05/05/2014
নওয়াপাড়া থেকে তিলক পর্যন্ত কেডিএ’র উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা
এ এইচ হিমালয় : খুলনার জন্য ডিটেইল্ড এরিয়া প্লান (ড্যাপ) তৈরির কাজ শেষ করে এনেছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)। ড্যাপে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রস্তাবিত ২৬টি মৌজাসহ উত্তরে নওয়াপাড়া পৌরসভা, দক্ষিণে রূপসার তিলক ও পূর্বে দিঘলিয়ার সেনহাটি-বারাকপুর পর্যন্ত মোট ৭৮টি মৌজা কেডিএ’র উন্নয়ন মহাপরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে ২০২৩ সালের মধ্যে খুলনাকে আধুনিক মেট্রোপলিটন সিটি হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় রূপকল্প তৈরি হচ্ছে। যা’ সরকারের ৩৩টি সংস্থা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবে।
কেডিএ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মাস্টার প্লান এলাকায় ড্যাপ তৈরির জন্য ২০০৯ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু হয়। কাজে ধীরগতির জন্য দুই দফা প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সম্প্রতি এর সারাংশ জমা দিয়েছে পরামর্শক সংস্থা। সব শ্রেণীপেশার মানুষের মতামত নিয়ে এটি চূড়ান্ত করা হবে। খুলনার জন্য ডিটেইল্ড এরিয়া প্লান তৈরি এবারই প্রথম।
প্রস্তাবিত ড্যাপে দেখা গেছে, ২০২৩ সাল নাগাদ খুলনার জনসংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ১৭ লাখে। নতুন এলাকার জন্য তৈরি করতে হবে ১৭১ দশমিক ৫১ কিলোমিটার নতুন সড়ক। নির্মাণের পরিকল্পনায় রয়েছে ৮৩টি প্রাথমিক ও ১৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি করে কলেজ, আলিয়া মাদ্রাসা, টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইন্সটিটিউট ও এতিমখানা। থাকবে দু’টি জেনারেল হাসপাতাল, একটি বিশেষায়িত মানসিক হাসপাতাল ও একটি নার্সিং ট্রেনিং ইন্সটিটিউট। নতুন ১৪টি বাজার, ৩টি মেট্রোপলিটন পার্ক ও ৪টি টাউন সেন্টার নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে ড্যাপে। এগুলোর সুনির্দিষ্ট স্থান, জমির পরিমাণ উল্লেখ করে জমা দেয়া হয়েছে কেডিএতে।
কেডিএ সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে খুলনার তৃতীয় মাস্টার প্লান তৈরি হয়। সিটি বাইপাস সড়ক তৈরির পর পশ্চিম দিকে সম্প্রসারিত হতে থাকে মহানগরী খুলনা। ততদিনে যশোর জেলার নওয়াপাড়াকে কেডিএ’র আওতায় আনার কাজ শুরু হয়। নগরীর অপরিকল্পিত সম্প্রসারণ ও যত্রতত্র নগরায়ণ হতে থাকায় পুরো এলাকাকে উন্নয়ন মহাপরিকল্পনায় আনার উদ্যোগ নেয় কেডিএ। ২০০৯ সালে তৈরি করা হয় ‘খুলনা মাস্টার প্লান এলাকার জন্য ডিটেইল্ড এরিয়া প্লান প্রণয়ন প্রকল্প’। এর ব্যয় ধরা হয় ৬ কোটি ৯ লাখ টাকা। প্রকল্পের পরামর্শক সংস্থা হিসেবে নিয়োগ পায় জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসালটেন্টস এবং ডাটা এক্সপার্টস।
সূত্রটি জানায়, ২০১০ সালের ৩০ অক্টোবর ডিটেইল্ড এরিয়া প্লানের জন্য কাজ শুরু করে পরামর্শক সংস্থা। শুরুতেই গতি হারিয়ে ফেলে তারা। ধীরগতির কাজের জন্য কয়েকদফা তাগাদাপত্র এবং দু’দফা প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সম্প্রতি কেডিএ’র কাছে প্লানের সার সংক্ষেপ জমা দিয়েছেন তারা। এতে ২৩১ কিলোমিটার এলাকার স্ট্যাটেজি প্লান এবং ১৮১ কিলোমিটার এলাকায় ডিটেইল্ড প্লান তৈরি করা হয়েছে।
প্লানে প্রতিটি এলাকার ভূমি ও জনসংখ্যার নির্দিষ্ট জরিপ, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার, ভূমির ব্যবহার এবং উন্নয়ন প্রস্তাবনার ছক ও ১০টি প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলন করে দেয়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায় কাগজে-কলমে থাকায় এর সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা পাচ্ছে না নগরীর মানুষ। তবে প্লানটি সঠিকতা যাচাইয়ে কেসিসির কাউন্সিলর, আওতাধীন এলাকার জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয়দের নিচ্ছে কেডিএ। আগামী ৮ মে খুলনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিক ও নগরীর বিশিষ্টজনদের সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে প্রকল্পের পরিচালক ও কেডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মুজিবর রহমান বলেন, নগরীর পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য ডিটেইল্ড এরিয়া প্লান থাকা আবশ্যক। ইতোমধ্যে পরামর্শক সংস্থা খুলনার জন্য ড্যাপ জমা দিয়েছে। বর্তমানে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। এখন বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় শেষে প্লানটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। সবার মতামত নিয়ে ২০১৪ সালের জুনের মধ্যে এটি চূড়ান্ত করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।