Reader's Haven

Reader's Haven Premium Quality books at the most affordable price. Quickest possible delivery. Inbox us to order an Reader's Haven- We Are For Book Lover's .

You will get your desired books from us. We provide books at the lowest price. We are always there for book lovers

২০১৯ সালে গুগল তাদের কোয়ান্টাম কম্পিউটার নিয়ে বিশাল এক ঘোষণা দেয়। সেখানে তাঁরা দেখিয়েছে যে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপ...
08/05/2026

২০১৯ সালে গুগল তাদের কোয়ান্টাম কম্পিউটার নিয়ে বিশাল এক ঘোষণা দেয়। সেখানে তাঁরা দেখিয়েছে যে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপার কম্পিউটারের যে সমস্যাটি সমাধান করতে প্রায় দশ হাজার বছর লাগবে, সেটা তাঁরা তাদের কোয়ান্টাম কম্পিউটার ব্যবহার করে মাত্র ৩ মিনিট ২০ সেকেন্ডেই সমাধান করেছে। অবশ্য আইবিএম গুগলের এই দাবীকে মেনে নেয়নি। তাদের দাবী এই সমস্যাটা সমাধান করতে সুপার কম্পিউটারের আড়াই দিন লাগবে। কিন্তু গুগল নেচার জার্নালে তাদের গবেষণাপত্রে সিমুলেসনের সাহায্যে এটা দেখিয়েছে যে- সমস্যাটা সমাধান করতে বর্তমান সময়ের সবচেয় শক্তিশালী কম্পিউটারেরও ১০ হাজার বছর সময় লাগবে।

কোয়ান্টাম কম্পিউটার আর সাধারণ কম্পিউটারের গঠনের মধ্যে অনেক বড় ধরণের পার্থক্য রয়েছে। আর কাজ করার পদ্ধতিতেও(এ্যালগরিদম) রয়েছে অনেক তফাৎ। কোয়ান্টাম এ্যালগরিদম ব্যাবহার করে কিছু কিছু সমস্যা খুব কম সময়ে সমাধান করা যাবে, যেগুলো করতে ক্লাসিক্যাল কম্পিউটারের হয়তো দুই চার বিলিয়ন বছরও লেগে যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে রাসায়নিক বিক্রিয়ার সিমুলেসন ও মৌলিক উৎপাদকে বিশ্লেষণ।

প্রথমটা করা গেলে ঔষধ ও রোগ নিয়ে গবেষণায় এক ধরনের অসাধারণ অগ্রগতি হবে, আর দ্বিতীয়টা করা গেলে যেকোনো সার্ভার বা কম্পিউটারের সিকিউরিটি খুব সহজেই ভেঙ্গে ফেলা যাবে। শুনতে খুব সাধারণ শোনালেও একটি বিশাল সংখ্যাকে মৌলিক উৎপাদকে বিশ্লেষণ করতে গেলে সুপার কম্পিউটাররও অনেক সময় লাগে। যদি অনেক বিশাল কোন সংখ্যাকে মৌলিক উৎপাদকে বিশ্লেষণ করতে দেওয়া হয়, তবে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আগেও তা শেষ হবে না। আর এই বিষয়টা ধরে নিয়েই বেশিরভাগ কম্পিউটার নিরাপত্তা ব্যাবস্থা ডিজাইন করা হয়। যদি কেউ বড় কোন সংখ্যাকে মৌলিক উৎপাদকে বিশ্লেষণ করার কোন সহজ উপায় বের করতে পারে, তবে সহজেই কম্পিউটার নিরপত্তা ব্রেক করা যাবে। কোয়ান্টাম কম্পিউটার এই কাজটা খুব দ্রুত করে ফেলতে পারবে। এজন্য চায়না আর অ্যামেরিকার কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির জন্য খুব চেষ্টা-চরিত করছে। কিন্তু বাস্তবে একটি কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি করার বেশ বড় কিছু বাধা রয়েছে।

সাধারণ কম্পিউটার মূলত লজিক গেটের মাধ্যমে তথ্য বিশ্লেষণ করে। আর তথ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ভোল্টেজ। ভোল্টেজ থাকলে সেটাকে ১, আর না থাকলে সেটাকে ০ হিসেবে ধরা হয়। বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতিতে এই ০ আর ১ দিয়েই যেকোনো সংখ্যা প্রকাশ করা যায়। এই ০ আর ১ কে বলা হয় বিট। এই বিটই হলো কম্পিউটারের তথ্যের একক। শুধুমাত্র এই একটি বিষয়ের সুবিধা নিয়ে মানুষ লজিক গেট দিয়ে এমন সব সার্কিট তৈরি করেছে যেগুলো হিসেব করতে পারে, বিশ্লেষণ করতে পারে।

এইসব হিসেব আর বিশ্লেষণ করতে হলে ধাপে ধাপে কাজ করতে হয়। এই স্টেপ বাই স্টেপ কাজ করার পদ্ধতিকে বলা হয় এ্যালগরিদম। আমরা এখন যে ধরণের কম্পিউটার ব্যবহার করি সেগুলোতে অর্ধপরিবাহী পদার্থ দিয়ে সার্কিট তৈরি করা হয়। বর্তমান সময়ে সার্টিককে অনেক জটিল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, এগুলোকে এখন প্রসেসর বলা হয়। এই প্রসেসরের জন্য যে ধরণের এ্যালগরিদম ব্যবহার করা হয় সেগুলো কিছু কিছু সমস্যা সমাধান করতে গেলে বিপদে পরে যায়। আসলে কিছু সমস্যা ধরন এমনই যে, সেই সমস্যাগুলো সমাধান করতে অনেক ধাপ পার হতে হয়। এ্যালগরিদমে যত বেশি ধাপ থাকবে, কম্পিউটারের সেই সমস্যাটা সমাধান করতে তত বেশি সময় লাগবে। কিছু কিছু সমস্যা সমাধানের জন্য সিলিকনের প্রসেসর ভিত্তিক কম্পিউটারের প্রচুর সময় লাগে। কারণ এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য যে এ্যালগরিদম রয়েছে সেগুলো অনেক ধাপের।

কিন্তু কোয়ান্টাম কম্পিউটারের পদার্থের কোয়ান্টাম বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন উপায়ে তথ্য জমা ও বিশ্লেষণ করা যায়। একটি ইলেকট্রনকে চাইলে তথ্য হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এই তথ্যকে বিট না বলে বলা হয় কিউবিট। কিউবিট ব্যবহার করে হিসেব করতে হলে কিউবিটগুলোকে এন্ট্যাঙ্গেল্ড করা লাগে (দুইটা ইলেকট্রনের স্পিন যেমন এন্ট্যাঙ্গেল্ড থাকে ঠিক তেমন)। তখন এগুলো কিছুটা সার্কিটের মত কাজ করে। তখন কোয়ান্টাম এ্যালগরিদম ব্যবহার করে এটাকে একটা কম্পিউটার হিসাবে ব্যবহার করা যায়। অনেকগুলো কিউবিটকে এল্ট্যাঙ্গেল্ড করা খুবই কঠিন। গুগলের মূল সাফল্য হলো তাঁরা ৫৪ টা কিউবিটকে এন্ট্যাঙ্গেল্ড করে একটি প্রসেসর তৈরি করেছে এবং সেটাকে দিয়ে তাঁরা তথ্য প্রসেসও করেছে। এই প্রসেসর দিয়ে গুগুল যে সমস্যাটা সমাধান করেছে সেটার কোন বাস্তব ব্যবহার নাই। কিন্তু এই কাজটা করে তারা মূলত এমন একটা আশা দেখিয়েছে যে, বাস্তবে কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি করা সম্ভব! তার মানে, সামনে হয়ত কোয়ান্টাম কম্পিউটারের যুগ আসতে চলেছে।

যদি কোয়ান্টাম কম্পিউটার আবিষ্কার করা যায় তাহলে আমাদের এই পৃথিবীর চেহাড়াই পাল্টে যাবে। কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সাহায্যে এমনসব ঔষধ তৈরি করা যাবে যা হয়ত এখন কল্পনাই করা যায় না। পৃথিবীর খাদ্য উৎপাদনের পদ্ধতিও পরিবর্তিত হবে আমূল। খুবই সস্তায় এমনসব সার তৈরি করা যাবে যা এখন কোনভাবেই সম্ভব না। এমনসব সুপার ব্যাটারি তৈরি করা যাবে যেগুলো হয়ত আমাদের জীবাশ্ম জ্বালানীভিত্তিক যুগকে বিদায় জানাবে, শুরু হবে সৌরশক্তি ভিত্তিক যুগ। তৈরি করা যাবে নিউক্লিয়ার ফিউশন ডিভাইস, এটা থেকেও নিরাপদ পরিবেশ-বান্ধব জ্বালানী পাওয়া যাবে। জেনেটিক্স গবেষণাতেও আসবে অভুতপূর্ব অগ্রগতি। এমনসব দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসা করা যাবে যা এখন সম্ভব না। এককথায় বলতে গেলে এমন অনেক ধরনের অগ্রগতি হবে যা বর্তমান সময়ে কোনভাবেই সম্ভব মনে হচ্ছে না।

কোয়ান্টাম কম্পিউটারের এই অজানা জগত নিয়ে দারুণ একটি বই লিখেছেন তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী মিচিও কাকু। বইটির নাম, “Quantum Supremacy: How the Quantum Computer Revolution Will Change Everything” বইটি বিজ্ঞানে আগ্রহী যেকোনো পাঠককে মুগ্ধ করবে।

লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করতে পারেন যেন আরও অনেকেই লেখাটি পড়তে পারে, এছাড়া আপনাদের পছন্দের কোন বিষয় নিয়েও লিখতে অনুরোধ করতে পারেন কমেন্টে, আমরা চেষ্টা করব আপনাদের পছন্দের কোন বিষয় নিয়ে লিখতে।

থেকে এমন আরও লেখা পেতে চাইলে আপনার মতামত জানাতে পারেন, আমাদের সাথে থাকুন, বইয়ের সাথে থাকুন।


#কোয়ান্টাম_কম্পিউটার

আজকের দিনে ইউরোপ এবং এশিয়ার মানুষরা যে খাদ্য খায় তার মধ্যে ভুট্টা, আলু, মরিচ, টমেটো অন্যতম। আর এই প্রতিটি শস্যই “ডমিস্টি...
25/04/2026

আজকের দিনে ইউরোপ এবং এশিয়ার মানুষরা যে খাদ্য খায় তার মধ্যে ভুট্টা, আলু, মরিচ, টমেটো অন্যতম। আর এই প্রতিটি শস্যই “ডমিস্টিকেটেড” করেছিল ন্যাটিভ অ্যা/মেরিকানরা। অর্থাৎ এই শস্যগুলো বন্য অবস্থা থেকে চাষ করে বর্তমান অবস্থায় নিয়ে আসে ন্যাটিভ অ্যামেরিকানরা। আর ইউরোপিয়ানরা পরবর্তীতে এগুলো বিশ্বব্যপী ছড়িয়ে দেয়। এভাবেই আমাদের দেশে কাচা মরিচ, আলু, টমেটো, ভুট্টা এই ফসলগুলো এসেছে। এই শস্যগুলো ছাড়া আজকের পৃথিবী চিন্তাই করা যায় না।

১৮ শতকে মিষ্টি আলু, ভুট্টা এবং বাদামের কিছু জাত চীনে রপ্তানী করা হয়। এই ফসলগুলো ছিল খুবই শক্তিশালী; রোদ, বৃষ্টি, ঝড় সহ্য করে এরা বেশ ভাল ফলন দিতে পারে। এই ফসলগুলোর সুবাদে চীনের জনসংখ্যা ফুলে ফেপে উঠে। একই সাথে চীনে গড়ে উঠে নানা ধরনের কলকারখনা। নতুন এই অর্থনীতিতে চীনে রূপার চাহিদা বেশ বৃদ্ধি পায়। প্রথমদিকের শিল্পকারখানা এবং পুঁজিবাদী অর্থনীতি গড়ে উঠার জন্যও আসলে রূপার খুব চাহিদা ছিল। অ্যা/মেরিকাতে অত রূপা উত্তোলন হতো তার প্রায় ৮৫ ভাগই আসত একটা পর্বত থেকে। এই রূপার যোগান এবং পুঁজিবাদী অর্থনীতির বিকাশের ক্ষেত্রেও চলে আসে নেটিভ অ্যামেরিকানরা। নৃবিজ্ঞানের প্রফেসর এবং লেখক জ্যাক ওয়েদারফোর্ড তার “Indian Givers: How the Indians of the Americas Transformed the World” বইতে দেখিয়েছেন যে, ন্যাটিভ অ্যামেরি/কারদের অবদান ছাড়া এমনকি আধুনিক পুঁজিবাদী অর্থনীতি এবং শিল্প বিপ্লব বিষয়টাই ঘটা হয়ত সম্ভব ছিল না। আজকের যে আধুনিক পৃথিবীতে আমরা বাস করছি, যেসব খাবার খাচ্ছি, এসবের অনেককিছুর পেছনেই রয়েছে অ্যা/মেরিকার আদি অধিবাসীদের বিশাল বড় অবদান।

আজকে মানবজাতি যে উন্নতি করেছে সেই উন্নতি কেবল “পাশ্চাত্য সভ্যতা” বা “ইউরেশিয়ান সভ্যতার” একার অবদান নয়। আজকেই এই আগ্রগতি হলো মানবজাতির সামগ্রিক অবদান। ইতিহাসের এই অধ্যায়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ হলেও এইসব অংশগুলো এতদিন এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু নতুন যুগের ইতিহাসবিদরা এখন এইসব বিষয়কে খুবই গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। ইতিহাসে আগ্রহী যে কারও জন্য জ্যাক ওয়েদারফোর্ডের এই বইটি একটি অবশ্যপাঠ্য।

আজ থেকে প্রায় ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে প্রায় ১৫ কিলোমিটার আকারের একটা বিশাল গ্রহাণু পৃথিবীতে এসে আঘাত করে। সেই আঘাত এতটাই শক্তি...
24/04/2026

আজ থেকে প্রায় ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে প্রায় ১৫ কিলোমিটার আকারের একটা বিশাল গ্রহাণু পৃথিবীতে এসে আঘাত করে। সেই আঘাত এতটাই শক্তিশালী ছিল যে পৃথিবী থেকে প্রায় ৭৬ শতাংশ জীবের প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যায়। তবে এই ধরনের ঘটনা কিন্তু শুধুমাত্র এটাই নয়। আজ থেকে প্রায় ৭৪ হাজার বছর আগে ইন্দোনেশিয়াতে একটা বিশাল আগ্নেয়গিরি অগ্নুৎপাত হয়। এই অগ্নুৎপাত ঘটেছিল একটানা প্রায় ১ হাজার বছর ব্যপী। আর এর ফলে পুরো পৃথিবীতে শীতকাল নেমে আসে। কারন আগ্নেয়গিরির ছাই পুরো আকাশ ঢেকে ফেলে, ফলে পৃথিবী অন্ধকার হয়ে যায়, তাপমাত্রা কমে যায়। বায়ুমণ্ডলে ভরে গিয়েছিল বিষাক্ত গ্যাসে। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন বহু বড় বড় দুর্যোগ নেমে এসেছে বার বার। তাহলে এমন কোন বড় দুর্যোগের ফলেই কি মানব জাতির বিলুপ্তি হবে? ১৯৯৬ সালে কানাডিয়ান দার্শনিক John Leslie একটি বই লিখেন। সেই বইতে তিনি যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে- আগামী পাঁচশত বছরের মধ্যেই মানবজাতি পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা প্রায় ৩০ শতাংশ। এখন পৃথিবীর সামনে জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। তাহলে কি ঘটতে চলেছে ভবিষ্যতে?

আজকের পৃথিবীতে “গণতন্ত্র” বা “নারী-পুরুষ সমান অধিকারের” মতো বিষয়গুলো বেশিরভাগ মানুষের দৃষ্টিতেই ভালো। অন্যদিকে “সহিংসতা”...
23/04/2026

আজকের পৃথিবীতে “গণতন্ত্র” বা “নারী-পুরুষ সমান অধিকারের” মতো বিষয়গুলো বেশিরভাগ মানুষের দৃষ্টিতেই ভালো। অন্যদিকে “সহিংসতা” বা “সম্পদের অসমতা” জিনিসটা প্রায় সবার চোখেই খারাপ। কিন্তু ১০ হাজার বছর আগের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। লেখক প্রত্নতত্ত্ব, নৃবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান এবং ইতিহাসের তথ্য প্রমাণের সাহায্যে দেখিয়েছেন যে- মানব জাতির মূল্যবোধ বিগত কয়েক হাজার বছরে বার বার পরিবর্তিত হয়েছে। আর এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ “শক্তির উৎস”। যুগে যুগে মানুষ মূলত তিনটি উৎসের উপর নির্ভর করেছে- শিকার, কৃষিকাজ, এবং আধুনিক যুগে এসে জীবাশ্ম জ্বালানি।

সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকে গভীরভাবে বুঝতে হলে তাকাতে হবে আমাদের কয়েক হাজার বছর আগের অতীতের দিকে। স্থায়ীভাবে বসবাস করার আগে...
20/04/2026

সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকে গভীরভাবে বুঝতে হলে তাকাতে হবে আমাদের কয়েক হাজার বছর আগের অতীতের দিকে। স্থায়ীভাবে বসবাস করার আগে হাজার হাজার বছর মানুষ যাযাবর হান্টার গ্যাদারার জীবন যাপন করেছে। কিন্তু কেন? এত দীর্ঘ সময় কেন মানুষ হান্টার গ্যাদারার জীবন কাটিয়েছে! প্রচলিত ন্যারেটিভে বলা হয় যে- মানুষ কৃষিকাজ এবং পশুপালন শেখার পর শেষ পর্যন্ত স্থায়ীভাবে বসবাস করেছে, রাষ্ট্র নির্মাণ করেছে। কিন্তু লেখক সেই আদিম রাষ্ট্রগুলোর আরও গভীরে প্রবেশ করতে বলছেন। রাষ্ট্র ব্যবস্থা তৈরি হলেও কেন যাযাবর গোষ্ঠীগুলো কয়েকশত বছর আগে পর্যন্ত রাষ্ট্রহীন থেকেছে?

একটা যন্ত্র কি কোনোদিন ঠিক মানুষের মতো করে চিন্তা করতে পারবে?  পঞ্চাশের দশকের এককজন তরুণ বিজ্ঞানীর মাথায় এমনই একটা অদ্ভু...
15/04/2026

একটা যন্ত্র কি কোনোদিন ঠিক মানুষের মতো করে চিন্তা করতে পারবে?
পঞ্চাশের দশকের এককজন তরুণ বিজ্ঞানীর মাথায় এমনই একটা অদ্ভুত চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিল। তিনি এমন একটা যন্ত্র তৈরি করতে চেয়েছিলেন যা কি’না মানুষের মতো ভাবতে পারবে। এই বিজ্ঞানীর নাম হারবার্ট সিমন।
যেমন ভাবনা তেমন কাজ। একদিন তিনি তার সহকর্মী অ্যালেন নিউএলের সাথে মিলে তৈরি করলেন একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম। সফটওয়ারটির নাম দেওয়া হলো লজিক থিওরিস্ট। এই প্রোগ্রামটি কিন্তু শুধু সমস্যাই সমাধান করত না, বরং মানুষের মতো ধাপে ধাপে যুক্তি দিয়ে প্রমাণ দাঁড় করাত। ঠিক মানুষের মতোই এটি কখনো কখনো ভুল করত, আবার নিজেই তা ঠিক করেও ফেলত।

একদিন এই প্রোগ্রামটি বিজ্ঞানী নিউটনের Principia Mathematica বইয়ের একটি বিখ্যাত উপপাদ্য প্রমাণ করল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই প্রমাণটি ছিল মানুষের করা আসল প্রমাণের চেয়েও ছোট এবং পুরোপুরি নির্ভুল। সাইমন হতবাক হয়ে গেলেন। এই প্রথমবারের মতো মনে হলো, যন্ত্র শুধু নিয়ম মানছে না—সে যেন নিজেই কিছু আবিষ্কার করছে।

তাহলে যন্ত্রও কি আমাদের মতো চিন্তা করতে পারবে… এটাও কি সম্ভব? তাহলে মানুষের চিন্তার বিশেষত্ব কোথায়? এই গল্পটি শুনে যদি আপনার মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা কাজ করে তাহলে এই বইটি আপনার জন্য। টম গ্রিফিতস বিখ্যাত লেখক, তার লেখা Algorithms to Live By বইটির জন্য অনেকেই তার লেখার সাথে পরিচিত। তিনি এবার লিখেছেন আমাদের মস্তিক্সের আরও আকর্ষণীয় কিছু বিষয় নিয়ে। The Laws of Thought: The Quest for a Mathematical Theory of the Mind বইতে এমন সব বিষয় উঠে এসেছে যা আপনার চিন্তার জগতটাই বদলে দেবে।

পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে অবসিডিয়ান নামে এক ধরনের পাথুরে কাঁচ পাওয়া যায়। প্রাচীনকালে এই কাঁচগুলো দিয়ে খুবই ধারালো অস্ত্র বা...
14/04/2026

পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে অবসিডিয়ান নামে এক ধরনের পাথুরে কাঁচ পাওয়া যায়। প্রাচীনকালে এই কাঁচগুলো দিয়ে খুবই ধারালো অস্ত্র বা হাতিয়ার তৈরি করা হত। এই পাথুরে কাঁচগুলো তৈরি হয় মূলত আগ্নেয়গিরির লাভা থেকে। আজ থেকে প্রায় ৯০০০ বছর আগে এই কাঁচগুলো তুরস্ক অঞ্চল থেকে নিয়ে সাইপ্রাস এবং জাগ্রোস পর্বতমালা অঞ্চলে রপ্তানি করা হতো। আবার প্রাচীনকালে ওয়েলসের কিছু পর্বতে এক ধরনের পাথর পাওয়া যেত, এই পাথরগুলো দিয়ে খুব ভাল কুঠার তৈরি করা যেত। এই পাথরগুলোও প্রাচীনকালে ১৪০ কিলোমিটার দূরের আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডে রপ্তানি হতো। প্রাচীন মিশরীয়রা অবসিডিয়ান কাচ আমদানী করত লৌহিত সাগরের আশেপাশের অঞ্চল থেকে।

মানব সভ্যতার বাণিজ্যের ইতিহাসকে আমরা যতটা সহজ সরল মনে করি, বিষয়টা আসলে ততটা সরল ছিল না। বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে বাণিজ্য করার জন্য অনেক প্রাচীনকালেই মানুষ খুবই জটিল কিছু ব্যবস্থা তৈরি করেছিল । আর আজকের দিনে আমরা যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা দেখি সেটাও তৈরি হয়েছে ধীরে ধীরে বিভিন্ন ব্যবস্থার একটা ধারাবাহিক বিবর্তনের মধ্য দিয়ে। এই বইতে “দ্যা ইকোনোমিস্টের” লেখক ফিলিপ কোগান বিশ্বের অর্থনৈতিক ইতিহাসকে বিশ্লেষণ করেছেন সেই প্রাচীন কাল থেকে শুরু করে আজকের আধুনিক অর্থনীতি পর্যন্ত। ইতিহাস এবং অর্থনীতিতে আগ্রহী যে কারও বইটি ভাল লাগবে।

বিগত তিন দশকের বিশ্ব অর্থনীতির দিকে তাকালে দেখা যাবে- এই ত্রিশ বছর জুড়ে ইনফ্লেশন খুব একটা বাড়েনি, সুদের হারও প্রায় একই র...
13/04/2026

বিগত তিন দশকের বিশ্ব অর্থনীতির দিকে তাকালে দেখা যাবে- এই ত্রিশ বছর জুড়ে ইনফ্লেশন খুব একটা বাড়েনি, সুদের হারও প্রায় একই রকম ছিল। আর এর পাশাপাশি ছিল শ্রমিকদের সহজলভ্যতার কারনে কম মজুরি। ফলে ধনী গরীবের বৈষম্য বেড়েছে ব্যপক হারে। আর এই পুরো বিষয়টার পেছনে প্রধান কারন ছিল দুইটি। এক- জনসংখ্যা, এবং দুই- চীনের অর্থনীতির ব্যপক প্রসার। কিন্তু এই অবস্থা এবার পরিবর্তন হতে চলেছে। এতদিন পৃথিবীর তরুণ জনসংখ্যার তুলনায় বৃদ্ধদের সংখ্যা ছিল কম। কিন্তু এখন ধীরে ধীরে বৃদ্ধদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি মজুরীর ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসবে, সুদের হার বৃদ্ধি পাবে, এবং ইনফ্লেশন বৃদ্ধি পেতেই থাকবে। ধনী গরীবের বৈষম্য কমে আসবে। আর এই ইনফ্লেশনের যুগ চলবে অন্তত আগামী ত্রিশ বছর।

বিখ্যাত সুইডিশ অর্থনীতিবিদ একবার বলেছিলেন, “ইকোনোমিক্সের প্রতিটি পাঠ্যবইতে প্রথম অধ্যায়টা হওয়া উচিত জনসংখ্যা নিয়ে”। এই বইতেও দুই অর্থনীতিবিদ ঠিক একই বিষয় বলতে চেয়েছেন। তাদের মতে পৃথিবীর জনসংখ্যার এই যে বিশাল পরিবর্তন হতে চলেছে- এর ফলে অর্থনীতিও ব্যপকভাবে প্রভাবিত হবে। আগামী তিন দশকের অর্থনীতির একটি নির্ভরযোগ্য বিশ্লেষণ জানতে চাইলে পড়ে ফেলুন চমৎকার এই বইটি। বইটার একটা খুবই সুন্দর রিভিউ লিখেছেন আইএমএফ এর অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত ডিরেক্টর ভিক্টর গ্যাসপার। আইএমএফ এর ওয়েবসাইটে রিভিউটি এখনো আছে।

বিশ শতকের শুরুতে অনেক শিক্ষাবিদ ও মনোবিজ্ঞানী মনে করতেন, শিশুদের জ্ঞান কম তাই তারা ভুল করে। কিন্তু শিশুদের চিন্তার গঠনই ...
11/04/2026

বিশ শতকের শুরুতে অনেক শিক্ষাবিদ ও মনোবিজ্ঞানী মনে করতেন, শিশুদের জ্ঞান কম তাই তারা ভুল করে। কিন্তু শিশুদের চিন্তার গঠনই যে আলাদা হতে পারে, এই ধারণা তখনও ততোটা স্পষ্ট ছিল না। কিন্তু বিভিন্ন গবেষণা থেকে এখন দেখা যাচ্ছে, শিশুদের ভুলগুলো আসলে অযৌক্তিক নয়; বরং সেগুলো তাদের নিজস্ব যুক্তি। অর্থাৎ শিশুরা কম জানে না, তার চিন্তাই করে ভিন্নভাবে। এই ধারণাটা বিপ্লবী।

এই বইয়ের লেখক পিয়াজে সরাসরি শিশুদের পর্যবেক্ষণ করেছেন, তাদের প্রশ্ন করেছেন, তাদের যুক্তি বিশ্লেষণ করেছেন। এই পদ্ধতিই পরবর্তীকালে cognitive psychology-র ভিত্তি গড়ে তোলে। এই প্রক্রিয়া এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে এটি শিক্ষা-ব্যবস্থাকেও অনেকখানি বদলে দেয়। শিশুরা যদি ভিন্নভাবে ভাবে, তাহলে তাকে প্রাপ্তবয়স্কের মতো শেখানো যাবে না। এই ধারণা থেকেই আধুনিক child-centered education, Montessori পদ্ধতি, discovery learning ইত্যাদির ভিত্তি তৈরি হয়। অর্থাৎ, শেখানো নয়, বরং শিশুকে নিজে আবিষ্কার করতে দেওয়াটাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

এই বইটি আসলে ভাষা ও চিন্তার সম্পর্ক নিয়ে প্রথম বড় কাজগুলোর একটি। এই বইতে পিয়াজে দেখিয়েছেন ভাষা শুধু শব্দের সমষ্টি নয়; এটি আসলে মানসিক গঠনের প্রতিফলন। পরে ভিগোৎস্কি এই আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যান। কিন্তু সূচনা করেছিলেন পিয়াজেই। যারা মানুষের চিন্তা করার পদ্ধতি, ভাষা ইত্যাদি নিয়ে আগ্রহী তাদের বইটি ভাল লাগবে।

স্প্যানিসরা মেক্সিকো গিয়ে স্থানীয় অ্যাজটেকদের পরাজিত করে। কিন্তু এই ইতিহাসটা বিগত কয়েক শত বছর ধরে আমরা শুনে এসেছি স্প্যা...
11/04/2026

স্প্যানিসরা মেক্সিকো গিয়ে স্থানীয় অ্যাজটেকদের পরাজিত করে। কিন্তু এই ইতিহাসটা বিগত কয়েক শত বছর ধরে আমরা শুনে এসেছি স্প্যানিশদের মুখ থেকে। কিন্তু তাই বলে কি আমরা কোনদিনই অ্যাজটেকদের চোখে এই ঘটনাটা কেমন ছিল সেটা জানতে পারব না? মেক্সিকোর নৃবিজ্ঞানী এবং ইতিহাসবিদ আমাদের জন্য সেই কাজটাই করে দিয়েছেন। এর জন্য তিনি দীর্ঘ সময় জুড়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে তাদের কথা সংগ্রহ করেছেন। কয়েক শত বছর পর টিকে থাকা অ্যাজটেকদের বংশধরদের তিনি খুজে খুজে বের করেছেন এবং তাদের কাছ থেকে কাহিনী সংগ্রহ করেছেন। এই কাজটা সম্ভব হয়েছে কারন মৌখিক পরম্পরায় অ্যাজটেকরা তাদের পূর্বপুরুষদের কাহিনীগুলী টিকিয়ে রেখেছে। এই বইতে লেখক সেই অসাধারণ কাজটাই করেছেন।

Address

Banijjo Biatan Super Market, D-48, D49 Nilkhet
Dhaka
1205

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Reader's Haven posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Reader's Haven:

Share

Category