25/02/2024
সুগন্ধি ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। ঈদ-উৎসব থেকে শুরু করে নামাজ ও বিভিন্ন সামজিক অনুষ্ঠানেও আতর কিংবা সুগন্ধির ব্যবহার দেখা যায়। আর এই আতর শুধু পবিত্রতার আমেজ নয় বিভিন্ন সময় আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।
আতর বা সুগন্ধির প্রতি আমাদের প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রচণ্ড অনুরাগ ছিল। তিনি নিয়মিত আতর ব্যবহার করতেন। মহানবী (সা.) নিজেও ছিলেন সুগন্ধির আকর। তিনি রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে সুগন্ধির ঝরনা বয়ে যেত। লোকেরা বুঝতে পারত, নবী করিম (সা.) এই রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেছেন। পাশাপাশি সুগন্ধি ও আতর রাসুল (সা.)-এর অত্যন্ত প্রিয় ছিল।
সুগন্ধি ব্যবহার সব নবী-রাসুলের সুন্নত। আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘চারটি বস্তু সব নবীর সুন্নত। আতর, বিয়ে, মেসওয়াক ও লজ্জাস্থান আবৃত রাখা।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২২৪৭৮)
আতর হল ভেষজ উৎস থেকে উৎপাদিত সুগন্ধী বিশেষ। আতর শব্দটি পারসিয়ান শব্দ ‘ইতির’ থেকে এসেছে, যার অর্থ সুগন্ধি। আতর হলো মুসলমানদের ব্যবহৃত সুগন্ধি দ্রব্য। যেকোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বা নামাজে যাবার আগে আতর ব্যবহার করা হয়। পুরুষদের জন্য একমাত্র হালাল সুগন্ধি হল আতর। আর মৃতের একমাত্র প্রসাধনও আতর।
প্রাচীনকালে মিশরীয়রা সুগন্ধী তৈরীতে প্রসিদ্ধ ছিল। বিভিন্ন গাছপালা এবং ফুল থেকে নির্য়াস সংগ্রহ করে বিভিন্ন তেলের সাথে মিশিয়ে আতর তৈরি করা হত। পরবর্তীতে বিখ্যাত মুসলিম চিকিৎসক আল শেখ আল-রইস নানরকম সুগন্ধি তৈরীর প্রক্রিয়ায় উদ্ভাবন করেন। পাতন পদ্ধতির সাহায্যে সুগন্ধি তৈরীতে তিনি ছিলেন অন্যতম পথিকৃৎ।
ইতিহাস বলছে, মুঘলদের মাধ্যমেই আমাদের এই ভাযত উপমহাদেশে আতরের ব্যবহার প্রচলিত হয়। কিন্তু একদম শুরুতে আতর কবে কোথায় কখন উৎপত্তিলাভ করেছে এ নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। তবে এর উৎপত্তিস্থল হিসেবে মেসোপটেমিয়ার (বর্তমান ইরাক, কুয়েত ও সৌদি আরব) নামই পাওয়া যায় বেশি। সাইপ্রাসে চার হাজার বছর আগে প্রতিষ্ঠিত সুগন্ধির কারখানার সন্ধানও পাওয়া গেছে। বিশ্বের প্রথম নারী রসায়নবিদ তাপ্পুতির কথা রয়েছে সুগন্ধির বিভিন্ন ইতিহাসে। ইতিহাসে আরো রয়েছে, প্রাচীন মেসোপটেমিয়া ও মিসরে সুগন্ধি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে রোমান ও পারসিয়ানরা সুগন্ধি বানানোর প্রক্রিয়া আরো আধুনিক করে তোলে।
পৃথিবীর প্রায় সব ধর্মের আচার-অনুষ্ঠানে সুগন্ধি ব্যবহারের রীতি দেখা যায়। এই হিসাবে বলা যায়, ধর্মের ইতিহাসের মতো সুগন্ধির ইতিহাসও অত্যন্ত প্রাচীন। পৃথিবীর প্রাচীনতম ধর্মগ্রন্থগুলোর বর্ণনায় সুগন্ধি ব্যবহারের কথা জানা যায়।