14/08/2024
কিছু জায়গায় সংস্কারের খুব জরুরি প্রয়োজন হয়ে দাড়িয়েছে। আই,সি,ইউ তে আছে এসব খাত।
১। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা: ডাক্তার মশাইদের ভিজিট এখন আর মধ্যবিত্তের নাগালে নেই। একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে গেলে ১২০০-১৫০০ টাকা ভিজিট দেয়া লাগে। আগে যেখানে রিপোর্ট দেখাতে টাকা লাগতো না, সেখানে গত ৩-৪ বছরে রিপোর্ট দেখাতে লাগতো অর্ধেক টাকা; আর এখন তো প্রায় সমান! ভিজিট ১২০০ হলে রিপোর্ট দেখানো ১,০০০ অথবা ভিজিট ১০০০ হলে রিপোর্ট দেখানো ৮০০ টাকা। তাতে একবার মনে হল, একবারে বলে দিলেই হয়, ডাক্তার দেখাতে ২০০০ টাকা লাগবে। কারণ অধিকাংশ ডাক্তার মশাইরা আর তার মাথায় প্রেশার নিতে চান না। ঢুকলেই একটা টেষ্টের লিষ্ট ধরিয়ে দেয়, আর ২ দিন পর আবার দেখাতে আসতে হবেই।
তবে, আমার দেখা ২-৩ জন ডাক্তার এর ব্যাতিক্রম। তাদের ব্যবহারেই রুগী সুস্থ হয়ে যায় অর্ধেক, আর উনার জ্ঞান, প্রজ্ঞা কাজে লাগিয়ে ওষুধ দেন, যেখানে আমি স্বপ্রণোদিত হয়ে টেষ্ট করাতে চাইলে শাসন করতো। আমার বাচ্চার ডাক্তার, আমাদের পরিবারের সকল বাচ্চাদের ডাক্তার আংকেল। যিনি আমাদের পরিবারের না, হাজারো মানুষের ভরসার আধার। কৃতজ্ঞতা জানাই জনাব Dr. Ahmed Nazmul Anam ব্যাবসায়ী না হয়ে মানবতা ধরে রাখার জন্য।
আমি বিশ্বাস করি আমাদের দেশের চিকিৎসা সেবা এখন অনেক উন্নত। আমাদের ডাক্তারদের নাম বিদেশের ডাক্তারদের মুখেও শুনা যায়। তাহলে, কেন এই সিন্ডিকেট তৈরি করে সাধারণ মানুষ সরকারি চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত?
২। শিক্ষা: গত ১/২ বছরে যা দেখলাম, নতুন কারিকুলামে আমাদের বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রায় প্রতিটি অভিভাবক চিন্তিত। যদি ও সমস্যা আমাদের। আমরা শিক্ষামন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শিতার সাথে খাও খাওয়াতে পারিনি বা পারছিলাম না। আসলে উন্নত দেশে নাকি এভাবেই পড়া-শুনা করানো হয়। কিন্তু আমরা এটাতে কখনোই অভ্যস্ত না। যা হয়তো ধীরে ধীরে প্রয়োগ করলে ভালো হত। আমি যখন দেখি আমার ভাগ্নিরা স্কুলেই যায় না, আবার বলে গ্রুপ ষ্টাডি লাগবে, আবার পড়ার কথা জিজ্ঞেস করলে আলু ভর্তা, ডিম ভাজি শিখায় এসব বলে, সত্যিই চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। যাক, এটা স্থগিত করেছেন। কিন্তু যুগোপযোগী মানসম্মত শিক্ষা ব্যাবস্থা চাই। আমাদের বাচ্চারা যেন মাস্টার্স পাশ করার পর বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ক্রেডিট ট্রান্সফার এর সময় আমাদের শিক্ষা কে অবমুল্যায়ন না করে।
৩। নিরাপত্তা : আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা প্রবল চাহিদা হয়ে দাড়িয়েছে। যদি ও ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। শুধু একটা উদাহরণ মনে পড়ে গেল, এক হিন্দু ভদ্রলোক তার মেয়ের বিয়ের জন্য ব্যাংকে টাকা জমিয়েছেন ১৪ বছর ধরে। বিয়ের দিন ধার্য্য হল। সব ঠিকঠাক। বিয়ের আগের দিন বাবা ব্যাংকে টাকা উঠাতে গেলে শুরু হয় নানা অজুহাত, এবং সেদিন ভদ্রলোক কোন টাকা ই পেলেন না। (যদি ও পরে ও পায় নাই, অনেক দৌড়াদৌড়ি চলছিল শেষ জানামতে)। সেই মেয়েট কি লগ্নভ্রষ্টা ই হল না কি হল, আর জানা গেল না!
৪। কর্মসংস্থান সৃষ্টি : বেকারত্বের হার দিন দিন বেড়েই চলেছে। শিক্ষিত ছেলেরা চাকরি না পেয়ে চরম হতাশায় ভুগছে। যাক, একটু দম পাচ্ছে তারা কোটা বাতিল হওয়াতে আশার সঞ্চার হল। কিন্তু সরকারি চাকরি তো ছোট একটা অংশ। ব্যাবসায়ী রা অনুকূল পরিবেশের অভাবে ব্যাবসা করতে না পারায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। তবু ও ফ্রিল্যান্সিং কাজ শিখে ও করে একটা অংশ সামাল দিয়েছে। অবিলম্বে দেশের বাইরে কর্মসংস্থান এর ব্যাবস্থা ও দেশে ব্যাবসায়ীদের অনুকুল ব্যাবসায়িক পরিবেশ সৃষ্টি করে বেকারত্ব কমানো সময়ের দাবী।
৫। ঋণের বোঝা কমানো: সর্বজনাব মতিউর, বেনজীর, আবেদ আলী, বেসিক ব্যাংকের এমডি, ইসলামী ব্যাংকের কর্তাগন, দরবেশ বাবা, এস আলম গ্রুপ সহ জাহার কোটি টাকা লোপাটকারীদের থেকে অর্থ আদায় করে ঋণের বোঝা কমানো অতীব জরুরি।
৬। দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ: সিন্ডিকেট বানিয়ে প্রতিটি সেক্টরে চাদা বাজি হালাল করে দ্রব্য মূল্য আজ নাগালের বাইরে। সাধারণ মানুষ কি যে কষ্টে দিন পার করছে, বলার ভাষা নী। তারা না পারে কারো কাছে হাত পেতে চাইতে, না পারে ছোট কাজ করতে। সকলের হস্তক্ষেপ প্রয়োগ করে হলে ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনা দরকার।
৭। দূর্ণীতিবাজদের উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রকাশ্যে শাস্তি: সুন্দর আগামীর জন্য দূর্ণীতিবাজদের জন্য উপযুক্ত শাস্তির ব্যাবস্থা এবং প্রকাশ্যে ঘুষখোরের শাস্তির বিধান করা।
আমরা সত্যি একটা সুন্দর আগামী রেখে যেতে চাই, দেখে যেতে পারব কিনা জানিনা।