Lore

Lore This page share information

খোলার পরপরই আমার ২০ মিনিট খেয়ে ফেললো ফেসবুক! এখন আর কেউ বই পড়বে না, সিনেমা দেখবে না, পরিবারকে সময় দেবে না, বড়রা বাচ্চাদে...
31/07/2024

খোলার পরপরই আমার ২০ মিনিট খেয়ে ফেললো ফেসবুক! এখন আর কেউ বই পড়বে না, সিনেমা দেখবে না, পরিবারকে সময় দেবে না, বড়রা বাচ্চাদের সঙ্গে খেলবে না, একই স্থানে অবস্থান করেও একে অন্যের সঙ্গে কথা বলবে না। শুধুই মোবাইল স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকবে। আহা....আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম!

অমানুষ মনে হয় নিজেকে!বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, জাপান। অথচ, তাদের চেয়ে বেশি খাবার অপচয় করি...
31/03/2024

অমানুষ মনে হয় নিজেকে!

বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, জাপান। অথচ, তাদের চেয়ে বেশি খাবার অপচয় করি আমরা! যুক্তরাষ্ট্রে একজন ব্যক্তি বছরে ৭৩ কেজি খাবার অপচয় করে, যেখানে প্রত্যেক বাংলাদেশি বছরে অপচয় করে ৮২ কেজি খাবার। ভাবা যায়? দেশের সবাই মিলে অপচয় করেছি ১ কোটি ৪১ লাখ টন খাবার! যখন দেশের আনাচে কানাচে লাখ লাখ শিশু অভুক্ত অবস্থায় রাতে ঘুমাতে যায়, তিন বেলা ডাল-ভাত খাওয়ার জন্য একজন গৃহকর্মী ভোর থেকে রাত অবধি মানুষের বাসায় টানা কাজ করে, তখন ফুটানি দেখাতে গিয়ে আমরা লাখ লাখ মানুষের খাবার ডাস্টবিনে ফেলছি! যদিও অপচয় করার মতো খাবার দেশের অধিকাংশ মানুষের হাতেই থাকে না। অর্থাৎ, যারা অপচয় করে তাদের কেউ কেউ ২০০-৫০০ কেজি খাবার অপচয় করছে বছরে।

অবাক করা বিষয়- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়ার মতো উন্নত দেশগুলোর চেয়ে বেশি খাবার অপচয় করি আমরা! ফুটানি দেখাতে গিয়ে আমাদের মতো ফকিন্নিরা আজীবন ফকিন্নিই থেকে যাচ্ছি। এক মুঠ ধান গোলায় তুলতে টানা চার-পাঁচ মাস অমানুষিক পরিশ্রম করে একজন কৃষক। কম দামের কারণে সেই ধান বিক্রি করে চলে না সংসার। আর আমরা শিক্ষিত দাবিদার অমানুষরা অবলিলায় সেই ফসল থেকে উৎপাদিত খাবার অপচয় করি। এজন্য শ্রেণিভেদে খাবারের দামে পার্থক্য থাকা উচিত। রাজধানীর একটা বাফেট রেস্টুরেন্টে দেখলাম, খাবার অপচয় করলে জরিমানার সাইনবোর্ড সাটিয়ে দিয়েছে। ভালো লেগেছে। অনেক ধনীদের সেখানে দেখলাম, তবে খাবার অপচয় কম ছিল।

গত কয়েকদিন বিভিন্ন ইফতার পার্টিতে গিয়েও প্রচুর খাবার অপচয় হতে দেখলাম। আলেমদের প্রশ্ন করেছি এটা নিয়ে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, অপচয় ইসলাম কখনোই সমর্থন করে না। এজন্য অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই (বোনও হতে পারে) বলেও উল্লেখ আছে। আর রমজান সংযমের মাস। কম খেয়ে টাকা বাঁচাবেন, দরিদ্র মানুষকে সহায়তা করবেন। অপচয়ের তো প্রশ্নই ওঠে না। অথচ, ১০ টাকা ভিক্ষা দিতে গেলে আমরা ৭০ বছরের বৃদ্ধকে ১০টা প্রশ্ন করি। অন্যদিকে অনায়াসে ডিনারসহ ইফতার পার্টিতে যোগ দিতে এক-দেড় হাজার টাকা দিয়ে দেই। কারণ, ওখানে ছবি তোলার বিষয় আছে। বড়লোকি দেখানোর বিষয় আছে। কে কত দামি জায়গায় ইফতার করতে পারলাম, সেটা দেখানোর বিষয় আছে। ফেসবুকটা না থাকলে এটা বোধহয় কিছুটা কমতো।

শুধু ইফতার নয়, বছরজুড়ে খাবার অপচয় হচ্ছে। জাতিসংঘের ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স রিপোর্ট-২০২৪ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী বেশিরভাগ খাবারই অপচয় হচ্ছে বাসাবাড়িতে। এটা আমিও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। কারণ, আমাদের বাসার বাইরে রাখা ময়লার ড্রামে প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ জনের খাবার ফেলা হয়। আপনার টাকা আছে, তাই আপনি দুপুরে যে খাবার রান্না করছেন, রাতে সেটা আর খাচ্ছেন না। তাহলে কম রান্না করুন। তিন দিন ফ্রিজে রেখে যে খাবারটা ফেলে দিচ্ছেন, তাতে অন্য কোনো পরিবারের সারাদিনের খাবার হয়ে যেতো।

জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে ১০০ কোটি টনের বেশি খাবার অপচয় হয়েছে বিশ্বজুড়ে, যা বাজারে আসা উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। যত খাদ্য অপচয় হয়েছে তার ৬০ ভাগই বাসাবাড়িতে হয়েছে। ওই সময়ে বাংলাদেশের খাদ্য অপচয়ের প্রবণতা ছিলো ভারত, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি। বাসাবাড়িতে এক ব্যক্তি বছরে গড়ে ভারতে ৫৫ কেজি, যুক্তরাজ্যে ৭৬ কেজি, যুক্তরাষ্ট্রে ৭৩ কেজি ও রাশিয়ায় ৩৩ কেজি খাবার অপচয় করেছে । আর বাংলাদেশে প্রতি ব্যক্তি অপচয় করেছে ৮২ কেজি।খাবারের সবচেয়ে বেশি অপচয় হয়েছে মালদ্বীপে ২০৭ কেজি আর সবচেয়ে কম হয়েছে মঙ্গোলিয়ায় ১৮ কেজি। এই যে ১০০ কোটি টন খাবার নষ্ট হলো, সেটা উৎপাদন করতে কত কোটি কৃষকের কী পরিমান শ্রম ছিল ভাবতে পারেন?

10/12/2023

এলাকার দোকানদার বললো- ‘‘কোনো কিছুর দাম যখন কমে, তখন ক্রেতা আরো কমার আশায় কম কেনে। যখন দাম বাড়ে তখন আরো বাড়ার ভয়ে বেশি কিনে নিয়ে যায়।’’ ক্রেতার এই সাইকোলজিটাই মাঝেমধ্যে কাজে লাগিয়ে একটু মুনাফা করে সিন্ডিকেটেড ব্যবসায়ীরা।

বাংলার লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বাহক নকশি কাঁথাবাংলার লোকসংস্কৃতি আর গ্রামীণ কুটির শিল্পের একটি বড় জায়গা দখল করে আছে নকশি ...
04/10/2020

বাংলার লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বাহক নকশি কাঁথা

বাংলার লোকসংস্কৃতি আর গ্রামীণ কুটির শিল্পের একটি বড় জায়গা দখল করে আছে নকশি কাঁথা। কখনো ৭ দিন, কখনো দুই মাস ধরে কাঁথার জমিনে ফুটিয়ে তোলা হয় ফুল, লতা-পাতা, কখনো বা ইতিহাস। গ্রামীণ ঐহিত্যের এই সমৃদ্ধ উপাদানটি এখন আর গ্রামেই সীমাবদ্ধ নেই, দিন দিন এর কদর বাড়ছে শহুরে জীবনেও। একটি কাঁথা এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫ হাজার টাকায়ও। তবে যাদের শ্রমে এই কাঁথা তৈরি তাদের অনেকেই পান না প্রকৃত পারিশ্রমিক। এতে অনেকেই নকশি কাঁথা সেলাই করা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। তবে কিছু ব্রান্ডের প্রতিষ্ঠান ভালো পারিশ্রমিক দিয়ে গ্রামের নারীদের দিয়ে নকশি কাঁথা সেলাই করাতে শুরু করেছে। এতে বিলুপ্ত হতে বসা লোকসংস্কৃতির এই গুরুত্বপূর্ণ উপাদানটি ফের ফিরে আসছে।

বাংলার লোকসংস্কৃতিতে জড়িয়ে আছে নকশী কাঁথা: বাড়িতে সন্তান জন্ম নেওয়ার সময়ে তার জন্য নতুন কাঁথা তৈরির রেওয়াজ টিকে আছে দীর্ঘদিন ধরে। বাড়িতে বিয়ে কিংবা পার্বণের মতো সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিথিদের নতুন কাঁথা দিয়ে বরণ করে নেওয়ার চিরাচরিত রেওয়াজ পাওয়া যায় বাংলার কোনো কোনো গ্রামে। বিয়ের পরে মেয়েকে শ্বশুরালয়ে পাঠিয়ে দেওয়ার সময় উপহারের তালিকায় থাকে নকশী কাঁথা। উপহার হিসেবে এক সময় নকশি কাঁথার কদর ছিল সবার উপরে। পরে কারখানায় তৈরি বাহারি কম্বল ও কমফোর্টার এসে সেই জায়গাটি দখল করে নেয়। তবে অনেক সৌখিন ও অভিজাত পরিবার নকশি কাঁথাকে পারিবারিক ঐতিহ্য হিসেবে ধরে রেখেছেন দীর্ঘদিন ধরে। পাশাপাশি দিন দিন সৌখিন ও অভিজাত উপহার হিসেবে নকশি কাঁথার কদরও বাড়ছে।

বাংলায় দীর্ঘসময় ধরে চলে বর্ষাকাল। মাঠ ঘাট থৈ থৈ বর্ষায় ঘরের বাইরের কাজ কমে আসে নারীদের, একটুখানি অবসরের সন্ধান পায় তারা। বাঙালী নারীদের এই অবসর সময়ে পান আর সুপারির আড্ডায় সুঁই সুতো হাতে কাঁথা সেলাই এক চিরাচরিত অভ্যাস। গ্রামীণ সমাজে দ্রুত পরিবর্তন আসার সাথে সাথে এ ধরনের সামাজিকতায়ও পরিবর্তন আসছে।

তবে এখনো গল্পে গল্পে গ্রামীণ নারীরা দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নকশী কাঁথার কাজ করে যান। অনুপম দক্ষতায় কাঁথার জমিনে ফুটে উঠে গাছ, পাখি কিংবা লতাপাতার ছবি। কোনোসময় কাঁথায় উঠে এসেছে দুঃখ আর সুখের কাহিনী, কখনো লন্ঠনের নিভু আলোয় শোনা পুঁথির গল্পই সূচ দিয়ে কাঁথায় ফুটিয়ে তুলেছেন নারীরা।

কাঁটাতারে বাংলা এফোঁড় ওফোঁড় হলেও দুই বাংলাতেই কাঁথা সেলাইয়ের ধরন আর নকশাও মিল পাওয়া যায়, কারণ বাংলা ভাগ হওয়ার অনেক আগেই এই শিল্পের জন্ম। তাই বাংলার প্রবাদে, গল্প, গানে কিংবা কবিতায় অমর হয়ে আছে নকশী কাঁথা। 'ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখা'র মতো বাগধারা যেমন আছে ঠিক তেমনি আছে পল্লীকবি জসীম উদদীনের আখ্যানকাব্য ‘নকশী কাঁথার মাঠ’। এই আখ্যানকাব্য দিয়েই বাংলা সাহিত্যে উঠে এসেছে কীভাবে কাঁথায় সূচের প্রতিটি পরতে পরতে ফুটে উঠতে পারে ভালোবাসা আর বেদনার কাহিনী। প্রেমিক রুপাই আর প্রেমিকা সাজুর ভালোবাসার অমর আখ্যান এই কাব্য।

অমর এক আখ্যানের নাম ‘নকশী কাঁথার মাঠ’
বিয়ের পরে রুপাই আর সাজুর ভালোবাসায় আখ্যান বেশি দূর যেতে পারেনি। ফেরারি হয়ে যায় রুপাই। স্বামীর অপেক্ষায় স্ত্রী সাজু বাকি জীবন নকশী কাঁথা বুনতে শুরু করে, দিন-মাস-বছর যায়। সাজু নকশী কাঁথায় সুঁইয়ের আচড় দিয়ে যায়, কাঁথায় লেখে কত গল্প, রুপাই ফিরে আসে না। সারা জীবন সাজুর এভাবেই কেটে যায়। সাজুর নকশী কাঁথা বোনা যেদিন শেষ হয়ে যায় সেদিন সে মাকে অনুরোধ করে, তার মৃত্যুর পর যেন তার কবরের উপরে নকশী কাঁথাটি বিছিয়ে দেওয়া হয়। বহুদিন পরে নকশী কাঁথার নিচে শুয়ে থাকা সাজুর কবরের পাশে ভিনদেশী বংশীবাদকের মরদেহ পাওয়া যায়।

বাংলার নারীরা স্বামী কিংবা প্রেমিকের বিরহেও নকশী কাঁথা বুনেছে, প্রবাসে কিংবা বিদেশ বিভূঁইয়ে আত্মীয় স্বজন কিংবা পরিবার পরিজনের স্মৃতি কাঁথার জমিনে জীবন্ত হয়ে ওঠেছে। কেউ হয়তো স্বজনের কাছে নতুন কাঁথা তুলে দিতে পেরেছে, কেউ রুপাই-সাজুর মতো পারেনি।

কাঁথার ভেতরে বাইরে
কাঁথার প্রচলন দুই বাংলা জুড়েই আছে। বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, যশোর, খুলনাসহ সারা বাংলার গ্রামে গঞ্জেই ছিটিয়ে আছে কাঁথা বানানোর সংস্কৃতি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, বিহারেও দেখা যায় বৈচিত্রপূর্ণ কাঁথার সমাহার। বিহারের 'সুজনী' কাঁথার আছে আন্তর্জাতিক মহলে 'ভৌগলিক স্বীকৃতি'। যদিও একই নামে এবং প্রায় একই ধরনের কাঁথা বাংলাদেশের রাজশাহী অঞ্চলেও প্রচলিত আছে।

খানিকটা ছিড়ে যাওয়া, পুরাতন হয়ে যাওয়া শাড়ি, লুঙ্গি, ধুতি কিংবা চাদরকেই সাধারণত কাঁথা বানানোতে কাজে লাগানো হয়, তবে কাঁথা বানাতে শাড়ির আছে আলাদা কদর। প্রথমে পুরাতন কাপড়কে ধুয়ে, এতে মাড় (ভাত রান্নার সময় অবশিষ্ট তরল) দেওয়া হয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে। পুরুত্বের দিক থেকে ক্ষেত্রবিশেষে একটি কাঁথায় তিনটি থেকে সাতটি শাড়িও ব্যবহার করা হয়।

নকশী কাঁথা ছাড়াও গ্রামে গঞ্জে সাধারণ সেলাই করা কাঁথা দেখা যায়। সেখানে নকশার বাহাদুরী নেই, প্রয়োজনটাই মুখ্য সেখানে। সেলাইয়ের পর সেলাই করে সেখানে পুরাতন কাপড়গুলোকে একত্র করে কাঁথা বানানো হয়। কাঁথার চারদিক ঘিরে মজবুত সেলাই দেওয়া হয় যাতে সহজে ছিড়ে না যায়। শীত নিবারণের জন্য সেলাই করা কাঁথা বেশ পুরো আর মোটা হয়। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে রাজশাহী এবং চাপাই নবাবগঞ্জ এলাকায় তৈরিকৃত কাঁথা বেশ মোটা হয়। শীত নিবারণের জন্য আমাদের দেশীয় লেপ কিংবা কম্বলের পাশাপাশি কাঁথার আলাদা সমাদর আছে।

নকশী কাঁথার নকশা
তবে কাঁথায় হরহামেশা নকশা দেখা যায়, অনেকেই নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী ফুল, পাখি, লতাপাতা আঁকেন। পারিবারিকভাবে মা কিংবা দাদীর করা নকশার অনুকরণ করেন অনেকেই। গল্প, লোককথা, গ্রামীণ পুঁথির চরিত্র কিংবা ধর্মীয় চরিত্র আর অনুশাসন কাঁথার নকশায় আনে বৈচিত্র্য। কাঁথার পাশাপাশি নামাজের জন্য নির্মিত নকশী জায়নামাজ কিংবা কোরআন রাখার গিলাফে দেখা যায় চাঁদ তারা, ধর্মীয় গ্রন্থের লাইন, মসজিদ কিংবা মিনারের ছবি।

তবে এমন অনেক নকশাই আছে যা বাংলার মাঠে প্রান্তরে ঘরে ঘরে হাজার বছর ধরে জড়িয়ে আছে। এর দার্শনিক উৎস ভারতীয় হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা ইসলাম ধর্মে পাওয়া যায়। তবে সব ক্ষেত্রে নকশাকাররা সেই দার্শনিক তত্ত্ব কিংবা চিহ্নের গুরুত্বের দিকে নজর দিয়েই নকশা আঁকেন ব্যাপারটি মোটেও এমন নয়। অনেকক্ষেত্রেই নকশাটি সুন্দর বলে পারিবারিকভাবে ছড়িয়ে যায়, আবার নকশা সংরক্ষণে ছোট রুমালের আকারের কাপড়ে সেই নকশার ছাঁচটি তুলে রাখা হয়। ফলশ্রুতিতে পরবর্তী প্রজন্ম সেই নকশা দেখে সেটিকে পুনরুজ্জীবিত করে তুলতে পারে, কখনো পরের প্রজন্ম থেকে নতুন করে উপাদান যুক্ত হয়ে সমৃদ্ধও হয় সেই নকশা।

একটি বিখ্যাত নকশা হচ্ছে একটি বৃত্তকে কেন্দ্র করে চতুর্দিকে ছড়িয়ে থাকা পদ্ম কিংবা চাকা। বৃত্তকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে থাকা এই নকশা শুধু কাঁথা কিংবা রুমালেই নয় সারা ভারতের স্থাপত্যকলাতেই বেশ গুরুত্বপূর্ণ। নকশী কাঁথাও একটি বৃত্তকে কেন্দ্র করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়া নকশা দেখা যায় হরহামেশাই। এছাড়া পদ্মফুল এবং চাকার নকশাও চোখে পড়ে কাঁথায়।

লতাপাতা
ভারতীয় হস্তশিল্প এবং কুটিরশিল্পগুলোতে গাছ আর লতাপাতার নকশা এক উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে। কাঁথা, রুমাল আর শীতল পাটিতে এই গাছের নকশা ঘুরেফিরে বিভিন্নভাবে এসেছে। কোনো কাঁথায় আবার ফুটে উঠেছে মানুষের পাশাপাশি ঘোড়া, ময়ুর কিংবা অন্যান্য প্রাণীর ছবি। কিছু কাঁথায় দেখা যায় নকশার সাথে নকশাকারী তার কিংবা তার প্রিয়জনের নাম কিংবা আদ্যক্ষর যুক্ত করে দেওয়ার মতো ঘটনাও দেখা যায়।

কাঁথার নকশার এই বৈচিত্র্যের কারণে একে ধরাবাধা ছকে ফেলা কিংবা সেই নকশার দার্শনিক উৎস খোঁজাও দুঃসাধ্য ব্যাপার। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই শিল্পে যত দিন গিয়েছে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। নকশী কাঁথার নকশা শুধু কাঁথার মধ্যেই থেমে থাকেনি, গাছ-লতা-পাতা কিংবা ফুল-পাখি সম্বলিত যে নকশা কাঁথায় দেখা যায় প্রায় একই ধরনের নকশা দেখা যায় টেবিলক্লথ, রুমাল, টুপি , বালিশ কিংবা বিছানার চাঁদরে।

কতদিন সময় লাগে?
নকশী কাঁথা সাধারণত একদিনে তৈরি হয় না, সময় নিয়ে ধীরে ধীরে এতে কারুকার্য ফুটিয়ে তোলা হয়। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে এটি একসময়ে বাংলার নারীদের অবসরের অনুষঙ্গ ছিল। পূজা, পার্বণ কিংবা অন্য কোনো অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে দেওয়ার নজিরও পাওয়া যায়। মাঝারি আকারের কাঁথা তৈরিতে সাত থেকে পনের দিন সময় লেগে যায়। বড় কাঁথা এবং জটিল নকশা করতে এক মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে।

অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক মূল্য
পুরাতন কাপড়কে জোড়া দিয়ে এর জমিনে কারুকার্য করে নতু্নের মতোই করে তোলা যায় বলে মধ্যবিত্ত থেকে গরীব সবার কাছেই ছিল এর কদর। দীর্ঘসময় ধনীর চোখে কাঁথা ছিল গরীব আর মধ্যবিত্তের শীত নিবারণের বস্তু। বাংলার উচ্চবিত্ত সমাজে প্রয়োজনের খাতিরে ফরমায়েশে নকশী কাঁথা বানিয়ে নেওয়ার প্রচলন ছিল। তবে আধুনিক সমাজে উচ্চবিত্তের কাছে এর অর্থনৈতিক মূল্য নতুন করে সংজ্ঞায়িত হয়েছে। বিদেশি কম্বলের চেয়ে তিন গুণ বেশি দামে নকশি কাঁথা কিনছেন অনেক পরিবার।

তবে সময়ের সাথে নকশী কাঁথার জমিনে যে নিপুণ কারুকার্য করা হয় তার একটি সাংস্কৃতিক আবেদন তৈরি হয়েছে, ফলে এর অর্থমূল্য বেড়েছে। এই আবেদন থেকেই নকশী কাঁথাকে কুটির শিল্প হিসেবে দাঁড় করানোর প্রবল সম্ভাবনা জেগে উঠেছে। নকশী কাঁথার পেশাদার কারিগর বলতে এক সময়ে কাউকে পাওয়া যেত না, কারণ এই শিল্পটি নিতান্তই শখের বশে আর প্রয়োজনের খাতিরে দাঁড়িয়েছিল। এর ফলে আর্থসামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে কাঁথাও হারিয়ে যেতে বসেছিল। যুগ যুগ ধরে চলে আসা নকশী কাঁথার মহামূল্যবান নকশাও ছিল ঝুঁকিতে। তবে বর্তমান বাংলাদেশ আর ভারতের বিভিন্ন এলাকায় এই নকশী কাঁথার বুননকে কুটির শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে নানা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

নকশী কাঁথার নকশা শুধু কাঁথার জমিনে সুঁইয়ের ফোঁড়ে ফুটিয়ে তোলা নকশাই নয়, একেকটি নকশী কাঁথার জমিনে লুকিয়ে থাকে গল্প, কখনো ভালোবাসার, কখনো দুঃখের। বাংলার পথে প্রান্তরে হারিয়ে যাওয়া গল্পকে বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে একেকটি নকশী কাঁথা।

ঢাকাই মসলিন এক বিষ্ময়‌ঢাকার ইতিহাস চারশো বছরের বেশি পুরনো নয়। ১৬১০ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময় ইসলাম খান চিশতী রাজমহল ...
26/09/2020

ঢাকাই মসলিন এক বিষ্ময়

‌ঢাকার ইতিহাস চারশো বছরের বেশি পুরনো নয়। ১৬১০ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময় ইসলাম খান চিশতী রাজমহল থেকে ঢাকায় রাজধানী স্থানান্তর করলে ঢাকা ইতিহাসের প্রসিদ্ধতা লাভ করে। কিন্তু ঢাকার ইতিহাস বেশি পুরনো না হলেও মসলিনের ইতিহাস অনেকটাই পুরনো ও দীর্ঘ। প্রথম খ্রিস্টাব্দের প্রথম শতকেই রোম সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগে অভিজাত রোমান নারীরা ঢাকার মসলিন পরে দেহসৌষ্ঠব প্রদর্শন করতে ভালোবাসতেন। একই শতকে রচিত ‘পেরিপ্লাস অব দ্য এরিথ্রিয়ান সি’ শীর্ষক গ্রন্থে মসলিন সম্পর্কে বিশেষ ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। " এতে মোটা ধরনের মসলিনকে মলোচিনা, প্রশস্ত ও মসৃণ মসলিনকে মোনাচি এবং সর্বোৎকৃষ্ট মসলিনকে গেনজেটিক বা গঙ্গাজলী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।" নবম শতকে রচিত আরব ভৌগোলিক সোলাইমানের 'সিলসিলাত উত তাওয়ারীখে 'রুমি' নামক একটি রাজ্যের বিবরণ পাওয়া যায়। সেখানে এমন সুক্ষ্ম ও মিহি সুতি বস্ত্র পাওয়া যেত যে, ৪০ হাত লম্বা ও ২ হাত চাওড়া এক টুকরো কাপড় আংটির ভিতর দিয়ে অনায়াসে নাড়াচড়া করা যেতো। তৎকালীন এই বস্ত্র তিনি সেখানে ব্যতীত আর কোথাও দেখেননি। আর এই রুমি রাজ্যকে বাংলাদেশের সাথে অভিন্ন ধরা হয়। চতুর্দশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলায় আগত মরক্কো দেশিয় পর্যটক ইবনে বতুতা তার কিতাবুর রেহালায়' সোনারগাঁওয়ে তৈরি সুতি বস্ত্রের বিশেষ প্রশংসা করেন। পঞ্চদশ শতকে বাংলাদেশে আসা চীনা লেখকরা ও এখানকার সুতি বস্ত্রের ভুয়সী প্রশংসা করেন। মোগল সম্রাট আকবরের সভাসদ আবুল ফজল' পর্যন্ত সোনারগাঁওয়ে প্রস্তুতকৃত এই সুক্ষ্ম সুতি বস্ত্রের প্রশংসা করতে ভোলেননি। এভাবে সপ্তদশ শতকের প্রথম দিকে ঢাকাকে বাংলার রাজধানী ঘোষণার পর হতেই ইউরোপীয় ব্যবসায়ীরা বাংলায় আসা শুরু করেন। এ সকল বণিক কোম্পানিগুলোর তৎকালীন দলিল-দস্তাবেজ এবং ওই সমকালীন ইউরোপীয় লেখকদের বিবরণে মসলিন সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে ইংরেজরা ক্ষমতাকে তাদের হাতে কুক্ষিগত করে ফেললে আস্তে আস্তে মসলিন বাংলার বুক থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে এবং একটা সময় মসলিন বিলুপ্ত হয়ে যায়। হারিয়ে যায় বিশ্বের বুকে বাংলার বিষ্ময় 'ঢাকাই মসলিন'।

ঢাকার ঐতিহ্যের কথা আসলে মসলিন কাপড়ের নাম আসে সবার আগে। এখন থেকে চার-পাঁচশ বছর আগে ঢাকাই মসলিনের কদর ছিল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। একসময় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ৭৫ ভাগ মুনাফা এসেছে কেবল মসলিন থেকেই। বিভিন্ন দেশের রাজা-বাদশাদের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে উপহার হিসেবে মসলিনের বহুল প্রচলন ছিল। মসলিনের কাপড়গুলো যেন এ পৃথিবীর জিনিস নয়। এটতা মিহি ছিল যেন তা সুতা দিয়ে তৈরি নয়, আলো দিয়ে তৈরি! এই মসলিন বিলুপ্ত হয়ছে ২০০ বছর পেরিয়ে গেছে।

যেভাবে বিলুপ্ত মসলিন: ১৭৬৫ সালে ভারতবর্ষে ইংরেজ আধিপত্যের পর থেকে অন্য সব ইউরোপীয় বণিকেরা ভারত থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে শুরু করে। প্রতিষ্ঠিত হয় ইংরেজ বণিকদের একচেটিয়া আধিপত্য। ইংরেজ ব্যবসায়ীরা কুঠি স্থাপন করে পাইক-পেয়াদা-গোমস্তা নিয়োগ করে মসলিন সংগ্রহ শুরু করে। সুতা কিনতে তাঁতিদের উচ্চ সুদে অর্থ লগ্নি দেওয়া হতো কুঠি থেকে, সুতা কিনে দীর্ঘ সময় ধরে মসলিন তৈরি করতে করতে সুদের অর্থ আকাশ ছুঁয়ে ফেলে। মসলিন বুঝিয়ে দিয়েও আরো দেনা থাকতো কুঠির কাছে, তাই পরের মৌসুমেও কুঠির কাছে বাঁধা পড়ে তাঁতি। এছাড়া মাপে গরমিল, গোমস্তাদের অত্যাচারে তাঁতিরা অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। যদিও লোকশ্রুতি আছে ইংরেজরা দক্ষ মসলিন তাঁতিদের হাতের আঙ্গুল কেটে দিয়েছিল। মোগল শাসনের জৌলুস কমে আসে, মোগল তাঁতখানার সবেচেয়ে অভিজ্ঞ তাঁতিরা দারিদ্র্যে আর অনাহারে পেশা পরিবর্তন করে। ভারতের বিভিন্ন স্থানীয় রাজা এবং মোগলদের পৃষ্ঠপোষকতায় ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে চলা তাঁতখানা নিরব হয়ে যেতে শুরু করে। অভিজ্ঞ আর দক্ষ তাঁতিদের জ্ঞান পরের প্রজন্মের কাছে হস্তান্তরের সুযোগ কমে আসে, আর বাংলায় বিশেষ করে ঢাকার আশেপাশে মসলিনের তাঁতখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া, কারিগরদের পলায়ন ইত্যাদি কারণে মসলিনের প্রধান কাঁচামাল ফুটি কার্পাসের চাহিদা কমে আসে, ঐ জমিতে বিকল্প চাষাবাদ শুরু হয়। কিছুদিন অল্প স্বল্প করে চললেও একসময় সেটাও ফুরিয়ে আসে। বিশ্বজোড়া যে মসলিনের খ্যাতি ছিল সেই মসলিন একসময় হারিয়ে গেল।

মসলিন ছিল আভিজাত্যের প্রতীক, বিশেষ করে মোগল সম্রাট এবং তার পরিবার পরিজনদের বিশেষভাবে মসলিন তৈরি করার রেওয়াজ ছিল। এদেরকে ভাগও করা হয় নানানভাবে। রঙ আর বুননের গাঁথুনির উপর ভিত্তি করে মসলিনকে ডোরাকাটা, মসৃণ, চারকোণা বিশিষ্ট ছককাটা আর রঙ করা এই কয়েকভাগে ভাগ করা যায়। ‘আব-ই-রওয়ান’, ‘শবনম’, ‘সরবন্দ’ ইত্যাদি নামে পরিচিত ছিল একেকটি অভিজাত মসলিন। মোগল সম্রাট এবং তার পরিবার পরিজনের জন্য বিশেষভাবে তৈরিকৃত মসলিনের নাম ছিল ‘মলবুল খাস’। বাংলার সুবাদারদের জন্য তৈরি করা হতো ‘সরকার-ই-আলা’। মুর্শিদকুলী খানের আমলে প্রতি বছর প্রায় এক লক্ষ টাকার ‘মলবুল খাস’ মোগল সম্রাটের দরবারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। ঢাকা আর সোনারগাঁয়ের তালিকাবদ্ধ তাঁতিদের হাতে তৈরি করা হতো এই বিশেষ মসলিন। এই ধরনের মসলিন বাইরে রপ্তানি করার উপর বিধিনিষেধ ছিল। একটা সময় ছিল ঢাকার সাতগাঁও এলাকা থেকে রপ্তানি করা মসলিন কাপড় পরতেন রোমান নারীরা, তখন বাংলার মসলা ও অন্যান্য জিনিসও মিসর হয়ে রোমে পৌঁছাত। এসব বস্তু অত্যন্ত সমাদৃত ছিল এবং প্রচুর দামে বিক্রি হতো। মসলিনের মতো সূক্ষ্ম কাপড় ভারতের অল্প কিছু জায়গায়ও হতো, কিন্তু সবচেয়ে ভালো যেটা, যার সুনাম চীন, পারস্য, তুরস্ক, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, জাপান, ইউরোপ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল, সেটা ছিল আমাদের মসলিন, ঢাকাই মসলিন।

মসলিন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা: পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ মসলিনের নকল তৈরির চেষ্টা করেছে, কিন্তু সেটা নকলই হয়েছে, আমাদের মসলিনের ধারেকাছেও যায়নি। সেই চেষ্টা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ব্রিটিশরা অন্য জায়গায় ফুটি কার্পাস তুলার গাছ লাগিয়ে চেষ্টা করেছিল মসলিন তৈরি করতে, কিন্তু পারেনি। ঢাকাই মসলিন হতো ৭০০-৮০০ কাউন্টের সুতায়। কাউন্ট যত বেশি, সুতা তত সূক্ষ্ম। ঢাকার তাতিরা যে সুক্ষ কাপড় তৈরি করে সেটা ৬০ কাউন্টের সুতায় তৈরি। এখন অবশ্য মসলিন গবেষণায় অনেকটা অগ্রগতি হয়েছে। গত কয়েক বছরে বেসরকারি উদ্যোগে বাংলাদেশে গুটিকয় মসলিন তৈরি হয়েছে যেগুলোকে বলা হচ্ছে ‘নতুন মসলিন’। এই শাড়িগুলো ২০০ ও ৩০০ কাউন্টের। সবশেষ ৩৫০ কাউন্টের মসলিন শাড়ি হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোও মসলিন ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহযোগিতা করছে। বর্তমানে বাংলাদেশের তাঁতিরা যে জামদানি বুনছেন, সেটি বিলুপ্ত মসলিনেরই একটি ধারা। কিন্তু এটা তৈরি হচ্ছে অনেক মোটা সুতা দিয়ে। এই জামদানিতে থাকছে না প্রাচীনকালের নকশা ও সূক্ষ্মতা। ভারতের কিছু সুতা কাটুনি এখনকার তুলার ২০০-৩০০-৪০০-৫০০ কাউন্টের সূক্ষ্ম সুতা তৈরি করছে। তবে তবে সেই সুতা দিয়েই শাড়ি তৈরির কারিগর মিলছে না। এছাড়া বর্তমান তাঁতিদের কাছে সূক্ষ্ম শানা নেই। শানার ভেতর দিয়ে সুতা কাপড় বোনার জন্য আসে। শানা যত সূক্ষ্ম হবে, কাপড়ও তত সূক্ষ্ম হবে। তারা ব্যবহার করে ১৪০০ মাত্রার শানা। সূক্ষ্ম মসলিন তৈরি হতো ২৫০০ থেকে ৩০০০ মাত্রার শানা দিয়ে। আর ওই শানা তৈরিতে যে বাঁশ প্রয়োজন সেই জাতের বাঁশই এখন বিরল। তবে জানা গেছে, বেসরকারি উদ্যোগে অনেক চেষ্টায় ২৮০০ মাত্রার শানা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। শুধু দরকার কারিগর। এটা হলেই হয়তো ফের ফিরবে বাংলার বিষ্ময় 'ঢাকাই মসলিন'! সেদিন হয়তো বিশ্বের সব ফার্স্ট লেডিরা একবার হলেও 'ঢাকাই মসলিন' দিয়ে নিজেকে আবৃত করার বাসনা পোষণ করবে।

যে গাছের তুলায় তৈরি হতো মসলিন বোনা কাপড়: মসলিনের আদি গাছের নাম ছিল ফুটি কার্পাস, বৈজ্ঞানিক নাম ‘গসিপিয়াম আরবোরিয়াম ভার নেগলেক্টা’ (Gossypium Arboreum Var Neglecta)। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশরা কিছু গবেষণা প্রতিষ্ঠান বসিয়েছিল। যেমন ভারতের নাগপুরে সে দেশের সবচেয়ে বড় তুলা উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান আছে। সেখানে এ ধরনের তুলারই প্রায় ১৯০০ প্রজাতি আছে। তবে আদি ঢাকাই মসলিন বোনার জন্য যে ফুটি কার্পাস তুলার গাছ প্রয়োজন, হুবহু তার খোঁজ এখনো মেলেনি। সাধারণ তুলাগাছে পাতার আঙুল তিনটি, ফুটি কার্পাসের পাঁচটি। গাছের কাণ্ড লালচে হয়। গাছের উচ্চতা সাধারণ তুলাগাছের চেয়ে একটু কম। তুলা খুব বেশি হয় না ও পুরো ফুটে যাওয়ার পর নিচের দিকে মুখ করে থাকে (এখনকার বেশির ভাগ তুলা সাধারণত ওপরের দিকে মুখ করে থাকে), ফলে মসলিনের তুলা বৃষ্টিতে নষ্ট হয় না। বছরে দুবার ফসল দেয় এ তুলাগাছ। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারিভাবে মসলিন নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। তবে এখনো কাঙ্ক্ষিত সফলতা আসেনি। জলবায়ু পরিবর্তনও মসলিন ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান পরিবেশে সেই ফুটি কার্পাস গাছ জন্মাবে কিনা অথবা হুবহু সেই জাত মিলবে কিনা সেই প্রশ্নের উত্তরের খোঁজে আছে গবেষকরা। তবে কাছাকাছি মানের তুলা উদ্ভাবনের চেষ্টা চলছে। হয়তো কোন একদিন বর্তমান বা পরবর্তী প্রজন্মের হাত ধরে ফিরবে স্বপ্নের ‌ঢাকাই মসলিন!!!

Address

Dhaka
1229

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Lore posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category