18/06/2026
এই যে রিসেন্টলি একটা বিখ্যাত অনলাইন শপে গিয়ে নকল BSTI ব্যবহার করার কারণে তাদেরকে জরিমানা করল, এজন্য আমার ওই পেইজকে যতটা না দায়ী মনে হয়েছে, তার চেয়ে বেশি দায়ী আসলে আমজনতা, ওরফে বাংলাদেশের জনগণ। কারণ বাংলাদেশের মানুষেরই আসলে BSTI কি, কখন কাকে কিভাবে দেয়, এসব বোঝার বা যাচাই করার সক্ষমতা নেই। ফেইসে ফিল্টার দিয়ে হোক বা আর্টিফিশিয়ালি একগাদা মেকাপ করে আজকে আমিও যদি একটা র্যান্ডম ইন্ডিয়ান প্রোডাক্ট হাতে নিয়ে BSTI approved, FDA approved, ISO certified সহ হাবিজাবি নানান ভুজুংভাজুং বলতে থাকি, আর এর প্রমাণ হিসেবে আমার সেই সাদা ফর্সা ফেইসটা দেখাইতে পারি, তাহলে শয়ে শয়ে মানুষ আমার সেই প্রোডাক্টটা কিনবে। যেটা হয়ত আমি নর্মাল মার্কেটিং করে সেল করে আমার মাথার ঘাম পায়ে ফালানো লাগত। বাঙ্গালী যদি হিড়িকে নাচে, তাদের যদি মিনিমাম কমন সেন্স না থাকে, তাহলে একা BSTI আর ভোক্তা অধিদপ্তর কয়টা প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা করবে?
আরও হাস্যকর ব্যাপার হচ্ছে, বাংলাদেশের হোয়াইটেনিং প্রোডাক্ট সেলার রা নিজেরাই সাফাই গাইতে থাকেন, এই প্রোডাক্ট একদম ক্ষতিকর কেমিক্যাল মুক্ত, কোনোরকম স্কিনের ড্যামেজ ছাড়াই আপনার স্কিনকে ৩-৪ শেড ফর্সা করবে/ওজন কমাবে/ব্রণ কমাবে/স্কিনকে ব্রাইট টাইট করবে। আচ্ছা, ৭ দিনের মধ্যে কোনো প্রোডাক্ট যদি স্কিনকে ৩-৪ শেড ফর্সা করে সেই প্রোডাক্ট ক্ষতিকর না হয়ে কি খুব সুখকর হবে?? মানুষ সেই কথা আবার বিশ্বাস ও করে।
আজকে র্যান্ডমলি হঠাৎ সেই পেইজে ঘুরে গিয়ে দেখি ওরা এখনো ক্যাপশনে BSTI approved লিখে রেখেছে। তার কারণ আসলে এই লক্ষ টাকা জরিমানা ওদের কাছে কিছুই না। যে পরিমাণে প্রোডাক্ট তারা সেল করে, তাতে এক লক্ষ টাকা উঠে আসা মামুলি ব্যাপার। কারণ তারা তো প্রোডাক্ট বেচে না, বাঙ্গালীরা তাদের ব্রেইন, ইমোশন আর insecurity ওদের কাছে বেচে দিয়ে আসে। ওরা সেটা কিনে, আর লাখপতি হয়।