25/09/2021
‘পরকীয়া’শব্দের অর্থ বলতে যা বুঝি, তা হলো বিবাহিত কোন ব্যক্তির (নারী বা পুরুষ) স্বামী বা স্ত্রী ছাড়া অন্য কারো সাথে বিবাহোত্তর বা বিবাহ বহির্ভূত প্রেমের সম্পর্ক, সেটা মানসিক, দৈহিক বা দু’য়ের তাড়নায়ও হতে পারে।
পরকীয়ার সুফল নিয়ে বিতর্ক আছেই, আর কুফল নিয়ে নি:সন্দেহে বলা যায়, পরকীয়তা একটা আপাতদৃষ্টিতে সাজানো, গোছানো সংসারকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে, জীবনকে করে দিতে পারে লণ্ডভণ্ড , বাঁচার ইচ্ছেটাকে অর্থহীন করে তুলতে পারে, প্ররোচিত করতে পারে আত্মহননের রাস্তা বেছে নিতে । তবু ‘পরকীয়া’ হয়, কিন্তু কেন হয়?
১. মনোদৈহিক ও সামাজিক কারণে
মনোদৈহিক ও সামাজিক কারণে মানুষ পরকীয়ায় জড়ায়। প্রথমে আসে দৈহিক বিষয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যৌন সম্পর্কে অতৃপ্তি থেকে অনেকে এ সম্পর্কে জড়ায়। শারীরিক সম্পর্ক মানুষের একটি শারীরবৃত্তীয় চাহিদা। যদি স্বামী-স্ত্রীর যৌনজীবন দুর্বল হয়, তাহলে অপর ব্যক্তির প্রতি আসক্তি তৈরি হতে পারে।
২. অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ার ফলে
আবেগের বশবর্তী হয়ে অনেক তরুণ-তরুণী কম বয়সে বিয়ে করে ফেলে। এই সময়ে ছেলে বা মেয়ের মধ্যে মানসিক বুদ্ধি-চিন্তা কাজ করে না। যুক্তির চেয়ে আবেগই বড় হয়ে দেখা দেয়। যার কারণে বিয়ের কিছুদিন পরই সেইসব স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন রকমের মতবিরোধ সৃষ্টি হয় এবং এই সময়েই সেই স্বামী বা স্ত্রী পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। ফলে, একসময় এই বিবাহিত জীবন ডিভোর্স এর পর্যায় চলে যায়।
৩. শখ থেকে পরকীয়া করা
অনেকে শখ থেকেও পরকীয়ায় জড়ায়। অন্য আরেকটি শরীর কেমন, একে জানার একটি আগ্রহ থাকে। অনেকে আবার ভাবে, ‘ওরা কি সুখী! এই মানুষটির সঙ্গে থাকতে পারলে হয়তো আমার অনেক সুখ লাগত।’ এ থেকেও অনেকে ওই ব্যক্তির প্রতি আগ্রহ অনুভব করে।
৪. ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি
দুটো আলাদা মানুষ, জীবনটাকে আলাদা ভাবে দেখবে— এটাই তো স্বাভাবিক। সেটা না জেনেই হুট করে বিয়েটা সেরে ফেলেন। দু’জনের দৃষ্টিভঙ্গির এই পার্থক্য সময়ের সঙ্গে দু’জনের কাছেই পরিষ্কার হতে শুরু করে। স্বামী সেটা মানিয়ে নিতে না পারায় মেয়েরা অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।
৫. ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে বিয়ে করা
বাড়ি এবং সমাজের চাপে অনেকেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিয়ে করতে বাধ্য হন। কিছু দিন না যেতেই সংসারে টানাপুড়ন শুরু হয়ে যায়। টনক নড়ে বসে মেয়েটির, বুঝতে পারেন কী ভুলটাই না তিনি করেছেন। তখনই শুরু হয় পরকীয়া সম্পর্কের।
৬. ভুল মানুষকে বিয়ে করা
মূলত এই সমস্যাটি বেশি দেখা যায় অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ বা অভিভাবকের পছন্দানুযায়ী বিয়ে করার ক্ষেত্রে। অনেক সময় অভিভাবকরা তাদের নিজেদের কথাই ভাবেন এবং ভাল-মন্দ কোনো কিছু না দেখে-শুনে অনেক তাড়াহুড়ো করেই তাদের সন্তান দের বিয়ে দিয়ে দেন। কিন্তু ছেলে-মেয়ের পছন্দ বা মতামতকে তারা প্রাধান্য দেন না। যার ফলে এসব ছেলে-মেয়েদের বিবাহিত জীবন সুখের হয় না। আর তখন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে পরবর্তীতে তারা পরকীয়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকে।
৭. ক্যারিয়ার আডভান্সমেন্ট
খুব দুঃখজনক হলেও, এটাই সত্যি। কিছু পুরুষ বা নারী তার ক্যারিয়ার প্রমোশন দ্রুত বৃদ্ধি করার জন্য তার কর্মস্থল এর ম্যানেজার কিংবা উপরের লেভেলের বসদের সাথে পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত হন। কারণ তারা মনে করেন এতে করে তারা জব এর ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাবেন। কিন্তু এটা সম্পূর্ণই ভুল চিন্তা! উল্টো এটা একটা মানুষের ব্যক্তিস্বত্তা, তার চরিত্র স্বত্তাকে ধ্বংসের মুখে নিয়ে যায়। এসব সম্পর্কও যেমন বেশিদিন টিকে না, ঠিক তেমনিভাবে চাকরি হারানোর আশঙ্কা থাকে ১০০%।