12/06/2024
মিসওয়াক প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় একটি সুন্নত। অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত এটি। আল্লাহ তাআলার নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
السِّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ، مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ.
মিসওয়াক মুখের পবিত্রতা, রবের সন্তুষ্টির মাধ্যম। -সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ২৮৯; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস ১৩৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ১০৬৭
মিসওয়াক ইসলামের উন্নত রুচি ও পরিচ্ছন্নতার পরিচায়ক। মুমিনের ভেতরটা যেমন স্বচ্ছ ও কলুষতামুক্ত থাকবে তেমনি তার বাহিরও হবে সুন্দর ও পরিপাটি, পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন। সবধরনের কদর্যতা ও মন্দ স্বভাবমুক্ত।
পাক-পবিত্রতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মুমিনের অনন্য ও স্বভাবজাত রুচি-বৈশিষ্ট্যের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। হাদীস শরীফে এসেছে-
عَشْرٌ مِنَ الْفِطْرَةِ: قَصُّ الشَّارِبِ، وَإِعْفَاءُ اللِّحْيَةِ، وَالسِّوَاكُ...
দশটি বিষয় স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত। মোচ খাটো করা, দাড়ি লম্বা রাখা, মিসওয়াক করা...। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৬১
উক্ত হাদীসে মিসওয়াককে স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য ও গুণের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্বভাবজাত বিষয় তো এমন, যা জীবনের সাথে মিশে থাকে। যা ছুটে যাওয়ার মত নয়।
সাধারণ দৃষ্টিতে মনে হতে পারে, মিসওয়াক একটি ছোট আমল। কিন্তু প্রতিদান কত বড়- আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি। এর চেয়ে বড় পুরস্কার আর কী হতে পারে মুমিনের জীবনে?
আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টিই তো মুমিনের সবচেয়ে বড় চাওয়া ও পরম পাওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَ رِضْوَانٌ مِّنَ اللّٰهِ اَكْبَرُ.
আর আল্লাহর সন্তুষ্টি সবচেয়ে বড় বিষয়। -সূরা তাওবা (৯) : ৭২
যার প্রতি মালিক সন্তুষ্ট, দুনিয়া-আখেরাত উভয় জাহানের কল্যাণই তো তার সাধিত হয়ে গেল। কিন্তু আফসোসের বিষয় হল, এত সহজসাধ্য ও মূল্যবান সুন্নতটি আমাদের কারো কারো জীবনে অবহেলিত। বলতে গেলে আমভাবেই মিসওয়াকের সুন্নতটি আমাদের থেকে ছুটে যাচ্ছে।
অনেক নামাযী আছেন, যারা মিসওয়াক যে অযুর সময়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত- তা-ই জানেন না। আরেক শ্রেণি এ সুন্নতের গুরুত্ব জানেন ঠিকই, কিন্তু আমলের ক্ষেত্রে তাদের বেশ অবহেলা লক্ষ করা যায়।
অথচ মিসওয়াকের গুরুত্ব কী অপরিসীম তা হাদীস এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাস্তব আমল থেকে আমরা সহজেই অনুধাবন করতে পারি।
ওয়াসিলা ইবনুল আসকা রা. হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
أُمِرْتُ بِالسِّوَاكِ حَتَّى خَشِيتُ أَنْ يُكْتَبَ عَلَيَّ.
আমাকে মিসওয়াকের আদেশ দেয়া হয়েছে। আমার আশঙ্কা হতে লাগল, না জানি তা আমার উপর ফরয করে দেয়া হয়। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৬০০৭