29/03/2026
𝌆 শাওয়াল মাসে করণীয় ও বর্জনীয় কাজ:
❒ রামাদান মাস আমাদের থেকে বিদায় নিয়েছে। শাওয়াল মাসের শুরু হয়েছে। রামাদানের ফরজ রোজাগুলো রাখার পর শাওয়াল মাসে ৬টি রোজা রাখলে, সারা বছর সিয়াম পালন করার মতো সওয়াব হবে ইন শা আল্লাহ। তাই আমাদের উচিত শাওয়াল মাসে এই ৬টি রোজা রেখে ফেলা। রোজাগুলো রাখা হবে সুন্নাহ বা নফল। যারা অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে রামাদানে কিছু রোজা রাখতে পারেননি, তাদের উচিত হবে প্রথমে সে রোজাগুলো রেখে তারপর শাওয়াল মাসের ৬টি রোজা রাখা তবে প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ভিন্ন কিছু করলেও সমস্যা নেই যে আলোচনা নিচে আসবে। একাধারে ৬টি রোজা রাখতে হবে বিষয়টি এমন নয়, শাওয়াল মাসের ভিতর এই ছয়টি রোজা রাখতে হবে। ইচ্ছে করলে একাধারে ৬টি রোজা রাখতে পারেন আবার ভেঙ্গে ভেঙ্গেও ৬টি রোজা রাখতে পারেন, কিন্তু শাওয়াল মাসের ভিতরই। তাহলে সারা বছর সিয়াম পালন করার মতো হয়ে যাবে।
❖ আবূ আইয়ূব আল আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ রমাযান মাসের সিয়াম পালন করে পরে শাওয়াল মাসে ছয়দিন সিয়াম পালন করা সারা বছর সওম পালন করার মতো।
[সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৬৪৮ (সহিহ হাদিস)]
▣ ঈদুল ফিত্বর, ঈদুল আযহা ও তাশরীকের দিনগুলোতে [ঈদুল আযহার পরের তিনদিন (১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ্ব)] রোজা রাখা যাবে না অর্থাৎ মোট ৫দিন রোজা রাখা নিষেধ। তাই আপনি শাওয়াল মাসের ৬টি রোজা রাখার কাজ ঈদুল ফিত্বরের পরের দিন থেকে শুরু করতে পারেন।
❒ রামাদানের কাজা রোজা আগে রাখবো নাকি শাওয়ালের ৬টি রোজা?
➤ সাধারণত মেয়েদেরই ঋতুস্রাবের কারণে রোজা কাজা হয়ে থাকে, অন্য বিভিন্ন অসুস্থতা বা বৈধ কারণেও যে কারোর হতে পারে। মেজরিটি মেয়েদের ভাংতি পড়ে ৫-৭ টা, আর অল্প কিছু মানুষের ৩-৪ টা। আবার কারোর কারোর ১০/১২/১৪টাও পড়ে! এত কিভাবে? যে মহিলার রামাদানের শুরুতেই ভাংতি পড়লো হায়েযের কারণে, আবার তার-ই হয়তো কয়েকদিন এগিয়ে এসে রামাদানের শেষদিকেও ভাংতি পড়লো। জমে গেলো অনেক কাজা, কিন্তু অধৈর্য না হয়ে আল্লাহর উপর সন্তুষ্টি প্রকাশ করে করতে হবে সবর যাতে আল্লাহ নিয়ামত বৃদ্ধি করে দেন। আবার যে মায়েরা নিফাসের মধ্যে আছেন কিংবা ব্রেস্টফিডিং, তাদের ভাংতির সংখ্যা হয়ে থাকে আরো বেশি। এখন যাদের ভাংতি কম, তাদের অসুবিধা না থাকলে তারা কাজা রোজা রেখে চাইলে শাওয়ালের ৬টি রোজা রাখতে পারেন কিন্তু বাকিরা? লেখাকে ছোট করতে আমরা দলিল ভিত্তিক আলাপ বা মতপার্থক্য এর বিষয়গুলো না এনে সোজা সমাধানে যাচ্ছি। যদি কেউ নির্দিষ্ট কোন এক ফিকহ ও সঠিক আলেমের অনুসরণ করেন, তিনি তা করতে পারেন। যাই হোক, আমরা আমাদের সমাধান নিয়ে কথা বলি।
◉ প্রথমত যে বা যারা কাজা রোজা আগে রেখে শাওয়ালের ৬ রোজাও পূরণ করতে সক্ষম, তারা অবশ্যই আগে কাজা রাখবেন। কারণ ফরজের কাজা আগে পূরণ করাই বেশি উত্তম (কে কখন মারা যাবে, আমরা জানিনা। লাখটা নফলও একটি ফরজের সমান হবে না।)। এরপর শাওয়ালের রোজাগুলো রাখবেন। আমরা এই বিষয়ে উৎসাহিত করছি তবে ব্যতিক্রম করলে সমস্যা হবে বিষয়টি এমন না।
◉ আর যারা এভাবে পূরণ করতে সক্ষম নন, তারা শাওয়ালের রোজা আগে রাখতে চাইলে সেটারও অনুমতি আছে, ইনশাআল্লাহ। তারা শাওয়ালের ৬টি রোজা আগে রেখে, কাজা রোজা শেষ করে ফেলবেন যদি পরিস্থিতি তেমনই হয়। যেহেতু এই সওয়াবের বিষয় এই মাসের (শাওয়াল) সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই শাওয়ালের ৬টি রোজা এই মাসের ভিতর রাখতে হবে। পরের মাসে শাওয়ালের ৬টি রোজা রাখলে হবে না, তাই এমনই করবেন ইন শা আল্লাহ। পাশাপাশি চেষ্টা করবেন পরবর্তী রামাদান আসার আগেই সমস্ত কাজা রোজা শেষ করে ফেলার। মা আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা এমনই করতেন, পরবর্তী রামাদান আসার আগেই কাজা রোজাগুলো শাবান মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলতেন [বুখারী, ১৯৫০ (সহিহ)]।
❒ যেকোন রোজার নিয়ত, কাযা রোজার নিয়ত এবং অন্যান্য সুন্নত/নফল নিয়ত কখন ও কীভাবে করবো?
➤ যেকোন রোজা রাখার জন্য আপনাকে আপনার নিয়তকে মুখে উচ্চারণ করে কোন ভাবেই বলা লাগবে না (অযু, নামাজ, ফরজ গোসল ইত্যাদি এর ক্ষেত্রেও...)। কারণ নিয়ত মুখে উচ্চারণ করে বলার জিনিস নয়, এটি করার জিনিস যা আপনি আপনার মন বা অন্তর দিয়ে করে থাকেন [বুখারী ০১ (সহিহ)]। আপনাকে রোজা রাখার জন্য প্রথমে দৃঢ় ইচ্ছা পোষন করতে হবে। আপনি যদি সন্ধ্যায়ের পর ভাবেন আপনি আজ রোজা রাখবেন তবে আপনার নিয়ত ঐ সন্ধ্যাতেই তখন হয়ে যাবে। ফরজ রোজা বা সুনির্দিষ্ট নফল রোজা (সুন্নত) রাখতে আপনাকে ফজরের পূর্বে দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করতে হবে (তবে সাধারণ নফল রোজার ক্ষেত্রে দিনের বেলাও নিয়ত করা যায় যদি কেউ ফজরের পর থেকে কোন রোজা ভঙ্গকারী কাজে লিপ্ত না হয়ে থাকে তাহলে।)। সাহারী যদি করতে না পারেন তাহলেও আপনি রোজা রাখতে পারবেন, সমস্যা নেই। কিন্তু সাহারী করে রোজা রাখার চেষ্টা করবেন, তা ভাল হবে। সাহারী করে রোজা রাখা সুন্নত।
▣ নিচে বিভিন্ন রোজা রাখার সময় নিয়ত করা নিয়ে ছোট কিছু আলোচনা করা হলোঃ
► সাধারণ নফল রোজার নিয়ত রাত থেকে করা শর্ত নয়। দিনের যেকোন সময়ে কেউ যদি সাধারণ নফল রোজার নিয়ত করে এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত যদি তা পূর্ণ করে, তবে সেটা জায়েয হবে [মুসলিম ২৬০৪ (সহিহ), ২৬০৫ (সহিহ)]। তবে শর্ত হচ্ছে ফজর শুরু হওয়ার পর থেকে রোজা ভঙ্গকারী কোন কাজে লিপ্ত হওয়া যাবে না। যখন থেকে নিয়ত করা হবে তখন থেকে সওয়াব পেতে থাকবে, কারণ আমল নিয়ত অনুযায়ী হয়ে থাকে [বুখারী ০১ (সহিহ)]।
► আর সুনির্দিষ্ট নফল বা সুন্নত রোজার নিয়ত রাত থেকে (ফজরের পূর্বে) করা শর্ত। যদি কোন বিশেষ দিন বা দিনগুলোকে কেন্দ্র করে হাদিসে কোন সওয়াবের প্রতিশ্রুতি বা দেওয়ার কথা থাকে, তবে তা অর্জন করতে পুরো দিনই রোজা রাখতে হবে; তাহলেই তা অর্জন করা সম্ভব হবে। দিনের মাঝখান থেকে রোজা রাখলে হবে না। যেমনঃ আশুরার রোজা, আরাফার রোজা, শাওয়ালের ৬টি রোজা, সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা, আইয়ামে বীযের রোজা, প্রতি মাসে তিনদিন রোজা রাখা ইত্যাদি এর ক্ষেত্রে দিনের মাঝখান থেকে রোজা রাখলে পুরো দিন তো রোজা রাখা হচ্ছে না। তাই যে সওয়াবের কথা বর্ণিত আছে তা অর্জন করাও হচ্ছে না। যে দিনের প্রথম থেকে রাখছে এবং যে দিনের মাঝখান থেকে রাখা শুরু করেছে, তাদের উভয়ের সওয়াবের ব্যাপার একই রকম হবে না। তাই উক্ত সওয়াব ভাল করে অর্জন করতে হলে পুরো দিনই রোজা রাখতে হবে অর্থাৎ ফজরের পূর্বে নিয়ত করতে হবে।
► আর রামাদানের ফরজ রোজা, কাজা রোজা, কাফফারার রোজা, হজ্জের ফিদিয়ার রোজা, মানতের রোজা (মানত করা উচিত নয় তবে কেউ যদি আল্লাহর কোন একটি আনুগত্য পালন করার মানত করে তবে তা আদায় করা তার জন্য আবশ্যক।) ইত্যাদি ফরজ বা ওয়াজিব রোজাগুলোর জন্য নিয়ত বা ইচ্ছা পোষন ফজরের পূর্বে করতে হবে [নাসায়ী ২৩৩২ (সহিহ)]; দিনের বেলা করলে হবে না। যদি আপনি ঘুম থেকে সকালে উঠে ভাবলেন (নিয়ত করলেন) আমি আজ রোজা রাখবো, তাহলে আপনার রোজা হবে না। আপনাকে ফজরের পূর্বে রোজা রাখার জন্য দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করতে হবে।
► মাসজিদে আজান দেওয়ার ভিত্তিতে সাহারী করবেন না, রোজা হবে না। কারণ সাধারণত সাহারীর সময় শেষ হওয়ার বেশ অনেক সময়ের পর আজান দিয়ে থাকে। রোজা রাখার জন্য আমরা ফজরের পূর্বে নিয়ত করবো ও সময় মতো পানাহার হতে বিরত থাকবো। আমরা যদি সন্ধ্যায়ের পর ইচ্ছা পোষন করি আজ আমি শাওয়ালের রোজা রাখবো, তাহলে সন্ধ্যায়ের পরই আমাদের নিয়ত করা হয়ে যাবে। আরবী বা বাংলাতে বা অন্য কোন ভাবেই মুখে উচ্চারণ করে কোন কিছু বলতে হবে না। যদি সাহারী করতে না পারি তবুও রোজা রাখতে পারবো, তবে সাহারী করে রোজা রাখলে ভাল হবে। কাজা ও সুনির্দিষ্ট সুন্নত অর্থাৎ শাওয়ালের ছয় রোজার ক্ষেত্রে ফজরের আগে নিয়ত করবেন।
▣ আমরা প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার, আইয়ামে বীযের সময় (প্রতি আরবি মাসের ১৩,১৪,১৫ তারিখ) এবং আমাদের কাজা রোজার সংখ্যা ও আমাদের সুবিধা অনুযায়ী হিসাব করে, কাজা রোজা গুলো রেখে শাওয়াল মাসের এই ৬টি রোজা রেখে ফেলতে পারি ইন শা আল্লাহ। শাওয়ালের ৬টি রোজা যদি সোম ও বৃহস্পতিবার এবং আইয়ামে বীযের দিনগুলোতে যদি রাখি, তাহলে হতে পারে একের ভিতর তিন ইবাদত। এছাড়া অন্য দিনেও রাখতে পারেন, সমস্যা নেই। তবে অবশ্যই ভিন্ন ভিন্ন করে রাখা গেলে বেশি উত্তম। সুতরাং একই দিনে শাওয়ালের রোজা, সাপ্তাহিক সুন্নাহর দিনের রোজা (সোম, বৃহস্পতি) ও আইয়ামে বীযের (১৩, ১৪ ও ১৫) রোজার দিন মিলে গেলে এবং ঐভাবে নিয়ত করে নিলে ও রোজা রাখলে, রোজা সহিহ হবে এবং আশা করা যায় ঐ দিনগুলো মিলে যাওয়ার কারণে ঐ সবগুলোর সওয়াব পাওয়া যাবে, ইন শা আল্লাহ। কিন্তু মনে রাখতে হবে নফল/সুন্নাহ দিয়ে কাজা (ফরজ) বা কাজা দিয়ে নফল/সুন্নাহ আদায় হবেনা (মৌলিক ইবাদতের মধ্যে একাধিক নিয়ত করা যায় না।)।
▣ শুধু শুক্রবার বা শুধু শনিবার দিনকে (শনিবারের প্রতি ইয়াহুদীরা বিশেষ মর্যাদা প্রদর্শন করে থাকে) সুনির্দিষ্ট করে রোজা রাখবো না, হাদিসে নিষেধ আছে [বুখারী ১৯৮৫ (সহিহ)]। তিরমিযী ৭৪৪, ইবনে মাজাহ ১৭২৬ (সহিহ)]। এর আগে বা পরে আরেকটি দিন রোজা রেখে, মিলিয়ে রাখলে সমস্যা নেই। কাজা ফরজ বা ওয়াজিব রোজা রাখতে পারবেন। রাসুল ﷺ এই দিনকে সাপ্তাহিক ঈদ বলেছেন। কেউ যদি একাধারে ছয়টি রোজা রাখে এবং সেখানে শুক্রবার আসে তাহলে সমস্যা নেই। আবার কারোর রোজা রাখার তেমন সুযোগ নেই বলে তিনি আগে পরে তেমন না মিলিয়ে যদি শুধু শুক্রবার দিন শাওয়ালের ছয় রোজা এর মধ্যে কোন এক রোজা রাখে তাহলেও সমস্যা নেই। কারণ তার উদ্দেশ্য শুক্রবার দিনকে নির্দিষ্ট করে রোজা রাখা না, বরং শাওয়ালের ৬টি রোজা কমপ্লিট করা।
❒ রোজাদারের দুয়া কবুল হয়ে থাকে যতক্ষন পর্যন্ত না তিনি ইফতার গ্রহন করছেন [ইবনে মাজাহ ১৭৫২। তিরমিযী ৩৫৯৮ (সহিহ)], তাই আমরা ইফতার করার পূর্বে বেশি বেশি সুন্দর দুয়া করবো। তারপর ইফতারের সময় হয়ে গেলে আমরা তাড়াতাড়ি ইফতার করার চেষ্টা করবো, বিলম্ব করবো না। তাহলে আমরা কল্যাণ এর উপর থাকবো [বুখারী, ১৯৫৭ (সহিহ)]। "বিসমিল্লাহ" বলে খেজুর দিয়ে প্রথমে ইফতার করার চেষ্টা করবো [আবু দাউদ ২৩৫৬। তিরমিযী ৬৯৬ (সহিহ)]। যদি খেজুর না থাকে তাহলে পানি দিয়ে করবো [আবু দাউদ, ২৩৫৫ (দুর্বল)]। তারপর নিচের দুয়াটি পড়বো, এটি পড়লে ভাল হবে (অথবা হাদিসে বর্ণিত অন্য কোন দুয়াও পড়তে পারি)। প্রথমে কিছু খেজুর খাওয়ার পর পানি পান করে নিচের দুয়াটি পড়বো। তারপর আমরা স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাবো, তা পরিমাণ মতো সুন্দর করে খাবো এবং অপচয় করবো না। খাওয়া শেষে "আলহামদুলিল্লাহ" বলবো বা অন্য কোন দুয়া যা আমরা রাসুল ﷺ হতে শিখেছি।
❁ ইফতারের সময় রোজাদারের দুয়াঃ
ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ العُرُوْقُ، وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللّٰهُ
► দুয়ার উচ্চারণঃ (আরবী দেখে পড়ার চেষ্টা করবো)
যাহাবায-যামাউ ওয়াবতাল্লাতিল ‘উরূকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশা-আল্লা-হ।
► দুয়ার অর্থঃ পিপাসা মিটেছে, শিরাগুলো সিক্ত হয়েছে এবং আল্লাহ্ চান তো সওয়াব সাব্যস্ত হয়েছে।
[সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৩৫৯ (সহিহ হাদিস]
❒ কেন রামাদানে রোজার পর শাওয়ালের ৬টি রোজা রাখলে সারা বছর রোজা রাখার মতো হবে?
► রামাদানে সব রোজা রাখার পর শাওয়ালে ৬টি রোজা রাখলে সারা বছর সিয়াম পালন করার মত হবে কারণ আমরা যখন কোন ভাল আমল করি আল্লাহ সে আমলের সওয়াবকে ১০ থেকে ৭০০ গুন বা আরো বৃদ্ধি করে থাকেন তার ইচ্ছা অনুযায়ী, সর্বনিম্ন ১০ গুন বৃদ্ধি করে থাকেন [বুখারী ৭৫০১ (সহিহ), ৬৪৯১ (সহিহ)]। রামাদানে ৩০টি রোজা ও শাওয়ালের ৬টি রোজা মিলে হয় মোট ৩৬টি রোজা এবং একে দশগুন করলে হয় ৩৬০ যা প্রায় এক বছরের সমান। তাই রামাদানে মাসের সিয়াম পালন করে পরে শাওয়াল মাসে ৬দিন সিয়াম পালন করা হলে, সারা বছর সওম পালন করার মতো হবে।
✠ "শাওয়ালের ৬টিরোজা একবার রাখলে প্রত্যেক বছরই রাখতে হবে" বা এটা প্রথমবার রাখতে হলে "ঈদুল ফিতরের পরের দিন ১টা রোজা রাখতে হবে" এমন কিছুই নাই। এইগুলো বানোয়াট কথা। আর শাওয়াল মাসে বিয়ে করা সুন্নত নয়, অন্যান্য মাসের মতোই জায়েজ বিয়ের ক্ষেত্রে। শাওয়াল মাসে ৬টি সুন্নাহ রোজা ছাড়া আর কোন আমল নেই। ইসলামে বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোন মাসে উৎসাহিত বা নিরুৎসাহিত অথবা শুভ-অশুভ ইত্যাদি বিষয় নির্ধারিত করেনি। বছরের যেকোনো সময় বিয়ে করা জায়েয।
✿ আমরা নিজে রোজা রাখার চেষ্টা করবো এবং অন্যদের এই বিষয় সম্পর্কে জানাতে চেষ্টা করবো, এই রোজাগুলো রাখতে অনুপ্রেরণা দিবো এবং তাদের আমাদের সাধ্য অনুযায়ী বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করবো, তারা যদি আমাদের কথা শুনে রোজা রাখে তবে আমরা তাদের সমপরিমাণ সওয়াব পাবো, ইন শা আল্লাহ [মুসলিম ৬৬৯৭ (সহিহ)]। আমরা সাহারী দেরিতে করার চেষ্টা করবো এবং ইফতারি তাড়াতাড়ি করার চেষ্টা করবো। যারা রোজা রাখবে, তাদের আমরা ইফতার করাতে চেষ্টা করবো। তাদের ইফতার করালে আমরা তাদের সমপরিমান সওয়াব পেয়ে যাবো, ইন শা আল্লাহ। আমরা বেশি বেশি ভাল কাজ করার চেষ্টা করবো ও মন্দ কাজগুলো করা হতে বেঁচে থাকবো এবং অন্যদেরও এসবের ব্যাপারে অনুপ্রেরণা দিবো, ইন শা আল্লাহ।
❖ যাইদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন রোযা পালনকারীকে যে লোক ইফতার করায় সে লোকের জন্যও রোযা পালনকারীর সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে। কিন্তু এর ফলে রোযা পালনকারীর সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না।
[তিরমিযী ৮০৭। ইবনে মাজাহ ১৭৪৬ (সহিহ হাদিস)]
❖ আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেন, সওম ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তাঁর নিজের জন্য, কিন্তু সিয়াম আমার জন্য। তাই আমি এর প্রতিদান দেব। সিয়াম ঢাল স্বরূপ। তোমাদের কেউ যেন সিয়াম পালনের দিন অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে। যদি কেউ তাঁকে গালি দেয় অথবা তাঁর সঙ্গে ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে, আমি একজন সায়িম। যার কবজায় মুহাম্মাদের প্রাণ, তাঁর শপথ! অবশ্যই সায়িমের মুখের গন্ধ আল্লাহ্র নিকট মিস্কের গন্ধের চাইতেও সুগন্ধি। সায়িমের জন্য রয়েছে দু’টি খুশী যা তাঁকে খুশী করে। যখন সে ইফতার করে, সে খুশী হয় এবং যখন সে তাঁর রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন সওমের বিনিময়ে আনন্দিত হবে।
[সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১৯০৪ (সহিহ হাদিস)]
❖ যিরার ইবনু মুর্রাহ্ (রহঃ) অর্থাৎ আবূ সিমান থেকে এ সানাদ থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যখন সিয়াম পালনকারী আল্লাহ্র সাথে সাক্ষাৎ করবে এবং তিনি তাকে প্রতিদান দিবেন তখন সে আনন্দিত হবে।
[সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৫৯৯ (সহিহ হাদিস)]
✿ আল্লাহ আমাদের নেক খাঁটি নিয়ত করার ও আমল করার তাওফিক দান করুক। আমরা যদি নিয়ত করার পর কোন সঠিক কারণে তা আদায় করতে নাও পারি অথবা সবসময় করতাম কিন্তু বৈধ কোন কারণে পারছি না, তাহলে আল্লাহ আমাদের আমলনামায় সেই সওয়াব দান করে দিবেন ইন শা আল্লাহ [বুখারী ২৯৯৬ (সহিহ)]। তাই বেশি বেশি নিয়ত ও চেষ্টা চালিয়ে যান। আল্লাহ আমাদের সফলতা দান করুক, আমিন।
- আশরাফুল আলম ইমন
[২৮ মে ২০২০ | ২৮ মার্চ ২০২৬]