25/11/2019
হঠাৎ রাস্তায় দেখা,,,,,
মাস ছয়েক আগে কোন কারণ ছাড়াই সম্পর্কের ইতি টেনে দিয়েছে আবির। শুরু শুরুতে কাজের ব্যস্ততা, তারপর খারাপ ব্যবহার শুরু এভাবে অবহেলা বারতেই থাকল। শ্রাবনী পাগল প্রায়, শেষে আবির বলেই দিল, সে আর সম্পর্ক চায় না।
দীর্ঘ ৫ বছরের সম্পর্ক, প্রথম দিকে শ্রাবনীর অনেক কষ্ট হতো। বার বার কারন জানতে চাইতো, কত লক্ষ কোটি বার যে সরি বলেছে শ্রাবনী তার কোন হিসেব নেই। আবিরকে কোন ভাবেই ফেরানো যায় নি। আস্তে আস্তে কিছুটা সামলে নিয়েছে শ্রাবনী নিজেকে তবে পুরোপুরি এটা থেকে বের হতে পারেনি।
এখনো মাঝরাতে আবিরের কথা মনে পড়ে,বালিস ভিজে যায়।
কিছু দিন আগে বন্ধু মারফত জানতে পারে আবির নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছে। এ খবরটা শ্রাবনীকে ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছে।
হঠাৎ রাস্তায় দেখা হয়ে যাওয়ায় দুজনেই অপ্রস্তুত হয়ে গেছে।
নীরবতা ভেঙ্গে প্রথম কথা আবিরই বললো....
কেমন আছো?
ভালো, তুমি?
আমিও ভালো।
তোমার নাম্বার বন্ধ?
না, ফোন বন্ধ।
কেন?
কারো সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করে না তাই।
কেন?
জানি না।
তোমাকে খুব মিস করি।
কেন?
তোমাকে ভালোবাসি তাই।
এখন যার সাথে আছো তাকে ভালবাস না?
আবির অনেক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, আমার ভুল হয়ে গেছে, একটি বার কি মাফ করা যায় না।
শ্রাবনী বললো, আমার ভুলটা কি ছিল, আমাকে ঠকালে কেন?
আবির কোন উত্তর দিতে পারলো না।
তোমার কাছে কোন উত্তর নেই তাইনা? তুমি একবার আমাকে ছেড়ে চলে গেছো, ভবিষ্যতে যে আবার যাবে না তার কোন গ্যারান্টি আছে???
শ্রাবনী তুমি কি নতুন করে কোনো সম্পর্কে জড়িছো?
শ্রাবনী হা হা করে হেসে উঠলো, আশেপাশে অনেকেই তাকিয়ে আছে দেখে শ্রাবনী নিজের সামলে নিল।
তুমি আমার জীবনে নেই জন্যই কি আমার নতুন কোন সম্পর্কে জড়াতে হবে? নতুন কাউকে লাগবে?
মানুষ একা থাকতে পারে না? বলো পারে না?
আবির কিছুই বলল না,
শ্রাবনী আবার বলল, আমি আসলে একাও নেই, কেউ আমাকে সঙ্গ দেয় ভীষণ ভাবে সঙ্গ দেয়। যখন আমার তোমার জন্য বুকটা ফেটে যায়, খুব মন খারাপ করে, একা লাগে তখনই আমি না চাইলেও সে আমাকে সঙ্গ দেয়। কখনোই আমাকে ছেড়ে যায় না। আমি বিরক্ত হলেও না, রাগারাগী করলেও না, চুপ করে থাকলেও না, বকা দিলেও না।
তা, কে সেই তোমার বিশেষ বন্ধু, জানতে পারি কি???
কেউ একজন কথার ছলে আমাকে একদিন বলেছিল, একাকীত্ব বলে আসলে কিছু নেই, আমরা যখন একা থাকি আমাদের ভেতর থেকেই কেউ একজন আমাদেরকে সঙ্গ দেয়। কখনো কি খেয়াল করে দেখেছেন??
সত্যি এতদিন খেয়াল করিনি। তোমাকে ভালোবাসতে আমি এতটাই ব্যস্ত ছিলাম যে, আমি নিজেকেই ভুলে গিয়েছিলাম। নিজেকে ভালবাসতে ভুলে গিয়েছিলাম, আমার আমিটাকে হারিয়ে ফেলেছিলাম। তুমি আমাকে ছেড়ে গিয়ে খুব ভালো একটা কাজ করেছো জানো.....
আমি আবার আমার আমি টাকে ফিরে পেয়েছি, তোমাকে পেয়ে যাকে আমি প্রচন্ড রকম অবহেলা করেছিলাম।
আমার আমি সবসময় আমাকে আমার ভেতর থেকে সঙ্গ দেয়। আমি, আমার আমির সাথে অনেক ভালো আছি অনেক ভালো। আমার আর কাউকে দরকার নাই।
এই বলে শ্রাবনী হাটতে শুরু করলো।
আবির অবাক হয়ে শ্রাবনীর যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে আছে। যে মেয়েটা তার জন্য পাগল ছিল সেকিনা তাকে উপেক্ষা করে চলে যেতে পারলো???
এটাকি সত্যি না কি স্বপ্ন দেখছে সে। আবিরের ধারণা ছিল, সে যতই দূরে সরিয়ে দিক, যতই অবহেলা করুক, শ্রাবনী কখনোই তাকে ফেরাবে না।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, অবহেলা মানুষ কে বদলে যেতে বাধ্য করে।
শ্রাবনী হন হন করে হেঁটে যাচ্ছিল, ওর খুব ইচ্ছে হচ্ছিল একটিবার পেছন ফিরে আবিরকে দেখতে।
কিন্তু সে কোন ভাবেই পেছন ফিরে তাকায়নি।
এখন আর পেছনে ফিরে তাকানোর সময় নয়,,
এখন শুধুই সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়।