01/09/2022
উমার ইবনুল খাত্তাব (রদি.)-এর খিলাফতকালে একবার সমগ্র আরব উপদ্বীপে অনাবৃষ্টির কারণে দেখা দেয় প্রচণ্ড দুর্ভিক্ষ। ক্ষুধা ও মহামারীর কারণে অনেক মানুষ মৃত্যুবরণ করে। এমনকি ক্ষুধার কারণে বন্য-প্রাণীরা পর্যন্ত লোকালয়ে চলে আসতে শুরু করে। মদীনা মুনাওয়ারার কাছেই আশ্রয় নেয় অসংখ্য বেদুইন। একপর্যায়ে মদীনায় সঞ্চিত খাদ্যও শেষ হয়ে যায়।
এই ঘোর দুর্যোগের সময় নেতা হিসেবে উমার রদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে ফেললেন। তিনি শপথ করেছিলেন, যে পর্যন্ত এই দুর্ভিক্ষ শেষে মানুষজন স্বাভাবিক খাবার শুরু না করবে, ততদিন গোস্ত কিংবা ঘি-জাতীয় কোনো খাবার তিনি খাবেন না।
ইয়াদ ইবনু খলীফা রহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করছেন, “আমি দুর্ভিক্ষের সময় উমার (রদি.)-কে দেখেছি। লালচে ফর্সা মানুষটির গায়ের রঙ কালো (তুলনামূলকভাবে) হয়ে গিয়েছিল। তিনি স্বাভাবিক (দুধ, ঘি, গোস্ত ইত্যাদি) খাবার থেকে নিজেকে বিরত রেখেছিলেন। তাঁকে বড়ো ক্ষুধার্ত দেখাত সেই সময়ে।”
পরবর্তীকালে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে বাজারে অল্প কিছু ঘি ও দুধ পাওয়া যেতে শুরু করল। তখন তাঁর দাস ৪০ দিরহাম দিয়ে অল্প কিছু ঘি ও দুধ আনলেন আমিরুল মুমিনীন উমার (রদি.)-এর জন্য। কিন্তু উমার এতে রেগে গেলেন এবং সেই খাবার সাদাকা করে দিতে বললেন। কারণ বাজারে ঘি, গোস্ত-সহ উত্তম খাবারের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি তখনও, যদিও বেশি দামে তা কিনতে পাওয়া যেত।
উমার বলতেন, “আমি কীভাবে মানুষদের সেবা করব বা যত্ন নেব যদি আমি তাঁদের কষ্টের অনুভূতি উপলব্ধি করতে না-ই পারি?”
আসলাম মাওলা উমার বর্ণনা করেছেন, “আমরা বলাবলি করতাম—যদি মহান আল্লাহ সেই বছর দুর্ভিক্ষ তুলে না নিতেন, তা হলে উমার ইবনুল খাত্তাব (রদি.) উম্মাহর প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধের চিন্তার কারণেই মৃত্যুবরণ করতেন।”
সুবহানাল্লাহ! ‘নেতার দায়িত্ববোধ’ এর বিষয়ে এরচেয়ে উত্তম দৃষ্টান্ত কি প্রদর্শন করতে পেরেছে পৃথিবীর কোনো নেতা বা শাসক?
'অনেক আঁধার পেরিয়ে' বই থেকে
লেখক : মুহাম্মাদ জাভেদ কায়সার (রহ)