12/05/2023
মহান আল্লাহ আমাদের হেফাযত করুক (আমিন)
ঘূর্ণিঝড় মোখা আপডেট ১২
আপডেট: ১২ ই মে দুপুর ২ টা বেজে ৫০ মিনিট।
দক্ষিণ মধ্যো বঙ্গপোসাগর এলাকায় অবস্থিত তীব্র ঘূর্ণিঝড় মোখা কিছুটা উত্তরে অগ্রসর হয়েছে। এবং শক্তি বাড়িয়ে ক্যাটাগরি ১ এর থেকে বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন ঘূর্ণিঝড়ে পরিনত হয়েছে। এটি আজ ১২ ই মে দুপুর ২ টা বেজে ৪০ মিনিটে মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৮৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিলো। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিলো। কক্সবাজার থেকে ৭৮০কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিলো। এটি আরও জোরদার হয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হতেপারে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটার এর ভেতরে বাতাসের একটানা গড় গতিবেগ ঘন্টায় ১৪০ কিলোমিটার যা দমকা ও ঝড়ো হাওয়া আকারে ১৭৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাগর ঐ স্থানে প্রচন্ড উত্তাল আছে। এটি আজ বিকেলে ক্যাটাগরি ২ শক্তিসম্পন্ন ঘূর্ণিঝড়ে পরিনত হতেপারে। এটি উপযুক্ত পরিবেশ পেলে প্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিনত হতেপারে।
সিস্টেম টি বাংলাদেশ উপকূল থেকে এখনও অনেক দুরে থাকায় এর কোন প্রভাব এখনও দেশের উপকূলে পড়েনি। তবে আগামী ১৩ ই মে থেকে এর প্রভাব পড়তেপারে। তবে ঘূর্ণিঝড় এর বাইরের অংশের মেঘমালা দেশের আকাশ আংশিক মেঘলা করে রেখেছে। তবে কোন মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলার যেন কোনভাবেই এইসময় গভীর সাগরে যাওয়ার জন্য বের না হয় তার জন্য বিশেষভাবে জানাচ্ছি।
তবে আজ রাত থেকে উত্তর বঙ্গপোসাগর উত্তাল প্রক্রিয়া শুরু হতেপারে।
গতিপথ : সিস্টেম টি প্রাথমিকভাবে উত্তর দিকে অগ্রসর হতেপারে, এবং পরবর্তীতে উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হতেপারে।
শক্তিমত্তা : এটি ক্যাটাগরি ৪ বা ৫ ক্ষমতাসম্পন্ন ঘূর্ণিঝড়ে পরিনত হতেপারে। সুপার সাইক্লোন হবার সম্ভাবনা থেকে যায়।
ল্যান্ডফল/ আঘাত : এটি আগামী ১৪ ই মে দুপুরের পর থেকে ভোলা থেকে কক্সবাজার এর ভেতরে যেকোনো উপকূলে প্রবল শক্তি নিয়ে অতিক্রম করতেপারে। তবে আঘাত হানার স্থান পরিবর্তন হতেও পারে কিছুটা । বর্তমান সময় পর্যন্ত কক্সবাজার চট্টগ্রাম ও এর পার্শ্ববর্তী উপকূল বেশি ঝুকিপূর্ণ।
ঘূর্ণিঝড় মোখা অতিক্রম করার ২ দিন পর দেশের অনেক এলাকার উপর শক্তিশালী বৃষ্টিবলয় ঝুমুল আসতেপারে।
যাতে প্রচুর, কালবৈশাখী, বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি থাকতেপারে।
বেশি আক্রান্ত স্থান, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগের অনেক এলাকা।)
ভোলা থেকে কক্সবাজার উপকূল সবচেয়ে বেশি ঝুকিপূর্ণ। সাথে বরিশাল উপকূলীয় এলাকা গুলোও বেশ ঝুকিপূর্ণ।
ঘূর্ণিঝড় আঘাত করার সময় দেশের কোন উপকূলীয় জেলার উপরদিয়ে ঘন্টায় কত কিলোমিটার দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতেপারে, সেই
আপডেট আসছে পরবর্তী আপডেটে ইনশাআল্লাহ।
এটা এখনকার আপডেটে দেওয়ার কথা ছিলো, কিন্তু ঘূর্ণিঝড় এর গতিপথ কিছুটা পরিবর্তন হতেপারে তাই একটু দেরি করা হচ্ছে।
সতর্কতা : দেশের চট্টগ্রাম ও বরিশাল উপকূলে যারা আছেন তারা আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিয়ে রাখবেন। একটা কথা বলে রাখা ভালো, সেটা হলো অনেকে বলছে ঘূর্ণিঝড় টি সরাসরি বার্মায় আঘাত করবে,
সো,
চট্টগ্রাম সতর্কতা অবলম্বন করার দরকার নেই। আমি তাদের সাথে একমত নই। কারণ, চট্টগ্রাম এর কেউ সতর্ক হলোনা, কিন্তু ঘূর্ণিঝড় টি হটাৎ গতিপথ পরিবর্তন করে আমাদের আশঙ্কা অনুযায়ী চট্টগ্রাম আঘাত করলো তাহলে কি হবে?
যাহোক সতর্কতা গ্রহণ করলে বিপদ না আসলেও ক্ষতি হবেনা, কিন্তু সতর্ক হলাম না আর বিপদ হটাৎ চলে আসলো তাহলে তো মহা বিপদ। একটা ঘূর্ণিঝড় এর ডায়ামিটার অনেক বড় হয়, ফলাফল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্র থেকে কয়েকশত কিলোমিটার দুরের এলাকায়ও ব্যাপক ক্ষতি হতেপারে।
বৃষ্টিপাত : এর প্রভাবে আগামী ১৩ ই মে থেকে ১৬ ই মে এর ভেতরে,চট্টগ্রাম বিভাগের সকল এলাকা ও বরিশাল বিভাগের অনেক এলাকায় ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতেপারে। এইসকল এলাকায় গড়ে ১০০ থেকে ৩৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতেপেরে। এখানে রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ বিভাগ ও খুলনা বিভাগ অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় এর বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।
জলোচ্ছ্বাস : ঘূর্ণিঝড় মোখা সরাসরি দেশের চট্টগ্রাম বিভাগ উপকূলে আঘাত করলে, আঘাত করা স্থানে ১৫ থেকে ২০ ফুট উচ্চ বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে আক্রান্ত হতে পারে।
পাহাড়ধ্বস : ঘূর্ণিঝড় টি চট্টগ্রাম আঘাত করলে, পার্বত্য চট্টগ্রামে ভয়াবহ
পাহারধ্বস এর আশংকা করা যায়।
নোট : কক্সবাজার যেসব রোহিঙ্গা আছে তাদের জন্য ও অধিক সতর্ক হওয়া জরুরী।
সতর্ক সংকেত : BMD, দেশের সকল সমুদ্র বন্দরে ২ দুই নম্বর দুরবর্তী সংকেত বহাল রেখেছে, পরবর্তী সময়ে সংকেত বাড়তেপারে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বন্দরে।
কত কিলোমিটার বেগে আঘাত করবে : ঘূর্ণিঝড় মোখা ঘন্টায় ১৯০ থেকে ২৩০ কিলোমিটার বা তারচেয়ে অধিক গতিতে উপকূল অতিক্রম করতেপারে।
বৃষ্টি বলয় তুফান : ১৩ টু ১৫ ই মে, , চট্টগ্রাম বিভাগ সম্পুর্ন। ও বরিশাল বিভাগের উপকূল।
পরবর্তী আপডেট : ১২ ই রাত ৮ টা বেজে ১০ মিনিটে ইনশাআল্লাহ।
চিত্রে ঘূর্ণিঝড় এর সম্ভাব্য গতিপথ দেখানো হলো।
সিস্টেম শক্তিশালী হলে আমরা আরও ঘন ঘন আপডেট দেবার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।
ধন্যবাদ : পারভেজ আহমেদ পলাশ, ফাউন্ডার, Bangladesh Weather Observation Team (BWOT).