11/07/2024
নাবী মুহাম্মাদ (ﷺ) এর বলা কথা, কাজ, সম্মতি, অসম্মতি সবই হাদীস অন্তর্ভুক্ত। হাদীসের কিতাবসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো সহীহুল বুখারী যা আল-কুরআনের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ হিসেবে মুসলিমদের মাঝে প্রতিষ্ঠিত। এর প্রতিটি হাদীস সহীহ হওয়ার ব্যাপারে আলিমদের ভিতর দ্বিমত নেই। মুসলিম মাত্রই নাবী মুহাম্মাদ (ﷺ) এর জীবনাচার, তাঁর মুখ নিঃসৃত বাণী জেনে রাখা জরুরী। তাই সহীহুল বুখারী গ্রন্থটি সম্পূর্ণ বা এক বা দুই কপি হলেও আমাদের সকলের ঘরে থাকা চাই।
তাওহীদ পাবলিকেশন্সের সহীহুল বুখারী বাংলাদেশে প্রথমবারের মত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হাদীস নম্বর ও অন্যান্য বহুবিধ বৈশিষ্ট্যসহ সহীহুল বুখারীর বঙ্গানুবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। শুধু তাই নয়, তখন বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল এই সহীহুল বুখারী প্রকাশনার মধ্যে যা সে পর্যন্ত প্রকাশিত সহীহুল বুখারীর বঙ্গানুবাদে ছিল না। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হলো:
১। আল-মু'জামুল মুফাহরাস লি আলফাযিল হাদীস হচ্ছে একটি বিস্ময়কর হাদীস-অভিধান গ্রন্থ। গ্রন্থটিতে আরবী বর্ণমালার ধারা অনুযায়ী কুতুবুত তিস'আহ্ (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, আবূ দাউদ, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ, মুসনাদ আহমাদ, মুয়াত্তা ইমাম মালিক, দারেমী) নয়টি হাদীসগ্রন্থের শব্দ আনা হয়েছে। যে কোন শব্দের পাশে সেটি কোন কোন হাদীসগ্রন্থে এবং কোন পর্বে বা কোন অধ্যায়ে আছে তা উল্লেখ রয়েছে।
আমাদের দেশে এ গ্রন্থটি অতটা পরিচিতি লাভ না করলেও বিজ্ঞ আলিমগণ এটির সাথে খুবই পরিচিত। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদীস বিভাগের ছাত্র শিক্ষক সবার নিকট বেশ সমাদৃত। অত্র গ্রন্থের হাদীসগুলো আল মু'জামুল মুফাইরাসের ক্রমধারা অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। যার ফলে অন্যান্য প্রকাশনার হাদীসের নম্বরের সাথে এর নম্বরের মিল পাওয়া যাবে না। আর এর সর্বমোট হাদীস সংখ্যা হবে ৭৫৬৩ টি। আধুনিক প্রকাশনীর হাদীস সংখ্যা হচ্ছে ৭০৪২টি। আর ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের হাদীস সংখ্যা হচ্ছে ৬৯৪০ টি।
২। যে সব হাদীস একাধিকবার উল্লেখ হয়েছে অথবা হাদীসের অংশ বিশেষের সঙ্গে মিল রয়েছে সেগুলোর প্রতিটি হাদীসের শেষে পূর্বোল্লিখিত ও পরোল্লিখিত হাদীসের নম্বর যোগ করা হয়েছে। যার ফলে একটি হাদীস বুখারীর কত জায়গায় উল্লেখ আছে বা সে বিষয়ের হাদীস কত জায়গায় রয়েছে তা সহজেই জানা যাবে। আর একই বিষয়ের উপর যাঁরা হাদীস অনুসন্ধান করবেন তাঁরা খুব সহজেই বিষয়ভিত্তিক হাদীসগুলো বের করতে পারবেন। যেমন: ১০০১ নং হাদীস শেষে বন্ধনীর মধ্যে রয়েছে: (১০০২, ১০০৩, ১৩০০, ২৮০১, ২৮১৪, ৩৯৬৪, ৩১৭০, ৪০৮৮, ৪০৮৯, ৪০৯০, ৪০৯১, ৪০৯২, ৪০৯৪, ৪০৯৫, ৪০৯৬, ৬৩৯৪, ৭৩৪১) বন্ধনীর হাদীস নম্বরগুলোর মধ্যে ১০০১ নং হাদীসে উল্লিখিত বিষয়ে আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ আলোচনা পাওয়া যাবে।
৩। বুখারীর কোন হাদীসের সঙ্গে সহীহ্ মুসলিমে কোন হাদীসের মিল থাকলে মুসলিমের পর্ব অধ্যায় ও হাদীস নম্বর প্রতিটি হাদীসের শেষে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন: ১০০১ নং হাদীস শেষে বন্ধনীর মধ্যে রয়েছে: (মুসলিম ৫/৫৪ হাঃ ৬৭৭) অর্থাৎ পর্ব নম্বর ৫. অধ্যায় নং ৫৪, হাদাস নম্বর ৬৭৭। সহীহ মুসলিমের হাদীসের যে নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে তা মু'জামুল মুফাহরাসের নম্বর তথা ফুয়াদ আবদুল বাকী নির্ণিত নম্বরের সঙ্গে মিলবে।
৪ । বুখারীর কোন হাদীস যদি মুসনাদ আহমাদের সঙ্গে মিলে তাহলে মুসনাদ আহমাদের হাদাস নম্বর সেই হাদীসের শেষে যোগ করা হয়েছে। যেমন: ১০০১ নং হাদীস শেষে বন্ধনীর মধ্যে রয়েছে: (আহমাদ ১৩৬০২) এটির নম্বর এহইয়াউত তুরাস আল-ইসলামীর নম্বরের সঙ্গে মিলবে
৫। আমাদের দেশে মুদ্রিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও আধুনিক প্রকাশনীর হাদীসের ক্রমিক নম্বরে অমিল রয়েছে। তাই প্রতিটি হাদীসের বন্ধনীর মাধ্যমে সে দুটি প্রকাশনার হাদীস নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন: ১০০১ নং হাদাস শেষে বন্ধনীর মধ্যে রয়েছে: (আ.প্র. ৯৪২. ই.ফা. ৯৪৭) অর্থাৎ আধুনিক প্রকাশনীর হাদীস নং ৯৪২, আর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হাদীস নং ৯৪৭।
৬। প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে (অনুচ্ছেদ) ক্রমিক নং এর সঙ্গে কিতাবের (পর্ব)নম্বরও যুক্ত থাকবে যার ফলে সহজেই বোঝা যাবে এটি কত নম্বর কিতাবের কত নম্বর অধ্যায়। যেমন: ১০০১ নং হাদীসের পূর্বে একটি অনুচ্ছেদ রয়েছে যার নম্বর ১৪/৭ অধ্যায়: অর্থাৎ ১৪ নং পর্বের ৭ নং অধ্যায়।
৭। যারা সহীহ বুখারীর অনুবাদ করতে গিয়ে সহীহ্ হাদীসকে ধামাচাপা দিয়ে যঈফ হাদীসকে প্রাধান্য দেয়ার জন্য বা মাযহাবী অন্ধ তাকলীদের কারণে লম্বা লম্বা টীকা লিখেছেন তাদের সে টীকার দলীল ভিত্তিক জবাব দেয়া হয়েছে।
৮। আরবী নামের বিকৃত বাংলা উচ্চারণ রোধকল্পে প্রায় প্রতিটি আরবী শব্দের বিশুদ্ধ বাংলা উচ্চারণের চেষ্টা করা হয়েছে। যেমন: আয়েশা এর পরিবর্তে ‘আয়িশাহ্, জুম্মা এর পরিবর্তে জুমু'আহ, নবী এর পরিবর্তে নাবী, রাসূল এর পরিবর্তে রসূল, মক্কা এর পরিবর্তে মাক্কাহ, ইবনে এর পরিবর্তে ইবনু, উম্মে সালমা এর পরিবর্তে উম্মু সালামাহ, নামায এর পরিবর্তে সলাত ইত্যাদি ইত্যাদি প্রচলিত বানানে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে।
৯। সাধারণের পাশাপাশি আলিমগণও যেন এর থেকে উপকৃত হতে পারেন সে জন্য অধ্যায় ভিত্তিক বাংলা সূচি নির্দেশিকার পাশাপাশি আরবী সূচী উল্লেখ করা হয়েছে।
১০। বুখারীর যত জায়গায় কুরআনের আয়াত এসেছে এমনকি আয়াতের একটি শব্দ আসলেও সেটির সূরার নাম, আয়াত নম্বর উল্লেখ করা।
১১ । ইনশাআল্লাহ সমৃদ্ধশালী অধ্যায়ভিত্তিক সূচী নির্দেশিকাসহ প্রতিটি খণ্ডে থাকবে সংক্ষিপ্ত পর্বভিত্তিক বিশেষ সূচী নির্দেশিকা। এতে কোন পর্বে কতটি অধ্যায় ও কতটি হাদীস রয়েছে তা সংক্ষিপ্তভাবে জানা যাবে।
১২। হাদীসে কুদসী চিহ্নিত করে হাদীসের নম্বর উল্লেখ।
১৩। মুতাওয়াতির, মারফূ, মাওকূফ ও মাকতূ হাদীস নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। ফলে সে হাদীসগুলোকে সহজেই চিহ্নিত করা যাবে।
১৪। প্রতিটি খণ্ডের শেষে পরবর্তী খণ্ডের কিতাব/পর্বভিত্তিক সূচি নির্দেশিকা উল্লেখ করা হয়েছে।
--------------------------------------------------
বই: সহীহুল বুখারী (১-৬ খণ্ড ফুল সেট) (বঙ্গানুবাদ)
মূল: শাইখ ইমামুল হুজ্জাহ আবু ‘আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল বিন ইবরাহীম বিন মুগীরাহ্ আল বুখারী আল-জু’ফী
আরবী সম্পাদনা: ফাযীলাতুশ্ শাইখ সিদকী জামীল আল-আত্তার (বৈরুত)
বাংলা সম্পাদনা: সম্পাদনা পরিষদ কর্তৃক সম্পাদিত
উপদেষ্টা পরিষদ:
শাইখুল হাদীস আল্লামা আহমাদুল্লাহ রাহমানী (রাজশাহী)
সাবেক প্রিন্সিপ্যাল- মাদ্রাসা মুহাম্মাদীয়া আরাবীয়া, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।
শাইখুল হাদীস আব্দুল খালেক সালাফী
প্রাক্তন প্রিন্সিপ্যাল- মাদরাসা মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।
ড. অধ্যাপক শাইখ ইলিয়াস আলী
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ- ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক।
শাইখুল হাদীস মুস্তফা বিন বাহরুদ্দীন আল-কাসেমী
ফাযেলে দেওবন্দ, ভারত, হেড মুহাদ্দিস- মাদরাসা মুহাম্মাদীয়া আরাবীয়া, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।
সম্পাদনা পরিষদ:
শাইখ আকরামুজ্জামান বিন আব্দুস সালাম, লিসান্স- মাদীনাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
বিভাগীয় পরিচালক, দা'ওয়াহ ও শিক্ষা বিভাগ।
রিভাইভ্যাল অব ইসলামিক হেরিটেজ সোসাইটি-কুয়েত, বাংলাদেশ অফিস।
ডক্টর আব্দুল্লাহ ফারূক, পি.এইচ.ডি- আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়, ভারত।
সহযোগী অধ্যাপক- আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।
শাইখ আকমাল হুসাইন বিন বদীউযযামান,লিসান্স- মাদীনাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
এম এ. (এ্যারাবিক) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রভাষক- উচ্চ শিক্ষা ইনস্টিটিউট, উত্তরা, ঢাকা।
পরিচালনায়: ইসলামী ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংস্থা, কুয়েত।
ডক্টর মুহাম্মাদ মুসলেহউদ্দীন
পি.এইচ.ডি- আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়, ভারত।
সহযোগী অধ্যাপক- আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম
শাইখ মোশাররফ হুসাইন আকন্দ।
সাবেক ভাষ্যকার, বাংলাদেশ বেতার
দাঈ, রিভাইভ্যাল অব ইসলামিক হেরিটেজ সোসাইটি-কুয়েত, বাংলাদেশ অফিস।
শাইখ ফাইযুর রহমান
ডি.এইচ, এম.এম, ঢাকা, কামিল ফার্স্ট ক্লাশ, সহকারী শিক্ষক- বগুড়া সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
শাইখ মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ
এম.এম, অনার্স, কিং সউদ ইউনিভার্সিটি, রিয়াদ, সউদী আরব, এম.এ (দারুল ইহসান) ঢাকা।
শাইখ আবদুল্লাহ আল-মাসউদ বিন আজীজুল হক, লিসান্স- মাদীনাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
শিক্ষা অফিসার, রিভাইভ্যাল অব ইসলামিক হেরিটেজ সোসাইটি-কুয়েত।
শাইখ মুহাম্মাদ নোমান বগুড়া, দাওরা হাদীস (ভারত)।
মুহাদ্দিস- মাদ্রাসা মুহাম্মাদীয়া আরাবীয়া, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।
শাইখ হাফেয মুহাম্মাদ আনিসুর রহমান, লিসান্স- মাদীনাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
শাইখ আমানুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ ইসমাঈল, লিসান্স- মাদীনাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
দাঈ ও গবেষক, রিভাইভ্যাল অব ইসলামিক হেরি. সো.-কুয়েত বাংলাদেশ অফিস, দা'ওয়াহ ও শিক্ষা বিভাগ।
শাইখ মুহাম্মাদ মানসুরুল হক আর রিয়াদী
এম. এ. মুহাম্মাদ ইবনু সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, রিয়াদ, সউদী আরব।
হেড মুহাদ্দিস- মাদরাসাতুল হাদীস, ঢাকা।
শাইখ হাফেয মুহাম্মাদ আবদুস সামাদ লিসান্স- মাদীনাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, এম এ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
অধ্যাপক মোহাম্মাদ মোজাম্মেল হক প্রবীণ সাহিত্যিক, গবেষক ও লেখক।
শাইখ খলীলুর রহমান বিন ফাযলুর রহমান
ডি.এইচ, এম.এম, এ, ঢাকা,বিশিষ্ট গবেষক, লেখক ও অনুবাদক।
অধ্যাপক মুহাম্মাদ মুফাসসিরুল ইসলাম ধীপুর ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা টঙ্গিবাড়ী, মুন্সিগঞ্জ।
শাইখ মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ
লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সউদী আরব।
প্রকাশনায়: তাওহীদ পাবলিকেশন্স
কভার: হার্ড কভার
মুদ্রিত মূল্য: ৳৪৭৮০
বিক্রয় মূল্য: ৳২৭২৫
--------------------------------------------------
#সহীহুলবুখারী
#বুখারী