09/06/2026
বড়বোনের ন গ্ন ছবি/ভিডিও গোপনে ধারণ করে ছোটবোন। এরপর স্বামী-স্ত্রী মিলে তাদের মাকে WhatsApp-এ পাঠিয়ে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।
মা ম লা হলে গত ৭ জুন রাতে বরিশালে আত্মগোপনে থাকা স্বামী-স্ত্রীকে বরিশাল থেকে গ্রে ফ তার করে পুলিশ! হয়তো ভাবছেন! মায়ের পেটের বড়বোনের অপরাধ কী?
অপরাধ হচ্ছে টাকা।
বড়বোনের স্বামীর কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা লোন নেয়। কিন্তু সেই টাকা ব্যাক না দেওয়ার ফন্দি আঁটে শ্যালিকা ও ভায়রা ভাই। নেয় প্রতারণার আশ্রয়। রাজশাহীতে প্রতারণার মামলা করলে ছোটবোন ও তার স্বামী গ্রেফতার হয়। জেল খাটে। আর জামিনে বের হয়ে ঘটায় এই ঘটনা।
মানুষের শত্রু 'ধন'।
একই সময়ে একই ঘটনায় 'টক অফ দ্য ট্রাভেলিং গ্রুপ' এখন তমালকে নিয়ে।
তৌফিক আহমেদ তমাল। জনপ্রিয় বাংলাদেশি এই ট্রাভেলার নেপালে গ্রেফতার হয়েছে, নারীর ন গ্ন ভিডিও ধারণ করার অভিযোগে।
বাংলাদেশি এক প্রত্যক্ষদর্শী আপু জানান:
নেপালের কোনো একটি লজে তমালদের ট্রাভেলিং গ্রুপ অবস্থান করছিল। একই লজে বিদেশি আরেকটি গ্রুপ আসে। সেই গ্রুপে থাকা একজন মালয়েশিয়ান নারী গোসল করার সময় দেখতে পায়, ওয়াশরুমের ওপর দিয়ে কেউ ভিডিও করছে। iPhone 17 Pro Max ফোন। মেয়েটি অভিযোগ করলে ওই ফোন খুঁজতে থাকে। একই মডেলের ৪টি ফোন পাওয়া যায়। কিন্তু কালার ম্যাচ হয় তমালের ফোনের সঙ্গে।
তমালের ফোন নিয়ে নেয় এবং আনলক করে ভিডিও দেখাতে বললে সে কিছুতেই রাজি হয়নি। ওরা এমনও অফার করে, শুধু ওই মেয়ের ভিডিওটা ডিলিট করে তাকে ফোন ফেরত দেওয়া হবে।
কিন্তু তমাল প্রাইভেট ভিডিও রয়েছে এই অজুহাতে কিছুতেই মোবাইলের পাসওয়ার্ড দিতে চাচ্ছিল না। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত কয়েক দফা চেষ্টা করেও সে পাসওয়ার্ড দেয়নি। এদিকে তমাল বাঁচার জন্য বারবার অন্য একটি ডিভাইস থেকে সেই ফোনের অ্যাকসেস নেওয়ার চেষ্টা করে।
তখন ওই বিদেশি গ্রুপ বলে, উনি ইনোসেন্টই যদি হন, তাহলে কেন অ্যাকসেসের জন্য এতবার নোটিফিকেশন আসছে?
অবশেষে চাপে পড়ে তমাল পাসওয়ার্ড দেয় এবং সেখানে ভিকটিম সেই মালয়েশিয়ান তরুণীর ভিডিও পাওয়া যায়। এমনকি ওর ফোনে শতাধিক গোপনে ধারণ করা ভিডিও পাওয়া যায়। সেসব বিভিন্ন হাউজবোট, রিসোর্টের বাথরুম থেকে ধারণ করা, মেয়েদের রুমে গোপনে তোলা বলা হচ্ছে।
ভিকটিম মালয়শিয়ান তরুণী মামলা করলে তমালকে গ্রেফতার করা হয়। সে হাজতে রয়েছে এবং কোর্টে চালান করা হবে।
এত জঘন্য একটি ঘটনা ঘটল। এত কিছুর পরেও আফসোস, ওর পক্ষে এখনও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তাকে নির্দোষ বলা হচ্ছে। একটা দেশের পুলিশ কী কোনো প্রমাণ ছাড়াই, অন্যায়ভাবে একজন বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করবে?
শত শত ইভেন্টের হোস্ট, বড় বড় ট্রাভেল গ্রুপ পরিচালনার সুবাদে এই ছেলেটার বিশাল ফ্যানবেস গড়ে উঠেছে। প্রথম আলো সহ অনেক জায়গায় তাকে ফিচার করা হয়েছে।
কিন্তু এটা কেমন ফ্যানবেস? কেমন বন্ধুত্ব? তাদের ঘরে কী মা-বোন নেই?
এত কিছুর পরেও তারা কীভাবে বলে, "তমালকে কখনও খারাপ কিছু করতে দেখিনি।" কেউ কেউ আবার বলে, "গু খায় সব মাছেই, দোষ হয় তমালের!" তাই তমাল নাকি নির্দোষ।
অতীতেও তমালের নামে অসংখ্য অভিযোগ সেগুলোকে পাত্তা দেয়নি ট্রাভেল গ্রপের এডমিনরা। তাকে সাপোর্ট করেছে।
কোথায় যেন পড়লাম, এক নারী ট্রাভেলার লিখেছে, তাকে নাকি আচমকা চুমু খেয়েছিল।
আমার ফ্রেন্ডলিস্টের এক আপুও গতকাল লাইভে এসে বলছে, তাকে নেপাল ট্যুরের আগে তমাল সম্পর্কে সতর্ক করেছিলো। তার ব্যবহার খারাপ, রুড আচরণ করে গেস্টদের মারধোর করে, নারীঘটিত কাহিনীও শোনা যায়। কিন্তু উনি পাত্তা দেননি। ভেবেছিলেন, উনি ঠিক তো সব ঠিক।
কিন্তু ট্যুরে গিয়ে ভুল ভাঙ্গে। তমাল অনুমতি ছাড়া নেপালে তার হাত ধরেছিল, এমনকি হাঁটতে না পারা নিয়ে তাকে ভার্বালি অ্যাবিউজও করেছিল। পুরো ট্যুর জুড়ে তারা দুটো মেয়ে তমালের আচরণে শকড হয়েছিলো। হোস্ট হয়ে গেস্টদের সামনে ম দ খেয়ে বুঁদ হয়ে থাকে। রাস্তা দিয়ে যাওয়া নারীদেরকে টিজ করে। এমন নানান অভিযোগ উনার লাইভে দেখলাম।
যদি এসব অভিযোগ সত্যি হয়, তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, একজন হোস্ট কী এমন আচরণ করতে পারে? যে মানুষের ওপর ভরসা করে মানুষ দেশের বাইরে ঘুরতে যায়, তার কাছ থেকেই যদি কেউ অসম্মান, যৌন হয়রানি বা অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের শিকার হয়, তাহলে সেটি শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, পুরো ট্রাভেল কমিউনিটির জন্য উদ্বেগের বিষয়।
মালয়েশিয়ান ওই তরুণী না হয় নিজের ভিডিও সঙ্গে সঙ্গে ডিলিট করিয়ে নিতে পেরেছে। আইনের সোপর্দ করেছে। হয়তো জেলও হবে। এই যে ছেলেটার ফোনে আরও নারীর ন গ্ন ছবি/ভিডিও রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, সেসব নারীদের কী হবে?
তমাল হয়তো আবার ফিরবে। কমিউনিটির অনেকেই তাকে মেনে নিবে। শেল্টার দিবে। কিন্তু আপনারা মেনে নিয়েন না। ওরে যারা মেনে নিবে, তাকেও সন্দেহের চোখে দেখবেন। বয়কট করবেন।
যেসব মেয়েরা ওর সঙ্গে শত শত ইভেন্টে বিশ্বাস করে সহযাত্রী হয়েছে, তাদের মানসিক অবস্থাটা একবার ভাবুন! বাই চান্স যদি তাদের কারও ভিডিও বা ছবি তার কাছে থেকে থাকে, তাহলে সেই আতঙ্ক, শঙ্কা আর অনিশ্চয়তা নিয়ে তারা কী অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে?
তমালের ঘটনাটি নারী ট্রাভেলারদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। কোনো ট্রিপে যাওয়ার আগে হোস্ট, অর্গানাইজার বা গ্রুপ সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজ নিন। পূর্বের অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা জানুন, রিভিউ দেখুন এবং নিজের নিরাপত্তাকে কখনও হালকাভাবে নেবেন না।
বিশেষ করে ড্রেস চেঞ্জ, শাওয়ার নেওয়া, ওয়াশরুম ব্যবহার, রুম শেয়ারিং বা ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকুন। অপরিচিত বা অল্প পরিচিত পরিবেশে নিজের প্রাইভেসি রক্ষার দায়িত্ব সবার আগে নিজের।
দেশে নারী ট্রাভেলারদের অনেক নির্ভরযোগ্য ও সুপরিচিত গ্রুপ রয়েছে। সম্ভব হলে নিরাপদ ও বিশ্বস্ত কমিউনিটির সঙ্গে ভ্রমণ করুন। সুন্দর স্মৃতি নিয়ে ঘরে ফিরতে চাইলে, ভ্রমণের আনন্দের পাশাপাশি নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
আসলে ঘরে-বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়।
মোবাইলসহ নানা ধরনের ন্যানো ডিভাইস এখন সহজলভ্য হয়ে গেছে। পার্ভার্টরা দূরে বসেই, জুম করে আপনার ঘরের ভেতরে কিংবা আপনার সামনে বসিয়েই গোপনে ছবি/ভিডিও ধারণ করছে।
শপিংমলের ট্রায়াল রুম, ওয়াশরুম, এমনকি পর্যটন হোটেলের রুমেও ন্যানো ডিভাইস ব্যবহার করে ভিডিও ধারণের ঘটনা ঘটছে। আপনি অনেক সময় ঘুণাক্ষরেও টের পান না।
নিরাপত্তার স্বার্থে কাউকে অন্ধবিশ্বাস করবেন না। দয়া করে সতর্ক হোন। নিরাপদে থাকুন।
- অন্তর মাশঊদ