17/05/2026
২০২১ সালে ব্রেস্টফিডিং করানোর দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম ছিলো। বর্তমানে প্রায় ৬৩% নারীরা বাচ্চাকে পুরোপুরি ব্রেস্টফিড করান। কেউ কেউ ভাবতে পারেন যে বাকি মেয়েরা বোধহয় নিজের স্বাস্থ্য নষ্ট হবে ভেবে বাচ্চাকে ফর্মুলা দুধ খাওয়ান এটার মতোন বাকওয়াস কথা আর নেই। ভাইরাল টপিকের কথা বলছিনা, এ কথা অনেকেই বলে। হরহামেশাই বলে।
দেশের যা অবস্থা তাতে একটা ডিমের দাম বারো টাকা, একটা কলার দাম দশটাকা, এককেজি আপেলের দাম সাড়ে তিনশত থেকে চারশত টাকা। কেবল মূলার শাক আর ফার্মের মুরগি খেয়ে মায়েরা বাচ্চাকে ব্রেস্টফিড করাতে পারবে? গ্রামেও আজকাল মেয়েরা বুকের দুধ খাওয়াতে না পেরে ফর্মুলা দুধ দিচ্ছে বাচ্চাকে। এবার বলেন তারা কেন দিচ্ছে?
প্রেগনেন্সি থেকে শুরু করে ডেলিভারি পর্যন্ত বেশিরভাগ মেয়েরা শরিরের অবস্থা কতোটা নাজুক থাকে তা যদি দেখানো যেতো। দেশের সব খাবারে ভেজাল, ঔষধে ভেজাল, প্রসূতিদের চিকিৎসার ঠিক নেই, হাজারটা কমপ্লিকেশন, দিনরাত চলে ডমেস্টিক ভয়োলেন্স আর মানসিক টর্চার; ওদিকে মানুষ বলে মেয়েরা নাকি ফিটনেস নিয়ে ভাবে।
ফিটনেস নিয়ে ভাববে তো দূর! দুটো ডিম কলা আর এক গ্লাস দুধ বেশি খাইলেও সেইটা নিয়ে মেয়েদের কৈফিয়ত দেয়া লাগে।
দূর্বলের ওপর দোষ চাপানো সহজ। এদেশের সবচেয়ে দূর্বল শ্রেণি হচ্ছে মেয়েরা, মায়েরা। যারা সিজারে গেলেও একপক্ষের কথা শোনে, যাদের বাচ্চা মারা গেলেও আরেক পক্ষের কথা শোনে।
আমি ভাবি আল্লাহ পাক কেন যে মেয়েদের চারটে কান দিলেন না, এতো কথা কি দুইকানে শুনে কূল করা যায় বলেন তো? 🙂