Style & comfort

Style & comfort Our products Export quality garments products will be much better inshaAllah.Dear customer you can get your choiceable dress easily.Thank you everybody.

03/12/2025

কথার প্রভাব

মানুষের জীবনে সবচেয়ে দ্রুত প্রভাব ফেলে দুটি জিনিস—কর্ম এবং কথা। কর্মের ফল আসতে সময় লাগে, কিন্তু একটি কথা মুহূর্তেই হৃদয় ভেঙে দিতে পারে বা মন খুলে দিতে পারে। শব্দ কখনও ওষুধের মতো কাজ করে, আবার কখনও বিষের মতো ধ্বংস ডেকে আনে। তাই কথার শক্তি শুধু তাত্ত্বিক বিষয় নয়—এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নির্মম বাস্তবতা।

প্রতিদিন আমরা দেখি—একটি ভুল বাক্য পরিবার ভেঙে দেয়, বন্ধুত্ব নষ্ট করে, কর্মস্থলে সম্পর্ককে দূরে ঠেলে দেয়, এমনকি কাউকে গভীর মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ডুবিয়ে দেয়। কথার এই তীব্র প্রভাবকে ইসলাম অসাধারণ গুরুত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করেছে।

কুরআন বলে—
“মানুষ কোনো কথা উচ্চারণ করে না, কিন্তু তার পাশে থাকে একজন পর্যবেক্ষক ফেরেশতা তা লিখে রাখার জন্য।”
—সূরা ক্বাফ ৫০:১৮

এই আয়াত জানান দেয়—শব্দ হাওয়ায় মিলিয়ে যায় না; প্রতিটি বাক্য হিসাবের খাতায় জমা হয়।

রাসুল ﷺ আরও স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন:
“মানুষ জিহ্বার কারণে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।”
—সহিহ বুখারি ৬৪৭৭

এবং একই সঙ্গে বলেছেন:
“মিষ্টি কথা সদকা।”
—সহিহ মুসলিম ১০০৯

মানে—জিহ্বাই ধ্বংসের কারণ হতে পারে, আবার জিহ্বাই আলো ছড়ানোর মাধ্যমও হতে পারে।

মনোবিজ্ঞানেও কথার প্রভাব প্রমাণিত। গবেষণায় দেখা যায়—একটি নেতিবাচক বা অপমানজনক বাক্য মানুষের মস্তিষ্কে এমন আঘাত করে যা শারীরিক ব্যথার মতো অনুভূত হয়। MRI স্ক্যানে দেখা যায়—এই আঘাতে মস্তিষ্কের pain center সক্রিয় হয়। বিপরীতে প্রশংসা, সান্ত্বনা ও ভালোবাসার ছোট একটি বাক্যই ডোপামিন ও অক্সিটোসিন বাড়িয়ে মানুষকে শান্তি, আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তি দেয়।

ইতিহাসও সাক্ষ্য দেয়—একটি বাক্যের শক্তি কত গভীর।
উমর রা. ইসলাম গ্রহণ করেন সূরা ত্বাহার মাত্র কয়েকটি আয়াত শুনে।
বিলাল রা. “আহাদ! আহাদ!” উচ্চারণ করে প্রমাণ করেছিলেন ঈমান কীভাবে হৃদয়ে আগুন জ্বালায়।
মুহাম্মদ আল-ফাতিহ তার সৈন্যদের বলেছিলেন—
“তোমরা সাম্রাজ্য নয়, ইতিহাস সৃষ্টি করতে চলেছ।”
একটি বাক্যই পুরো বাহিনীর মনোবল কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং কনস্টান্টিনোপল জয় বাস্তব হয়।

বাস্তব জীবনেও শব্দের দাগ দীর্ঘস্থায়ী।
একজন শিক্ষক যদি বলে, “তুমি পারবে”—একজন ছাত্রের ভবিষ্যৎ বদলে যেতে পারে।
একজন বাবা যদি বলে, “তুই কিছুই না”—একটি শিশুর আত্মবিশ্বাস ভেঙে চুরমার হয়ে যেতে পারে।

শব্দের আঘাত চোখে দেখা যায় না, কিন্তু এর ক্ষত অনেক সময় সারাজীবন স্থায়ী হয়।

এই কারণেই ইসলাম জিহ্বা নিয়ন্ত্রণে পরিষ্কার নীতি দিয়েছে—

১. সত্য কথা বলো
২. নরম ও সুন্দরভাবে বলো
৩. গালি, অপমান, পরনিন্দা থেকে দূরে থাকো
৪. যেখানে নীরবতা উত্তম—সেখানে চুপ থাকো
৫. কথায় মানুষের মন ভেঙে দিও না—মন তৈরি করো

রাসুল ﷺ বলেছেন:
“যে আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, সে ভালো কথা বলুক অথবা নীরব থাকুক।”
—সহিহ বুখারি ৬০১৮

অতএব, সত্য খুব সরল—
কথা কখনো আগ্নেয়াস্ত্র, কখনো ওষুধ।
একটি বাক্য মানুষকে গড়ে দিতে পারে, আবার একই বাক্য তাকে ভেঙে দিতে পারে।

সুতরাং কথার শক্তিকে বোঝা এবং দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা শুধু সামাজিক শিষ্টাচার নয়—এটি একটি ঈমানি দায়িত্ব।

মোঃ মিরাজুল ইসলাম ছৈয়াল

18/11/2025

এই ১০ টি বিষয় প্রতিদিন নিজেকে মনে করিয়ে দিবেন --

১) আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট!
তিনিই আমার অভিভাবক, তিনিই আমার রক্ষাকারী। আমি আমার সবচেয়ে ভরসার মানুষটার হাত ধরে যেরকম শান্তি পাই, তার থেকেও বেশি নিরাপত্তার জায়গা আমার আল্লাহর কাছে।

২) আমার জন্য আল্লাহর লেখা তাক্বদির কখনোই ভুল হতে পারে না। যা আল্লাহ আমার জন্য লিখেছেন, ঠিক করেছেন, সেটাই আমার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ। আজকে না বুঝলেও একদিন সেটা ঠিকই বুঝবো।

৩) আমি যে খুব একা ব্যাপারটা ঠিক না। আল্লাহ আমার ঘাড়ের ধমনীর থেকেও আমার কাছে। আমার দুঃসময়ে, নির্জনতায়, আমার সুখের সময়েও আল্লাহই আমার সাথে আছেন।

৪) কুরআন, সুন্নাহ এবং দ্বীনের উজ্জ্বল উদাহরণে আমি আমার জীবনের সকল সমস্যার সমাধান পাবো। আমার শুধু বইগুলো খুলে পড়ার অপেক্ষা। আমি যদি ইলম অর্জন না করে ফেসবুক স্ক্রলিং করতে করতে দুঃখ বিলাস করি, আমার দুঃখগুলো দুঃখই রয়ে যাবে। কিন্তু যখন আল্লার খুশির জন্য জ্ঞান অর্জন করব আমার জীবনটা আলো দিয়ে ভরে যাবে। শত অন্ধকারের মধ্যেও সব সমাধান খুঁজে পায় জ্ঞানসম্পন্ন মুসলিমরা।

৫) আমার কোন কষ্টই অর্থহীন নয়। প্রতিটি ব্যথা, প্রতিটি দুঃখ আমার গুনাহ মাফের দরজা খুলে দেয়। আমাকে সম্মানিত হবার সুযোগ দেয়। রসুল ﷺ বলেছেন: *“মু’মিনের বিষয় খুব আশ্চর্যের! সব কিছুই তার জন্য ভালো!"

৬) আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ আমাকে সম্মান দিতে পারে না। আমি আল্লাহর কাছে সম্মানিত হতে পারবো আল্লাহর জন্য করা আমার আমলগুলোর মাধ্যমে এবং অন্তরের নিয়ত এবং তাক্বওয়ার মাধ্যমে।

লোকজন আমাকে ভুল বুঝলেও, ছোট করলেও—আমার ইমান, আমার তাওয়াক্কুল আমাকে দিন শেষে সম্মানিত করে আল্লাহর হুকুমে।

৭) আমি চেষ্টা করি, আর আল্লাহ পথ খুলে দেন।আমি এক ধাপ এগোলে, তিনি আমার সামনে ১০ ধাপ এগিয়ে আসবেন। তবে ১ ধাপ আমাকে এগিয়ে আসতে হবে।

আল্লাহকে যদি ভালোবেসে ভয় না করি, তাহলে সামনে ১০ টা দরজা খোলা থাকলেও সব দরজা বন্ধ মনে হবে। “যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য বের হওয়ার পথ করে দেন।” (সুরা তালাকের আয়াত)। অন্তরে তাকওয়া না থাকলে এটা প্রযোজ্য হবে না।

৮) আমি ভেঙে পড়লে আল্লাহই আমাকে আবার গুছিয়ে দেয়ার পূর্ণ ক্ষমতা রাখেন। তিনি “আল-জাব্বার”— আমার ভাঙা মনকে জোড়া লাগানো তাঁরই ক্ষমতা। অন্যান্য মানুষ আমাকে দুমড়ে মুচড়ে দিলেও আল্লাহ আমাকে জোরা লাগিয়ে দিবেন। এবং যার যার কর্ম অনুযায়ী সে ফল পাবে। আমাকে আলাদা করে কারো জন্য বদ দোয়া করতে হবে না। যারা আমাকে জুলুম করছে, আমার যে 'রুহের হায়' - আমার যে মনের আর্তনাদ -- এগুলো অবশ্যই আল্লাহর দৃষ্টির বাইরে নয়। দুনিয়াটা অল্প দিনের। দুনিয়াতে ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে না। তবে আল্লাহর কাছে প্রতিটা অণু পরিমাণ বিষয়ের ন্যায় বিচার পাওয়া যাবে।

৯) আল্লাহ আমাকে আমার সামর্থ্যের বাইরে কিছু দেন না।আজ যা আমাকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে, তার মোকাবিলা করার শক্তি তিনিই আমাকে দিয়ে রেখেছেন। আল্লাহ কারো উপর তার ধৈর্যের বাইরে বোঝা দেন না।”

১০) আমার দোয়াগুলো কখনোই হারিয়ে যায় না। হয় কবুল হয়, না হয় বিপদ দূর করে দেয়, নাহলে আখিরাতের জন্য জমা থাকে —কিন্তু কখনোই বৃথা যায় না।

📌📌 আপুরা আপনারা যারা বিভিন্ন সময় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকেন, এবং কার সাথে কি কথা বলবেন সুযোগ পান না, তাদেরকে অনুরোধ করব এই দশটা পয়েন্ট একটা খাতায় লিখে রাখুন। যখন খুব খারাপ লাগবে, খাতা খুলে এই পয়েন্টগুলো পড়বেন। আল্লাহর অনুমতিতে আপনার মন শান্ত হয়ে যাবে।

#রাইটিং_থেরাপি
শারিন

16/11/2025

সুরা কাহাফে লুকানো রহস্য ও দাজ্জাল থেকে বাচার উপায়।

কখনো ভেবে দেখেছেন কি কেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের প্রতি জুমু’আর দিন সূরা কাহাফ পাঠ করতে বলেছেন?

আসুন জানার চেষ্টা করি,

এই সূরাটিতে মোট চারটি শিক্ষণীয় ঘটনা আছে, প্রতিটি ঘটনাতেই আছে বুদ্ধিমান লোকদের জন্য উপদেশ। আসুন সেই ঘটনাগুলো ও তার শিক্ষাগুলো কি জানার চেষ্টা করিঃ

১) গুহাবাসী যুবকদের ঘটনাঃ সূরার শুরুতেই সেই গুহাবাসী যুবকদের ঘটনার বর্ণণা দেয়া হয়েছে যারা এমন একটি জনপদে বসবাস করত যার অধিবাসীরা ছিল অবিশ্বাসী ও সীমালংঘনকারী। কাজেই যুবকেরা সেই নষ্ট সমাজের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন, ‘এদের সাথে আর নয়’। তারা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও আল্লাহর দীনের প্রতি ভালোবাসা থেকে উজ্জিবীত হয়ে সেখান থেকে হিজরত করলেন। আল্লাহ তাদেরকে গুহাতে আশ্রয় দিলেন এবং সূর্যালোক থেকে নিরাপদে রাখলেন। বহু বছর পর যখন তাদের ঘুম ভাঙ্গলো তাঁরা দেখলেন সেই জনপদের অবিশ্বাসী লোকেরা বিদায় নিয়েছে এবং ভালো লোকদের দ্বারা মন্দ লোকেরা প্রতিস্থাপিত হয়েছে।

শিক্ষাঃ ঈমানের উপর পরীক্ষা।

২) দুইটি বাগানের মালিক ব্যক্তির ঘটনাঃ একজন লোক যাকে আল্লাহ দুইটি প্রাচুর্যময় সুন্দর বাগান দিয়ে ধন্য করেছিলেন, কিন্তু লোকটি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে ভুলে গেল এমনকি পরকালের অস্তিত্ব সম্পর্কে আল্লাহর ওয়াদার উপর সন্দেহ পোষণ করল। কাজেই, এই অকৃতজ্ঞ লোকটির বাগানকে আল্লাহ তায়ালা বিরান করে দিলেন-সে অনুতপ্ত হল, কিন্তু ইতোমধ্যে অনেক দেরি হয়ে গেছে এবং তার এই অসময়ের অনুশোচনা তার কোন উপকারে আসল না।

শিক্ষাঃ সম্পদের উপর পরীক্ষা।

৩) খিজির ও মুসা আলাইহি সালাম এর ঘটনাঃ যখন মূসা আলাইহি সালামের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল, “এই পৃথিবীতে সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি কে?” তিনি উত্তর করেছিলেন, “আমি”…কিন্তু আল্লাহ তাঁর কাছে উন্মোচন করে দিলেন যে, এমন এক ব্যক্তি আছেন যাকে আল্লাহ তাঁর চেয়েও বেশি জ্ঞান দান করেছেন। মুসা আলাইহি সালাম সেই ব্যক্তির সাথে ভ্রমণ করলেন এবং দেখলেন, শিখলেন কিভাবে অনেক সময় আল্লাহ তাঁর অসীম জ্ঞানের কারণে এমন অনেক ঘটনা ঘটান যেগুলো আমাদের চোখে খারাপ বলে মনে হয় কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেগুলো মানুষের ভালোর জন্যেই করা হয়।

শিক্ষাঃ জ্ঞানের উপর পরীক্ষা।

৪) যুলকারনাইনঃ এটা সেই ক্ষমতাধর বাদশাহর ঘটনা যাকে একই সাথে জ্ঞান এবং ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল এবং তিনি সেই উভয় দানের শুকরিয়াস্বরুপ মানুষের উপকারে এবং কল্যাণে তা ব্যয় করতেন। তিনি জনপদের লোকদের ইয়াজুজ মাজুজ এর সমস্যার সমাধান করে দিলেন এবং একটি বিশাল প্রাচীর নির্মাণ করে দিলেন।

শিক্ষাঃ ক্ষমতার উপর পরীক্ষা।

সূরাটির মাঝামাঝি আল্লাহ স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন ইবলিসের কথা যে এই পরীক্ষাগুলোকে আরও কঠিন করে দেয়,

“যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললামঃ ‘আদমকে সেজদা কর’, তখন সবাই সেজদা করল ইবলীস ব্যতীত। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল। অতএব তোমরা কি আমার পরিবর্তে তাকে এবং তার বংশধরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করছ? অথচ তারা তোমাদের শত্রু। এটা জালেমদের জন্যে খুবই নিকৃষ্ট বদল”।

(সূরা কাহাফ ৫০)

আসুন, এবারে জেনে নেয়া যাক, সূরা কাহাফ এবং দাজ্জালের মধ্যে কিসের সম্পর্ক?

দাজ্জাল আবির্ভুত হবে শেষ সময়ে কিয়ামতের একটি বড় লক্ষণ হিসেবে,

সে এই চারটি ফিতনা একত্রে নিয়ে আসবেঃ

••► সে মানুষকে আদেশ করবে যেন আল্লাহকে বাদ দিয়ে তার ইবাদত করে

ঈমানের উপর পরীক্ষা

••► তাকে বৃষ্টি বর্ষণ/ অনাবৃষ্টি সৃষ্টির ক্ষমতা দেয়া হবে এবং সে মানুষকে তার সম্পদ দিয়ে লোভ দেখাবে

সম্পদের উপর পরীক্ষা

••► সে মানুষকে পরীক্ষায় ফেলে দিবে তার ‘জ্ঞান’ এবং নানারকম সংবাদ প্রদান করে

জ্ঞানের উপর পরীক্ষা

••► সে পৃথিবীর এক বিশাল অংশ নিয়ন্ত্রণ করবে

ক্ষমতার উপর পরীক্ষা

কিভাবে আমরা এই সকল ফিতনা থেকে বাঁচতে পারি? সূরা কাহাফেই আছে এর উত্তরঃ

• ফিতনা হতে বাঁচার প্রথম উপায়ঃ সৎ সঙ্গ

“আপনি নিজেকে তাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখুন যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আহবান করে এবং আপনি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন না। যার মনকে আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে, নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্য কলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা, আপনি তার অনুগত্য করবেন না।

(সুরা কাহাফ -২৮)

• ফিতনা হতে বাঁচার দ্বিতীয় উপায়ঃ এই পার্থিব জীবনের বাস্তবতা উপলব্ধি করা

“তাদের কাছে পার্থিব জীবনের উপমা বর্ণনা করুন। তা পানির ন্যায়, যা আমি আকাশ থেকে নাযিল করি। অতঃপর এর সংমিশ্রণে শ্যামল সবুজ ভূমিজ লতা-পাতা নির্গত হয়; অতঃপর তা এমন শুস্ক চুর্ণ-বিচুর্ণ হয় যে,

বাতাসে উড়ে যায়। আল্লাহ এ সবকিছুর উপর শক্তিমান।”

(সূরা কাহাফ, আয়াত ৪৫)

• ফিতনা হতে বাঁচার তৃতীয় উপায়ঃ ধৈর্য্যশীল থাকা

“মূসা বললেনঃ আল্লাহ চাহেন তো আপনি আমাকে ধৈর্য্যশীল পাবেন এবং আমি আপনার কোন আদেশ অমান্য করব না”।

(সূরা কাহাফ, আয়াত ৬৯)

• ফিতনা হতে বাঁচার চতুর্থ উপায়ঃ সৎ কর্ম সম্পাদন

“বলুনঃ আমি ও তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ। অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার এবাদতে কাউকে শরীক না করে।.”

(সূরা কাহাফ, আয়াত ১১০)

• ফিতনা হতে বাঁচার পঞ্চম উপায়ঃ আল্লাহর দিকে আহবান

“আপনার প্রতি আপনার পালনকর্তার যে, কিতাব প্রত্যাদিষ্ট করা হয়েছে, তা পাঠ করুন। তাঁর বাক্য পরিবর্তন করার কেউ নাই। তাঁকে ব্যতীত আপনি কখনই কোন আশ্রয় স্থল পাবেন না।”

(সূরা কাহাফ, আয়াত ২৭)

• ফিতনা হতে বাঁচার ষষ্ঠ উপায়ঃ পরকালের স্মরণ

“যেদিন আমি পর্বতসমূহকে পরিচালনা করব এবং আপনি পৃথিবীকে দেখবেন একটি উম্মুক্ত প্রান্তর এবং আমি মানুষকে একত্রিত করব অতঃপর তাদের কাউকে ছাড়ব না। তারা আপনার পালনকর্তার সামনে পেশ হবে সারিবদ্ধ ভাবে এবং বলা হবেঃ তোমরা আমার কাছে এসে গেছ; যেমন তোমাদেরকে প্রথম বার সৃষ্টি করেছিলাম। না, তোমরা তো বলতে যে, আমি তোমাদের জন্যে কোন প্রতিশ্রুত সময় নির্দিষ্ট করব না। আর আমলনামা সামনে রাখা হবে। তাতে যা আছে; তার কারণে আপনি অপরাধীদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত দেখবেন। তারা বলবেঃ হায় আফসোস, এ কেমন আমলনামা। এ যে ছোট বড় কোন কিছুই বাদ দেয়নি-সবই এতে রয়েছে। তারা তাদের কৃতকর্মকে সামনে উপস্থিত পাবে। আপনার পালনকর্তা কারও প্রতি জুলুম করবেন না।”

(সূরা কাহাফ, আয়াত ৪৭-৪৯)

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের সবাইকে যেন সকল প্রকার ফিতনা হতে রক্ষা করেন। আমিন।

মুসনাদে আহমাদে রয়েছে যে, যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্ত করে, তাকে দাজ্জালের ফিতনা হতে রক্ষা করা হয়; জামে তিরমিযীতে তিনটি আয়াতের বর্ণনা রয়েছে। সহীহ মুসলিমে শেষ দশটি আয়াতের বর্ণনা আছে। সুনান নাসায়ীতে সাধারণভাবে দশটি আয়াতের বর্ণনা রয়েছে। _ ইবন কাসীর।

আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, (তিনি বলেছেন) আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্ত করবে সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।

(মুসলিম ১৭৬০ ইফা)

বারা ইবনে আযিব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ এক ব্যক্তি ‘সূরা কাহাফ’ পড়েছিলো। সেই সময়ে তার কাছে মজবুত লম্বা দুটি রশি দিয়ে একটি ঘোড়া বাঁধা ছিল। এই সময় একখণ্ড মেঘ তার মাথার উপরে এসে হাজির হলো। মেঘ খণ্ডটি ঘুরছিলো এবং নিকটবর্তী হচ্ছিল। এ দেখে তার ঘোড়াটি ছুটে পালাচ্ছিল। সকাল বেলা সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে ঐ বিষয়টি বর্ণনা করলো। একথা শুনে তিনি বললেনঃ এটি ছিল (আল্লাহর তরফ থেকে) রহমত বা প্রশান্তি (সাকিনা) যা কুর’আন পাঠের কারণে নাযিল হয়েছিলো।

(মুসলিম ১৭৩৩ ইফা)

আবদুল্লাহ ইবনে ‘আব্বাস থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেছেন); রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে যেভাবে কুর’আন মাজীদের সূরা শিখাতেন ঠিক তেমনিভাবে এই দুয়াটিও শিখাতেন।

দুয়াটি হলঃ ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিন আযাবি জাহান্নাম ওয়া আউযুবিকা মিন আযাবিল কাবর, ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জাল, ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাতা”

- হে আল্লাহ ! আমরা তোমার কাছে জাহান্নামের আযাব থেকে আশ্রয় চাই। আমি তোমার কাছে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাই। আমি তোমার কাছে মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই। আর আমি তোমার কাছে জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই।

(মুসলিম, ইফা ১২২০)

মূলঃ “Muslim Heroes” থেকে অনূদিত

অনুবাদঃ সরল পথ ।

روما نعيم

28/04/2025

আমার বড় মেয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করল-

"আমি কেন কাজ করতে পারব না? (অথবা নারীরা কেন কাজ করতে পারবে না)। খাদিজা (রাঃ) তো কাজ করেছেন!"


প্রশ্নের উত্তর আমি এভাবে দিয়েছি তাকে-


প্রথ্মেই তাকে জানিয়ে দিলাম, পরিস্থিতি এবং অধিক প্রয়োজন থাকলে নারীদের কাজ করা নিষিদ্ধ নয়।

তারপর তাকে কুরআন খুলে মুসা (আ) এর সাথে মাদায়েন শহরে দুই নারীর সাক্ষাতের অংশটুকু পড়ে যেতে বললাম। সে পড়ে গেল এবং আমি ব্যাখ্যা যুক্ত করলামঃ

১। 'যখন সে মাদ্‌য়্যানের কূপের নিকট পৌঁছল, দেখল একদল লোক তাদের পশুগুলিকে পানি পান করাচ্ছে এবং তাদের পশ্চাতে দু’জন রমণী তাদের পশুগুলিকে আগলে আছে। মূসা বলল, ‘তোমাদের কি ব্যাপার?’ ওরা বলল, ‘রাখালেরা ওদের পশুগুলিকে নিয়ে সরে না গেলে আমরা আমাদের পশুগুলিকে পানি পান করাতে পারি না। আর আমাদের পিতা অতি বৃদ্ধ মানুষ।’
[সুরা আল ক্কাসাস-২৩]

- নারীরা পুরুষদের থেকে দুরে অবস্থান করছিলেন যতক্ষন না তারা প্রস্থান করছে। অতএব ফ্রিমিক্সিং পরিবেশে নারীদের জন্য কাজ করা বৈধ নয়।
- মুসা(আঃ) তাদের সাথে কথা বলেছেন এবং তারাও জবাব দিয়েছেন। বিপরীত লিঙ্গের সাথে বিধিসন্মত প্রয়োজনীয় কথা বলা বৈধ। ( তবে এখন যেই ফিতনা চারদিকে তাই একেবারে গুরুত্বপূর্ণ না হলে না বলাই উত্তম)
- তাদের বাবা ছিলেন বৃদ্ধ তাই তাদের বের হতে হয়েছে। পুরুষরাই নারীদের দেখাশোনা করবে, এটাই মৌলিক বিধান। নারীদের অর্থনৈতিক দায়িত্ব থাকবে স্বামী, বাবা, সন্তান অথবা মুসলিম কমিউনিটির কাছে।

২। মূসা তখন ওদের পশুগুলিকে পানি পান করাল। তারপর সে ছায়ার নীচে আশ্রয় গ্রহণ করে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার প্রতি যে কল্যাণ অবতীর্ণ করবে, নিশ্চয় আমি তার মুখাপেক্ষী।
[সুরা আল ক্কাসাস- ২৪]

তাদেরকে সাহায্য করা নিজের দায়িত্ব মনে করলেন মুসা (আ)। সম্মানিত পুরুষরা নারীদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন একেবারে অপরিচিত হলেও।

৩। 'অতঃপর নারীদ্বয়ের একজন লাজুকভাবে হেঁটে তার কাছে এসে বলল ‘আপনি যে আমাদের পশুগুলিকে পানি পান করিয়েছেন, তার পারিশ্রমিক দেওয়ার জন্য আমার পিতা আপনাকে ডাকছেন। অতঃপর মূসা তার নিকট এসে সমস্ত বৃত্তান্ত বর্ণনা করলে সে বলল, ‘ভয় করো না। তুমি যালিম সম্প্রদায়ের কবল হতে বেঁচে গেছ।’
[ সুরা আল ক্কাসাস- ২৫]

ওই নারী যখন মুসা (আঃ) এর কাছে এসে তার বাবার সাথে সাক্ষাতের অনুরোধ করল সে ছিল সলজ্জ। নির্লজ্জতা বা অসভ্যতা কখনোই ধর্মভীর নারীর সাথে যায় না।

৪। নারীদ্বয়ের একজন বলল, হে আমার পিতা! আপনি একে মজুর নিযুক্ত করুন, কারণ আপনার মজুর হিসেবে উত্তম হবে সে ব্যক্তি, যে শক্তিশালী, বিশ্বস্ত।
[ সুরা আল ক্কাসাসঃ ২৬]

তাদের মধ্য থেকে একজন যখন মুসা (আঃ)কে নিয়োগ করার কথা বললো, সে দুইটা বৈশিষ্ট উল্লেখ করলো-

ক.শক্তিশালী
খ. বিশ্বস্ত

এই গুন দুটি শুধুমাত্র কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে নয়, বিয়ের ক্ষেত্রেও দেখা জরুরী এই আয়াত আমাদের সামনে স্পষ্টভাবে বর্ণ্না করেছে। শক্তিসামর্থ ও বিশ্বস্ততা।

৫। 'তিনি মূসাকে বললেন, আমি আমার এ কন্যাদ্বয়ের একজনকে তোমার সাথে বিয়ে দিতে চাই, এ শর্তে যে, তুমি আট বছর আমার কাজ করবে, আর যদি তুমি দশ বছর পূর্ণ কর, সে তোমার ইচ্ছে। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না। আল্লাহ ইচ্ছে করলে তুমি আমাকে সদাচারী পাবে।'
[সুরা আল ক্কাসাস- ২৭]

- তাদের পিতা মুসা (আঃ) এর মাঝে সক্ষমতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা দেখে নিজের মেয়ের জন্য বিয়ের প্রস্তাব করেন। যোগ্যতাসম্পন্ন কাউকে মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার মধ্যে কোনো বাধা নাই।
- তিনি মাহর চাইলেন এবং নির্দিষ্ট পরিমান চাইলেন
- মাহরটা ছিল বেশ ভারী । মুসা (আঃ) কে ৮ বছর কাজ করতে হয়েছিল মাহর পরিশোধ করার জন্য। এটাকে অস্বাভাবিক হিশাবে দেখা হয় নি।(তবে সামর্থ্যের বাইরে নয়)

-

অতঃপর আমরা আমাদের পড়ায় ফিরে যাই, যেখানে ভাগ্যক্রমে এমন দুইটা আয়াত ছিল

'' আর তোমরা নিজ ঘরে অবস্থান করবে এবং প্রাচীন জাহেলী যুগের প্রদর্শনীর মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়াবে না। আর তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত প্ৰদান কর এবং আল্লাহ ও তার রাসূলের অনুগত থাক। হে নবী-পরিবার! আল্লাহ তো শুধু চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।''
[ সুরা আল আহযাব - ৩৩]

'' হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিনদের নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজতর হবে, ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আর আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।''
সকল ঈমাম ও আলিমদের মতে এই আয়াতপগুলো সকল নারীর জন্য প্রযোজ্য।
যা প্রাথমোক্ত আলোচনার সাথে চমৎকারভাবে মিলে গেছে।

বাচ্চাদের ইফেক্টিভ ওয়েতে দ্বীন শিখানোর পদ্বতি হচ্ছে শক্তিশালী দলীল তাদের সামনে উপস্থাপন করা এবং তার ভিত্তিতে তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করা। তাদের উপর কোনো দৃষ্টিভঙ্গি আরোপ করা অথবা ব্ল্যাকমেইল করা ক্ষেত্রবিশেষ কাউন্টার প্রোডাক্টিভ হতে পারে।

-

শাইখ কবির আল আফসার

19/04/2025

- নারীর সহশিক্ষা হারাম, পুরুষের হারাম না?
- সহশিক্ষা সবারই হারাম।

- তাহলে নারীদেরকে কেন বাধা দেয়া হয়, পুরুষদের দেন না কেন?
- কারণ, বাইরের জায়গাটা পুরুষের; নারীর জন্য ঘর। শিক্ষার কুব্যবস্থাপনার কারণে সেখানে নারী গিয়ে সহশিক্ষার পরিবেশে যুক্ত হচ্ছে।

- নারী কি তবে উচ্চশিক্ষিত হবে না?
- আলবৎ হবে। তার আগে সহশিক্ষা বর্জন করে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির জন্য সরকারকে বাধ্য করবে।

- পুরুষ তাহলে বর্জন করবে না কেন?
- কারণ, তার উপার্জনের দায়িত্ব আছে।

- সেটা তো রিকশা চালিয়েও হয়।
- রিকশা চালিয়ে শুধুমাত্র 'আজীবন' সুস্থ ও কর্মক্ষম ব্যক্তি জীবিকা নির্বাহ করতে পারে; যদি তার পরিবারের দায়িত্ব না থাকে। এটা অসম্ভব। একজন পুরুষের উপর নিজ পরিবার, বৃদ্ধ বাবা-মা এবং স্বামীহীন বোনের দায়িত্ব থাকে। শরিয়াহ অনুযায়ী একজন নারীর উপর এ দায়িত্ব থাকে না। কাজেই, পুরুষের জন্য সহশিক্ষার পরিবেশ বর্জন করা অসম্ভব, কারণ শিক্ষা না থাকলে ভালো আয় অসম্ভব।

- যদি নারীও আয়ে বাধ্য হয়?
- বাধ্য হওয়ার অবস্থা ও মাসআলা ব্যক্তি অনুযায়ী ভিন্ন হয়। আমাদের মত সাধারণ মানুষ এ মাসআলা দিতে পারবে না। বাধ্য নারীগণ নিজ নিজ অবস্থা বিস্তারিত বলে একজন মুফতী থেকে নিজের সীমানা জেনে নিবেন।

- সহশিক্ষা আর ফ্রি-মিক্সিং এক না।
- কুরআন ও হাদীসে এই দুইটিকে আলাদা করার দলীল লাগবে। নাহলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে উম্মাহকে ভ্রষ্ট করা যাবে না ও নিজে ভ্রষ্ট হওয়া যাবে না। অভিজ্ঞতা ও যুক্তি কোন দলীল না। শরীয়াহ কারো অভিজ্ঞতায় প্রতিষ্ঠিত হয় না।

নারী ও পুরুষ - সমস্তরের বা প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। নারী ও পুরুষ সাথী ও সহযোগী। মুখোমুখি না দাঁড়াই।

পুরুষদের জন্যও সহশিক্ষার পরিবেশে থাকাকালীন চোখের হেফাজতসহ শরীয়াহর সব ধরণের হুকুম মেনে চলা আবশ্যক। এর বাইরেও, এই ফিতনাযুক্ত পরিবেশ থেকে সত্বর বের হওয়ার উপায় খুঁজতে থাকা জরুরী এবং সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নফসের তাড়নায় থেকে যাওয়া যাবে না। ব্যবসা ইত্যাদিসহ আরও অনেক উপায়ও আছে। যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উপায় বের করে দেন।

~ ফারহীন আল মুনাদী

18/03/2025

দুআ ইউনুসের এই ব্যাখ্যা কেউ আগে বলেনি
অন্ধকার গহীন সমুদ্র। তার তলদেশে বিশাল মাছের পেট। এই নিঃসঙ্গতা আর নিরুপায় অবস্থা থেকে ইউনুস (আ.) শুধু একটি দুআর মাধ্যমে মুক্তি পেয়েছিলেন—
"لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ"
এই দুআ কেবল একটি বাক্য নয়, বরং এতে নিহিত আছে গভীর শিক্ষা। ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহ.) এই দুআর প্রতিটি শব্দ ভেঙে দেখিয়েছেন, কীভাবে এটি বিপদ থেকে মুক্তির এক অনন্য হাতিয়ার।
📖 তাওহিদের দৃঢ়তা: প্রথমেই আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণা— "لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ"। বিপদে আমরা মানুষের কাছে ছুটে যাই, কিন্তু এই দুআয় শেখানো হয়েছে, সত্যিকার মুক্তি একমাত্র আল্লাহর কাছেই রয়েছে।
📖 নিজের দোষের স্বীকারোক্তি: ইউনুস (আ.) বললেন, "إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ" (নিশ্চয়ই আমি অন্যায়কারী)। বিপদে পড়লে আমরা অনেক সময় নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করতে চাই, অথচ মুক্তির প্রথম শর্ত হলো নিজের ভুল স্বীকার করে নেওয়া।
📖 তাওবাহ ও তাওয়াক্কুল: আল্লাহর রহমতের ওপর নির্ভরশীল হওয়া, তাঁর প্রশংসা করা—এগুলো শুধু ভাষায় প্রকাশের বিষয় নয়, বরং অন্তরের বিশেষ অবস্থা। অন্তর থেকে উপলব্ধি করতে হবে।
দুআ ইউনুস আমাদের এগুলোই শেখায়। এই দুআ কেবল একটি ঘটনা নয়; এটি আমাদের জীবনের প্রতিটি সংকটের সমাধান। বিপদে ধৈর্য ধরা, তাওবা করা, এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা—এই দুআয় এর সবই আছে।
©©©

16/03/2025

এমন সৌভাগ্য কজনের হয়????

আজ আমাকে পাত্রপক্ষ দেখতে এসেছিলো। সবার অনুমতি নিয়ে একজন মাহরামের উপস্থিতিতে আমাকে তিনি ভিন্ন ঘরে বলেছিলেন, যদি কিছু বলার থাকে তাহলে যেন নির্দ্ধিধায় তাকে বলে দেই। ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে শুধু বলেছিলাম-

-আমার জীবনের বড়ো একটা সময় পার হবার পর আমি পর্দার বুঝ পাই। বুঝ পাবার পর থেকে এই পর্দা ধরে রাখতে আমি নানান প্রতিকূলতার সম্মুখীন হই। তাই চাই আমার অর্ধাঙ্গ যেন পর্দা ধরে রাখতে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আমার সহায়ক হোন।

--------------------
আজ আমাদের বিয়ের ৩৭ বছর চলছে। দীর্ঘ ৩৭ বছরে আমি ৩ সন্তানের জননী হয়েছি। আল্লাহ পাকের রহমতে আমাকে আমার স্বামী ব্যতীত আর কেউ দেখেন নি। প্রতিবার সন্তান প্রসবের সময় মহিলা ডাক্তারই আমার ডেলিভারি করান। মাঝেমধ্যে অবাক হয়ে উনাকে যখন জিজ্ঞেস করি কিভাবে প্রতিবার আমার ডেলিভারির সময় মহিলা ডাক্তারের ব্যাবস্থা করেছেন। তিনি শুধু হেসে বলেন-

" ৩৭ বছর আগে যখন বলেছিলে তোমার অর্ধাঙ্গ যেনো তোমার পর্দার বিষয়ে সহায়ক হোন, সেদিনই নিয়ত করেছিলাম আল্লাহ চাইলে আমিই হবো তোমার অবগাহন। আল্লাহ পাক হয়তো আমার নিয়ত কবুল করেছেন তাই প্রতিবার সব সহজ হয়েছে"।

আমি তার এতো প্যাচানো জবাব বুঝে উঠতে না পারলেও শুধু জানি-

৩৭ বছর আগে চেয়েছিলাম একজন সহায়ক যিনি পর্দার ক্ষেত্রে আমাকে সাহায্য করবেন কিন্তু আমার রবের রহমতে আমি পেয়েছি আমার পোশাক... আমার ব্যক্তিগত পোশাক!

অর্ধাঙ্গঃ এক অমূল্য নেয়ামত

- কারিশমা আনান

09/03/2025

১। আপনি থাকেন ফ্ল্যাট বাড়িতে, অনেক উপরের তলায়। আপনার কম বয়সী মেয়ে একা সিঁড়ি বেয়ে বা লিফটে করে উপরে উঠে। নিচে অনেকগুলো ফ্ল্যাটে মানুষ থাকে। আপনার মেয়ে মোটেই নিরাপদ নয়। নিচের কাউকে বিশ্বাস করার কোন কারণ নেই।

২। কোচিং সেন্টারে মেয়ে পড়তে যায়। এক ব্যাচ চলে গেছে। আর এক ব্যাচ আসবে। কোচিং সেন্টার ফাঁকা। আপনার মেয়ে আগেভাগে চলে গেছে একা। সেন্টারে আছে শুধু টিচার। আপনার মেয়ে মোটেই নিরাপদ নয়। কাউকেই বিশ্বাস করা যাবে না।

৩। মেয়েকে এমন কোনো বান্ধবীর বাসায় থাকার জন্য পাঠাবেন না, যার ভাই এবং পিতা বাসায় থাকে।

৪। মেয়েকে স্কুলে এমন আগেভাগে পাঠাবেন না, যেখানে ক্লাসে বা স্কুলের কোন জায়গায় সে একা হয়ে যায়।

৫। বিবাহিত ভাই বোনের বাসায়ও ছোট মেয়েকে থাকার জন্য পাঠানো যাবে না, যেখানে অন্য পুরুষ বসবাস করে।

মেয়ে একা অরক্ষিত হয়ে যায় বা যেতে পারে, এমন কোন জায়গায় পাঠানো যাবে না। একমাত্র নিজের পিতামাতা ছাড়া দুনিয়ার কাউকে বিশ্বাস করা যাবে না। ছোট এবং কিশোরী মেয়েকে সারাক্ষণ ট্র‍্যাকিং এ রাখুন।

কী করবেন!! বিপদ হলে তো আপনাদের যাবে। আপনারা মেয়ের বাপ মা। কারো কিছু যায় আসবে না। বাকি জীবন মাথা কুটে মরতে হবে আপনাদের।

শুধু বলার জন্য নয়, আমি অনেক অনেক আগে থেকেই এগুলো মেইনটেইন করেছি এবং করে যাচ্ছি। আল্লাহ সহায়।

সারাক্ষণ আল্লাহর কাছে নিজের সন্তানের কল্যাণ, মঙ্গল, নেয়ামত, বরকত ও হেফাজতের জন্য প্রার্থনা করুন।
_________________
লেখা: মাহবুব কবির মিলন

06/03/2025

ইফতারের সময় বেশি বেশি আল্লাহর কাছে চাইবেন।
একমাত্র মূসা নবীই আল্লাহর সাথে ঘন ঘন সাক্ষাৎ করার বায়না ধরতেন এবং সুযোগও পেতেন।

একবার তিনি মহান আল্লাহ সুবহানাহু তাআলার কে জিজ্ঞেস করেছিলেন__

"হে আল্লাহ্ একমাত্র আমাকে আপনার সাথে সরাসরি কথা বলার সম্মান ও সুযোগ দিয়েছেন। এমন সুযোগ কি অন্য কাউকে দিয়েছেন বা দিবেন?"

আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা বললেন __

"পরবর্তীকালে আমি একদল লোক পাঠাবো যারা মুহাম্মদ (সঃ) এর উম্মত হবে, যারা রোজা রাখবে এবং রোজা অবস্থায় তারা তোমার চেয়েও আমার অধিক নিকটবর্তী হবে। হে মূসা যখন তুমি আমার সাথে কথা বলো তখন আমার আর তোমার মধ্যে ৭০,০০০ সূক্ষ পর্দা থাকে যা তুমি দেখতে পাও না। কিন্তু ইফতারের সময় আমার ও আমার ঐ সব বান্দার মাঝে একটি পর্দা ও থাকবে না। (সুবহানাল্লাহ)
হে মূসা আমি দায়িত্ব নিচ্ছি__ইফতারের সময় আমি একজন রোজাদারের দোয়াও অস্বীকার করব না।"

সুবহানাল্লাহ!❤️

03/03/2025

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পড়ালেখা আমাদের কোনো কাজে আসে না। তারপরও আমরা কেন পড়ালেখা করি?

এই প্রশ্নের খুব সুন্দর একটা জবাব শুনেছিলাম একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের মুখে, "গণিত বইয়ের অনুশীলনী থেকে সমাধান করা অংক আমাদের বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে খুব বেশি কাজে লাগে না। কিন্তু যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা সমস্যা সমাধান করি, সেটা আমাদের কল্পনাশক্তিকে শানিত করে, আমাদের চিন্তাকে নিয়মবদ্ধ করে। তাই পরীক্ষার খাতায় উত্তর মেলানোর চেয়ে একটা সমস্যা নিয়ে চিন্তা করা অনেক বেশি দরকারি!"

লেখাপড়া হলো খাদ্য গ্রহণের মতো। একজন সাধারণ মানুষ দিনে এক থেকে দেড় কেজি খাবার খায়, বছরে যা প্রায় আধা টনের কাছাকাছি। এর অধিকাংশই বর্জ্য হিসেবে শরীর থেকে বের হয়ে গেলেও নির্যাসটুকু শরীরে পুষ্টি জোগায়। একইভাবে, জীবনে পড়া অসংখ্য বই, টপিক ও সাবজেক্ট থেকে ছেঁকে নেওয়া নির্যাসটুকুই হচ্ছে জ্ঞান। শরীরকে টিকিয়ে রাখে পুষ্টি আর মনকে বাঁচিয়ে রাখে পড়াশুনার মাধ্যমে অর্জিত ওই জ্ঞান। তাই সময় পেলেই হাতে একটি বই তুলে নিন।

সংগ্রহিত।

আলহামদুলিল্লাহ।
01/03/2025

আলহামদুলিল্লাহ।

24/02/2025

অল্প দিয়ে যার মন পাওয়া যাবে না, তাকে বেশি দিয়েও পাবেন না।

গ্রামের এক দাদা একটা কথা বলতো, তোর বাড়িতে ডাল ভাত খাইয়া যে সন্তুষ্ট হবে না, তারে উট গরু খাওয়াইলেও কোনদিন সন্তুষ্ট করতে পারবি না।

এপ্রিসিয়েশন তথা কৃতজ্ঞতাবোধ একটা হিউম্যান ন্যাচার। অকৃতজ্ঞতাবোধও। তো যার মধ্যে কৃতজ্ঞতাবোধ আছে, তাকে আপনি একটা গাদা ফুল দিলেও সে সেইটা মনে রেখে আপনাকে থ্যাংকিউ দেবে।

আর মধ্যে নাই, তাকে এক গুচ্ছ গোলাপ দিলেও বলবে, জবা কই? জবা আনোনি?

এইটা কিন্তু শুধু প্রেম বা ভালোবাসার ক্ষেত্রে না, ইভেন নিজের ফ্যামিলির জন্যও সত্য।

পৃথিবীতে আপনি দুই প্রকার মানুষ খুঁজে পাবেন।

যারা সব পেয়েছে।

আর যারা কিছুই পায়নি।

যারা সব পেয়েছে, তাদের কি অপ্রাপ্তি নাই? আছে কিন্তু। বাট সেই অপ্রাপ্তিটাকে তারা ঢেকে রাখে কৃতজ্ঞতা দিয়ে।

আর যারা কিছুই পায়নি, তাদের কি প্রাপ্তি নাই? আছে বাট ঐটাকে তারা ঢেকে রাখে অভিযোগ দিয়ে।

এইজন্যই আল্লাহর কাছে খুব বেশি অভিযোগ করা মানুষের ব্যাপারে আমি সাবধান থাকি। স্রষ্টাই যাকে খুশি করতে পারে নাই,আমি কেমনে করবো?

দেখবেন, আমাদের মানসিক অশান্তির মূলে থাকে কিছু অকৃতজ্ঞ মানুষ। তাদের সন্তুষ্ট করতে যাইয়া আমরা আমাদের সবটুকু নিংড়ে দিই। বাট তারপরও লাভ হয়? হয় না তো।

বরং দিনশেষে আরো বেশি অভিযোগ। ভালোবাসো, তা অমনে বাসলা না কেন? গিফট দিছো, তা ঐটা দাও নাই কেন? গল্প করছো, বাট অমুক গল্প করো নাই কেন?

এই গেমের এক পাশে এংজাইটি। আরেক পাশে ট্রমা। মাঝখানে যন্ত্রনা। প্রাপ্তি বলতে কিছু থাকে না।

এই গেমে নামা মানে আপনি হারবেনই। এবং শুধু হারবেন না, নিজেকেও হারাবেন।

তাই লাইফ পার্টনার বলেন, বন্ধু বলেন, ফ্যামিলি বলেন, কৃতজ্ঞ মানুষকে আশেপাশে রাখা খুব জরুরি। এটাই আসলে জান্নাত আর জাহান্নাম।

আপনার বাবা আপনাকে নিয়ে গর্বিত, আপনার মা আপনাকে নিয়ে খুশি, আপনার ভাই বোন আপনার কিনে দেওয়া কলম সবাইকে দেখাইয়া বেড়ায়, আপনার প্রিয়তমা আপনার কিনে দেওয়া ২০ টাকার ফুল যত্ন করে রেখে দেয়, আপনার জীবন জান্নাত ছাড়া আর কী?

আর যদি উল্টো হয়?

যদি আপনার এই প্রতিটা বা কোন একটা এলিমেন্টের মধ্যে অকৃতজ্ঞ কেউ ঢুকে পড়ে, তাহলে আপনার লাইফ জাহান্নাম হতে আর বাকি থাকে?

কুরআনে আল্লাহ পাক বলতেছেন, মানুষ তোমরা বড়ই অকৃতজ্ঞ।

চিন্তা করে দেখেন, জন্মের পর থেকে এখন পর্যন্ত আপনার যত পেরেশানি, কোনটাই আপনার জন্য না। আপনার সব পেরেশানির মধ্যেই কোন না কোন অকৃতজ্ঞ মানুষের অভিযোগের বোঝা আছে। এই বোঝা নিয়ে আপনি না পারেন আপনাকে নিয়ে খুশি থাকতে, না পারেন অকৃতজ্ঞ মানুষটাকে খুশি করতে।

অথচ এর এক ভাগও যদি কোন কৃতজ্ঞ মানুষের জন্য করেন, সে আপনাকে মাথায় করে রাখবে। আপনার কনফিডেন্স বাড়বে। নিজেকেও ভালোবাসতে তখন ভালো লাগবে।

এখন বলতে পারেধ,অকৃতজ্ঞ কারো জন্য করলে ক্ষতি কী? ক্ষতি হলো মানুষের এনার্জি লিমিটেড। মানুষের গুড উইল লিমিটেড। ঐটা অকৃতজ্ঞ কারো পেছনে খরচ করে ফেললে ঐটা নিজের সাথেই করা আপনার জুলুম।

কারণ খারাপ কথা শুনতে শুনতে নিজেকেই আপনার গুড ফর নাথিং মনে হতে হতে একটা সময় আপনি আসলেই গুড ফর নাথিং হয়ে যাবেন।

অথচ কৃতজ্ঞ মানুষ এপ্রিসিয়েশন আর মোটিভেশনের মাধ্যমে আপনার এই গুড উইলটাকে আরো বেশি ট্রিগার করতে পারতো।

আমার কাছে বহু মেসেজ আসে। ভাই কেমন মেয়ে বিয়ে করবো, মানুষ চিনবো কী করে, বন্ধু বানাবো কী দেখে?

অনেকই অনেক থিওরি বলবেন, ধর্ম বলবেন, ফিলোসফি বলবেন।

আমি বলি, কৃতজ্ঞ মানুষ খুঁজে বের করেন।

যে মানুষটা আপনার এনে দেওয়া চাঁদের আলো পরম যত্নে কোটায় ভরে রাখে, আস্ত চাঁদটাও কেবল তার জন্যই আনা উচিত!!

-সাদিকুর রহমান খান

Address

Dhaka
1207

Opening Hours

Monday 09:00 - 00:00
Tuesday 09:00 - 00:00
Wednesday 09:00 - 00:00
Thursday 09:00 - 00:00
Saturday 09:00 - 00:00
Sunday 09:00 - 00:00

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Style & comfort posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share