13/06/2026
দাদুর কাছে একটা গল্প শুনেছিলাম..
আপনাদেরকেও বলছি শুনুন..
একটা এতিম বাচ্চা রাস্তায় বসে বসে কাঁদছে আর মাটি খুঁড়ছে। সেই পথেই দুই বন্ধু যাচ্ছে হেটে।বাচ্চাটি মাটি খুঁড়ছে দেখে এক বন্ধু জিজ্ঞেস করছে, বাবু রাস্তা কেন খুড়ছো?তোমার বাবা মা কই?
বাচ্চাটি উত্তর দিল, আমাকে যে বিপদে ফেলবে সে এই গর্তে পরবে।আমার বাবা মা নাই।
তো তারা এই উত্তর শুনে এখান থেকে চলে গেল।একটুখানি গিয়ে সেই বন্ধু আবার বলছে,দোস্ত দেখুন ছেলেটা কত জ্ঞানী, আর বাবা মাও নাই।বাচ্চাটিকে আপনি আপনার বাচ্চা বানিয়ে বড় করুন যেহেতু আপনার বাচ্চা নাই।
সেই বন্ধু ও বলল,ঠিকই তো বলছেন। চলেন যাই বাচ্চাটির কাছে।তারা গিয়ে দেখল, বাচ্চাটি তখনও সেখানেই বসে একই কাজ করছে।একজন বন্ধু বলল,বাবু আমার সাথে যাবে?আমার ছেলে মেয়ে নাই।বাচ্চা ছেলেটা বলল,যাব।
তো ছেলেটিকে নিয়ে বাড়ি গেল এবং সুখেই বড় করতে লাগল।ছেলেটির তখন ১৬ বছর বয়স হলো।
পাতানো বাবা মা ভাবল,ছেলেটা বড় হলো।এবার তাকে সমস্ত সম্পত্তি লিখে দেই।যেই ভাবা সেই কাজ।স্থাবর অস্থাবর সব সম্পদ লিখে দিল।
লিখে দেওয়ার পর কিছুদিন যেতে না যেতেই পাতানো বাবা মায়ের ঘরে একটি ছেলে সন্তান জন্ম নিল।এখন তাদের কপালে চিন্তার ভাজ।সব সম্পদ তো বড় ছেলের নামে।কি দিয়ে যাবে ছোট ছেলেকে।
এভাবে ভাবতে ভাবতে আর কয়েকবছর কেটে গেল।
একবার সেই রাজ্যের রাজা ঢোল পিঠাল, রাজার প্রশ্নের যে উত্তর দিতে পারবে তাকে রাজা তার রাজকন্যা আর অর্ধেক রাজত্ব লিখে দিবেন।দলে দলে লোক যাচ্ছে কেউ পারছেনা।শেষে সেই রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া ছেলে গেল।রাজা তাকে প্রশ্ন করল, আকাশের তারা কয়টি।ছেলেটি বলল,আমি উত্তর দিব,আপনি আগে বলেন পাতালের বালুর সংখ্যা কতটি?
রাজা উত্তর দিতে যখন ব্যর্থ তখন ছেলেটা বলল,এমন প্রশ্ন করবেন যার উত্তর আছে,কিন্তু আপনি এমনি আমার মতো অবান্তর প্রশ্ন করেছেন বলেই কেউ পারেনা।রাজা খুব খুশি হলে।বল্ল, আমি খুশি হলাম তোমার উপদেশ শুনে।তুমি আমার প্রশ্নের উত্তর না দিলেও তুমি এই রাজ্যের রাজকন্যার হবু স্বামী এবং অর্ধেক সম্পদের মালিক।এই ঘোষণা দেশে প্রচার হলে পালিত বাবা মা আরও চিন্তিত। তারা রাজার কাছে গিয়ে কানমন্ত্রণা দিল যে এই ছেলে তাদের না,কুড়িয়ে পাওয়া,বংশ নেই।
রাজাকে বলা হলে আপনার জল্লাদকে বলে দিন, আমি ছেলে কে একটা চিঠি দিয়ে পাঠালে যেন তাকে শেষ করে দেয়। নির্ধরিত দিনে চিঠি দিয়ে ছেলে কে পাঠানো হলো জল্লাদের কাছে,কিন্তু পথে তার সেই ছোট ভাই তাকে পেয়ে বললো,ভাই আমাকে এই পাখির ছানা গুলো ধরে দাও।
বড় ভাই বললো,বাবা তো আমাকে রাজবাড়ী পাঠিয়েছে খুব জরুরি ভাবে।বিকেলে পেরে দিব।কিন্তু ছোটভাই এর বায়নার কাছে হেরে গিয়ে বলল তাহলে তুই চিঠিটা দিয়ে আয় আমি পাখির ছানা গুলো ধরছি।
এই বলে তাকে চিঠি দিয়ে সে পাখি ধরতে ব্যস্ত। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলো,বিকেল হলো ভাই আর আসে না দেখে সে বাড়ির দিকে রওনা হলো পাখি নিয়ে। বাবা মা তো মহা খুশি। আপদ বিদায় হলো।সন্ধ্যায় বড় ছেলে কে আসতে দেখে তাদের বুক শুকিয়ে গেছে।বড় ছেলে এসেই জিজ্ঞেস করল,ছোটভাই চিঠি দিয়ে রাজবাড়ী থেকে ফিরল কিনা।শুনেই বাবা মা হাউমাউ করে কাঁদতে লাগল।
বড় ছেলে সবটা শুনে বলল,ছোটবেলায় যে বলেছিলাম মনে নেই?আমাকে যে বিপদে ফেলবে সে নিজেই গর্তে পরবে!
আমাকে বললে আমি নিজেই চলে যেতাম।আমার নিষ্পাপ ভাইটার কিছু হতো না তাহলে......