24/05/2026
বর্তমানে বাংলাদেশের নতুন জেনারেশন মধ্যে, বাংলাদেশের ইতিহাসকে নিয়ে একটি অসন্মান লক্ষ করা যায় ।তার বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস জানে না , তারা ৫২,৭১ নিয়ে পড়ে না তারা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পড়ে না । বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করা মানে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করা । আজ আপনাদের বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ছোট্ট কয়েকটা তথ্য দিলাম ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু একজন নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি জাতির হৃদস্পন্দন, একটি দেশের জাগরণ, একটি জনগোষ্ঠীর স্বপ্নের আরেক নাম। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্ম নেওয়া এই মহান মানুষটি নিজের জীবন, যৌবন, পরিবার ও স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।
তিনি বাংলার মানুষের কান্না শুনতেন, তাদের বঞ্চনা নিজের বেদনা মনে করতেন, আর সেই কারণেই তাঁর কণ্ঠস্বর সাধারণ মানুষের প্রাণের ভাষায় রূপ নিয়েছিল। বাংলা ভাষা, বাঙালির সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের প্রশ্নে তাঁর অবস্থান ছিল দৃঢ়, আর সেই আদর্শই তাঁকে মানুষের অন্তরে স্থায়ী আসন দিয়েছে। তিনি যখন কথা বলতেন, মনে হতো শত বছরের শোষিত মানুষের জমে থাকা আর্তনাদ যেন বজ্রনিনাদ হয়ে আকাশে ধ্বনিত হচ্ছে।
১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি “বঙ্গবন্ধু” উপাধিতে ভূষিত হন, আর সেই নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে বাঙালির সীমাহীন ভালোবাসা ও আস্থা। তাঁর ৭ মার্চের ভাষণ শুধু একটি রাজনৈতিক ভাষণ ছিল না; সেটি ছিল জাগরণের ডাক, সাহসের আগুন, মুক্তির শপথ, যা পরবর্তীতে ইউনেসকো ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। সেই আহ্বানে একটি জাতি বুক বাঁধে, ভয় ভুলে যায়, এবং স্বাধীনতার পথে মৃত্যুকেও তুচ্ছ করতে শেখে।
স্বাধীনতার পরও তিনি বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন; ১৯৭২ সালের সংবিধানে বাংলা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং ১৯৭৪ সালে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দেন। এ যেন ছিল শুধু একটি ভাষণের মুহূর্ত নয়, বরং সারা বিশ্বের সামনে বাংলার আত্মমর্যাদার উজ্জ্বল ঘোষণা।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাঁর জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দেওয়া হয়, কিন্তু তাঁর আদর্শ, ত্যাগ ও দেশপ্রেমকে নিভিয়ে দেওয়া যায়নি। বঙ্গবন্ধু আজও বেঁচে আছেন প্রতিটি স্বাধীন নিশ্বাসে, প্রতিটি লাল-সবুজ পতাকায়, প্রতিটি দেশপ্রেমিক হৃদয়ের গভীরে। তিনি ইতিহাসের একটি নাম নন, তিনি বাঙালির চিরন্তন সাহস, অশ্রু, ভালোবাসা এবং গৌরব।