30/12/2024
ব্রো, কয়টা বাজি ফুটাবেন এই নিউ ইয়ারে?
উমায়ের এর কথা মনে আছে? ২০২২ সালের নিউ ইয়ারে আতশবাজির শব্দে চার মাসের ছোট্ট শিশু তানজিম উমায়ের মা*** রা যায়। ওর হার্ট এর সমস্যা ছিলো, আতশবাজির বিকট শব্দ তার ছোট্ট হৃদপিণ্ড সহ্য করতে পারেনি।
ওর বাবা @ইউসুফ রায়হান ভাই এর পোস্ট গুলো দেখুনঃ
৩১ ডিসেম্বর ২০২১ - “কি বিকট শব্দে আতশবাজি। আমার ছোট বাচ্চাটি এমনিতেই হার্টের রোগী। আতশবাজির প্রচন্ড শব্দে শিশু বাচ্চাটি আমার ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে ওঠে। খুব ভয় পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। খুবই আতঙ্কের মধ্য দিয়ে সময়টা পার করছি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সন্তানদেরকে বুঝ দান করুক। দোয়া করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।”
০১ জানুয়ারী ২০২২ - “আবারো উমায়ের কে হসপিটালে ভর্তি করাতে হলো। দোয়া চাই।”
০২ জানুয়ারী ২০২২ - “চলে গেল আমার কলিজার টুকরা উমায়ের। ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন…”
শুধু কি উমায়ের?
উমায়ের ঘুমিয়ে আছে রায়ের বাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে। ওর ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়াতে এসেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। কিন্তু এমন আরও কত শিশু বা বয়স্ক মানুষ আতশবাজির কারণে অসুস্থ হয়েছে বা মারা গেছে, সেটা কি কখনও ভেবেছেন?
আরও কিছু জিনিস এর দিকে তাকানো যাকঃ
ঝরে পড়া পাখির ছবিঃ
ভিডিও দেখেছিলেন? শত শত চড়ুই পাখি ঘরে ঢুকে এসেছে, সেই ভিডিও? শত শত ঝরে পড়া পাখির ছবি দেখেছেন? সেই রাতেই ঢাকার আকাশ থেকে পাখি বৃষ্টির মত মাটিতে ঝরে পড়েছিল। প্রতি বছরই পড়ে। সবগুলোর খবর চোখে পড়ে না।
পাখিদের কান খুব সংবেদনশীল। শব্দের অতিরিক্ত চাপ তাদের নার্ভাস সিস্টেমে আঘাত করে, এবং তারা ভয় পেয়ে দিশাহীনভাবে উড়ে যায়, যা তাদের ক্লান্তি ও মৃ! ত্যুর কারণ হয়। আতশবাজির বিকট শব্দ আর আলোর চমকে তারা দিশেহারা হয়ে আকাশে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে মাটিতে পড়ে মা** রা যায়। অন্যান্য প্রাণীর খবর এখনও আমরা পরিষ্কার জানি না।
২০২৩: অ! গ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা
২০২৩ সালে আতশবাজির কারণে ৮৭টি অ! গ্নিকাণ্ড হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ ১৯.৭৫ লাখ টাকা। একটা ছোট্ট ফানুস পুরো বাড়ি পু** ড়িয়ে দিতে পারে, পুরো পরিবারকে পথে বসিয়ে দিতে পারে। উৎসব মানে কি এমন ধ্বংস?
বয়স্কদের জন্য অসহনীয়
আতশবাজির শব্দ বয়স্ক মানুষদের জন্য ভীষণ কষ্টের হতে পারে। কেউ আতঙ্কে শ্বাস নিতে পারে না, কেউ হৃদরোগে আক্রান্ত হন। বয়স্কদের নার্ভাস সিস্টেম এমনিতেই দুর্বল থাকে। বিকট শব্দ তাদের মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়, যা হার্ট অ্যাটাকের মতো গুরুতর সমস্যার কারণ হতে পারে। নিউ ইয়ারের এই রাতটা তাদের জন্য এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়।
শিশুদের জন্য আতঙ্ক
আপনি ত আনন্দ করতে বাজি ফুটাচ্ছেন, কিন্ত এই বিকট শব্দের মানে ছোট্ট শিশুদের কাছে শুধু ‘ঠুস-ঠাস’, ‘দ্রিম-দ্রাম’। আতশবাজির শব্দ তাদের ঘুম ভাঙিয়ে দেয়, কানে শব্দের চোটে সমস্যা তৈরি করে। শব্দের কারণে অনেক শিশু আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করে বা কাঁদতে শুরু করে। দীর্ঘস্থায়ীভাবে এটি তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে।
অসুস্থ মানুষদের জন্য জীবন-মর' ণ সমস্যা
যারা ইতিমধ্যেই অসুস্থ, যেমন হৃদরোগী, উচ্চ রক্তচাপের রোগী বা শ্বাসকষ্টে ভোগা মানুষ, তাদের জন্য আতশবাজি আরও বিপদজনক। শব্দের আকস্মিকতা তাদের রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, শ্বাস নিতে সমস্যা করে এবং তাদের অবস্থা আরও গুরুতর করে তোলে। অনেক সময় এই ধরনের শারীরিক চাপ থেকে মৃত্যুও ঘটে।
আমাদের লক্ষ্য এই নিউ ইয়ারে একটি সচেতনতা তৈরি করা। আপনিও এই উদ্যোগে অংশ নিন। আপনার এলাকায় আতশবাজির ক্ষতি নিয়ে কথা বলুন। নিজের ঘর থেকে শুরু করুন।
ইসলামে কোনো সংস্কৃতি বা উৎসব পালনের আগে তার শরীয়তসম্মত দিক বিবেচনা করা জরুরি। হ্যাপি নিউ ইয়ার উদযাপন একটি অনৈসলামিক রীতি, যা পালন করা হারাম। আসুন, ইসলামিক আদর্শকে অগ্রাধিকার দেই।"
কপি📍