা পবিবেদনা।। ২৮
আশর্যবৎ পশ্যতি কশ্চিদেব-
ম্যশ্চর্যবদ্ বদতি তথৈব চাস্যঃ।
আশ্চ্ররযবচ্চৈনমন্যঃ শৃনোতি
শ্রুত্বাপ্যেনং বেদ ন চৈব কশ্চিৎ।। ২৯
দেহী নিত্যমবধ্যোহয়ং দেহে সর্বস্য ভারত।
তস্মাং সর্বাণি ভুতানি ন ত্বং শোচিতুমর্হসি।। ৩০
স্বধর্মমপি চারেক্ষ্য ন বিকম্পিতুমহসি।
ধর্ম্যাগ্ধি যুদ্ধাচ্ছ্রেয়োহস্যং ক্ষত্রিয়স্য ন
বিদ্যতে।। ৩১
যদুচ্ছয়া চোপপন্নং স্বররগদ্বারমপাত্ত্বতম্।
সুখিনঃ ক্ষত্রিয়াঃ পার্থ লভন্তে যুদ্ধনীদূশজ্।। ৩২
অথ চেত্ত্বমিমং ধর্ম্যং সংগ্রামং ন করিষ্যসি।
ততঃ স্বধর্মং কীতিং চ হিত্বা পাপমবাপ্স্যসি।। ৩৩
অকীতিঞ্চাপি ভূতানি কথাবিষ্যন্তি তেহব্যতয়ম্।
স্নতাবিতস্য চাকীতির্মরণাদতিরিচ্যতে।। ৩৪
ভয়াদ্রণাদুপরতং মংস্যন্তে ত্বাং মহারথাঃ।
যেধাঞ্চ ত্বং বহুমতো ভূত্বা যাস্যসি লাঘবম্।। ৩৫
সঞ্জয় বলিলেন, তখন মধুসূদন কৃপাবিষ্ট
অশুরুপূর্ণলোচন বিষয়বস্তু অর্জুনকে এই কথা
বলিলেন। ১
শ্রীভগবান্ বলিলেন, হে অর্জুন, এই সঙ্কট
সময়ে অনার্যজনোচিত, স্বর্গহানিকত,
অকীর্তিকর তোমার এই মোগ কোথা হইতে
উপস্থিত হইল? ২
হে অর্জুন, কারত হইও না। এইরূপ পৌরুষহীনতা
তোমাতে শোভা পায় না। হে পরন্তপ, তুচ্ছ
হৃদয়ের দুর্বলতা ত্যাগ করিয়া (যুদ্ধার্থে) উথিত হও।
৩
অর্জুন বলিলেন, হে শত্রুমর্দন মধুসূদন, আমি
যুদ্ধকালে পূজনীয় ভীষ্ম ও দ্রোণের সহিত
কিরূপে বাণের দ্বারা প্রতিযুদ্ধ করিব? (অর্থ্যাৎ তাঁহারা
আমার শরীরে বাণ নিক্ষেপ করিলেও আমি
গুরুজনের অঙ্গে অস্ত্র নিক্ষেপ করিতে পারিব
না।) ৪
মহানুভব গুরুজনদিগকে বধ না করিয়া ইহলোকে
ভিক্ষানুভোজন করাও শ্রেয়। কেননা
গুরুজনদিগকে বধ করিয়া ইহলোকে যে অর্থকাম
ভোগ করিব তাহা ত (গুরুজনের) রুধির-লিপ্ত। ৫
আমরা জয়ী হই অথবা আমাদিগকে ইহারা জয় করুক,
এই উভয়ের মধ্যে কোনটি শ্রেয়ন্তর তাহা
বুঝিতে পারিতেছি না- যাহাদিগকে বধ করিয়া বাঁচিয়া
থাকিতে চাহি না, সেই ধৃতরাষ্ট্রপ্রত্রগণ সম্মুখে
অবস্থিত। ৬
(গুরুজনদিগকে বধ করিয়া কিরূপে প্রাণ ধারণ করিব
এইরূপ চিন্তাপ্রযুক্ত) চিত্তের দীনতায় আমি
অভিভূত হইয়াছি; প্রকৃত ধর্ম কি এ সম্বন্ধে আমার
চিত্ত বিমূঢ় হইয়াছে; যাহা আমার ভাল হয়, আমাকে
নিশ্চিত করিয়া তাহা বল, আমি তোমার শিষ্য, তোমার
শরণ্যপন্ন, আমাকে উপদেশ দাও। (আমাকে আর
তুমি সখা বলিয়া মনে করিও না, আমি তোমার শিষ্য)। ৭
পৃথিবীতে নিস্কটক সমৃদ্ধ রাজ্য এবং
সুরলোকের আধিপত্য পাইলেও যে শোক
আমার ইন্দ্রিয়গণকে বিশোষণ করিবে তাহা কিসে
যাইবে, আমি দেখিতেছি না। ৮
সঞ্জয় কহিলেন- শত্রুতাপন অর্জুন হৃষীকেশ
গোবিন্দকে এইরূপ বলিয়া 'আমি যুদ্ধ করিব না' এই
কথা কহিতা তূষ্ণীম্ভাব অবলম্বন করিলেন (নীবর
রহিলেন)। ৯
হে ভারত (ধৃতরাস্ট্র), হৃষীকেশ উভয় সেনার
মধ্যে বিষদপ্রাপ্ত অর্জুঙ্কে হাসিয়া এই কথা
বলিলেন। ১০
শ্রীভগবান বলিলেন, যাহাদিগের জন্য শোক
করার কোনো কারণ নাই তুমি তাহাদিগের জন্য
শোক করিতেছ, আবার পন্ডিতের ন্যায় কথা
বলিতেছ। কিন্তু যাঁহারা প্রকৃত তত্ত্বজ্ঞানী তাঁহারা
কি মৃত কি জীবিত, কাহারও জন্য শোক করেন না।
১১
আমি পূর্বে ছিলাম না, বা তুমি ছিলে না বা এই নৃপতিগণ
ছিলেন না, এমন নহে (অর্থ্যাৎ সকলেই ছিলাম)।
আর, পরে আমরা সকলে থাকিব না তাহাও নহে
(অর্থ্যাৎ পরেও সকলে থাকিব)। ১২
জীবের এই দেহে বাল্য, যৌবন ও বার্ধক্য
কালের গতিতে উপস্থিত হয়। তেমনি কালের
গতিতে দেহান্তর-প্রাপ্তিও হয়। জ্ঞানিগণ তাহাতে
মোহগ্রস্ত হন না। ১৩
হে কৈন্তেয়, ইন্দ্রিয়বৃত্তির সহিত বিষয়াদির
সংযোগেই শীতোষ্ণাদি সুখদুঃখ প্রদান করে।
সেগুলির একবার উৎপত্তি হয়, আবার বিনাশ হয়, সুতরাং
এগুলি অনিত্য। অতএব সে সকল সহ্য কর। ১৪
হে পুরুষশ্রেষ্ঠ, যে স্থিরবুদ্ধি ব্যক্তি এই স্কল
বিষয়স্পর্শ-জনিত সুখদুঃখ সমভাবে গ্রহণ করেন,
উহাতে বিচলিত হয় না, তিনি অমৃতত্ব লাভে সমর্থ হন।
১৫
অসৎ বস্তুর ভাব (সত্ত্বা, স্থায়িত্ত্ব) নাই, সৎসবস্তুর
অভাব (নাশ) নাই; তত্ত্বদর্শিগণ এই সদসৎ উভয়েরই
চরম সর্শন করিয়াছেন (স্বরূপ উবলব্ধি করিয়াছেন)।
১৬
যিনি এই সকল (দৃশ্য জগৎ) ব্যাপিয়া আছেন, তাঁহাকে
অবিনাশী জানিও। কেহই এই অব্যয় স্বরূপের
বিনাশ করিতে পারে না। ১৭
দেহাশ্রিত আত্মার এই সকল হেহ নশ্বর বলিতা
উক্ত হইয়াছে। (কিন্তু) আত্মা নিত্য, অবিনাশী,
অপ্রেময় (স্বপ্রকাশ)। অতএব, হে অর্জুন, যুদ্ধ
কর (আত্মার অবিনাশিতা ও দেহাদি নশ্বরত্ত্ব স্মরণ
করিয়া কারততা ত্যাগ কর। স্বধর্ম পালন কর)। ১৮
যে আত্মাকে হন্তা বলিয়া জানে এবং যে উহাকে
হত বলিয়া মনে কঅরে, তাহারা উভয়েই
আত্মতত্ত্ব জানে না। ইনি হত্যা করেন না, হতও হন
না। ১৯
এই আত্মা কখনও জন্মেন না বা মনে না। ইনি
অন্যান্য জাত বস্তুর ন্যায় জন্মিয়া অস্তিত্ত্ব লাভ
করেন না অর্থ্যাৎ ইনি সৎরূপে নিত্য বিদ্যমান। ইনি
জন্মরহিত, নিত্য, শাশ্বত, এবং পুরাণ; শরীর হত
হইলেও ইনি হত হন না। ২০
যিনি আত্মাকএ অবিনাশী, নিত্য, অজ, অব্যয় বলিয়া
জানেন, হে পার্থ, সে পুরুষ কি প্রকারে কাহাকে
হত্যা করেন বা করান? ২১
যেমন মনুষ্য জীর্ণ বস্ত্র পরিত্যাগ করিয়া নূতন
বস্ত্র গ্রণ করে, সেইরূপ আত্মা জীর্ণ শরীর
পরিত্যাগ করিয়া অন্য নূতন শরীর পরিগ্রহ করে। ২২
শস্ত্রসকল ইহাকে ছদন করিতে পারে না,
অগ্নিতে দহন করিতে পারে না, জলে ভিজাইতে
পারে না। ২৩
এই আত্মা অচ্ছেদ্য, অদাহ্য, , অক্লেদ্য,
অশোষ্য। ইনি নিত্য, সর্ব্ব্যাপী, স্থির, অচল,
সনাতন, অব্যক্ত, অচিন্তা, অবিকার্য বলিয়া কথিত হন।
২৪
অতএব আত্মাকে এই প্রকার জানিয়া তোমার
শোক করা উচিত নয়। ২৫
আর যদি তুমি মনে কর যে, আত্মা সর্বদা দেহের
সঙ্গে জন্মে এবং দেহের সঙ্গেই বিনষ্ট হয়,
তথাপি, হে মহাবাহো, তোমার শোক করা উচিত
নয়। ২৬
যে জন্মে তাহার মরণ নিশ্চিত, যে মরে তাহার
জন্ম নিশ্চিতল সুতরাং অবশ্যম্ভাবী বিষয়ে তোমার
শোক করা উচিত নয়। ২৭
হে ভারত (অর্জুন), জীবগণ আদিতে শব্যক্ত,
মধ্যে ব্যক্ত এবং বিনাশে অব্যক্ত থাকে।
তোমার শোক বিলাপ কি? ২৮
কেহ আত্মাকে আশ্চর্যবৎ কিছু বলিয়া বোধ
করেন, কেহ ইহাকে আশ্চর্যবৎ কিছু বলিয়া বর্ণনা
করেন, কেহ বা ইনি আশ্চর্যবৎ কিছু, এই প্রকার
কথাই শুনেন। কিন্তু শুনিয়াও কেহ ইহাকে জানিতে
পারেন না। ২৯
হে ভারত, জীবসকলের দেহে আত্মা সর্বদাই
অবধ্য, অতএব কোনো প্রানীর জন্যই
তোমার শোক করা উচিত নহে। ৩০
স্বধর্মের দিকে দৃষ্টি রাখিয়াও তোমার ভীত-
কমিত হওয়া নহে। ধর্ম্যযুদ্ধ অপেক্ষা ক্ষত্রিয়ের
পক্ষে শ্রেয়ঃ আর কিছু নাই। ৩১
হে পার্থ, এই যুদ্ধ আপনা হইতেই উপস্থিত
হইয়াছে, ইহা মুক্ত স্বররগদ্বার স্বরূপ। ভাগ্যবান্
ক্ষত্রিয়েরাই ঈদৃশ যুদ্ধ লাভ করিয়া থাকেন। ৩২
আর যদি তুমি ধর্ম্যযুদ্ধ না কর, তবে স্বধর্ম ও
কীর্তি ত্যাগ করিয়া তুমি পাপযুক্ত হইবে। ৩৩
আরও দেখ, সকল লোকে চিরকাল ট্মার
অকীর্তি ঘোষণা করিবে।সম্মানিত ব্যক্তির
পক্ষে অকীর্তি মরণ, অপেক্ষাও অধিক,
অর্থ্যাৎ অকীর্তি অপেক্ষা মরণও শ্রেয়ঃ। ৩৪
মহারথগণ মনে করিবেন, তুমি ভয়বশতঃ যুদ্ধে বিরত
হইয়েছ, (দয়াবশতঃ নহে)। সুতরাং যাঁহারা তোমাকে
বহু সম্মান করেন, তাঁহাদিগের নিকট তুমি লঘুতা প্রাপ্ত
হইবে। ৩৫
তোমার শত্রুরাও তোমার সামর্থ্যের নিন্দা করিয়া
অনেক অবচ্য কথা বলিবে, তাহা অপেক্ষা অধিক
দুঃখকর আর কি আছে? ৩৬
যুদ্ধে হত হইলেও স্বররগ পাইবে, জয়লাভ
করিলে পৃথিবী ভোগ করিবে, সুতরাং হে
কৌন্তেয়, যুদ্ধে কৃতনিশ্চয় হইয়া উত্থান কর। ৩৭
অতএব সুখদুঃখ, লাভ-অলাভ, জয়-পরাজয়, তুল্যজ্ঞান
করিয়া যুদ্ধার্থ উদ্যুক্ত হো। এইরূপ করিলে
পাপভাগী হইবে না। ৩৮
হে পার্থ, তোমাকে এতক্ষ্ণ সাংখ্যনিষ্ঠা-বিষয়ক
জ্ঞান উপদেশ দিলাম, এক্ষণ যোগবিষয়ক জ্ঞান
শ্রবণ কর (যাহা এক্ষণ বলিতেছি); এই জ্ঞান লাভ
করিলে কর্মবন্ধন ত্যাগ করিতে পারিবে। ৩৯
ইহাতে (নিস্কাম কর্মযোগে) আরম্ভ কর্ম
নিষ্ফল হয় না এবং (ত্রুটি-বিচ্যুতি-জনিত) পাপ বা বিস্যু হয়
না, এই ধর্মের অল্প আচরণও মহাভয় হইতে ত্রাণ
করে। ৪০
ইহাতে (এই নিষ্কাম কর্মযোগে) ব্যবসায়াত্মিকা
বুদ্ধি (নিষ্কাম ভাবে কর্ম করিয়াই ত্রাণ পাইব এইরূপ
নিশ্চয়াত্মিকা বুদ্ধি) একই হয় অর্থ্যাৎ একনিষ্ঠ থাকে,
নানাদিকে ধাবিত হয় না। কিন্তু অব্যবসায়ীদিগের
(অস্থিরচিত্ত সকাম ব্যক্তিগণের) বুদ্ধি বহুশাখাবিশিষ্ট
ও অনন্ত (সুতরাং নানাদিকে ধাবিত হয়)। ৪১
হে পার্থ, অল্পবুদ্ধিব্যক্তিগণ বেদের কর্মরহিত
স্বর্গফলাদি প্রকাশক প্রীতিকর বাক্যে অনুরক্ত,
তাহারা বলে, চতুক্ত কাম্য-কম্যকর্মত্মক ধর্ম ভিন্ন
আর কিছ ধর্ম নাই, তাহাদের চিত্ত কামনা-কলুষিত,
স্বররগই তাহাদের পরম পুরুষার্থ, তাহারা ভোগৈশ্বর্য
লাভের উপা-স্বরূপ বিবিধ ক্রিয়াকলাপের
প্রশসোসূচক আপতমনোরম বেদবাক্য বলিয়া
থাকে। এই সকল প্রবণ-রমণীয় বাক্যদ্বারা
অপহৃতচিত্ত, ভোগৈশ্বররযে আসক্ত
ব্যক্তিগণের কার্যাকার্য-নির্ণায়ক বুদ্ধি এই বিষয়ে
স্থির থাকিতে পারে না (ঈশ্বরে একনিষ্ঠ হয় না)।
৪২-৪৪
হে অর্জুন, বেদসমূহ ত্রৈগুণ্য-বিষয়ক, তুমি
নিস্ত্রৈগুণ্য হও- তুমি নির্দ্বচ্ছ, নিত্যসত্ত্বস্থ,
যোগ-ক্ষেমরহিত ও আত্মবান্ হও। ৪৫
ব্যাপীকুপতড়াগাদি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্রে জলাশয়ে যে
প্রয়োজন সিদ্ধ হয়, এই বিস্তীর্ণ মহাজলাশয়ে
সেই সমস্তই সিদ্ধ হয়; সেইরূপ বেদোক্ত
কাদ্যকর্মযমুহে যে ফল লাভ হয়, ব্রহ্মবেত্তা
ব্রহ্মনিষ্ঠ পুরুদেব সেই সমস্তই লাভ হয়। ৪৬
কর্মেই তোমার অধিকার, কর্ম্ফলে কখনও
তোমার অধিকার নাই। কর্ম্ফল যে তোমার
কর্ম্প্রবৃত্তি হেতু না হয়, কর্মত্যাগেও যে
তোমার প্রবৃত্তি না হয়। ৪৭
হে ধনঞ্জয়, যোগস্থ হইয়া, ফলাসক্তি বর্জুন
করিয়া, সিদ্ধি ও অসিদ্ধি তুল্যজ্ঞান করিয়া তুমি কর্ম
কর। এইরূপ সমত্ব-বুদ্ধিকেই যোগ কহে। ৪৮
হে ধনঞ্জয়, কেবল বাহ্যকর্ম বুদ্ধিযোগ
অপেক্ষা নিতান্তই নিকৃষ্ট, অতএব তুমি সমস্তবুদ্ধির
আশ্রয় লও; যাহারা ফলের উদ্ধেশ্যে কর্ম
করে, তাহারা দীন, কৃপার পাত্র। ৪৯
সমত্ববুদ্ধিযুক্ত নিষ্কাম কর্মী ইহলোকেই সূকৃত
দুষ্কৃত উভয়ই ত্যাগ করেন, সুতরাং তুমি যোগের
অনুষ্ঠান কর, কর্মে কৌশ্লই যোহ। ৫০
সমত্ত্ববুদ্ধিযক্ত জ্ঞানিগণ কর্ম করিলেও
কর্মজনিত ফলে আবদ্ধ হন না, সুতরাং তাঁহারা জন্মরূপ
বন্ধন অর্থাৎ সংসার-বন্ধন হইতে মুক্ত হইয়া
সর্বপ্রকার উপদ্রবরহিত বিষ্ণুপদ বা মোক্ষপদ
প্রাপ্ত হন। ৫১
যখন তোমার বুদ্ধি মোহরূপ গহনকানন অতিক্রম
করিবে, তখন তুমি শ্রুত ও শ্রোতব্য বিষয়ে
বৈরাগ্য প্রাপ্ত হইবে। ৫২
লৌকিক ও বৈদিক নানাবিধ ফলকথা শ্রবণে বিক্ষিপ্ত
তোমার বুদ্ধি যখন সমাধিতে নিশ্চল হইয়া থাকিবে,
তখন তুমি (সাম্যবুদ্ধিরূপ) যোগ প্রাপ্ত হইবে। ৫৩
অর্জুন কহিলেন- হে কেশব, যিদনি সমাধিস্থ হইয়া
স্থিতপ্রজ্ঞ হইয়াছে তাঁহার লক্ষণ কি? স্থিতধী
ব্যক্তি কিরূপ কথা বলেন? কিরূপ অবস্থান করেন?
কিরূপ চলেন? ৫৪
শ্রীভগবান বলিলেন- হে পার্থ, যখন কেহ
সমস্ত মনোগত কামনা বর্জুন করিয়া আপনাতেই
আপনি তুষ্ট থাকেন, তখন তিনি স্থিতপ্রজ্ঞ বলিয়া
কথিত হন। ৫৫
যিনি দুঃখে উদ্বেগশুন্য, সুখে স্পৃহাশুন্য, যাঁহার
অনুরাগ, ভগ এবং ক্রোধ নিবৃত্ত হইয়াছে, তাঁহাকে
স্থিতপ্রজ্ঞ মুনি বলা যায়। ৫৬
যিনি দেহ-জীবনাদি সকল বিষয়েওই মমতাশূন্য,
তত্তৎ বিষয়ে শুভ-প্রাপ্তিতে সন্তোষ বা অশুভ-
প্রাপ্তিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে না, তিনিই
স্থিতপ্রজ্ঞ। ৫৭
কচ্ছপ যেমন কর-চরণাদি অঙ্গসকল সমুচিত করিয়া
রাখে, তেমনি যিনি রূপ্রসাদি ইন্দির্যের বিষন্ত
হইতে ইন্দ্রিয়সকল সংরক্ষণ করিয়া লন, তিনিই
স্থিতপ্রজ্ঞ। ৫৮
ইন্দ্রিয়দ্বারা বিষয়গ্রহণে অপ্রবৃত্ত ব্যক্তির
বিষয়োপভোগ নিবৃত্ত হয় বটে, কিন্তু বিব্রয়-
তৃষ্ণা নিবৃত্ত হয় না। কিন্তু সেই পরম পুরুষকে
দেখিয়া স্থিতপ্রজ্ঞ ব্যক্তির বিষয়-বাসনা নিবৃত্ত হয়।
৫৯
হে কৌন্তেয়, প্রমাধী ইন্দ্রিয়গণ সংযমে
যত্নশীল, বিবেকী পুরুষেরও চিত্তকে
বল্পূর্বক হরণ করে (বিষয়াসক্ত করে)। ৬০
যিনি আমার অনন্যভক্ত তিনি সেই সকল ইন্দিয়কে
সংযত করিয়া আমাতে চিত্ত সমাহিত করিয়া অবস্থান
করেন। তাদৃশ সমাহিতচিত্ত ব্যক্তিরই ইন্দ্রিয়সকল
বশীভুত হয়, তিনিওই স্থিতপ্রজ্ঞ। ৬১
বিষয়-চিন্তা করিতে করিতে মনুষের তাহাতে
আসক্তি জন্মে, আসক্তি হইতে কামনা অর্থাৎ
সেই বিষয় লাভের অভিলাস জন্মে, সেই কামনা
কোনো কারণে প্রতিহত বা বাধ্যপ্রাপ্ত হইলে
প্রতিরোধকের প্রতি ক্রোধ জন্মে, ক্রোধ
হইতে মোহ, মোহ হইতে স্মৃতিভ্রংশ, স্মৃতিভ্রংশ
হইতে বুদ্ধিনাশ, বুদ্ধিনাশ হইতে বিনাশ, ঘটে। ৬২-৬৩
কিন্তু যিনি বিধেয়াত্মা অর্থাৎ যাহার মন নিজের
বশবর্তী, তিনি অনুরাগ ও বিদ্বেষ হইতে বিমুক্ত,
আত্মবশীভূগ ইন্দ্রিয়গণদ্বারা বিষয় উপভোগ করিয়া
অত্মপ্রসাদ লাভ করেন। ৬৪
চিত্তপ্রসাদ জন্মিলে এই পুরুষের সমস্ত দুঃখের
নিবৃত্তি হয়; যেহেতু প্রসন্নচিত্ত ব্যক্তির বুদ্ধি
শীঘ্র উপাস্যে (ঈশ্বরে) স্থিতি লাভ করে। ৬৫
যিনি অযুক্ত অর্থাৎ যাঁহার চিত্ত অসামহিত ও ইন্দ্রিয়
অবশীভূত তাঁহার আত্ম-বিষয়া বুদ্ধিও হয় না, চিন্তাও
হয় না। যাঁহার (আত্ম-বিষয়া) চিন্তা নাই, তাঁহার শান্তি নাই,
যাঁহার শান্তি নাই, তাঁহার সুখন কোথায়। ৬৬
মন বিষয়ে প্রবৃর্ত্মান ইন্দ্রিয়গণের যেটিকে
অনুবর্তন করে, সেই একটি ইন্দ্রিয়ই, যেমন বায়ু
জলের উপরিস্থিত লৌকাকে বিচলিত করে, তদ্রূপ
উহার প্রজ্ঞা হরণ করে। ৬৭
হে মহাবাহো, (যখন ইন্দির্যাধী মন এবং মনের
অধীন প্রজ্ঞা) সেই হেতু, যাহার ইন্দ্রিয়
সর্বপ্রকারে বিষয় হইতে নিবৃত্ত হইয়াছে, তাহারই
প্রজ্ঞা হইয়াছে। ৬৮
সাধারণ প্রাণিগণের পক্ষে যাহা (জ্ঞাত্যানিষ্ঠা)
নিশাস্বরূপ, তাহাতে (আত্মনিষ্ঠাতে) সংযমী স্যক্তি
জাগ্রত থাকেনল যাহাতে (বিষয়-নিষ্ঠাতে) অজ্ঞ
প্রাণিসাধারণ জাগরিত থাকে, আত্মদর্শী মুনিদিগের
তাহা (বিষয়নিষ্ঠা) রাত্রিস্বরূপ। ৬৯
যেমন নদ-নদীর জলে পরিপুরিত প্রশান্ত
সমুদ্রে অপর জলরাশী আসিয়া প্রবেশ করিয়া
বিলীন হইয়া যায়, সেইরূপ যে মহাত্মাতে
বিষয়সকল প্রবেশ করিয়াও কোনোরূপ
চিত্তবিক্ষেপ উৎপন্ন করে ন, তিনি শান্তি লাভ
করেন, যিনি, ভোগকামনা করেন, তিনি শান্তি পান না।
৭০
যে ব্যক্তি সমস্ত কামনা ত্যাগ করিয়া নিস্পৃহ হইয়া
বিচরণ করেন, যিনি মমতাশুন্য ও অহঙ্কারশুন্য, তিনিই
শান্তি প্রাপ্ত হন। ৭১
হে পার্থ, ইহাই ব্রাহ্মীস্থিতি (ব্রহ্মজ্ঞানে
অবস্থান)। এই অবস্থা প্রাপ্ত হইলে জীবের
আর মোহ হয় না। মৃত্যুকালেও এই অবস্থায় থাকিয়া
তিনি ব্রহ্মনির্বাণ বা ব্রহ্মে মিলনরূপ মোক্ষ লাভ
করেন। ৭২

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা/প্রথমঅধ্যায় –অর্জুনবিষাদযোগ< শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা←গীতারপ্রশস্তিশ্রীমদ্ভগবদ্গীতাপ্রথম অধ্যায় –অর্জুনবিষাদয...
20/08/2015

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা/প্রথম
অধ্যায় –
অর্জুনবিষাদযোগ
< শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা
←গীতার
প্রশস্তি
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা
প্রথম অধ্যায় –
অর্জুনবিষাদযোগ
দ্বিতীয়
অধ্যায় –
সাংখ্যযোগ→
ধৃতরাষ্ট্র উবাচ
ধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে সমবেতা
যুযুৎসবঃ।
মামকাঃ পাণ্ডবাশ্চৈব কিমকুর্বত সঞ্জয়।।
১
সঞ্জয় উবাচ
দৃষ্ট্বা তু পাণ্ডবানীকং ব্যূঢ়ং
দুর্যোধনস্তদা।
আচার্যমুপসঙ্গম্য রাজা বচনমব্রবীৎ।। ২
পশ্যৈতাং পাণ্ডুপুত্রাণামাচার্য মহতীং
চমূম্।
ব্যূঢ়াং দ্রুপদপুত্রেণ তব শিষ্যেণ ধীমতা।।
৩
অত্র শূরা মহেষ্বাসা ভীমার্জুনসমা যুধি।
যুযুধানো বিরাটশ্চ দ্রুপদশ্চ মহারথঃ।। ৪
ধৃষ্টকেতুশ্চেকিতানঃ কাশীরাজশ্চ
বীর্যবান্।
পুরুজিৎ কুন্তিভোজশ্চ শৈব্যশ্চ নরপুঙ্গবঃ।।
৫
যুধামন্যুশ্চ বিক্রান্ত উত্তমৌজাশ্চ
বীর্যবান্।
সৌভদ্রো দ্রৌপদেয়াশ্চ সর্ব এব
মহারথাঃ।। ৬
অস্মাকং তু বিশিষ্টা যে তান্নিবোধ
দ্বিজোত্তম।
নায়কা মম সৈন্যস্য সংজ্ঞার্থং তান্
ব্রবীমি তে।। ৭
ভবান্ ভীষ্মশ্চ কর্ণশ্চ কৃপশ্চ সমিতিঞ্জয়ঃ।
অশ্বত্থামা বিকর্ণশ্চ
সৌমদত্তির্জয়দ্রথঃ।। ৮
অন্যে চ বহবঃ শূরা মদর্থে
ত্যক্তজীবিতাঃ।
নানাশস্ত্রপ্রহরণাঃ সর্বে
যুদ্ধবিশারদাঃ।। ৯
অপর্যাপ্তং তদস্মাকং বলং
ভীষ্মাভিরক্ষিতম্।
পর্যাপ্তং ত্বিদমেতেষাং বলং
ভীমাভিরক্ষিতম্।। ১০
অয়নেষু চ সর্বেষু যথাভাগমবস্থিতাঃ।
ভীষ্মমেবাভিরক্ষন্তু ভবন্তঃ সর্ব এব হি।।
১১
তস্য সংজনয়ন্ হর্ষং কুরুবৃদ্ধঃ পিতামহঃ।
সিংহনাদং বিনদ্যোচ্চৈঃ শঙ্খং দধ্মৌ
প্রতাপবান্।। ১২
ততঃ শঙ্খাশ্চ ভের্যশ্চ পণবানকগোমুখাঃ।
সহসৈবাভ্যহন্যন্ত স শব্দস্তুমূলোঽভবৎ।। ১৩
ততঃ শ্বেতৈর্হয়ৈর্যুক্তে মহতি স্যন্দনে
স্থিতৌ।
মাধবঃ পাণ্ডবশ্চৈব দিব্যৌ শঙ্খৌ
প্রদধ্মতুঃ।। ১৪
পাঞ্চজন্যং হৃষীকেশো দেবদত্তং
ধনঞ্জয়ঃ।
পৌণ্ড্রং দধ্মৌ মহাশঙ্খং ভীমকর্মা
বৃকোদরঃ।। ১৫
অনন্তবিজয়ং রাজা কুন্তীপুত্রো
যুধিষ্ঠিরঃ।
নকুলঃ সহদেবশ্চ সুঘোষমণিপুষ্পকৌ।। ১৬
কাশ্যশ্চ পরমেষ্বাসঃ শিখণ্ডী চ মহারথঃ।
ধৃষ্টদ্যুম্নো বিরাটশ্চ
সাত্যকিশ্চাপরাজিতঃ।। ১৭
দ্রুপদো দ্রৌপদেয়াশ্চ সর্বশঃ পৃথিবীপতে।
সৌভদ্রশ্চ মহাবাহুঃ শঙ্খান্ দধ্মুঃ পৃথক্
পৃথক্।। ১৮
স ঘোষো ধার্তরাষ্ট্রাণাং হৃদয়ানি
ব্যদারয়ৎ।
নভশ্চ পৃথিবীঞ্চৈব তুমুলোঽভ্যনুনাদয়ন্।। ১৯
অথ ব্যবস্থিতান্ দৃষ্ট্বা ধার্তরাষ্ট্রান্
কপিধ্বজঃ।
প্রবৃত্তে শস্ত্রসম্পাতে ধনুরুদ্যম্য পাণ্ডবঃ।
হৃষীকেশং তদা বাক্যমিদমাহ মহীপতে।। ২০
অর্জুন উবাচ
সেনয়োরুভয়োর্মধ্যে রথং স্থাপয় মেঽচ্যুত।।
২১
যাবদেতান্নিরীক্ষেঽহয়ং
যোদ্ধুকামানবস্থিতান্।
কৈর্ময়া সহ যোদ্ধব্যমস্মিন্ রণসমুদ্যমে।। ২২
যোৎস্যমানানবেক্ষেঽহয়ং য এত্রেঽত্র
সমাগতা।
ধার্তরাষ্ট্রস্য দুর্বুদ্ধের্যুদ্ধে
প্রিয়চিকীর্ষবঃ।। ২৩
সঞ্জয় উবাচ
এবমুক্তো হৃষীকেশো গুড়াকেশেন ভারত।
সেনয়োরুভয়োর্মধ্যে স্থাপয়িত্বা
রথোত্তমম্।। ২৪
ভীষ্মদ্রোণপ্রমুখতঃ সর্বেষাং চ
মহীক্ষিতাম্।
উবাচ পার্থ পশ্যৈতাম্ সমবেতান্ কুরুনিতি।।
২৫
তত্রাপশ্যৎ স্থিতান্ পার্থঃ পিতৃনথ
পিতামহান্।
আচার্যান্ মাতুলান্ ভ্রাতৃন্ পুত্রান্
পৌত্রান্ সখীংস্তথা।।
শ্বশুরান্ সুহৃদশ্চৈব সেনয়োরুভয়োরপি।। ২৬
তান্ সমীক্ষ্য স কৌন্তেয়ঃ সর্বান্
বন্ধূনবস্থিতান্।
কৃপয়া পরয়াবিষ্টো বিষীদন্নিদমব্রবীৎ।।
২৭
অর্জুন উবাচ
দৃষ্ট্বেমান্ স্বজনান্ কৃষ্ণ যুযুৎসুন্
সমবস্থিতান্।
সীদন্তি মম গাত্রাণি মুখঞ্চ পরিশুষ্যতে।।
২৮
বেপথুশ্চ শরীরে মে রোমহর্ষশ্চ জায়তে।
গাণ্ডীবং স্রংসতে হস্তাৎ ত্বক্ চৈব
পরিদহ্যতে।। ২৯
ন চ শক্নোম্যবস্থাতুং ভ্রমতীব চ মে মনঃ।
নিমিত্তানি চ পশ্যামি বিপরীতানি
কেশব।। ৩০
ন চ শ্রেয়োঽনুপশ্যামি হত্বা স্বজনমাহবে।
ন কাঙ্ক্ষে বিজয়ং কৃষ্ণ ন চ রাজ্যং
সুখানি চ।। ৩১
কিং নো রাজ্যেন গোবিন্দ কিং
ভৌগৈর্জীবিতেন বা।
যেষামর্থে কাঙ্ক্ষিতং নো রাজ্যং
ভোগাঃ সুখানি চ।। ৩২
ত ইমেঽবস্থিতা যুদ্ধে প্রাণাংস্ত্যক্ত্বা
ধনানি চ।
আচার্যাঃ পিতরঃ পুত্রাস্তথৈব চ
পিতামহাঃ।
মাতুলাঃ শ্বশুরাঃ পৌত্রাঃ শ্যালাঃ
সম্বন্ধিনস্তথা।। ৩৩
এতান্ন হন্তুমিচ্ছামি ঘ্নতোঽপি মধুসূদন।
অপি ত্রৈলোক্যরাজ্যস্য হেতোঃ কিং নু
মহীকৃতে।। ৩৪
নিহত্য ধার্তরাষ্ট্রান্ নঃ কা প্রীতিঃ
স্যাজ্জনার্দন।
পাপমেবাশ্রয়েদস্মান্
হত্বৈতানাততায়িনঃ।। ৩৫
তস্মান্নার্হাঃ বয়ং হন্তুং ধার্তরাষ্ট্রান্
সবান্ধবান্।
স্বজনং হি কথং হত্বা সুখিনঃ স্যাম
মাধব।। ৩৬
যদ্যপ্যেতে ন পশ্যন্তি লোভাপহতচেতসঃ।
কুলক্ষয়কৃতং দোষং মিত্রদ্রোহে চ
পাতকম্।। ৩৭
কথং ন জ্ঞেয়মস্মাভিঃ
পাপাদস্মান্নিবর্তিতুম্।
কুলক্ষয়কৃতং দোষং প্রপশ্যদ্ভির্জনার্দন।।
৩৮
কুলক্ষয়ে প্রণশ্যন্তি কুলধর্মাঃ সনাতনাঃ।
ধর্মে নষ্টে কুলং কৃৎস্নমধর্মোঽভিভবত্যুত।।
৩৯
অধর্মাভিভবাৎ কৃষ্ণ প্রদুষ্যন্তি
কুলস্ত্রিয়ঃ।
স্ত্রীষু দুষ্টাসু বার্ষ্ণেয় জায়তে
বর্ণসঙ্করঃ।। ৪০
সঙ্করো নরকায়ৈব কুলঘ্নানাং কুলস্য চ।
পতন্তি পিতরো হ্যেষাং
লুপ্তপিণ্ডোদকক্রিয়াঃ।। ৪১
দোষৈরেতৈঃ কুলঘ্নানাং
বর্ণসঙ্করকারকৈঃ।
উৎসাদ্যন্তে জাতিধর্মাঃ কুলধর্মাশ্চ
শাশ্বতাঃ।। ৪২
উৎসন্নকুলধর্মাণাং মনুষ্যাণাং জনার্দন।
নরকে নিয়তং বাসো ভবতীত্যনুশুশ্রুম।। ৪৩
অহো বত মহৎ পাপং কর্তুং ব্যবসিতা বয়ম্।
যদ্ রাজ্যসুখলোভেন হন্তুং স্বজনমুদ্যতাঃ।।
৪৪
যদি মামপ্রতীকারমশস্ত্রং শস্ত্রপাণয়ঃ।
ধার্তরাষ্ট্রা রণে হন্যুস্তন্মে ক্ষেমতরং
ভবেৎ।। ৪৫
সঞ্জয় উবাচ
এবমুক্ত্বার্জুনঃ সঙ্খ্যে রথোপস্থ
উপাবিশৎ।
বিসৃজ্য সশরং চাপং শোকসংবিগ্নমানসঃ।।
৪৬
বঙ্গানুবাদ
ধৃতরাষ্ট্র জিজ্ঞাসা করলেন – হে সঞ্জয়,
ধর্মক্ষেত্র কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধাভিলাষী
আমার পুত্রগণ ও পাণ্ডবগণ সমবেত হয়ে কি
করল ? ১
সঞ্জয় বললেন – তখন পাণ্ডবসৈন্যদের
ব্যূহবদ্ধ দেখে রাজা দুর্যোধন
দ্রোণাচার্যের সমীপে উপস্থিত হয়ে
বললেন – ২
হে আচার্য, ব্যূহের আকারে অবস্থিত
পাণ্ডবদের এই বিপুল সৈন্যসমাবেশ দর্শন
করুন। এই ব্যূহ আপনারই বুদ্ধিমান শিষ্য
দ্রুপদপুত্র ধৃষ্টদ্যুম্ন কর্তৃক রচিত হয়েছে। ৩
এই পাণ্ডবসেনার মধ্যে রয়েছেন ভীম ও
অর্জুনের সমকক্ষ মহাধনুর্ধর বীর সাত্যকি,
রাজা বিরাট ও মহাযোদ্ধা দ্রুপ। ৪
রয়েছেন ধৃষ্টকেতু, চেকিতান, মহাবীর
কাশীরাজ, পুরুজিৎ, রাজা কু্ন্তীভোজ ও
নরশ্রেষ্ঠ শৈব্য। ৫
আর রয়েছেন মহাপরাক্রমশালী যুধামন্যু ও
শক্তিমান উত্তমৌজা এবং সুভদ্রাতনয়
অভিমন্যু ও দ্রৌপদীর পঞ্চপুত্র। এঁরা
সকলেই ‘মহারথ’, অর্থাৎ একাকী দশ হাজার
ধনুর্ধরের সঙ্গে যুদ্ধ করতে সক্ষম এবং
শস্ত্রবিদ্যায় প্রবীণ। ৬
কিন্তু হে দ্বিজোত্তম, আমাদের পক্ষেও
যে সকল বিশিষ্ট যোদ্ধা ও সেনানায়কগণ
রয়েছেন, তাঁদের কথা স্মরণ করুন। আপনার
অবগতির জন্য তাঁদের নাম বলছি। ৭
আমাদের পক্ষে আছেন আপনি, ভীষ্ম, কর্ণ,
সমরজয়ী কৃপ, অশ্বত্থামা, বিকর্ণ,
সোমদত্তের পুত্র ভূরিশ্রবা ও জয়দ্রথ। ৮
এছাড়াও আছেন আমার জন্য প্রাণত্যাগ
পর্যন্ত করতে প্রস্তুত অন্যান্য অনেক
মহাবীর। এঁরা সকলেই শস্ত্রনিপূণ
যুদ্ধবিশারদ। ৯
ভীষ্মকর্তৃক সুরক্ষিত আমাদের সৈন্যবল
অপরিমিত ও অপরাজেয়। কিন্তু ভীমরক্ষিত
পাণ্ডবসেনাদের বল পরিমিত ও যুদ্ধজয়ে
অসমর্থ। ১০
সকল ব্যুহদ্বারে যথাস্থানে অবস্থিত
আপনারা সকলেই ভীষ্মকে সর্বপ্রকারে
রক্ষা করুন। ১১
তখন কুরুকুলের প্রবীণ পিতামহ প্রতাপশালী
ভীষ্ম দুর্যোধনের হর্ষ উৎপাদন করে উচ্চ
সিংহনাদপূর্বক শঙ্খধ্বনি করতে লাগলেন।
১২
তারপর অসংখ্য শঙ্খ, ভেরী, ঢাক, মৃদঙ্গ ও
রণশিঙা একযোগে বেজে উঠল। রণবাদ্যের
সেই তুমুল শব্দ ভয়ানক প্রতিভাত হল। ১৩
তারপর বহু শ্বেত অশ্বযুক্ত রথে আরূঢ় মাধব
শ্রীকৃষ্ণ ও পাণ্ডুপুত্র অর্জুন দিব্য দুই শঙ্খ
বাজালেন। ১৪
হৃষীকেশ শ্রীকৃষ্ণ পাঞ্চজন্য, ধনঞ্জয়
অর্জুন দেবদত্ত ও ভীষণ কর্মকারী বৃকোদর
ভীম পৌণ্ড্র নামক মহাশঙ্খ বাজালেন। ১৫
কুন্তীপুত্র রাজা যুধিষ্ঠির বাজালেন
অনন্তবিজয় নামক শঙ্খ। নকুল সুঘোষ ও
সহদেব মণিপুষ্পক নামক শঙ্খদ্বয়
বাজালেন। ১৬
হে পৃথিবীপতি ধৃতরাষ্ট্র, মহাধনুর্ধর
কাশীরাজ, মহারথী শিখণ্ডী ও ধৃষ্টদ্যুম্ন,
অপরাজেয় সাত্যকি, রাজা দ্রুপদ ও
দ্রৌপদীতনয়গণ তথা সুভদ্রানন্দন অভিমন্যু
প্রত্যেকেই নিজ নিজ শঙ্খ বাজালেন।
১৭-১৮
আকাশ ও পৃথিবী নিনাদিত করে
প্রতিধ্বনিত হল সেই শঙ্খরব। ধৃতরাষ্ট্রপুত্র
দুর্যোধনাদির হৃদয় সেই তুমুল শব্দে হল
বিদীর্ণ। ১৯
হে মহীপতি ধৃতরাষ্ট্র, তখন কপিধ্বজ রথারূঢ়
অর্জুন ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রগণকে যুদ্ধার্থে
সমবেত দেখে শস্ত্রনিক্ষেপে উদ্যত হলেন।
ধনুক উত্তোলন করে শ্রীকৃষ্ণকে বললেন –
অর্জুন বললেন, যতক্ষণ আমি যুদ্ধার্থে
সমবেত এই সকল ব্যক্তিবর্গকে নিরীক্ষণ
করি এবং এই যুদ্ধোদ্যোগে কাদের সঙ্গে
আমায় যুদ্ধ করতে হবে তথা কারা দুষ্ট
ধৃতরাষ্ট্রপুত্রগণের হিতৈষণায় এখানে
সমবেত হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যক্ষ করি, হে
কৃষ্ণ, উভয় সেনার মধ্যে ততক্ষণ আমার রথ
আপনি সংস্থাপিত করুন। ২১-২৩
সঞ্জয় বললেন – হে ভরতবংশীয় সন্তান
ধৃতরাষ্ট্র, জিতনিদ্র অর্জুন শ্রীকৃষ্ণকে এই
কথা বললে, তিনিও ভীষ্ম, দ্রোণ ও
অন্যান্য রাজন্যবর্গের সম্মুখে তাঁদের
উত্তম রথ স্থাপন করলেন। তারপর অর্জুনকে
বললেন – হে পার্থ, যুদ্ধার্থে উপস্থিত
কৌরবগণকে অবলোকন কর। ২৪-২৫
অর্জুন সেখানে পিতৃব্য, পিতামহ, আচার্য,
মাতুল, ভ্রাতা, পুত্র ও পৌত্র তথা বন্ধু
শ্বশুর প্রমুখ মিত্রগণকে উভয় সেনার মধ্যে
অবস্থিত দেখলেন। ২৬
বন্ধুগণকে যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত দেখে
করুণায় অভিভূত হয়ে বিষন্ন চিত্তে অর্জুন
বললেন – ২৭
অর্জুন বললেন – হে কৃষ্ণ, সমবেত
যুদ্ধাভিলাষী এই স্বজনবর্গকে দেখে
আমার দেহ অবসন্ন হচ্ছে, মুখ শুষ্ক হয়ে
আসছে। ২৮
আমার শরীর কম্পিত ও রোমাঞ্চিত হচ্ছে।
হাত থেকে খসে পড়ছে গাণ্ডীব ধনুক। দগ্ধ
হচ্ছে যেন দেহচর্ম। ২৯
হে কেশব, আমি আর স্থির থাকতে পারছি
না। আমার মন যেন ঘুর্ণির মতো আবর্তিত
হচ্ছে। আমি সকল অমঙ্গলসূচক লক্ষণ
স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছি। ৩০
হে কৃষ্ণ, যুদ্ধে আত্মীয়বধ যে মঙ্গলজনক,
তা মনে করি না। চাই না এ যুদ্ধে জয়,
কামনা করি না রাজ্য ও সুখভোগ। ৩১
যাঁদের নিমিত্ত এই রাজ্য, ভোগ ও সুখ
আমরা কামনা করছি, সেই আচার্য, পিতৃব্য,
পুত্র, পিতামহ, মাতুল, শ্বশুর, পৌত্র, শ্যালক
ও স্বজনবর্গই তো ধনপ্রাণাদির আশা ত্যাগ
করে এই যুদ্ধে সমবেত হয়েছেন। তবে হে
গোবিন্দ, আমাদের রাজ্য, সুখভোগ বা
জীবনধারণে কি প্রয়োজন ? ৩২-৩৩
হে মধুসূদন, এঁরা যদি আমাকে বধও করেন,
তবু পৃথিবী কেন সমগ্র ত্রিলোকরাজ্যের
নিমিত্তও এঁদের আমি বধ করতে চাই না। ৩৪
হে জনার্দন, ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রগণকে বধ
করে আমরা কি এমন সুখ পাব ? বরং এই
সকল আততায়ীদের হত্যা করলে পাপ
আমাদেরকেই আশ্রয় করবে। ৩৫
তাই কৌরব ও তাদের বন্ধুদের হত্যা করা
উচিৎ নয়। হে মাধব, স্বজনবর্গকে হত্যা
করে আমরা কিরূপে সুখী হব ? ৩৬
যদিও এই লুব্ধচিত্তগণ বংশনাশ ও মিত্রের
প্রতি শত্রুতাজনিত পাপ দেখছে না, তবু হে
জনার্দন, বংশনাশের দোষ উপলব্ধি করেও
কেন আমরা এই পাপ হতে নিজেদের
নিবৃত্ত করার উপায় জানব না ? ৩৭-৩৮
কুলক্ষয়ে সনাতন ধর্মের নাশ হয়। ধর্মনাশ
হলে সমগ্র কুল অনাচার সমগ্র কুলকে গ্রাস
করে। ৩৯
হে কৃষ্ণ, অধর্ম কুলগ্রাস করলে কুলস্ত্রীগণ
দুষ্টা হন। হে বৃষ্ণিবংশজ কৃষ্ণ, কুলস্ত্রীগণ
দুষ্টা হলে উৎপন্ন হয় বর্ণসঙ্কর। ৪০
বর্ণসঙ্কর উৎপন্ন হলে কুলনাশীগণ
নরকগামী হয়। পিণ্ডদান ও তর্পনক্রিয়া
লুপ্ত হওয়ায় তাঁদের পিতৃপুরুষগণও নরকে
পতিত হন। ৪১
এই সকল বর্ণসঙ্কর দোষে কুলনাশীদের
সনাতন জাতি ও কুলধর্ম বিনষ্ট হয়। ৪২
হে জনার্দন, শাস্ত্র ও আচার্যদের নিকট
শুনেছি, যাদের কুলধর্ম বিনষ্ট হয়, তারা
অনন্তকাল নরকে বাস করে। ৪৩
হায়, রাজ্যসুখের লোভে স্বজনবর্গকে হত্যা
করতে উদ্যত হয়ে এ কি মহাপাপে প্রবৃত্ত
হয়েছি আমরা। ৪৪
আত্মরক্ষায় নিস্পৃহ ও নিরস্ত্র অবস্থায়
যদি আমাকে ধৃতরাষ্ট্রপুত্রগণ যুদ্ধে হত্যা
করেন, তা আমার পক্ষে অধিকতর
মঙ্গলজনক হবে। ৪৫
সঞ্জয় বললেন, এই বলে অর্জুন ধনুর্বাণ
পরিত্যাগ করে রণস্থলেই রথের উপর
শোকমগ্ন হৃদয়ে উপবিষ্ট হলেন। ৪৬
যুদ্ধারন্তের পূর্বে ব্যসদেব অন্ধরাজকে
যুদ্ধদর্শনার্থ দিব্যচক্ষু প্রদান করিতে
চাহিলেন। ধৃতরাষ্ট্র তাহাতে অসম্মত হইয়া
বলিলেন- আমি জ্ঞাতি-কুটুম্বের নিধন
দেখিতে চাই না, আপনার তপঃপ্রভাবে
যাহাতে যুদ্ধের সমস্ত বৃত্তান্ত শ্রবণ
করিতে পারি, আপনি তাহাই করুন। তখন
ব্যসদেব রাজ-অমাত্য সঞ্জয়কে বর প্রদান
করেন। সেই বরপ্রভাবে তিনি দিব্যদৃষ্টি
লাভ করিয়া যুদ্ধাদি সন্দর্শন ও উপস্থিত
ব্যাক্তিবর্গের বাক্যাদি শ্রবণ ও মনোভাব
সমস্ত পরিজ্ঞাত হইতা ধৃতরাষ্ট্রের নিকট
বর্ণনা করিয়াছিলেন। গীতার সমস্তই
সঞ্জয়-বাক্য।
সঞ্জয়ের দিব্যচক্ষু প্রাপ্তি
"পরম যোগশক্তির আধায় মহামুনি ব্যাস যে
এই দিব্য সঞ্জয়বে দিতে সক্ষম্ ছিলেন,
তাহা অবিশ্বাস করিবার কোনো কারণ
দেখিতে পাই না" - শ্রীঅরবিন্দ। যাঁহারা
ইহাকে "আষাঢ়ে গল্প" বলিয়া উড়াইয়া
দিতে চান, তাঁহারা মহাযোগী
শ্রীওরবিন্দের 'গীতার ভূমিকা' নামক
উপাদেয় গ্রন্থে ইহার বিভূত অলোচনা পাঠ
করিবেন।
প্রশ্নঃ এখানে যুদ্ধের কথা হইতেছে,
কুরুক্ষেত্রও যুদ্ধক্ষেত্র। এস্থলে
'ধর্মক্ষেত্র' বিশেষ্ণটি আবার কেন?
উত্তরঃ কুরুক্ষেত্র চিরকালই পর পুণ্যুভুমি
বলিয়া প্রিচিত। জাবাল উপনিষদে ও
শতপথব্রাহ্মণে ইহাকে দেবষজন অর্থ্যাৎ
দেবতাদের 'যজ্ঞস্থান' বলিয়া উল্লেখ
করা হইয়াছে। ইহার প্রচীন নাম
সমস্তপঞ্চক। পরশুরাম একুশ বার
পৃথিবীনিঃক্ষত্রিয় করিয়া এই স্থানে
পিতৃ-তর্পণ করিয়াছিলেন। দুর্যোধনাদির
পূর্বপুরুষ বিখ্যাত কুরু রাজা এই স্থানে হ্ল
চালনা করিয়া এই বর লাভ করিয়াছিলেন
যে, যে ব্যক্তি এই স্থানে তপস্যা করিবে
অথবা যুদ্ধে প্রাণত্যাগ করিবে, সে স্বর্গে
গমন করিবে। তদবধিই ইহার নাম কুরুক্ষেত্র।
প্রাচীন গ্রন্থদিতে সর্বত্রই কুরুক্ষেত্রকে
ধররমক্ষেত্র বলিয়া উল্লেখ করা হইয়াছে।
বনপর্বের তীর্থযাত্রা পর্বাধ্যারে
কুরুক্ষেত্রকে তিন লোকের মধ্যে শ্রেষ্ঠ
তীর্থস্থান বলিয়া বর্ণনা করা হইয়াছে।
সুতরাং 'ধর্মক্ষেত্র' এই বিশেষণ্টি একান্ত
সুসঙ্গত ও প্রয়োজনীয়।
অনেক টীকাকারের মতে, এই শব্দটি গূঢ়
তাৎপর্যো আছে। তাঁহারা বলেন, ধৃতরাষ্ট্র
মনে করিয়াছিলেন যে, ধর্মক্ষেত্রের
প্রভাবে উভয় পক্ষের অন্তঃকরণে
সাত্ত্বিক ভাবের উদয় হইলে একটা সন্ধি
হওয়াও বিচিত্র নহে। তাঁহার মনে যুদ্ধ
সম্বন্ধে এইরূপ সংশয়ের উদয় হওয়াতেই
তিনি প্রশ্ন করিলেন- "যুদ্ধর্থী ইহারা কি
করিতেছে?" নচেৎ যুদ্ধর্থী যুদ্ধই করিবে-
এস্থলে "কি করিতেছে" এরূপ প্রশ্ন সঙ্গত
হয় না; প্রশ্ন হইতে পারে 'কিরূপে যুদ্ধ
করিতেছে।" ইত্যাদি। এইরূপে ইহারা
'ধর্মক্ষেত্র' বিশেষণের সার্থকতা ও
আপাত-অসঙ্গত "কি করিতেছে" প্রশ্নের
সুসঙ্গত ব্যাখ্যা করিয়াছেন। তাঁহারা
বলেন, ধর্মক্ষেত্রের প্রভাবে অর্জুনের
মনে সাত্ত্বিক ভাবের প্রবাল্য তওয়াতেই
তিনি "যুদ্ধরূপ নৃশংস ব্যাপাতে অনিচ্ছা
প্রকাশ করিয়াছিলেন। কিন্তু অর্জুনের
মনে স্বজনাদি বধের আশঙ্কায় যে
কাতরতা ও বিষাদ উপস্থিত হইয়াছিল,
শ্রীভগবান্ বলিয়াছেন উহা হৃদয়-দৌর্বল্য,
স্মৃতিবিভ্রম, অজ্ঞাঞ্জনিত মোহ। এই মোহ
দূরীকরণার্থই গীতার অপূর্ব-ধর্মব্যাখ্যা।
এই ব্যাখ্যা শেষ হইলে অর্জউন স্বয়ং
বলিলেন- "নষ্টো মোহঃ স্মৃতিলব্ধা
ত্বৎপ্রসাদাষ্মচ্যুত (১৮।৭৩)।" তমোভাবপ্রসূত
এই মোহকে সত্ত্বভাব বলিয়া বর্ণনা
করিলে মূলেই ভুল করা হয় না কি? বস্তুতঃ
ধৃতরাষ্ট্রের মনে যুদ্ধ সমন্ধে এরূপ কোনো
সংশয় আসিতেই পারে না, কারণ এই প্রশ্ন
হইয়াছিল ভিষ্মদেবের পরনের পর,
যুদ্ধরাম্ভের পূর্বে নহে। (মছা, ভিষ্ম, ২৫
অঃ)। অথচ, অনেকই পূর্বোক্তরূপ ব্যাখ্যা
পতানুগতিক ভাবে আবৃতি করিয়াছেন,
এখনও করিতেছেন।
৩য় শ্লোকঃ "আপনার ধীমান শিষ্য"এ
কথাটি দুর্ষোধন শেযাত্মক ভাবেই ব্যবহার
করিয়াছেন। আবার 'ধৃষদ্যুয়' না বলিয়া
'দ্রুপদপুত্র' বলিয়া দ্রোণাচার্যের
পূর্বশত্রুতা স্মরণ করাইয়া দিয়াছেন।
'আপনার বুদ্ধিমান্ শিষ্যটি যুদ্দার্থে
সসৈন্য আপনার সম্মুখে দন্ডায়মান, দেখুন'-
এই ভাবে।
মহারথঃ- একো দশসহস্রাণি যোধয়েদ্ যস্তু
ধম্বিনাম্।
শস্ত্রশাস্ত্রপ্রবীণশ্চ মহারথ ইতি স্মৃতঃ।।
যিনি একাকী দশ সহস্র ধনুর্থারীর সহিত
যুদ্ধ করেন এবং যিনি শস্ত্রশেস্তে প্রবীণ,
তিনিই মহারথ।
কুন্তিভোজ পুরুজিৎ- একই ব্যক্তি, বিভিন্ন
ব্যক্তি নহেন। কুন্তিভোজ কৈলিক নাম।
ইনি ভিষ্মসেনাদির মাতুল। ধৃষ্টকেতু,
শিশুপালের পুত্র। মহাভারতের
উদ্যোগপূর্বে ১৯৪-১৯১ অধ্যায়ে উভয়
পক্ষীয় রথী, মহারথী, অতিরথী প্রমূখের
বিবরণ দ্রষ্টব্য।
সমিতিঞ্জয়ঃ- সমিতি (সংগ্রাম) জয় করে
যে যুদ্ধজয়ী। অদ্ম্যে এই পদটিকে কেবল
কৃপের বিশেষণ না করিয়া দ্রোণাদি
সকলেরই বিশেষণ করা হয়।
কৃপ- দ্রোণাচার্যের শ্যালক, ইনি
কৌরব্দিগের অস্ত্রগুরু।
সৈমদত্তি-সোমদত্ত-পুত্র বিখ্যাত
ভূরিশ্রাবা।
জয়দ্রথ-সিন্ধুদেশের রাজা, দুর্যোধনের
ভগিনীপতি। ভীষ্মের পুর্বে দ্রোণের নাম,
বাক্চাতুর্য লক্ষ করুন।
এই শ্লোকের 'সৈমদত্তিস্তথৈব চ" এইরূপ
পাঠাস্ত্র আছে।
পর্যাপ্ত ও অপর্যাপ্ত শব্দের দুইটি অর্থ
আছে। - ১ পর্যাপ্ত (পরি+আপ্ +ক্ত) শব্দের
ধাত্বর্থ, যাহা আস্তে করা যায়; পরিমাণ
করা যায়, পরিমিত, সীমাবদ্ধ; আর
'অপর্যাপ্ত' অর্থ- অপরিমিত, অসংখ্য।
অনুবাদে এই অর্থ গ্রহণ করা হইয়াছে। (২)
পর্যাপ্ত শব্দের অপর অর্থ প্রয়োজনের
পক্ষে যথেষ্ট, সমর্থ এবং 'অপর্যাপ্ত' অর্থ
অপ্রচুর, জ্ঞসমর্থ। শ্রীধর স্বামীর টীকায়
শেদ্বোক্ত ব্যাখ্যাই আছে এবং অনেকেই
উহার অনুবর্তন করিয়াছেন। ইহাদের মন্তে,
পরের শ্লোকে 'সকলে ভীষ্মকে রক্ষা করুন'
এ কথায় বুঝা যায় যে, দুর্যোধনের মনে
কিছু ভয়ের উদ্রেক হইয়াছিল এবং তিনি
নিজের সৈন্যবল অপ্রচুর বা অসমর্থ মনে
করিতেছেন। কিন্তু দুর্যোধনের ভয়
পাওয়ার কথা মহাভারতের কোথাও নাই।
বরং ইহার বিপরীত কথাই আছে। ইহার
পুর্বে দুর্যোধন পিতাকে বলিতেছেন-
'আমার সৈন্যবল পান্ডবদের সৈন্যবল
অনেক্ষা অনেক বেশী, স্বয়ং ভীষ্ম আমার
সেনাপতি, প্রধান প্রধান রাজস্যবৃন্দ
আমার জন্য প্রাণদানে প্রস্তুত, আপনি ভয়
করিবেন না' ('ন ভেতব্যং মহারাজ'
ইত্যাদি-- মভা উ ১-৬৯)। আবার পরেও
দ্রোণাচার্যের নিকট নিজ নিজ সৈন্য
বর্ণনায় সৈন্যবলকে উৎসাহিত করিবার
জন্য এইরূপ কথাই বলিয়াছেন এবং অবিকল
এই শ্লোকটিই করিবার জন্য এইরূপ কথাই
বলিয়াছেন এবং অবিকল এই শ্লোকটিই
তথায় আছে (মভা ভীষ্ম ৫১।৬।৯) সুতরাং
এস্থলেও এ সকল কথা যে সকলকে উৎসাহ-
দানার্থই বলা হইয়াছিল তাহাতে
সন্দেহের অবকাশ নাই। এই কারণে
লোকমান্য তিলক প্রমুখ অনেকে পূর্বোক্ত
প্রথম অর্থই গ্রহণ করিয়াছেন। তবে 'সকলে
ভীষ্মকে রক্ষা করুন' এ কথা বলা হইল কেন?
পরবর্তী শ্লোকের ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য।
ভীষ্ম সমরে অপরাজের, তাহার জন্য
দুর্যোধনের এত আশঙ্কা কেন এবং 'স্কলে
ভীষ্মকে রক্ষা করুন' একথা বলেন কেন? -
আশঙ্কার কারণ আছে এবং সে কথা
দুর্যোধন পূর্বে স্পস্টই বলিয়াছেন। সে
স্থলে দুর্যোধন বলিতেছেন- 'ভীষ্ম একয়াই
সসৈন্য পান্ডবগণকে বধ করিতে পারেন,
কিন্তু তিনি শিখন্ডীকে বধ করিবেন না,
সুতরাং সকলে সতর্ক হইয়া সর্ব দিক হইতে
ভীষ্মকে রক্ষা করিবেন, আমরা যেন
জম্বুক-শিখন্ডী দ্বারা 'অতর্কিতভাবে'
ভীষ্মসিংহকে বধ না করাই' ('মাং সিংহং
জম্বুকেনেব থার্তয়ামঃ শিখন্ডিন্য')।
[পণব=মৃদঙ্গ, আনক= ঢাক, গোমুখ= রঙশঙ্খ]
সেকালেও যুদ্ধসময়ে নানাবিধ রণবাদ্য
হইত। সেকালেও বিউগৃল্ (bugle) ছিল শঙ্খ।
ভারত- (এখানে) ধৃতরাষ্ট্র। অন্যত্র
অর্জুনকেও 'ভারত' বলিয়া উল্লেখ করা
হইয়াছে। কাওরণ ইহারা উথয়েই দুষ্মস্য
রাজার পুত্র ভারতের বংশধর। গুড়াকেশ-
গুড়াকা (নিদ্রা, আলস্য) তাহার ঈশ, অর্থাৎ
যিনি নিদ্রা ক্ষয় করিয়াছেন,
নিদ্রালস্যজয়ী অর্জুন। হৃষীকেশ- হৃষীক
ইন্দ্রীয়, তাহার ঈশ, ইন্দ্রিয়গণের প্রভু,
শ্রীকৃষ্ণ।
সখা- সমান প্রকৃতিবিষিষ্ট বয়স্যস্থানীয়
আত্মীয়; সুহৃদ্- শুভাসুধ্যায়ী সাহায্যকারী
আত্মীয়।
একাকী কেহ রাজভোগ করিতে পারে না।
আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব লইয়াই রাজভোগ
করিয়া থাকে। তাঁহারাই যখন যুদ্ধার্থে
উপস্থিত, তখন আর রাজ্যের কি প্রয়োজন?
যদিও ইহারা আততায়ী (এবং আততায়ী
শাস্ত্রমতে বধ্য), তথাপি এই আচার্যয়াদি
গুরুজকে বধ করিলে আমরা পাপভাগীওই
হইব। অতএব আমরা সবাদ্ধব
ধৃতরাষ্ট্রপুত্রতিগকে বধ করিতে পারি না।
হে মাধব, স্বজন বধ করিয়া আমরা কি
প্রকারে সুখী হইব?
আততায়ী- আগ্নিদো গরদশ্চৈচ
শস্ত্রপাণির্ধনাপন্থঃ।
ক্ষেত্রদারাগহারী চ বড়েতে আততায়িনঃ।
অগ্নিদ (যে ঘরে আগুন দেয়), গরদ (যে বিষ
দেয়), যধার্থ অস্ত্রধারীম ধনাপহারী, ভূমি-
অপহারী, দারাধরণকারী- এই ছয় জন
আততায়ী। দুর্যোধনাদি প্রায় এ সমস্ত
কর্মই করিয়ছেন; সুতরাং তাহারা
আততায়ী। শাস্ত্রমতে আততায়ী বধে পাপ
নাই (মনু ৮।৩৫-৫১)। কিন্তু অর্জুন
বলিতেছেন, আততায়ী হইলেও ইহাদিগের
বধে পাপ হইবে। কেন? টীকাকারগণ নলেন,
শাস্ত্র দুই প্রকার- অর্ধশাস্ত্র (law) ও
ধর্মশাস্ত্র (morality)। অর্থশাস্ত্রে আছে,
আততায়ী বধ্য, কিন্তু ধর্মশাস্ত্রে আবার
আছে 'অহিংসা পরম ধর্ম', 'গুরুজনাদি
অবধ্য', 'ন পাপে প্রতিপাপঃ স্যাৎ'
ইত্যাদি। 'অর্থশাস্ত্রক্তু বলবধমশাস্থ্রম্'-
অর্থশাস্ত্র হইতে ধর্মশাস্ত্রে বলব।
সুতরাং আততায়ী হইলেও গুরুজনাধি বধে
পাপ্ত্যাগী হইতে হইবে, ইহাই
অর্জুনোক্তির মর্ম।
সনাতন কুলধর্ম- পূর্বপুরুষ-পরস্পরাখত ধর্ম।
বংশের বয়স্ক পুরুষগণ সমস্য বিনষ্ট হইলেও
কুলাগত আচার-নিয়মাদি রক্ষা করা হয় না।
সুতরাং বংশের স্ত্রী ও বালকগণ ক্রমশ
উন্মর্গগামী হওয়াতে বংশ অধর্মাক্রান্ত
হইয়া উঠে।
বার্ষ্ণয়- তৃষ্ণিবংশসংস্কৃত (কৃষ্ণ)।
বর্ণসঙ্কর- বিভিন্ন বর্ণের স্ত্রী-পুরুষ
সংযোগে সন্তান-উৎপত্তি।
জাতিধর্ম- বর্ণধর্ম, যথা- ব্রাহ্মণের
অধ্যাপনাদি, ক্ষত্রিয়ের প্রজারক্ষাদি,
বৈশ্যের কৃষি-বাণিজ্যাদি, শূদ্রের
পরিচর্যাদি।
কুলধর্ম- কৈলিক উপাসনা পদ্ধতি ও আচার-
নিয়মাদি।
আশ্রমধর্ম- ব্রহ্মচর্য, গার্হত্ম্য, বাঁনপ্রস্থ,
সন্যাস।
প্রথম অধ্যায়- বিশ্লেষণ ও সার-সংক্ষেপ
এই অধ্যায়ের নাম 'সৈন্যদর্শন' বা 'অর্জুন-
বিষাদ যোগ'। ইহাতে তত্ত্ব কথা কিছু নাই,
কিন্তু কাব্যাংশে ইহা অতুলনীয়।
কুরুক্ষেত্রে মহাযুদ্ধ আরম্ভপ্রায়,
উভয়পক্ষীয় সুসজ্জিত সৈন্যগণ ব্যুগবদ্ধ
হইয়া পস্পন্ন সম্মুখীন, ঘোড়্গণ মহোৎসাহহে
সিঙ্ঘনাদ করিয়া শঙ্খধ্বনি করিলেন-
রণবাদ্য বাজিয়া উঠিল- শস্ত্রসস্পাত
আরম্ভ বইল। তখন অর্জুনের মহানির্বেদ
উপস্থিত । তাঁহার শরীর কাঁপিতে লাগিল,
মুখন শুকাইল, দেহ অবসস্ত্র হইল, হস্ত হইতে
গান্ডব খসিয়া পড়িল। কৃপাবিষ্ট অর্জুনের
মোহভাব কাব্যভুমিকায় নিঃস্বার্থ উদার
করুণ্যসে অনুরঞ্জিত, যেমন চিত্তমোহতেমন
প্রাণস্পর্শী।
ইতি শ্রীমহাভারতে শতসাহস্র্যাং
সংহিতায়াং বৈয়াসিক্যাং ভীষ্মপর্বণি
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাসূপনিষৎসু
ব্রহ্মবিদ্যায়াং যোগশাস্ত্রে
শ্রীকৃষ্ণার্জুনসংবাদে অর্জুনবিষাদযোগো
নাম প্রথমোঽধ্যায়ঃ।
ব্যাসদেব রচিত লক্ষশ্লোকী মহাভারতের
ভীষ্মপর্বের অন্তর্গত শ্রীমদ্ভগবদ্গীতারূপ
উপনিষদে ব্রহ্মবিদ্যাবিষয়ক যোগশাস্ত্রে
শ্রীকৃষ্ণার্জুন-সংবাদে অর্জুনবিষাদযোগ
নামক প্র

Address

Mithapukur
5400

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা:

Shortcuts

Share

Category