10/07/2025
M***i Mizanur Rahman Qasemi
এক বিস্ময়কর ও বহুমাত্রিক ইসলামী ব্যক্তিত্ব
মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী (হাফিজাহুল্লাহ)
> “তাঁর মাঝে যেমন আলেমের প্রজ্ঞা, ইসলামী আইন বিজ্ঞানের গভীরতা, সমাজসেবকের দরদ, তেমনি একজন সংগঠকের বাস্তবতা, একজন নেতার সাহস ও একজন ব্যবসায়ীর দূরদর্শিতা।”
বরগুনার ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে এক প্রিয় ও বিশ্বাসভাজন নাম—মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী। তিনি এমন একজন ব্যতিক্রমধর্মী ও বহুমাত্রিক ইসলামী ব্যক্তিত্ব, যিনি একইসঙ্গে আলেম, মুফতি, মুহাদ্দিস, আদীব, লেখক, গবেষক, শিক্ষক, এবং সফল ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও রাজনৈতিক হিসেবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন।
📚 শৈশব ও শিক্ষা জীবন
তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৮৫ সালের ০২ সেপ্টেম্বর, শনিবার (৪ রবিউল আউয়াল ১৪০৫ হিজরি) বরগুনা সদর উপজেলার বাওয়ালকর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে।
তার পিতা দক্ষিণাঞ্চলের বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব মাওলানা আব্দুল কাদের পীর সাহেব বাওয়ালকর দা.বা.।
শৈশব থেকেই ছিল তাঁর শিক্ষা-দিক্ষার প্রতি গভীর আকর্ষণ এবং দ্বীনদারির অনন্য পরিবেশ।
প্রাথমিক দ্বীনি শিক্ষা লাভ করেন পিতার প্রতিষ্ঠিত বাওয়ালকার ইসলামিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে।
পরে অধ্যয়ন করেন কেওড়াবুনিয়া মাদ্রাসা ও বরগুনা ইসলামিয়া মাদ্রাসাতে।
এরপর ভর্তি হন চরমোনাই’র ঐতিহ্যবাহী জামিয়াতে, যেখানে তিনি নাহবেমীর থেকে কাফিয়া(এইচ এস সি) পর্যন্ত তিন বছর পড়াশোনা করেন।
উচ্চতর শিক্ষার জন্য চলে যান ঢাকায়, ভর্তি হন ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সাত মসজিদ সংলগ্ন জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসায়, সেখানে তিনি জালালাইন (স্নাতক) পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।
এরপর পাড়ি জমান ভারতবর্ষের শ্রেষ্ঠ দ্বীনি বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দে। সেখান থেকে তিনি মেশকাত, দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স ) ও আদব (আরবি ভাষা ও সাহিত্য) বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন।
অবশেষে, তিনি দেশে ফিরে ইসলামিক হায়ার এডুকেশন সেন্টার ( মারকাজুল বহুস আল ইসলামিয়া) ঢাকা মিরপুরে ইফতা বিভাগে (ফতোয়া ও ইসলামী আইন গবেষণার উচ্চতর ডিগ্রি) পাঠ সম্পন্ন করেন।
তাঁর জ্ঞানার্জনের এই ধারাবাহিকতা তাঁকে পরিণত করে একজন প্রাজ্ঞ মুফতি ও গবেষক হিসেবে।
🕌 ইসলামী দাওয়াত, গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রম
বর্তমানে তিনি চরমোনাই জামিয়া’র প্রধান আদীব ও মুফতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
চরমোনাই জামেয়ার দারুল হাদিসসহ অন্যান্য ক্লাসে দীর্ঘ ১৫ বছর দরস প্রদান করে আসছেন।
তাঁর জ্ঞানের গভীরতা, ভাষার সৌন্দর্য ও লেখার শক্তি তাঁকে একজন প্রভাবশালী ইসলামী লেখক হিসেবে পরিচিত করেছে।
দীর্ঘ ১৫ বছর অধ্যাপনার পাশাপাশি
তাঁর নেতৃত্বে প্রকাশিত "আল-কারিম আরবি ম্যাগাজিন" পত্রিকাটি ইসলামপ্রেমী পাঠকমহলে সমাদৃত।
তাঁর রচিত ও সম্পাদিত বহু কিতাব বর্তমানে ছাত্র-ওলামা ও গবেষকদের উপকারে আসছে।
তার লিখিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ২০ টির মত।
এর মধ্যে একটি বৃহত্তর কিতাবের কাজ (যেটি সাত খন্ডে সমাপ্ত হবে প্রতি খন্ডের পৃষ্ঠা পাঁচশত) চলমান রয়েছে
> “আমার কলম শুধু শব্দ লিখে না, তা দ্বীনের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়।” — মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী
🏥 সমাজসেবা ও মানবিক কার্যক্রম
তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক। তাঁর নেতৃত্বে বরগুনা ও বরিশালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দুটি আধুনিক ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিক এবং একটি বৃহৎ প্রাইভেট হাসপাতাল।
অসহায় মানুষের জন্য ফ্রি চিকিৎসা, ওষুধ বিতরণ, ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা সহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তিনি। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি রয়েছে তাঁর ট্রাভেল এজেন্সি, যা হজ-উমরাহসহ আন্তর্জাতিক ট্রাভেল ব্যবস্থাপনায় খ্যাতি অর্জন করেছে।
🕌 প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নেতৃত্ব
তাঁর নেতৃত্বে বরগুনায় পরিচালিত হচ্ছে ৬টি বৃহৎ দ্বীনি মাদ্রাসা, যেগুলোতে শত শত শিক্ষার্থী ইসলামি শিক্ষা অর্জন করছে।
কর্মসংস্থান তৈরিতে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা:
তিনি অসংখ্য প্রতিষ্ঠান তৈরি করে সেখানে শত শত মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন, বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ কাজ করছেন।
তিনি একজন শিল্প উদ্যোক্তা ।
🪭 রাজনীতি ও নেতৃত্ব
তিনি বর্তমানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি এবং জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ-আইম্মাহ পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ)।
২০২৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি, হযরত পীর সাহেব চরমোনাই হাফিজাহুল্লাহ’র নির্দেশে বরগুনা জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকেই বরগুনার মানুষের মাঝে তাঁর নেতৃত্ব আলো ছড়াতে শুরু করে।
রাজপথে তিনি সাহসী কণ্ঠস্বর, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী সৈনিক।
দরিদ্র মানুষের পাশে, কর্মীদের সাথে কাজ করা তাঁর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
জুলাই আন্দোলনের স্বৈরাচার হটাও সংগ্রামে তিনি সরাসরি রাজপথে থেকে নেতৃত্ব প্রদান করেছে, সংগ্রাম করেছেন।
> “রাজনীতি মানেই ক্ষমতার লড়াই নয়, এটা সেবার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।”
🌍 আন্তর্জাতিক দ্বীনি দাওয়াত
বাংলাদেশ ছাড়াও তিনি বহু দেশে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিচ্ছেন। ইসলাম, আখলাক, মানবতা ও তাওহীদের বাণী পৌঁছে দিতে তিনি সবসময় সচেষ্ট।
ইতিমধ্যেই তিনি সৌদি আরব, কাতার, দুবাই, বাহারাইন, ওমান এবং ভারতসহ অসংখ্য দেশ সফর করেছেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার রয়েছে বিশাল পদচারণা, বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের সাথে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
ব্যক্তি জীবনে তিনি
বরিশালের ঐতিহ্যবাহী মাহমুদিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব মাওলানা নেছার উদ্দিন সাহেবের সেজ ছেলে হাফেজ মাওলানা আতাউর রহমান ফারুক সাহেবের বড় মেয়ের সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন
বর্তমানে তিনি চার সন্তানের জনক
★জনআকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বরগুনার সাধারণ মানুষের চাওয়া—এই দয়ালু, সাহসী, জনহিতৈষী ও দায়িত্বশীল এই নেতাকে হাতপাখা প্রতীকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে দেখতে।
> “তিনি আমাদের নেতা হবেন, কারণ তিনি শুধু কথা বলেন না—কাজও করেন।”
এমন একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত সচিব হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।