27/04/2024
গরমে স্যালাইন নাকি পানি পান করবেন?
Okay... Lets Talk... গরমে ঘামছেন, তৃষ্ণা পাচ্ছে-
এসময় আমাদের একমাত্র টার্গেট হবে- পানির ঘাটতি পূরণ করা (লবণ নয়)।
পানি হিসেবে পরিষ্কার-নিরাপদ-বিশুদ্ধ পানি খাবেন। বাসায়-স্কুলে-ভার্সিটিতে-অফিসে-দোকানে-বোতলে সবখানে পানি পাবেন।
লবণ কেন টার্গেট হবে না?
-গরমে যে পরিমাণ ঘামি, সেই পরিমাণ লবণ আমরা খাদ্য (ভাত-তরকারি-ফল-সব্জি) থেকেই পাই। আলাদা করে স্যালাইন খেলে দেহে লবণের আধিক্য দেখা দিবে।
স্যালাইন খাচ্ছেন কেন?
-আপনার হয়তো ক্লান্তি-দূর্বলতা বোধ হচ্ছে, মাথা ভার কিংবা শরীর ম্যাজম্যাজ করছে, আপনি স্যালাইন খেলেন। তাৎক্ষণিক মনে হবে- ভালোই লাগছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আপনার আগের অবস্থাগুলো আরো বেশি প্রকট হবে। কমাতে গিয়ে বাড়িয়ে ফেললেন।
লবণ বা স্যালাইন নিয়ে রেফারেন্সযুক্ত কথা আছে?
মানুষের প্রতিদিন গড়ে লবণের প্রয়োজন মাত্র ৫/৬ গ্রামের কম।
সেখানে মানুষ প্রতিদিন গড়ে ৮-১০ গ্রাম লবণ খায় (বাংলাদেশে স্পেসিফিক রিসার্চ পেপার পাইনি। ইন্ডিয়ান পেয়েছি)।
এদিকে SMC এর একটি ওরস্যালাইনে-
ক) সোডিয়াম ক্লোরাইড (লবণ) : ১.৩০ গ্রাম।
খ) পটাশিয়াম ক্লোরাইড (লবণ) : ০.৬০ গ্রাম।
গ) ট্রাইসোডিয়াম সাইট্রেট ডিহাইড্রেট (ট্রাইবেসিক সল্ট) : ১.৪৫ গ্রাম (ডিরেক্টলি হাইপ্রেশার ঘটায় না। স্যালাইনকে টেস্টই / অ্যাডিক্টিভ করে। সাদা পাউডারের মতো। নোনতা স্বাদ)।
খেয়াল করুন- এমনিতেই আমরা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ লবণ দৈনিক খাচ্ছি, পাশাপাশি প্রতি স্যালাইনে থাকা ২ গ্রাম করে অতিরিক্ত লবণ খাচ্ছি। বিষে বিশে বিষাক্ত!
স্যালাইন কীভাবে ক্ষতি করে?
-স্পেসিফিক মেডিকেল ইস্যু না থাকলে (ডায়রিয়া / কলেরা ইত্যাদি) স্যালাইন খাবেন না। স্যালাইন খেলে পরিপাকনালীতে লবণের পরিমাণ বাড়বে।
পরিপাক নালি থেকে লবণ চলে যাবে- রক্তে।
রক্তে লবণ বাড়লে কী হবে?
লবণ স্বভাবে পানি-আকর্ষী। আপনার তৃষ্ণা বোধ হবে। আপনি আরো পানি খাবেন।
কিংবা আপনার দেহের বিভিন্ন স্থানের পানিকে টেনে রক্তে আনবে।
এরপর...?
রক্তে পানি বাড়লে রক্তের আয়তন বৃদ্ধি পাবে। হৃদপিণ্ড এই অতিরিক্ত আয়তন সামলাতে অসুবিধায় পড়বে। জোরে জোরে প্রেশার দিয়ে পাম্প করা শুরু করবে।
হৃদপিণ্ডের অতিরিক্ত প্রেশার কিংবা রক্তনালীর বেশি আয়তনের রক্ত আপনার রক্তচাপ ‘সাময়িক’ বৃদ্ধি করবে।
আপনি নিয়মিত স্যালাইন খাচ্ছেন, আপনার রক্তচাপ নিয়মিত বেড়ে থাকবে। একটা সময় আপনার দেহ সেটাকেই স্বাভাবিক চাপ হিসেবে ভেবে নিবে। সেই চাপটাকে কন্টিনিউ করবে। তার মানে- এখন আপনার রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকবে ‘সর্বদা’।
আরেকটা কঠিন বিষয় সহজ করে বলি-
স্যালাইনে থাকা সোডিয়াম আয়ন রক্তের সোডিয়ামের পরিমাণ বৃদ্ধি করবে।
অতিরিক্ত সোডিয়াম রক্তনালীকে Stiff করবে (শক্ত)।
মানে রক্তনালীর যে সঙ্কোচন প্রসারণ ক্ষমতা ছিল (Elasticity), সেইটা কমিয়ে ফেলবে।
রক্তনালির ইলাস্টিসিটি কমলে কী হবে?
স্যালাইন খেয়ে সোডিয়াম ও পানি যে রক্তে বাড়ল, সেই অতিরিক্ত রক্তগুলো আর নিজেদের যথেষ্ট স্থান পাবে না (রক্তনালী প্রসারিত হবে না), এরা রক্তনালীর গায়ে চাপ দিয়ে হলেও থাকার / প্রবাহিত হবার চেষ্টা করবে।
কাজের কাজ কিছু হবে না। রক্তনালীকে প্রসারিত তো হবেই না। বরং সার্বক্ষণিক চাপে থাকবে ভেতরের অতিরিক্ত রক্তের।
এই...যে রক্তগুলো যে দেয়ালে চাপ দিচ্ছে, এইটাই স্থায়ী হলে- লবণের কারণে রক্তচাপ (Salt Induced Hypertension) হিসেবে বিবেচিত হবে।
আশা করছি এই পর্যন্ত বুঝছেন।
রক্তচাপ বৃদ্ধি পেলে কী কী সমস্যা হবে?
সামান্য রক্তচাপ (হাইপারটেনশন) বহুরোগের মাতা।
হৃদরোগ- স্ট্রোক-কিডনির সমস্যা - রক্তনালীর সমস্যা, রেটিনোপ্যাথি ইত্যাদি মারাত্মক ও জীবনঘাতি রোগের কারণ।
অতিরিক্ত গরম থেকে বাঁচতে বরং কাজ কমিয়ে ফেলুন।
রোদে-বদ্ধ পরিবেশে কাজ কমিয়ে দিন।
পানি পান করুন কিংবা ছায়া-বাতাসযুক্ত স্থানে থাকার চেষ্টা করুন।
দুটো সিরিয়াস নোট।
১। রাস্তায় লেবু-পানি ও লবণের শরবত এড়িয়ে চলুন। এগুলো মারাত্মক ক্ষতিকর।
২। ইলেকট্রোলাইট ড্রিংক নামে যেসব খান, সেগুলোও রাস্তার লেবু-পানি-লবণের শরবতের মতোই ক্ষতিকর।
© ডাঃ রাজীব হোসাইন সরকার