27/10/2026
দোকানে সবার সামনে বাচ্চা কান্না শুরু করলে কী করবেন? 😥
কান্না থামাতে খেলনা কিনে দেবেন, নাকি বকাঝকা করবেন? এর মাঝেও আছে কার্যকর একটা পথ!
বাচ্চার ম্যানার্স সিরিজ | পর্ব ২
দোকানের মাঝখানে বাচ্চা চিৎকার করে কাঁদছে। চারপাশের মানুষ তাকিয়ে আছে। আপনি অস্বস্তিতে পড়ে গেলেন।
এখন কী করবেন—কান্না থামাতে খেলনাটা কিনে দেবেন, নাকি রাগ করে বকাঝকা করবেন?
একটু থামুন। এর মাঝেও একটা পথ আছে।
ধরুন, রাফি বাবার সঙ্গে বাজারে গিয়ে একটা খেলনা চাইল। বাবা বললেন, “আজ খেলনা কিনব না, বাবা।”
রাফি কাঁদতে শুরু করল। বাবা শান্তভাবে বললেন,
“তুমি খেলনাটা খুব পছন্দ করেছ, তাই না? না পেয়ে তোমার মন খারাপ হয়েছে, আমি বুঝতে পারছি। কিন্তু আজ এটা কিনব না বাবা "
রাফি সঙ্গে সঙ্গে শান্ত হলো না। বাবা ধৈর্য ধরে পাশে থাকলেন, সিদ্ধান্তও বদলালেন না।
এখানেই আসল শিক্ষা—সন্তানের কষ্ট বুঝতে হবে, কিন্তু প্রতিটি আবদার পূরণ করতে হবে না।
🧠 কেন এভাবে সামলাবেন?
ছোট শিশুরা ধীরে ধীরে রাগ, হতাশা ও নিজের চাওয়া সামলাতে শেখে। তীব্র কান্নার সময় লম্বা উপদেশের চেয়ে শান্ত থাকা, নিরাপত্তা দেওয়া এবং অনুভূতিটা বুঝিয়ে বলা বেশি কাজে লাগতে পারে।
দোকানে যাওয়ার আগে ও পরে এই ৫টি কাজ করুন—
১. আগেই নিয়ম জানিয়ে দিন।
“আজ আমরা শুধু বাজার করব, খেলনা কিনব না।” এতে শিশুর প্রত্যাশা পরিষ্কার থাকে।এটা ভবিষ্যতে বাচ্চার গোল ঠিক করতে সাহায্য করবে।
২. ক্ষুধা ও ক্লান্তি খেয়াল করুন।
শিশু ক্ষুধার্ত, ঘুমন্ত বা ক্লান্ত হলে জেদ বাড়তে পারে। সম্ভব হলে এমন সময় কেনাকাটা করুন, যখন সে বিশ্রাম পেয়েছে।
৩. অনুভূতি বুঝুন, সিদ্ধান্তে অটল থাকুন।
শিশুর চাওয়া পূরণ না করেও তার কষ্টকে স্বীকার করা যায়। “তুমি খেলনাটা খুব চেয়েছিলে, না পেয়ে মন খারাপ হয়েছে”—এমন কথা শিশুকে অনুভূতি বোঝাতে সাহায্য করতে পারে।
৪. কান্নার সময় বক্তৃতা নয়, শান্ত উপস্থিতি দিন।
নিজে শান্ত থাকুন, শিশুকে নিরাপদ রাখুন। কান্নার জন্য অপমান বা মারধর করবেন না। প্রয়োজনে ভিড় থেকে নিরাপদ, শান্ত জায়গায় যান।
৫. ভালো আচরণের প্রশংসা করুন।
শিশু শান্ত হয়ে নিজের কথা বলতে পারলে বলুন, “তুমি আমাকে শান্তভাবে তোমার কথা বলেছ, এটা আমার ভালো লেগেছে।” শুধু ভুল নয়, ভালো চেষ্টাটাও চোখে পড়তে দিন।
৬. শিশুকে বিকল্পভাবে চাওয়া প্রকাশ করতে শেখান।
শুধু “জেদ করো না” বলবেন না; বরং কীভাবে নিজের চাওয়া বলতে হয়, তা শেখান। যেমন, “বাবা, খেলনাটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে। পরে কি কিনে দিতে পারবে?” শিশুটি এভাবে নিজের কথা বলতে পারলে তার চেষ্টার প্রশংসা করুন। এতে কান্নার বদলে কথা দিয়ে চাওয়া প্রকাশের অভ্যাস গড়ে উঠতে সাহায্য করে।
৭. কান্না নয়, ভালো আচরণে মনোযোগ দিন।
শিশু শান্তভাবে অপেক্ষা করলে, নিজের কথা বলে বোঝালে কিংবা আপনার সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে নির্দিষ্ট করে প্রশংসা করুন। যেমন, “তুমি খেলনাটা চেয়েও আমার সঙ্গে শান্তভাবে কথা বলেছ—এটা খুব ভালো হয়েছে।” আচরণের পরপর এমন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিলে সেই আচরণ আবার করার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
❤️ মনে রাখবেন, শিশুকে শেখানো মানে তাকে কখনো কাঁদতে না দেওয়া নয়। বরং রাগ, কষ্ট ও হতাশার মধ্যেও ধীরে ধীরে নিজেকে সামলাতে শেখানো।
একদিনেই পরিবর্তন আশা করবেন না। একই শিক্ষা বারবার দিতে হতে পারে। আর কান্না যদি নিয়মিত খুব তীব্র হয়, দীর্ঘ সময় চলে বা শিশু নিজেকে আঘাত করে, তাহলে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
📌 আপনার বাচ্চা দোকানে কিছু না পেলে কী করে—কান্না করে, জেদ ধরে, নাকি বুঝিয়ে বললে মেনে নেয়?
কমেন্টে আপনার অভিজ্ঞতা জানান। আপনার অভিজ্ঞতা অন্য অভিভাবকেরও কাজে লাগতে পারে।
পোস্টটি শেয়ার করে অন্য অভিভাবকের পাশে থাকুন। পরের পর্বের জন্য TryBox BD ফলো করে রাখুন।
#বাচ্চারম্যানার্স #প্যারেন্টিং #শিশুরআচরণ #বাংলাপ্যারেন্টিং