10/08/2024
বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ট্রাফিক ডিউটি নিয়ে যারা প্রতিনিয়ত নেতিবাচক বিবৃতি দিচ্ছেন তাদের বলছি
বিগত কয়েকদিন ধরেই ট্রাফিক পুলিশ রাস্তায় নাই। দেশের কোন কার্যক্রমে পুলিশ নেই। কোন রকমের কোন অভিজ্ঞতা ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় কাজ করছে এসব শিক্ষার্থীরা। তারা ট্রাফিক দায়িত্ব পালন করছে, রাস্তা পরিষ্কার করছে, দেয়ালে পরিষ্কার গ্রাফিতি আকঁছে। অনেকে নিজের টাকায় ঝুড়ি কিনে ডাস্টবিন হিসেবে রাস্তায় রেখেছে। এমনকি রাস্তায় যে বাঁশিটা লাগে সেটাও তাদের নিজের টাকায় কেনা।
এরা কিন্তু এসবের জন্য কোন পারিশ্রমিক পায়না,এমনকি কোনো পারিশ্রমিকের আশাও করে না।
তাদের রাস্তায় খাবারের নিশ্চয়তা নেই। জনগণ ভালোবেসে দিলে তারা নেয় না দিলে কিন্তু তারা দাবি করে না। রোদ বৃষ্টি ধুলাবালি উপেক্ষা করে তারা হাসিমুখে এসব করছে। এমন কি রাতের বেলা পাড়া মহল্লায় ডিউটি দিয়ে এরা আমাদেরকে নিশ্চিন্তে ঘুমানোর ব্যবস্থা করে দিচ্ছে।
আমাদের যাদের সন্তানেরা রাস্তায় নেমেছে, কাজ করছে আমরা নিজেরাই জানি বাসায় এরা কতটা আরামে থাকে, বিন্দুমাত্র পরিশ্রম বাসায় কখনোই করেনি। অথচ নিজের দায়িত্বে অন্তরে দেশপ্রেম লালন করে এরা সমস্ত দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালন করছে। এমনকি নিজেরা দায়িত্বগুলো ভাগ করে নিয়েছে। এরা ট্রাফিকের কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না।মাথায় হেলমেট না পড়া,,কাউকে ওভারটেক করা, রং সাইড দিয়ে যাওয়া, লাইসেন্স না থাকা ইত্যাদি যেগুলো করতে আমরা দিনের পর দিন অভ্যস্ত।
এটাই মনে হয় আমাদের বর্তমানে মাথা ব্যাথার কারণ।
আমরা রাস্তায় সমস্ত অন্যায় করব আবার ঘুষ দিয়ে পার পেয়ে যাব, এইসব তো এখন আর কার্যকর করতে পারছি না। তাই আমরা ফেসবুকে এদের বিরুদ্ধে অনেক লেখালেখি করছি।
আচ্ছা, শুধু পুলিশ বাহিনী বাদ দিয়ে আমাদের তো আরো অনেক বাহিনী আছে। আমরা কেনো আওয়াজ তুলি না অন্য বাহিনী দেওয়ার জন্য? একবার চিন্তা করে দেখেন তো যদি এই কয়দিন শিক্ষার্থীরা রাস্তায় না থাকতো তাহলে রাস্তায় চলাচলের অবস্থা কি হতো? কে দায়িত্ব পালন করতে রাস্তায়? আপনারা কি করতেন কেউ রাস্তায় নেমে এসব দায়িত্ব পালন? স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে, কোন কিছু পাওয়ার আশা না করে এই কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা আমাদের কয়জনের আছে?
আসলে আমরা অনিমের মধ্যে থাকতে থাকতে এই নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে নিতে পারছি না, শুধু সমালোচনাই করতে পারি, অথচ এই আমরাই আবার উদাহরণ হিসেবে বিদেশের উন্নত দেশগুলোর কথা বলছি।
গলা বাড়িয়ে সমালোচনা করা যেন আমাদের নিত্যদিনের অভ্যাস। প্রশংসা করার ক্ষেত্রেই শুধু আওয়াজ ছোট হয়ে আসে।
তাই আপনাদেরকে অনুরোধ করবো সমালোচনা করার আগে প্লিজ একবার ভাবুন।