05/05/2024
DXN স্পিরুলিনা কি?
**********************
স্পিরুলিনা নামটি উদ্ধৃত হয়েছে ল্যাটিন শব্দ "spira" হতে, যার অর্থ হচ্ছে পাকানো বা সর্পিলাকার। স্পিরুলিনা' হলো অতি ক্ষুদ্র নীলাভ সবুজ শৈবাল যা সূর্যালোকের মাধ্যমে দেহের প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদন করে। এটি সাধারণত পানিতে জন্মে। সামুদ্রিক শৈবাল নামেই এর বেশি পরিচিতি।
স্পিরুলিনায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন, লৌহ ও একাধিক খণিজ পদার্থ। সাধারণ খাদ্য হিসেবে তো বটেই নানা রোগ নিরাময়ে মূল্যবান ভেষজ হিসেবে দেশে-বিদেশে স্পিরুলিনার প্রচুর চাহিদা রয়েছে। স্পিরুলিনা একটি শক্তিবর্ধক সম্পূরক খাদ্য। প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলস সমৃদ্ধ প্রকৃতির আশ্চর্য খাবার স্পিরুলিনা। আর তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন সুপারফুড।
স্পিরুলিনা ইতিহাস:
ইউরোপের কিছু গবেষক আফ্রিকায় কোন এক দেশের এলাকায় গিয়েছিলেন গবেষনার জন্য ডাটা সংগ্রহ করতে। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পেলেন এলাকার মানুষগুলো সুস্থ্য ও স্বাস্থ্যবান। প্রথমে দেখে তারা খুব আর্শ্চর্য হলেন কীভাবে তারা এতো স্বাস্থ্যবান। রহস্য খোজতে গিয়ে গবেষকরা তাদের খাবারের ম্যানুতে সত্যিই কিছু একটা খুজেঁ পেলেন আর তা হলো “স্পিরুলিনা বা শৈবাল”।
স্পিরুলিনার বৈশিষ্ট্য:
স্পিরুলিনার বিশেষ বৈশিষ্ট হলো–তা ব্যাপক মাত্রায় শরীরের রেডিয়েশন ইনভোলভমেন্ট বাধা দেয়।জাপানিদের দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকার একমাত্র জাদুকাঠি হলো-সবুজ শ্যাওলা এই স্পিরুলিনা। জাপানে এটি নড়ি নামে পরিচিত। জাপানিরা খাবারের সময় প্রচুর পরিমানে স্পিরুলিনা খেয়ে থাকেন।
রোগ প্রতিরোধে স্পিরুলিনার উপকারিতা ও গুনাবলি:
- ৬০-৬৩% উদ্ভিজ্জ আমিষ স্পিরুলিনায় আছে যা কিনা মাংসের চাইতে ৩-৪ গুণ বেশি।
- স্পিরুলিনায় অধিক পরিমানে প্রোটিন, ভিটামিন, লৌহ ও একাধিক খণিজ পদার্থ থাকে।
- সাধারন খাবার হিসেবে এটি খাওয়া যাবে প্রতিদিন।
- মুল্যবান ভেষজ হিসেবে দেশে-বিদেশে স্পিরুলিনার প্রচুর চাহিদা রয়েছে।
- স্পিরুলিনা দেহের শক্তি যোগায় প্রচুর পরিমাণে।
- সাইক্লিস্ট ও অ্যাথলেটিকসদের জন্য স্পিরুলিনা একটি আদর্শ খাবার।
- স্পিরুলিনা একটি শক্তিবর্ধক সম্পূরক খাদ্য।
- স্পিরুলিনা নিয়মিত খেলে দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে পুষ্টিহীনতা, রক্তশূন্যতা, রাতকানা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, আলসার, বাত, হেপাটাইটিস ও ক্লান্তি দূর হবে।
- স্পিরুলিনার প্রায় অর্ধেকটাই আমিষ।
- দিনে মাত্র ১০ গ্রাম স্পিরুলিনা খেয়ে দৈনিক আমিষ চাহিদার ৭০% মেটানো সম্ভব।
- পেশিকলা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে স্পিরুলিনা । এছাড়াও এটি শরীর থেকে বের করে দেয় দিনের পর দিন জমে ওঠা ক্ষতিকর সব টক্সিন।
- এটি পরিশ্রম করার ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের ওজনও রাখে নিয়ন্ত্রনে।
- সবুজ শ্যাওলাতে ৬০% এর মত সব ভেজিটেবলের প্রোটিন আছে।
- প্রোটিন যুক্ত খাবার যেমন মাছ, মাংস, দুধ বা ডিমর চাহিদা স্পিরুলিনা পূরুন করতে পারে।
গর্ভবতী মহিলাদের জন্য স্পিরুলিনার উপকারিতা:
গর্ভবতী মহিলাদের জন্যও এটা আদর্শ খাবার। গর্ভবতী মহিলাদের আয়রনের অভাব পূরুন করার জন্য ডাক্তার সাধারণত লিভার খাবারের পরামর্শ দেন। স্পিরুলিনা লিভারের অপোজিট হিসাবে কাজ করে। বাচ্চাদের সবসময় সব পুষ্টি খাবার দেয়া সম্ভব হয়ে উঠে না বা সব খাবার বাচ্চারা খেতেও চায় না। পুষ্টি সমস্যা পূরুনে স্পিরুলিনা এক্ষেত্রে ভালো ভুমিকা রাখতে পারে।
স্পিরুলিনা হেলথ টিপস:
১। ক্যান্সার সেল প্রটেক্ট করে
২। শরীরের ওয়েট কমায়
৩। শরীরের এসিডেটি কমায়
৪। এলডিএল ও এইচ ডি এল ব্যালেন্স করে
৫। লিভার ও কিডনি ফাংশন সচল রাখতে সাপোর্ট দেয়
৬। সাইনোসাইসের জন্য উপকারী
৭। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সক্রিয় রাখে।
স্পিরুলিনার স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য উপকারিতা :
স্পিরুলিনা এক প্রকার জলজ উদ্ভিদ যা সায়ানোব্যাক্টেরিয়া নামে পরিচিত। দেখতে লতা পাতার মতো হলেও এর রয়েছে চমৎকার স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য উপকারিতা ।
১. স্তন ক্যান্সার থেকে রক্ষা করে:
স্পিরুলিনা ক্যান্সার হওয়া থেকে শরীরকে রক্ষা করে। স্পিরুলিনার নীল-সবুজ রঙ এটা ক্যান্সা্রের কোষ ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। স্পিরুলিনা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট নামক সেলেনিয়াম সমৃদ্ধ। গবেষণায় দেখা গেছে স্পিরুলিনা স্তন ক্যান্সার চিকিৎসা কার্যকর প্রমাণিত দেখানো হয়েছে।
২. বাত প্রতিরোধ করে:
স্পিরুলিনা প্রকৃতি বিরোধী প্রদাহ এবং বাত রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এর অতিরিক্ত পুষ্টি পেতে রস, পাস্তা, সালাদ, রুটি আকারে আপনার খাদ্যের মধ্যে স্পিরুলিনা অন্তর্ভুক্ত।
৩. যকৃতের জন্য অত্যন্ত ভাল:
স্পিরুলিনা যকৃতের ক্ষতি, যকৃত ব্যর্থতা এবং সিরোসিস এর বিরুদ্ধে কাজ করে শরীরকে রক্ষা করে। এটা ভিটামিন বি, ই, ম্যাঙ্গানিজ দস্তা, লোহা, তামা, সেলেনিয়াম, এবং প্রোটিনের মত খনিজ সমৃদ্ধ উৎস। এছাড়া এটা যকৃতের ব্যথা হ্রাস করে এবং যকৃতে ট্রাইগ্লিসেরাইড এর ক্ষতি এড়িয়ে যেতে সক্ষম।
৫. হজমশক্তি বৃদ্ধি করে
কোলাই এবং চান্দিদার মত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি দমন করে। স্পিরুলিনা পাচনতন্ত্রএর মধ্যে lactobacillus এবং bifidobacteria মত ভাল ব্যাকটেরিয়া তৈরী করে। সুতরাং, এটা পুষ্টি শোষণ করে শরীরের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে হজম বাড়ায়।
৬. কিডনিকে বিষাক্ততা থেকে বাঁচায়
স্পিরুলিনা ক্লোরোফিল একটি উচ্চ ঘনত্ব সম্পন্ন এবং সেরা প্রাকৃতিক detoxifiers। এটা কিডনি থেকে ভারী ধাতু, ক্ষতিকারক রশ্মি, এবং দূষণকারী মুছে কিডনি বিষাক্ততার কমে যায়.
৭. এলার্জির জম!
প্রায় ৬ মাস ধরে দৈনিক স্পিরুলিনা গ্রহণ এলার্জি উপসর্গ কমিয়ে দেয়। ধুলোর অতি ক্ষুদ্র পরজীবী কীটবিশেষ, ছাঁচ, এবং পোষা প্রাণী, ফুলের পরাগ বা বহুবর্ষজীবী এলার্জি থেকে এলার্জিক রাইনাইটিস (ঋতু) স্পিরুলিনার সাহায্যে স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করা যেতে পারে।
৮. ডায়াবেটিস প্রতিরোধ:
স্পিরুলিনার মধ্যে অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, এবং phycocyanins উপস্থিতি ডায়াবেটিস কমায়। এটি ডায়াবেটিকসের মধ্যে লিপিড মাত্রা উন্নত করতে সাহায্য করে।এতে linolenic অ্যাসিড রয়েছে। ২ মাস দৈনিক দুইবার spirulina গ্রহণ রক্তে শর্করার মাত্রা সুষম রাখে।
৯. রোগপ্রতিরোধকারী ইমিউন সিস্টেম উন্নত করে:
স্পিরুলিনা একটি পাওয়ারফুল আক্রমণ বিরোধী সহায়তাকারী। স্পিরুলিনার মধ্যে পলিস্যাকারাইড উপস্থিতি যার ফলে রোগ এর বিভিন্ন বাধা, ইমিউন সিস্টেম উন্নত করার জন্য সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
১০. ওজন কমাতে সাহায্য করে:
স্পিরুলিনা প্রোটিন, ক্ষুধা কম রাখে এবং আপনার শরীরের স্তূপাকার চর্বিকে নিরাময় করে। তাই এটা ব্যায়াম এর সঙ্গে মিলিত কোন ওজন কমানোর খাদ্যের মধ্যে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ খাবার।
১১. মেনোপজ উপসর্গের হ্রাস:
কয়েক মাসের জন্য দৈনিক একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ স্পিরুলিনা গ্রহণ দুঃসহ স্মৃতিচারণায়, বিষণ্নতা ও উদ্বেগ এর মত মেনোপজ উপসর্গ কমিয়ে দেয়। এবং মেনোপজ চলছে এমন নারী স্পিরুলিনা নেওয়ার পর মানসিক প্রশান্তি এবং মানসিক ভারসাম্য অভিজ্ঞতা হবে নিশ্চিত।
১২. তাৎক্ষনিক শক্তি সহায়তাকারী:
স্পিরুলিনা বিপাক বৃদ্ধি এবং তাত্ক্ষণিক শক্তি প্রদান করে। ক্লোরোফিল এবং phycocyanin সমৃদ্ধ, এটা আপনার শক্তির মাত্রা অনুমোদন শর্করা তৈরি করতে সূর্যালোক থেকে শক্তি শোষণ করে, এটা মনোবল তৈরী করে।
১৩. ক্ষত নিরাময়:
স্পিরুলিনা ব্যাকটেরিয়া, খামির এবং ছত্রাক বৃদ্ধি inhibiting দ্বারা ক্ষত নিরাময় দ্রুততর একটি নিখুঁত প্রাকৃতিক প্রতিকার যা বিরোধী জৈব এবং বিরোধী প্রদাহজনক বৈশিষ্ট্য আছে।
১৪. স্বাস্থ্যকর বাচ্চার উন্নয়ন:
স্পিরুলিনা পুষ্টিতে পরিপূর্ণ, এটা সন্তানদেরকে স্তন্যদান করতে অত্যন্ত সহায়ক। স্পিরুলিনায় linolenic অ্যাসিড রয়েছে এবং আপনার বাচ্চার সুস্থ্য বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন।
১৫. অ্যাল্জায়মার প্রতিরোধ :
অ্যাল্জায়মার রোগ এর কারণে প্লেক মেমরি ক্ষতি ঘটাচ্ছে, যা amyloid-বিটা প্রোটিনের পরিমাণ বেড়ে থাকে। স্পিরুলিনা সেবনে এই প্রোটিন মাত্রা হ্রাস করা যায় এবং আল্জ্হেইমের রক্ষা করতে সাহায্য করে। এছাড়াও, আক্রমণের ফলে তার পক্বতা প্রতিরোধ মৌল থেকে মস্তিষ্ককে রক্ষা করে।
১৬. মেজাজ ফুরফুরে রাখে :
স্পিরুলিনা অ্যামিনো অ্যাসিড এল-ট্রিপটোফেন, আপনার মেজাজ ভাল করে এবং হাসিখুশী রাখে।
১৭. রক্তস্বল্পতা কমায়:
আয়রনের অভাব বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মধ্যে খুবই সাধারণ ও তা ব্যাপক আকারে। স্পিরুলিনা আয়রনের সেরা প্রাকৃতিক সূত্র। এটি ভিটামিন বি এবং হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়িয়ে সফলভাবে আচরণ রক্তাল্পতা থেকে বাছাতে সাহায্য করে। এতে বিরোধী oxidants রয়েছে।
১৮. ক্ষুধা হ্রাস:
স্পিরুলিনা আপনার শরীরকে পূর্ণাঙ্গ করে তোলে এবং সেইসাথে ক্ষুধা হ্রাস করে। খাবার আধা ঘন্টা আগে স্পিরুলিনা গ্রহণ করুন দেখবেন আপনি স্বাভাবিকভাবেই কম খাচ্ছেন।
১৯. মস্তিস্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে:
স্পিরুলিনা folate এবং ভিটামিন বি সমৃদ্ধ উৎস হওয়ায় এটি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা উন্নতিতে একটি অনেক বড় ভূমিকা পালন করে।
স্পিরুলিনার গুণাগুণ অনেক। বিশেষ করে প্রচুর ভিটামিন, লৌহ ও নীলাভ সবুজ রং থাকার কারণে স্পিরুলিনায় রয়েছে নানা ধরনের রোগ প্রতিরোধের উপাদান। স্বাদ ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াহীন স্পিরুলিনা নিয়মিত সেবন করলে দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে পুষ্টিহীনতা, রক্তশূন্যতা, রাতকানা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, আলসার, বাত, হেপাটাইটিস ও ক্লান্তি দূর হবে। বিসিএসআইআর-এর বিজ্ঞানীরা ৬০ জন আর্সেনিকোসিস রোগীর উপর স্পিরুলিনা নিয়ে গবেষণা চালান। গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রতিদিন ১০ গ্রাম করে স্পিরুলিনা খাওয়ালে প্রায় ৪ মাস পর রোগী সম্পূর্ণরূপে সুস্থ্য হয়ে উঠে। এমনি ভাবে অসংখ্য রোগ থেকে মুক্তি দেবে সুপারফুড স্পিরুলিনা।