08/06/2026
আজকে নতুন এক অভিজ্ঞতা হলো পেরিফেরিতে প্রাইভেট ক্লিনিকে কাজ করতে এসে,,
নরমাল ডেলিভারি করার পর নার্স ও আয়ারা,২-৩ মিনিট চেষ্টা করেও বাচ্চা কান্না(রিসাসিটেশন) করাতে পারতেছেনা,ডিউটি ডক্টর হিসেবে ছিলাম দেখে ডাকলো।
গিয়ে দেখি বাচ্চা নীলচে কালো,,
হার্ট সাউন্ড এবসেন্ট,,
বারবার শ্বাস নালী থেকে সাকার দিয়ে সিক্রেশন বের করতেছে,আর অক্সিজেন দিচ্ছে,,
তবুও লাভ হচ্ছে না।
আমি গিয়ে এই অবস্থা দেখে ভাবলাম বাচ্চাটা পেটেই মারা গেছে(IUD),
এরপর আমি আবিদ স্যারের বই থেকে পড়া রিসাসিটেশন ও একটা বাচ্চাকে সরাসরি রিসাসিটেশন করা দেখা এই ২ টা নলেজ কাজে লাগিয়ে শুরু করলাম CPR দেওয়া।
যদিও এই রিসাসিটেশন ই আমার প্রথম
আম্বু ব্যাগ ভালোভাবে ফিট করে,ওটি বয় কে শিখিয়ে দিলাম ৩ বার বুকে চাপ দিলে একবার আম্বু ব্যাগে চাপ দিবে,,
টানা ২-৩ মিনিট CPR দেওয়ার পর দেখি বাচ্চা পিংক কালার হয়ে গেছে,এরপর স্টেথোস্কোপ দিয়ে দেখি হার্ট সাউন্ড পাওয়া যাচ্ছে,,,(আলহামদুলিল্লাহ),এবং একটু একটু আওয়াজ করতেছে,এরপর কান্না করানোর অনেক চেষ্টা করে একটু কান্না করানো গেছে,পাঠিয়ে দিলাম সুনামগঞ্জ সদর হসপিটালে,,,,।
বাচ্চার খোঁজ নিলাম আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছে(আল্লাহ হায়াত দিক)।
ভাবলাম আল্লাহ না চাইলে আমরাও দুনিয়ায় আসতে পারতাম না,আর সেখানে আমাদের দাম্ভিকতার শেষ নেই।
এই কাজ করতে যেয়ে অনেক বেশি ভয় পাইছি,মনে মনে চিন্তা করতেছিলাম তখন কিভাবে ম্যানেজ করবো রোগীর লোকদের,মাইর খাই কিনা আবার।
আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ রক্ষা করছেন।
পেরিফেরিতে কাজ করা প্রচুর রিস্ক।
আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন যেনো আমার দ্বারা মানুষের উপকার না হলেও ক্ষতি যেনো কোনভাবেই না হয় এবং ডাক্তারদের উপর মানুষ যেভাবে হামলা করে এরকম হামলা যেনো না হয়।
সর্বোপরি ডাক্তারদের উপর হামলা যেনো বন্ধ হয়।
ডা. শরীফুল ইসলাম
MBBS(হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল)