29/06/2015
ভালবাসার জন্য বেচেঁ থাকা.
-কেমন আছো?
-ভালো,তুমি?
-আমিও ভাল,কি করছ?
-এইতো শুয়ে পড়লাম,তুমি?
-চাদ দেখি,,ডিনার করছো?
-হুম করেছি,তুমি করেছো?
-নাহ,,একটু পরে করবো।
-কেন?,প্রায় বারটা বাজে করো নাই কেন?
-উম।
-যাও কর,,
-হুম,করব তো,,একটু পরে করি,,
-কেন পরে করবা?এখনি করবা,যাও খাও !
-সারাদিনে এই আধাঘন্টা কথা বলার সময় হয় তাও যদি খেয়ে নষ্ট করি তাহলে কিভাবে হবে বল?
আবিরের এ প্রশ্নের উত্তর নীলিমার কাছে নেই।কি বলবে নীলিমা তাও ভেবে পাচ্ছেনা,,
নীলিমার সাড়া না পেয়ে আবির ফোনের ওপাশ থেকে আবার বলল,
-আছো তুমি?
-হুম, বলো
-কি ভাবছ?
-কিছু না তো,,
-তুমি তোমার বাসার ছাদে উঠতে পারবে এখন ?
-কেন,,এত রাত্রে?
-জানো,আজ পূর্ণিমা।খুব সুন্দর চাদ উঠেছে,সারা আকাশ জোছনায় ভরে গেছে।
-আচ্ছা যাচ্ছি।৫ মিনিট পর ফোন দিচ্ছি।
-হুম।
আবির নীলিমার কাছ থেকে অনেক দূরে থাকে। নীলিমা ছাদে উঠল কি না তা আবীর কখনই দেখতে পারবেনা।
নীলিমা যদি বিছানায় শুয়ে শুয়েই বলে,, ও ছাদে চলে এসেছে আর চাদ দেখছে তাই বিশ্বাস্ করে নিবে আবীর।
কিন্তু নীলিমা ছাদে এসেছে । নিজেকে ঠকাতে পারে ও কিন্তু আবীর কে নয়।কিছু সম্পর্ক বিশ্বাস্ এর উপর টিকে থাকে,নীলিমা আর আবিরের সম্পর্ক ও ঠিক তেমন।
সত্যি খুব সুন্দর চাদ উঠেছে আকাশে ।ছাদ টাকে মনে হচ্ছে জোছনার পুকুর।
-দেখলা আকাশ?(আবীর)
-হুম দেখেছি,(নীলিমা)
-কেমন লাগলো?
-খুব সুন্দর,,,
-একটা মজার ব্যাপার কি জান?
-নাতো
-তুমি আর আমি একই আকাশের নিচে বসে একই চাদ দেখছি আর একই জোছনা গায়ে মাখছি।
-হুম,,
-কিন্তু তবুও তুমি দূরে,অনেক দূরে
-উম,,
-আচ্ছা,দেখা করবা কাল?
-কেন?
-তিন মাস হয়ে গেল,দেখিনা তোমায়।
-কি বল , এত তাড়াতাড়ি তিন মাস হয়ে গেছে।দিন গুলো খুব তাড়াতাড়ি যাচ্ছে,বুঝতেই পারিনি,,
-হুম, দুদিন কম তিন মাস।
-নাহ হবেনা হয়ত,,কাল ক্লাস আছে।
-আচ্ছা,পরশু পারবে,
-হুম,পরশুদিন সকালে। শুধু আধাঘন্টার জন্য।পরে আবার কোচিং আছে।
-শুধু আধাঘন্টা?
-হুম,,
-আচ্ছা,তাতেই হবে।
-আচ্ছা,,,এত দূর থেকে আসবা দেখা করতে,?
-হুম,তুমি চাওনা দেখা করি !
-হুম চাইতো।কিন্তু তোমার কষ্ট হবে।
-একটু তো হবেই,কোন ব্যাপার না।
-হুম
-ভালবাস?
-...................
-বল?
-..........উম
-জানো,নিরবতা ভালবাসা বাড়ায়,,
-হুম,
-দেখ আকাশ টা কত নিরব,,
-আচ্ছা,রাখি।কাল ক্লাস আছে সকালে,,
-আচ্ছা, ভাল থেকো।
-তুমিও,,শুভ রাত্রি। কিছু খেয়ে ঘুমাও,
-হুম।
কল টা কেটে দিল নীলিমা,এখনো ফোন টা কানেই ধরে আছে আবীর।মনে হচ্ছে এখনো নীলিমা বলেই যাচ্ছে।
নীলিমা কখনোই চায়না,আবীরের কল কাটতে।শুধু শুনতে চায় আবীরের কথা কিন্তু তা সম্ভব নয়।নীলিমা চাইলে সারারাত আবীর না খেয়েই বলে যেতে পারবে কিন্তু নীলিমা তা সহ্য করতে পারবেনা।ভালবাসে যে পারবে কী করে তা।
আবীর ভাবছে নীলিমা কি বদলাচ্ছে,,নাহ নীলিমা বদলাচ্ছে না ভালবাসা বদলাচ্ছে।ভালবাস
া টা আরো দামী হয়ে উঠছে এ ভালবাসা অতি সহজে বিক্রি হবেনা।
ভালবাসা এখানেও আছে,,পবিত্র ভালবাসা।তিন মাসে একবার দেখা হয়,তবুও এখানে ভালবাসার কমতি নেই।সারাদিনে একটু কথা হয় তবু এতে সামান্য মিথ্যা নেই।যতই দূরে থাকুক ভালবাসা কাছে নিয়ে আসে ওদের।
প্রতিদিন দেখা করা,,ফাস্টফুডের দোকানে রোজ খাওয়া দাওয়া করা,শপিং করা,,ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলা ,, আর নিজের শরীরকে লিটনের ফ্লাটে উজার করে দিলেই ভালবাসা প্রকাশ পায়না।তুমি সুখের আবেশে যে চিতকার কর,তা শুনে ভালবাসা ঘৃণা প্রকাশ করে,আর বলে এটাতো ভালবাসা নয়।
ভালবাসার আরেক নাম অপেক্ষা,,ভালবাসায় যারা যত অপেক্ষা করে মিলনের জন্য বা এক হওয়ার জন্য তাদের মিলন তত টাই মধুর হয়।
নীলিমা আর আবীর তাদের দলে যারা ভালবাসাকে সম্মান করে,ভালবাসার জন্য বেচে আছে অথবা দূরে আছে।
দুজনের কেউ হয়ত রাত্রে ঘুমাতেই পারবেনা,,কেউ হয়ত ছাদ থেকেই নামতে পারবেনা।
ফোনে এক জন আরেক জনের নাম্বার তুলে ডায়াল করার আগ মুহূর্তে আবার মুছে দিবে।এতেই তারা সুখ খুজে নিবে।এভাবেই সত্যিকারের ভালবাসা বেচে থাকবে।থাকুক তাদের ভালবাসা বেচেঁ যারা ভালবাসার জন্য বাচেঁ।...
-নাহিদ পারভেজ নয়ন