20/11/2021
অহংকার।।। এই রোগটি অত্যন্ত ভয়ানক । শয়তানকে এই রোগই বিতাড়িত করেছে । এজন্য সে নিজের উপর পরীক্ষিত বিষয়টি নিশ্চিতরূপে মানুষের উপর ব্যবহার করে থাকে । পথভ্রষ্ট করার ক্ষেত্রে সে তাতে অনেক উপকার পেয়েছে । এই রোগটি সন্তানকে পিতার সাথে , শাগরিদকে উস্তাদের সাথে , মুরিদকে পীরের সাথে এবং বান্দাকে আল্লাহ তা'আলার সাথে লড়াই করার প্রতি উত্তেজিত করে । শয়তান এই রোগের কারণেই ধ্বংস হয়েছে । এ জন্য বুযুর্গানেদ্বীন স্বীয় বন্ধু বান্ধব ও খাদেমকে এই রোগ থেকে বাঁচানোর অনেক বেশি সতর্কতার সাথে চেষ্টা করে থাকেন । এই রোগের কারণে মানুষ ইলম , ইবাদত , দ্বীনদারী , সম্পদ , ইজ্জত , জ্ঞান ইত্যাদির দিক দিয়ে অন্যের তুলনায় নিজেকে উত্তম ও বড় মনে করে । আর অন্যকে তুচ্ছ মনে করে । এমন লোকদেরকে মানুষ ঘৃণা করে । যদিও তার সম্মুখে প্রশংসা করে । এমন লোক কারো নসীহত গ্রহণ করে না । বরং নসীহতকারীর সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হয় । সঠিক কথা কেউ বললেও তা গ্রহণ করে না । অহংকারের বাস্তবতা সম্পর্কে হাদীস শরীফে এই বিষয়টি বর্ণিত আছে
১। লোকদেরকে তুচ্ছ মনে করা।
২। হক কথা গ্রহণ না করা ।
এই দুটি আলামত যার মাঝে বিদ্যমান থাকবে তার জন্য উচিত হলো , উক্ত রোগের চিকিৎসা করা । অন্যথায় সমস্ত নেকী ধ্বংস হয়ে মাটির সাথে মিশে । যাবে । হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে , যার অন্তরে সরিষা পরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না । আর জান্নাতে প্রবেশ করা তো অনেক দূরের কথা । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্যত্র ইরশাদ করেছেন , যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার জন্য বিনয়ী হবে আল্লাহ তা'আলা তাকে লোকদের মাঝে উঁচু মর্যাদা দান করবেন । যদিও সে নিজেকে অযোগ্য মনে করে । আর যে ব্যক্তি অহংকার করে আল্লাহ তা'আলা তাকে লাঞ্ছিত করে দেন । এমনকি অহংকারী ব্যক্তি লোকদের মাঝে কুকুর ও শূকর থেকেও ঘৃণিত হয়ে যায়।
যদি অহংকারী ব্যক্তি কাউকে তুচ্ছ মনে না করে , বরং শুধু নিজেকে বড় মনে করে এবং নিজের যোগ্যতাকে বড় মনে করে । ইজ্জত সম্মান , রূপ সৌন্দর্য , ধন দৌলত ইত্যাদি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশংকা না করে , তাহলে এর নাম উযব। শরীয়তে তাকাব্বুর ও উযব দুনোটা হারাম । হযরত থানবী রহ . কামালাতে আশরাফিয়ার মাঝে লিখেছেন , যখন বান্দা নিজের দৃষ্টিতে খারাপ ও তুচ্ছ হয়ে যায় , তখন আল্লাহর দৃষ্টিতে সে ভালো হয়ে যায় । আর যখন সে নিজের দৃষ্টিতে ভালো হয় , তখন সে আল্লাহর দৃষ্টিতে খারাপ হয়ে যায় ।
আত্মার ব্যাধি ও প্রতিকার
হযরত মওলানা শাহ হাকীম মুহাম্মদ আখতার রহ.