DyutiShop

DyutiShop DyutiShop is the solution to all your shopping needs. Get quality products at reasonable prices.

28/12/2024
রোমিও ও জুলিয়েট, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রেম কাহিনীদ্যুতিময় বুলবুলরোমিও এ্যান্ড জুলিয়েট। পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ট্রাজিক প্রে...
11/11/2023

রোমিও ও জুলিয়েট, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রেম কাহিনী
দ্যুতিময় বুলবুল

রোমিও এ্যান্ড জুলিয়েট। পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ট্রাজিক প্রেম কাহিনী। বিশ্ব বিখ্যাত ইংরেজ কবি ও নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের এই সেরা বিয়োগান্ত প্রেমের নাটকের প্রধান দুই চরিত্র রোমিও ও জুলিয়েট। কালজয়ী ট্রাজেডি নাটকটি সারা বিশ্বের পাঠক হৃদয়ে অমরত্ব লাভ করেছে। কয়েক শত বছর ধরে শেক্সপিয়ারের সবচে’জনপ্রিয় ও পাঠক-শ্রোতা- দর্শক নন্দিত এই নাটকের নায়ক নায়িকা রোমিও এবং জুলিয়েট সারা বিশ্বে তরুণ-তরুণীদের প্রেমের আইকন ও আদর্শ চরিত্র ।

কম-বেশি এটা সবাই স্বীকার করেন যে, রোমিও ও জুলিয়েট জুটিই, বিশ্বের প্রেমের কাহিনী বা গল্পগুলোর মধ্যে সর্বাধিক পঠিত, প্রচারিত, আলোচিত, জননন্দিত ও জীবন্ত। তাই বিশ্বব্যাপী যে কোনো সত্যিকারের প্রেমিক জুটিকে ‘রোমিও-জুলিয়েট’বলা হয়।

শেক্সপিয়ারের এই কালজয়ী ট্রাজিক নাটক রোমিও এ্যান্ড জুলিয়েট হলো ইতালির ভেরোনা শহরের বিবদমান দুটি পরিবারের রেষারেষি, সংঘাত, বংশীয় অহংকার ও আধিপত্যের লড়াই এবং উভয় পরিবারের দুই তরুণ-তরুণী রোমিও ও জুলিয়েটের প্রেম এবং তাদের মর্মান্তিক আত্মত্যাগের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি হৃদয় বিদারক শোকগাঁথা।

এই অমর ট্রাজিক প্রেম কাহিনী নিয়ে পৃথিবীতে যুগে যুগে অনেক নাটক, যাত্রাপালা, কাহিনীচিত্র ও সিনেমা তৈরি হয়েছে। তাই রোমিও এবং জুলিয়েটের কালোত্তীর্ণ বিয়োগান্ত প্রেম কাহিনী সারা বিশ্বে যুগ যুগ ধরে-দর্শক, শ্রোতা, পাঠক এবং প্রেমিক-প্রেমিকার হৃদয়ে স্থায়ী আসন লাভ করেছে।

মানব জন্মের সূচনা থেকে প্রেম একটি অনন্ত অসীম অবিনশ্বর ও অনিবার্য সত্য সুন্দর এবং চিরন্তন আবেগ অনুভূতি ও চেতনা- যা বহতা নদীর মতো বহমান নিরন্তর, নিরবধি। প্রেমের জন্য মানুষ অনন্তকাল ধরে আত্মনিবেদন করছেন অবিরাম, অবিরত- নিরলস, নিঃস্বার্থ ও নিঃশঙ্কচিত্তে। কারণ, সবার জীবনেই কম-বেশি প্রেম আসে, সরবে কিম্বা নিরবে, মানবসত্ত্বার অলঙ্ঘনীয় উপাদান হিসেবে। তাই মানব জীবন ও সংস্কৃতি এবং বিশ্ব সাহিত্যের একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে প্রেম। এই প্রেম সৃষ্টি এবং ধ্বংসেরও একটা অন্যতম নিয়ামক।

ব্যক্তিগত জীবনে কেউ বিখ্যাত হলে, তার প্রেম যেমন সবাইকে আলোড়িত ও প্রভাবিত করে, তেমনি বিখ্যাত লেখকের কোনো জনপ্রিয় কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক কিংবা কাহিনীচিত্র অথবা চলচ্চিত্রে হৃদয়স্পর্শী প্রেম বা প্রেমিক প্রেমিকার কাহিনী পাঠকদের অনুপ্রাণিত ও অনুরণিত করে। ফলে সেই কাহিনী স্থায়ীত্ব ও অমরত্ব লাভ করে।

শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত রোমিও এ্যান্ড জুলিয়েট নাটকটি যেমন পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রেম কাহিনী, তেমনি নাটকটির প্রধান দু’টি চরিত্র- দুই তরুণ-তরুণী প্রেমিক প্রেমিকা রোমিও এবং জুলিয়েটও পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রেমিক জুটি। নাট্যকারের কল্পভূমিতে জন্ম নেয়া এই কল্পকাহিনির রোমিও-জুলিয়েট, আজ কয়েকশ’বছর ধরে প্রেমিককূল ও পাঠক সমাজের মনোভূমিতে দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করছে। কাল্পনিক চরিত্র দুটি এতটাই বাস্তব রূপ লাভ করেছে যে, মানুষের মনোজগতে রোমিও এবং জুলিয়েট যেন অমর প্রেমের রক্ত মাংসের মৃতুঞ্জয়ী মানব-মানবী হিসেবে, চিরস্থায়ী আসন গেড়ে বসেছে।

তাই পৃথিবীতে যখনই প্রেমের জন্য ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা ওঠে, তখন সবার আগে উচ্চারিত হয় রোমিও ও জুলিয়েট নামের শেক্সপিয়ারের কল্পকাহিনীর এই তরুণ তরুণী প্রেমিক যুগলের নাম! প্রেমের জন্য তাদের স্বেচ্ছায় আত্মত্যাগ ও আত্মহননের কাহিনী পৃথিবীর পাঠক হৃদয়কে সব সময় আলোড়িত, প্রভাবিত, অভিভূত, রোমাঞ্চিত ও প্রকম্পিত করে, আবেগে ভাসিয়ে নেয় অপার অসীম প্রেম সাগরে। একইসঙ্গে তাদের ট্রাজিক বা বিয়োগান্ত পরিণতি বিষাদসিন্ধু সৃষ্টি করে দর্শক শ্রোতা পাঠক ও প্রেমকাতর নারী-পুরুষের হৃদয়ে। তাই রোমিও জুলিয়েটকে সব সময় তারুণ্যের আবেগ ও জীবন্ত প্রেমের প্রতীক ধরা হয়।

এই রোমিও এ্যান্ড জুলিয়েট নাটকের প্রধান প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ইতালির ভেরোনা শহরের বিবদমান দু’টি অভিজাত পরিবারের আভিজাত্যের দ্বন্দ্ব-সংঘাতের মধ্যেই ওই দুই পরিবারের দুই তরুণ-তরুণী রোমিও এবং জুলিয়েট প্রথম দর্শনেই প্রেমে পড়ে। তাদের দুর্বার দুর্জয় ও দুরন্ত প্রেমে প্রবল বাধা ছিল তাদের দীর্ঘদিনের পারিবারিক শত্রুতা ও কলহ-বিবাদ। সেই বাধা উপেক্ষা করে তারা গোপনে প্রেম করেছিল। কিন্তু তাদের এই প্রেম কোনো পরিবার মেনে নেবে না জেনেই রোমিও ও জুলিয়েট গোপনে বিয়ে করে। তবে এই খবর যেভাবেই হোক জানাজানি হয়ে যায়। ফলে দুই পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মধ্যে সংঘাত এবং খুনাখুনির ঘটনা ঘটে। স্বয়ং এই কাহিনীর নায়িকা জুলিয়েটের চাচাতো ভাইকে খুনের দায়ে নায়ক রোমিও রাজাদেশে শহর থেকে নির্বাসিত হয়।

অন্যদিকে, দুই পরিবারের শত্রুতার জেরে নায়িকার মা বাবা তার বিয়ের উদ্যোগ নেন। প্রতিবাদে নায়িকা বিষ পাণে আত্মহত্যার ভান করে। কিন্তু সেই খবরের তথ্য বিভ্রান্তি ঘটে। নায়ককে জানানো হয় নায়িকা বিষ পানে আত্মহত্যা করেছে। এই খবর শুনে নায়ক নির্বাসন দণ্ড অগ্রাহ্য করে অচেতন নায়িকার কাছে ছুটে আসে। সেখানে নায়িকার ভাবী স্বামী তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই লড়াইয়ে নায়িকার ভাবী স্বামীকে হত্যা করে নায়ক। তারপর নায়িকাকে না পাওয়ার বেদনায় বিষপানে অচেতন নায়িকার পাশে নায়কও বিষ পানে আত্মহত্যা করে।

এদিকে এক পর্যায়ে বিষক্রিয়ার প্রভাব কেটে গেলে নায়িকা জুলিয়েটের জ্ঞান ফিরে। কিন্তু জ্ঞান ফেরার পর নায়িকা জুলিয়েট তার পাশে নায়ক রোমিও’র মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে। ফলে দুঃখ শোকে কাতর নায়িকা তার মৃত প্রেমিকের পকেট থেকে ছুরি নিয়ে এবার সত্যি সত্যি আত্মহত্যা করে। আর এভাবেই পারিবারিক বিরোধের বলি হয় প্রেমিক যুগল রোমিও এবং জুলিয়েট।

এতে তারুণ্যের অজেয় প্রেম এবং যৌবনের জয় ঘোষিত হয়েছে। কিন্তু এই প্রেমের করুণ বিয়োগান্ত পরিণতি পাঠক সমাজ ও প্রেমিক কূলকে শোক সাগরে ভাসিয়ে দেয়। তাই রোমিও ও জুলিয়েট নাটকে প্রেমের করুণ কাহিনী নিয়ে পাঠক হৃদয় যেমন দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে, তেমনি প্রেমের চিরন্তন আবাহন পাঠককে সব সময় আন্দোলিত ও রোমাঞ্চিত করে।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, বিরহের মাঝেই প্রেমের চরম সার্থকতা ফুটে ওঠে। হয়তো সে কারণেই রোমিও জুলিয়েট অমরত্ব লাভ করেছে। তবে স্বয়ং শেক্সপিয়ারের মতে, “ভালোবাসা হলো অসংখ্য উষ্ণ দীর্ঘশ্বাসের সমন্বয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশা। ” হয়তো সেটাও সত্য। সে কারণেই শত শত বছর ধরে শেক্সপিয়ারের রোমিও-জুলিয়েট আজও জীবন্ত, সারা দুনিয়ার প্রেমিক-প্রেমিকা এবং পাঠক, দর্শক, শ্রোতা হৃদয়ে। তারা প্রেমিক প্রেমিকাদের প্রেম পিয়াসী ও ব্যথিত হৃদয়ে চিরন্তন প্রেমের আলোকবর্তিকা হয়ে জ্বলছে।

, , , , , , , , , , , .
#রোমিও_এ্যান্ড_জুলিয়েট, #রোমিও_জুলিয়েট, #রোমিও, #জুলিয়েট, #ভালোবাসা, #প্রেম, ্রেম, ্রেম_কাহিনী, #প্রেম_কাহিনী, #নাটক, #ড্রামা, #জনপ্রিয়_সিনেমা, #জনপ্রিয়_নাটক, #সিনেমা, #উইলিয়াম_শেক্সপিয়ার।

পিকাসোর একটি চিত্রকর্মের মূল্য দেড় হাজার কোটি টাকা!অনলাইন নিউজডেস্কবিশ্ববরেণ্য স্প্যানিশ চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসোর আঁকা ...
10/11/2023

পিকাসোর একটি চিত্রকর্মের মূল্য দেড় হাজার কোটি টাকা!
অনলাইন নিউজডেস্ক

বিশ্ববরেণ্য স্প্যানিশ চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসোর আঁকা একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম এক হাজার ৫২৯ কোটি টাকায় (১৩ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার) নিলামে বিক্রি হয়েছে। নিউইয়র্কের সোথবি নিলাম হাউস ০৮ নভেম্বর বুধবার রাতে চিত্রকর্মটি বিক্রি করে। এটি পিকাসোর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হওয়া চিত্রকর্ম। ব্রিটিশ নিলামকারী প্রতিষ্ঠান সোথবি একথা জানিয়েছে। খবর: এএফপি, এনডিটিভি, বিএসএস।

নিলামে তোলার আগে চিত্রকর্মটির মূল্য ধরা হয়েছিল ১২ কোটি মার্কিন ডলার। প্রত্যাশার চেয়েও এক কোটি ৯০ লাখ ডলার বেশি দামে শিল্পকর্মটি বিক্রি হয়েছে। পিকাসোর আঁকা মাস্টারপিস শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে অন্যতম এই ‘ওম্যান উইথ এ ওয়াচ’(ঘড়ি হাতে নারী) শিল্পকর্মটি। সোথবির ইমপ্রেশনিস্ট ও মডার্ন আর্ট বিভাগের প্রধান জুলিয়ান ডাওয়েস পিকাসোর এই চিত্রকর্মটিকে ‘সবদিক থেকেই মাস্টারপিস’বলে অভিহিত করেছেন।

১৯৩২ সালে ‘উইমেন উইথ এ ওয়াচ’ শিরোনামের এই চিত্রকর্মটি এঁকেছিলেন পাবলো পিকাসো। নীল পটভূমির উপর আঁকা এই চিত্রকর্মে দেখা যায়, সিংহাসনের মতো একটি চেয়ারে বসে আছেন এক নারী।

পিকাসো তাঁর পেশাগত সঙ্গী ও প্রেমিকা ফরাসি চিত্রশিল্পী এবং মডেল মারিয়ে থেরেস ওয়াল্টারকে মডেল করে এই ছবিটি এঁকেছিলেন। এই শিল্পীর অনেক চিত্রকর্মের মডেল ছিলেন এই নারী চিত্রশিল্পী। বলা হয়, ওয়াল্টার ছিলেন পিকাসোর ‘গোল্ডেন মিউজ’বা সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁকে নিয়ে আঁকা পিকাসোর আরও একটি চিত্রকর্ম ‘স্লিপিং ওম্যান’নিলামে উঠে ০৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার। এটি অন্তত আড়াই থেকে সাড়ে তিন কোটি ডলারে বিক্রি হওয়ার কথা।

১৯২৭ সালে মারিয়ে থেরেস ওয়াল্টারের বয়স যখন ২৭ বছর, তখন ৪৫ বছরের চিত্রশিল্পী পিকাসোর সঙ্গে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে তাঁর পরিচয় হয়। পরে এই নারী চিত্রশিল্পীর সঙ্গে পিকাসো গোপন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। অথচ অনেক আগেই পিকাসো ইউক্রেনীয় ব্যালেরিনা শিল্পী ওলগা খোখলোভাকে বিয়ে করেছিলেন।

প্রেমিকা মারিয়ে থেরেস পিকাসোর অনেক চিত্রকর্মের মডেল হয়েছিলেন। এসব চিত্রকর্মের মধ্যে ১৯৩২ সালের ‘ন্যুড রিক্লাইনিং উইমেন’ শিরোনামে আঁকা চিত্রকর্মটি অন্যতম। এই চিত্রকর্মটি ২০২২ সালের নিলামে ৬ কোটি ৭৫ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। পিকাসো ও মারিয়ে থেরেসের এক কন্যা সন্তান গত বছর মারা গেছেন।

চলতি সপ্তাহে ‘ফেমে এ লা মন্ট্রে’নামে সোথবি’র বিশেষ নিলাম বিক্রি শুরু হয়েছে। নিউইয়র্কের শিল্পকর্মের পৃষ্ঠপোষক ও সংগ্রাহক এমিলি ফিশার ল্যান্ডউ নামের এক নারী শিল্প সংগ্রাহকের সংগ্রহশালা থেকে এসব শিল্পকর্ম বিক্রি হচ্ছে। এমিলি চলতি বছর ১০২ বছর বয়সে মারা গেছেন। ‘উইমেন উইথ এ ওয়াচ’ চিত্রকর্মটি প্রয়াত শিল্প সংগ্রাহক এমিলি ফিশার ল্যান্ডউ’র মালিকানায় ছিল। তিনি ১৯৬৮ সালে চিত্রকর্মটি কিনেছিলেন। পরে পরিচয় গোপন করে একজন ক্রেতা তাঁর কাছ থেকে চিত্রকর্মটি কিনেছিলেন।‘উইমেন উইথ এ ওয়াচ’বর্তমানে এমিলির লিভিং রুমের দেয়ালে টাঙানো রয়েছে।

নিলামে বিক্রি হওয়া পিকাসোর সবচেয়ে দামি চিত্রকর্মটি হলো ‘লেস ফেমিস ডি’আলজার’ (দ্য উইমেন অব আলজিয়ার্স)। ২০১৫ সালে নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টি ১৭ কোটি ৯৪ লাখ ডলারে ওই চিত্রকর্মটি বিক্রি করেছিল। ১৯৫৫ সালে পিকাসো তেলরঙের এই চিত্রকর্মটি এঁকেছিলেন।

পাবলো পিকাসো ১৮৮১ সালে স্পেনের মালাগায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বড় হয়েছেন বার্সেলোনায়। পরে পিকাসো ১৯০৪ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে যান। সেখানেই তিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা চিত্রশিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন। পিকাসো ১৯৭৩ সালে ৯১ বছর বয়সে মারা গেছেন। মৃত্যুর ৫০ বছর পরও আধুনিক বিশ্বের একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী শিল্পী হিসেবে তিনি বিবেচিত। পিকাসো তার গভীর সৃজনশীল প্রতিভার জন্যে সারা বিশ্বে ব্যাপক প্রশংসিত।

, , , , , , , , , , .

#ওমেন_উইথ_এ_ওয়াচ, #পাবলো_পিকাসো, #আর্ট, #শিল্পকর্ম, #আর্ট_গ্যালারি, #নিলাম, #সোথবিস, #নিলাম_হাউস, #দ্যা_ওমেন_অব_আলজিয়ার্স, #এমিলি_ফিশার_ল্যান্ডাউ, #ন্যুড_রিক্লাইনিং_উইমেন, #মারিয়ে_থেরেস_ওয়াল্টার।

ঘর ভাঙছে ঐশ্বরিয়ার?দ্যুতিময় বুলবুলবলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাইকে নিয়ে কিছুদিন ধরে মিডিয়ায়...
09/11/2023

ঘর ভাঙছে ঐশ্বরিয়ার?
দ্যুতিময় বুলবুল

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাইকে নিয়ে কিছুদিন ধরে মিডিয়ায় নানা আলোচনা চলছে। তবে এই আলোচনা তাঁর সিনেমা নিয়ে নয়, পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবন নিয়ে। মিডিয়া বলছে, ঐশ্বরিয়া রাইয়ের সংসার জীবনের ভবিষ্যত নিয়ে অশনি সংকেত পাওয়া যাচ্ছে। বলা হচ্ছে, শাশুড়ি ও ননদের সঙ্গে ঐশ্বরিয়ার বিরোধ চলছে! স্বামী অভিষেকও তাঁর পাশে নেই!! তাহলে কী শেষ পর্যন্ত ঘর ভাঙছে বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়ার?

তবে কেউ কেউ বলছেন, এটা স্রেফ গুজব। কেউ বলছেন গুজব না, সত্যি! আবার কেউ বলছেন, এমন আলোচনা-সমালোচনা এবং গুঞ্জন-গুজব গত ১৫ বছর ধরেই চলছে। ভবিষ্যতেও চলবে। কারণ, এটা তো বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া ও বলিউড শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন পরিবার। সত্য-মিথ্যা যাই হোক, ভারতের এই অন্যতম সেলিব্রেটি পরিবারের ভালো-মন্দ খবর পেতে সবাই উদগ্রীব।

ভারতের বিনোদন জগতের কেন্দ্র বলিউড। আর এই বলিউডের অন্যতম সারথি বচ্চন পরিবার। বিশ্বখ্যাত এই পরিবারের সব সদস্যের নাম জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কমবেশি আলোচিত ও পরিচিত। পরিবারের সবচেয়ে সিনিয়র সদস্য অমিতাভ বচ্চন থেকে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য আরাধ্যা বচ্চন পর্যন্ত সবাই চর্চিত। বলা যায়, ভারতের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অভিনয় থেকে ব্যক্তিগত জীবন চর্চা-সবকিছুর শীর্ষে রয়েছে বচ্চন পরিবার। এই পরিবারের সবচেয়ে উজ্জ্বলতম নক্ষত্র বলিউড শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন ও তার পুত্রবধূ নীল নয়না বলিউডের জননন্দিত অভিনেত্রী ও সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই।

ঐশ্বরিয়াকে ঘিরে মিডিয়া ও সামাজিকমাধ্যম সবসময় সরগরম থাকে। সদ্য ৫০ বছরে পা দেওয়া এই অভিনেত্রীর রূপের আগুনে আজও পোড়ে বিশ্বের কোটি কোটি পুরুষের হৃদয়। অসংখ্য তরুণ ও যুবকের হৃদয়-রাণী এবং স্বপ্নদেবী ঐশ্বরিয়া। নারীরাও তাঁর রূপ ও সৌন্দর্যে মুগ্ধ। তাই ঐশ্বরিয়ার সৌন্দর্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনও সবচেয়ে বেশি চর্চিত। তাঁর সৌন্দর্য, বিশ্বসুন্দরীর মুকুটজয়, অভিনয়, প্রেম, স্বামী, সন্তান, সংসার, পারিবারিক জীবন-সবই জনতার আগ্রহের চারণভূমি। অনায়াসে সবাই গুঞ্জন-গুজবে, জল্পনা-কল্পনায়, কামনা-বাসনায় এবং আলোচনা-সমালোচনায় অনধিকার প্রবেশ করে ঐশ্বরিয়ার দৈনন্দিন যাপিত জীবনের ঘরে-বাইরে-অলিন্দে।

ঐশ্বরিয়া রাই ও অমিতাভ বচ্চন তথা বচ্চন পরিবার বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী পরিবার। ভারতবর্ষে এই পরিবারকে সবাই সম্মান করে। বচ্চন পরিবারকেই বলিউডের শীর্ষ পরিবার বলে মনে করা হয়। কারণ, বচ্চন পরিবার তারার মেলা। বলিউড শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন, তার স্ত্রী জয়া বচ্চন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও রাজনীতিক, পুত্র অভিষেক বচ্চন জনপ্রিয় অভিনেতা,পুত্রবধূ ঐশ্বরিয়া রাই সাবেক বিশ্বসুন্দরী ও বলিউডের অন্যতম প্রধান অভিনেত্রী , কন্যা শ্বেতা বচ্চন লেখক, সাংবাদিক, টেলিভিশন উপস্থাপক এবং মডেল- সবাই যে যার জায়গায় সুপ্রতিষ্ঠিত, সুপরিচিত ও স্বনামধন্য।

উপরন্ত ঐশ্বরিয়া রাই শুধু ভারতবর্ষ নয়, বর্তমান পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুন্দরী হিসেবে পরিচিত। তাই এই পরিবার নিয়ে বিশ্বের হিন্দি সিনেমাপ্রেমীদের কৌতুহলের অন্ত নেই। এই পরিবারের সবাই ভারতবর্ষের জনপ্রিয় মুখ। ফলে তাদের নিয়ে মিডিয়া ও জনগণের আগ্রহ ও মাতামাতি সব সময় একটু বেশিই থাকে। সে কারণে, মাঝে মধ্যেই এই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সত্য-মিথ্যা নানা খবর এবং গুজব-গুঞ্জন চলতেই থাকে।

তবে কেউ কেউ বলছেন, এবারের পরিস্থিতিটা একটু ভিন্ন। গত ১ নভেম্বর ঐশ্বরিয়া রাইয়ের ৫০তম জন্মদিনেই তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কারণ, ঐশ্বরিয়ার এই জন্মদিন ছিল একেবারে সাদামাটা। নিজের জন্মদিনে কন্যা আরাধ্যাকে নিয়ে একটি সাধারণ অনুষ্ঠানে কেক কাটেন ঐশ্বরিয়া। এ সময় মেয়ে আরাধ্যা ছাড়াও মা বৃন্দা রাই ঐশ্বরিয়ার পাশে ছিলেন। কিন্তু বচ্চন পরিবারের কেউ ছিলেন না। এমন কি শ্বশুরবাড়ি তথা বচ্চন পরিবারের একমাত্র সদস্য অভিষেক বচ্চন, মানে ঐশ্বরিয়ার স্বামী ছাড়া কেউ শুভেচ্ছাবার্তাও দেননি। উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের ১ নভেম্বর ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের ম্যাঙ্গালোরে জন্মগ্রহণ করেন সাবেক বিশ্বসুন্দরী ও বলিউড কুইন ঐশ্বরিয়া রাই ।

স্বামী অভিষেক ঐশ্বরিয়ার এই জন্মদিনে নামকাওয়াস্তে শুভেচ্ছাবার্তা সামাজিক মাধ্যমে পাঠালেও, জন্মদিনে তাকে স্ত্রী’র পাশে দেখা যায়নি। আর সমাজমাধ্যমে স্ত্রীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে তার একটি সাদা-কালো পুরনো ছবি অভিষেক পোস্ট করলেও, তাতে শুধুই ‘শুভ জন্মদিন’ লেখা ছিল। কোনো উষ্ণ সম্ভাষণ ছিল না, ছিল না জন্মদিনের কোনো উপহারের খবর! যা দেখে ভক্তরা বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

অথচ প্রতিবছর ঐশ্বরিয়ার জন্মদিনে অভিষেক বিশেষ সারপ্রাইজ দেওয়ার পাশাপাশি, আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে উদযাপন করতেন। কিন্তু এবার তেমন কিছুই তাকে করতে না দেখে ঐশ্বরিয়া সহ বচ্চন পরিবারের ভক্তরা খুব হতাশ হয়েছেন।

সর্বশেষ গত ০৬ নভেম্বর রোববার বলিউডের জনপ্রিয় ফ্যাশন ডিজাইনার মণীশ মালহোত্রার বাড়ির দীপাবলি উদযাপন অনুষ্ঠানেও একাই গিয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া। মণীশ মালহোত্রার দীপাবলি পার্টিতে বচ্চনরা যাননি এবছর। যাননি অভিষেক বচ্চনও। পার্টিতে একা যাওয়ার কারণে তাড়াতাড়ি সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছেন ঐশ্বরিয়া।

ঐশ্বরিয়াকে ওই অনুষ্ঠানে দেখা গেছে লাল-গোলাপি সারারা পোশাকে। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে মেকআপ, কপালে টিপ, কানে ভারি ঝুমকা, খোলা চুল আর লাল লিপস্টিকে ঠোঁট রাঙিয়ে হাজির হয়েছিলেন প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরী। জমকালো সাজে অনুষ্ঠানে ঐশ্বরিয়াকে দেখে মুগ্ধ নেটপাড়ার নাগরিকরা। কেউ লিখেছেন, ‘ভীষণ সুন্দর, লাবণ্যময়ী’। আবার কেউ লিখেছেন, ‘ঐশ্বরিয়াই আসল ডিভা’। মণীশের পার্টিতে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঐশ্বরিয়ার ননদের কন্যা নব্যা নভেলি নন্দাও। কিন্তু মামি ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে ক্যামেরায় ধরা দেননি নব্যা!

অথচ অভিষেকের সঙ্গে বিয়ের পর বলিউডের কোনো অনুষ্ঠানেই একা উপস্থিত হননি ঐশ্বরিয়া। সব সময় অভিষেকের সঙ্গে দেখা যেত তাঁকে। ছবি শিকারিদের কাছেও একসঙ্গে পোজ দিতেন এই তারকাযুগল। মিডিয়ার খবর, তারকাখচিত কোনো অনুষ্ঠানে অভিষেক যেতে না পারলে, ঐশ্বরিয়াও যেতেন না। কিন্তু বিগত কয়েক মাস ধরে একাধিক অনুষ্ঠানে একাই যাচ্ছেন ঐশ্বরিয়া। এমনকি বচ্চন পরিবারের কোনো সদস্যকেও এখন তাঁর সঙ্গে দেখা যাচ্ছে না!

গত ক’মাস ধরে কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অনেকেই ধারণা করছেন বচ্চন পরিবারে গৃহবিবাদ চলছে। শাশুড়ি জয়া ও ননদ শ্বেতার সঙ্গে ঐশ্বরিয়ার বিরোধ তুঙ্গে। স্বামী অভিষেকের সঙ্গেও সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না ঐশ্বরিয়ার। তাই এক ধাপ এগিয়ে কারো কারো প্রশ্ন, এবার কি সত্যি সত্যিই বচ্চন পরিবারের ‘জলসাঘরে’ভাঙনের সুর বাজছে? এ নিয়ে মিডিয়া ও সমাজমাধ্যমে জল্পনা-কল্পনা এবং গুজব-গুঞ্জন এবং আলোচনা-সমালোচনার অন্ত নেই।

, , , , , , , , , , .
#ঐশ্বরিয়া_রাই, #অমিতাভ_বচ্চন, #অভিষেক_বচ্চন, #জয়া_বচ্চন, #শ্বেতা_বচ্চন, #বলিউড, #বলিউড_অভিনেত্রী, #বলিউড_অভিনেতা, #চলচ্চিত্র, #বলিউড_চলচ্চিত্র, #বলিউড_দম্পতি।

যেতে হবে অন্য কোথাও!দ্যুতিময় বুলবুলদ্বিতীয় পর্বপরদিন সন্ধ্যায় মা বাবা দু’জনেই ডাক্তারের কাছে গেছেন। আমাকে কোনো কিছু না জ...
02/11/2023

যেতে হবে অন্য কোথাও!
দ্যুতিময় বুলবুল
দ্বিতীয় পর্ব

পরদিন সন্ধ্যায় মা বাবা দু’জনেই ডাক্তারের কাছে গেছেন। আমাকে কোনো কিছু না জানিয়েই। রিপোর্টগুলো সঙ্গে নিয়ে গেছেন তারা। ফিরলেন রাত ১১টার দিকে। দু’জনেই নির্বাক, নিস্তব্ধ, গম্ভীর। মুখ মলিন। চোখে কান্নার ছাপ স্পষ্ট। আমার দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারছেন না তারা। বহু কষ্টে বাবা জিজ্ঞেস করলেন, মা খেয়েছো? তারপর জবাবের অপেক্ষা না করেই দ্রুত ঘরে ঢুকলেন তিনি। পিছনে মা। আমি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম, বাবা মা কাঁদছেন। আমি পুরোপুরি নিশ্চিত, এবার পৃথিবীকে বিদায় জানাতে হবে!

মা বাবার অবস্থা বুঝলাম। তাই ভাবলাম, এখন আর তাদের কাছে যাব না। সরাসরি আমার ঘরে গিয়ে ডিম লাইট জ্বালিয়ে শুয়ে পড়লাম। নানা দুঃচিন্তা। ঘুম আসে না কিছুতেই। ঘুমের বুড়ি নিরুদ্দেশ। দু’চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে অবিরাম। কে যেন অদৃশ্য থেকে বলছে, মায়া এই পৃথিবী আর তোমার না। পৃথিবীর মায়া ছাড়ো। যেতে হবে অন্য কোথাও, অন্য কোনোখানে। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, “হেথা নয়, হেথা নয়, আর কোন্‌খানে।”

অজানা আশঙ্কা, মূলত মৃত্যু ভয় তাকে তাড়া করছে। অবচেতন মনে মায়ার মুখ থেকে বেরিয়ে এলো, তার প্রিয় কবি রবীন্দ্রনাথের কড়ি ও কোমল কাব্যগ্রন্থের "প্রাণ" কবিতার চরণ- "মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে/ মানবের মাঝে আমি বাঁচিবার চাই। /এই সূর্যকরে এই পুষ্পিত কাননে/ জীবন্ত হৃদয়-মাঝে যদি স্থান পাই।”

মানুষ মরণশীল। মানবজীবনে মৃত্যুই সবচেয়ে বড় ও চিরন্তন সত্য। হয়তো দু’দিন আগে অথবা পরে। কিন্তু মানুষ এ চিরন্তন সত্য মানতে চায় না। মানতে চায় না, ‘জন্মিলে মরিতে হইবে’। বরং এ সুন্দর পৃথিবীতে বাঁচতে চায় মৃত্যুহীনভাবে। আমার প্রাণের আকুতিও তাই।

এই বিশ্বচরাচর বিস্ময়কর প্রাকৃতিক ও নৈসর্গিক সৌন্দর্য দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখে মানুষকে। তাই মানুষ এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে চায় না, অনন্তকাল এই বিশ্ব সৌন্দর্য উপভোগ করতে চায় । অথচ মানুষ জানে এই পৃথিবীতে কোনো জীবনই চিরস্থায়ী নয়, ক্ষণস্থায়ী। তবুও মানুষ এ ক্ষণস্থায়ী জীবনে পৃথিবীর রূপ-রস-গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে জীবনকে আঁকড়ে ধরতে চায়।

অপার সৌন্দর্য আর একইসঙ্গে নয়নাভিরাম ও বৈচিত্রময় পৃথিবীতে আপনজনের মায়ার বন্ধন কেউই ছাড়তে চায় না। সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে বেঁচে থাকতে চায়। এই সুন্দর পৃথিবী সব মানুষের কাছে পরম আপন। তাই মানুষ এ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে অন্য কোথাও চলে যেতে চায় না। পরিবার-পরিজন নিয়ে পৃথিবীর সৌন্দর্য ও আনন্দ উপভোগ করতে চায়। পৃথিবীর প্রতি মানুষের এই ভালোবাসা অকৃত্রিম। তাই মৃত্যু অবধারিত জেনেও মানুষ এ পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে চায় না। এই অমরত্বের প্রার্থণা মানুষের চিরন্তন। সকলের কাছেই পৃথিবী সুন্দর। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে কেউ পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিতে চায় না।

এসব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতেই দেখলাম, বাবা মা দু’জনেই খুব নিরবে, চুপিসারে সন্তর্পনে আমার ঘরে ঢুকলেন। লাইট জ্বালালেন না। ডিম লাইটের আলো আধাঁরির মধ্যেই তারা দু’জনেই আমার বিছানায় পাশে বসলেন। ভাবলেন, আমি ঘুমিয়ে গেছি। মা বাবা দু’জনেই আমার মুখে হাত বুলালেন। আমি স্পষ্ট দেখলাম, তারা কাঁদছেন। তাদের দু’জনেরই চোখের জল আমার গালে টপটপ করে পড়ল। আমি বহু কষ্টে কান্না চেপে গেলাম। ঘুমের ভান করে মরার মতো শুয়ে থাকলাম। কোনো নড়াচড়া করলাম না। যাতে তারা টের না পান, আমি জেগে আছি।

সকালে বিছানা থেকে উঠেই শুনলাম, বাবা বাইরে গেছেন। জিজ্ঞেস করলাম, এতো সকালে কেন? মা বললেন, তোমার বাবা অ্যাম্বাসিতে গেছে, ভিসার জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে। ব্যবসার কাজে শিগগিরই তাকে সিঙ্গাপুর যেতে হবে। হঠাৎ সিঙ্গাপুরে ব্যবসার কাজে! আগে তো জানতাম না, বলল মায়া। জবাবে মা বললেন, অনেক আগেই তার যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু যাই যাই করতে করতে যায়নি। এখন না গেলেই নয়। ভাবছি- তুমি, আমিও তার সঙ্গে বেড়াতে যাব। অনেকদিন কোথাও যাওয়া হয় না। একটু দেশের বাইরে থেকে ঘুরে আসি।

মায়ার সন্দেহটা আর সংশয়ের মধ্যে রইলো না। কঠিন সত্যে রূপ নিলো। হয়তো দেশে তার ভালো চিকিৎসা নাই। তাই তাকে সিঙ্গাপুর নেয়া হচ্ছে। কিন্তু মাকে সে হা-না কিছুই বলল না। চুপচাপ ঘরে চলে গেল। তবে যাওয়ার আগে পিছন ফিরে দেখলো, মায়ের চোখে জল। মায়ার বুঝতে আর কিছুই বাকি রইলো না। সে শুয়ে পড়ল বিছানায়।

কেন জানি আজ মায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা খুব মনে পড়ছে। মনে পড়ছে বন্ধু-বান্ধবীদের কথা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি খ্যাত, ছবির মতো সাজানো গোছানো ক্যাম্পাসটাও ভীষণভাবে টানছে। বিশেষ করে মারুফের হাসি খুশি সহজ সরল প্রেমময় মুখটা ভেসে উঠছে তার মনের অলিন্দে। জ্বলজ্বল করছে তার স্বপ্নময় দুটি চোখ। বুক ভরা অকৃত্রিম ভালোবাসা- True and Profound Love যাকে বলে।

মায়া ভাবছে, আজ তিনদিন দেখা হয়নি কারো সঙ্গে। কথা হয়নি মারুফের সঙ্গেও। প্রতিদিন সে ফোন করেছে। একদিনও ধরিনি। সে হয়তো খুব মানসিক কষ্টে আছে। সত্যিই মারুফ আমাকে খুব ভালোবাসে। কিন্তু এই ভালোবাসায় কী লাভ, দুঃখ ছাড়া তো আর কিছু প্রাপ্তি নেই! তাকে তো কিছু বলতেও পারছি না। তবুও একটা ফোন করি। কথা বলে নিজে কিছুটা হালকা হই, ওকেও হালকা করি। এই ভেবে মোবাইল ফোনটা হাতে নিতেই মারুফের Call এলো। কী ব্যাপার, তুমি ফোনটা ধরছো না কেন? তিনদিন ধরে ক্লাসেও আসছো না। Is there anything wrong? এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে থামল মারুফ।

মায়া প্রচণ্ড আবেগ প্রবণ হয়ে উঠেছে। দু’চোখ বেয়ে জল পড়ছে। মুখে কথা সরছে না। তবুও জোর করে সে বলল, আরে তেমন কিছু না। দু’দিন খুব ব্যস্ত ছিলাম পারিবারিক কাজে। তাছাড়া খুব শিগগিরই বাবা মা’র সঙ্গে সিঙ্গাপুর বেড়াতে যাব। তাই একটু গুজগাজ করছিলাম- এই আর কি। চিন্তার কিছু নেই। কাল আমি ক্যাম্পাসে আসছি। ক’দিন ধরে সবাইকে মিস করছি। তোমাদের না দেখে ভালো লাগছে না। বিশেষ করে ক্যাম্পাসটা খুব টানছে, টানছো তুমিও।

অনেকটা ভারমুক্ত হলো মারুফ। যেসব দুঃচিন্তা সে করেছিল, হয়তো সেসব কিছু না। ক’দিন ধরেই তার ঘুম হয়নি। নাওয়া-খাওয়ার প্রতি আগ্রহও তার ছিল না। আজ রাতে সে ভালোমতো খাবে। তারপর টানা একটা ঘুম দেবে। সকালে সবার আগে সে ক্যাম্পাসে যাবে। মায়াকে স্বাগত জানাবে। সারাদিন তার সঙ্গে ক্যাম্পাসে ঘুরবে, গল্প করবে, হাসিঠাট্টায় মেতে উঠবে। ক্যাফেতে দুপুরে একসঙ্গে খাবে। মুক্তমঞ্চের সামনে লাল ইটের বেঞ্চে বসে আড্ডা দেবে। যেন কতদিন মায়ার সঙ্গে তার সঙ্গে দেখা হয়নি, কথা হয়নি!

পরদিন সকাল সকাল ক্যাম্পাসে এলো মায়া। দেখলো, কলাভবনে ক্লাসরুমের সামনে অধীর আগ্রহে চাতক পাখির মতো পথের দিকে চেয়ে আছে মারুফ। মায়াকে দেখেই সে অস্থিরভাবে সামনে এগিয়ে গেলো। কিন্তু একি! মায়ার মধ্যে কোনো উচ্ছ্বাস নেই। ধীর স্থির নিস্তরঙ্গ। তার হাসি-খুশি মুখটা অত্যন্ত মলিন, নিষ্প্রভ।

অনেক বদলে গেছে মায়া। কোনো উল্লাস নেই, উত্তাপ নেই। সাজগোজ করেনি। এলোমেলো চুল। চোখের কোনায় কালি পড়েছে। তিনদিনেই যেন অর্ধেক শুকিয়ে গেছে! হতাশ ও উদাস ভঙ্গিতে তার দিকে চেয়ে আছে। মুখের কথা সরছে না। মনে হচ্ছে চোখে বিন্দু বিন্দু জল। অবাক বিস্ময়ে হতবাক মারুফ। মায়ার চেহারার এ অবস্থা দেখে তারও যেন মুখ থেকে কথা বেরুচ্ছে না। তার বাঁধভাঙা উল্লাস ও উচ্ছ্বাস থেমে গেছে। কারণ, এমন মায়াকে সে কখনো দেখেনি। (চলবে)

, , , , , , , , , .
#ভালোবাসা, #প্রেম, #প্রেম_কাহিনি, #গল্প, #প্রেমিক, #প্রেমিকা, #ট্রাজেডি, #রোমান্স, #বিনোদন, #খাঁটি_প্রেম, #সত্যিকারের_ভালোবাসা, #গভীর_ভালোবাসা, #বিশ্ববিদ্যালয়, #ক্যাম্পাস।

Address

House 29, Road 01, Dhanmondi
Dhaka
1205

Telephone

+8801714034259

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when DyutiShop posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to DyutiShop:

Share