17/11/2023
মাফ করবেন, আমার কাছে এটা অপরিনামদর্শী, অদূরদর্শী, বায়বীয় গায়রত (আত্মসম্মানবোধ) মনে হয়৷ এইসব করে মার্কেট পাওয়া যাবে, সাময়িক বাহবা পাওয়া যাবে৷ কিন্তু এইসব লাফিলাফি কেবল ঝামেলাই বাড়াবে৷ কারো গায়রত বাড়াবে না৷ এইসব হল, লুঙ্গি খুলে পাগড়ি বাঁধার গায়রত৷
যদি এতই গায়রত থাকে, তাহলে যে এলাকার এমপি, যে এলাকার মন্ত্রী সেসব এলাকায় মাহফিল রাখাটাও গায়রতহীনতার পরিচয়৷
বিষয়টা সহজ, একটা এলাকাত এমপি, মন্ত্রী, ডিসি, এসপি ইত্যাদি সরকারি কর্মকর্তা হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়াটা, নারী হওয়াটা আপনার কাছে সহজ-সাধারণ বিষয়৷ কিন্তু তাদের অধীনে পরিচালিত, তাদের অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত মাহফিলে যাওয়াটা সাধারণ বিষয়৷ তাদের প্রধান অতিথি হওয়া সাধারণ বিষয়৷
কিন্তু সেই মাহফিলের পোস্টার তাদের নাম আগে দেওয়া দোষণীয়?
বিষয়টা হাস্যকর৷ যদি এতই গায়রত থাকে, যদি এতই আত্মসম্মানবোধ থাকে তাহলে আপনি সে এলাকায় যাবেন কেনো? আমি হলে তো যেতাম না৷
ক'বছর আগে একবার এক নারী সরকারি কর্মকর্তা এক খতমে বুখারির অনুষ্ঠানে এসেছিলেন৷ তখনও এমন হাউকাউ হইছে৷ তিনি নারী হয়ে, বেপর্দা হয়ে কেন এমন একটা অনুষ্ঠানে আসলেন— এটা তাদের বায়বীয় গায়রতে লাগলো৷ আর সবাই হাউকাউ শুরু করে দিল৷ অথচ ওই নারী ছিলেন উক্ত এলাকার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা৷ তাকে দাওয়াত দিতেই হত, কারণ, এলাকার অনুষ্ঠান করতে, জনসমাগম করতে তার অনুমতি লাগে৷ আর তারও আসতেই হত, কারণ, এরা তার ভোটার৷
এই মাহফিলেও সেইম হয়েছে, হিন্দু লোকটার অনুমোদন ছাড়া আপনারা মাহফিল করতে পারবেন? আপনি জানেন, আমিও জানি সে চাইলে এইসব দশ-পনেরোটা মাহফিল তার সামান্য ইশারাতেই অনুমতি পাবে না৷ সে হয়তো হার্ড লাইনে যাবে না৷ কারণ, এরা তার ভোটার৷ কিন্তু তার অনুমতি ছাড়া অথবা তার অধীনস্থ কারোর অনুমতি ছাড়া মাহফিল করে দেখেন৷
আমাদের দেশটা, আমাদের দেশের সিস্টেমটাই এমন৷ এখানকার প্রধানমন্ত্রী মহিলা, বিরোধীদলীয় নেত্রী মহিলা৷ মন্ত্রী-এমপি মহিলা ও বিভিন্ন ধর্মের৷ এইটা বাস্তবতা৷ এই বাস্তবতা মেনে নিতে গায়রতে লাগে না৷ অন্ততপক্ষে প্রতিটি জেলার ২০-৩০% সরকারি কর্মকর্তা, যারা আমাদের পরিচালনা করে, আমরা যাদের কাছে নিজেদের আত্মপরিচয় তুলে দিয়েছি, তারা মহিলা বা ভিন্নধর্মাবলম্বী৷
এইসব গায়রতে লাগে না৷ খালি পোস্টারে নাম নীচে দিছে বলে গায়রতে লাগছে৷ আরে ভাই, আপনার আর তার অবস্থানটা দেখেন৷ সে হল, প্রধান অতিথি আর আপনি একজন সাধারণ বক্তা! এইটা গায়রতহীনতা৷