28/02/2016
সালাতের অতি সংক্ষিপ্ত বিশুদ্ধতম পদ্ধতিঃ
১/ মনে মনে সালাতের নিয়ত অর্থাৎ সালাত আদায় করব এরকম স্থির করা। এবং স্থির ও সোজা হয়ে দাঁড়ানো।
২/ একই সাথে আল্লাহু আকবার বলা এবং দুই হাত কাঁধ বা কান পর্যন্ত উত্তোলন করা। এই হাত উত্তোলনকে রফল ইয়াদাইন বলে।
৩/ সালাতে সর্বাবস্থায় (তাশাহুদ ব্যতীত) ''সিজদার স্থানের দিকে দৃষ্টি-- রাখা।
৩/ বাম হাতের বাহুর উপর ডান হাতের বাহু বুকের উপর স্থাপন করা। এটা বিশুদ্ধতম। পেটের উপর স্থাপন করা শুদ্ধ। নাভির নিচে স্থাপন করা দুর্বলতম (গ্রহণযোগ্য নয়)।
৪/ সানা পাঠ + আউজুবিল্লাহ... + বিসমিল্লাহ পাঠ
৫/ জামায়াতে হোক একাকী হোক অবশ্যই প্রত্যেক রাকাতে সুরা ফাতেহা পাঠ
৬/ একাকী সলাতে সুরা ফাতেহার সাথে অন্য সুরা পাঠ, জামায়াতে স্বরব সালাতে অন্য সুরা পাঠ না করে ইমামের কেরাত শুনা, নীরব সালাতে অন্য সুরা বা কেরাত পাঠ মুস্তাহাব।
৭/ রফল ইয়াদাইন সহ আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যাওয়া, রুকুতে ৯০ ডিগ্রি এঙ্গেলে পিঠ সোজা রাখা।
৮/ রুকুর তাসবিহ পাঠ কমপক্ষে একবার সুবাহানা রাব্বিয়াল আজিম পাঠ
৯/ সামিয়াল্লাহ... বলে রুকু থেকে উঠা, উঠে সোজা অবস্থায় রফল ইয়াদাইন করা। রাব্বানা লাকাল হামদ বলা।
১০/ আল্লাহু আকবার বলে সিজদার উদ্দেশ্যে যাওয়া, আগে মাটিতে হাত রাখা তার পর হাঁটু রাখা বেশি শুদ্ধ। আগে হাঁটু পরে হাত এটাও শুদ্ধও।
১১/ সিজদায় হাতের আঙ্গুল গুলো পাশাপাশি লাগোয়া চেহারা বরাবর অবস্থায় জমিনে রাখা কপাল, নাক জমিন স্পর্শ করা ।
১২/ অবশ্যই সিজদায় পেট পিঠ আলাদা থাকা কমপক্ষে যেন একটা ছাগল ছানা মাঝ দিয়ে প্রবেশ করে বের হতে পারে এরকম ফাকা থাকা। মহিলা পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই একই বিধান।
১৩/ সিজদায় তাসবিহ পাঠ, কমপক্ষে একবার সুবহানা রাব্বিয়াল আলা বলা।
১৪/ প্রথম সিজদা থেকে উঠে স্থির হয়ে বসা ও দুয়া পাঠ কমপক্ষে --রাব্বিগফিরলি-- বলা।
১৫/ প্রথম সিজদার অনুরূপ দ্বিতীয় সিজদা দেওয়া।
১৬/ দ্বিতীয় সিজদা থেকে উঠে জমিনে স্থির হয়ে বসে তারপর দ্বিতীয় রাকাতের জন্য উঠা বেশি শুদ্ধ, তবে পুর্ন না বসেও উঠা যায়।
১৭/ প্রথম রাকাতের অনুরূপ দ্বিতীয় রাকাত আদায় করা ।
১৮/ দ্বিতীয় রাকাতে দ্বিতীয় সিজদা শেষে বৈঠকে বসা। দুই হাত উরুর উপর স্থির থাকবে। শুধুমাত্র ডান হাতের তর্জনী আঙ্গুল দিয়ে ইশারায় থাকতে হবে এসময় দৃষ্টি আঙ্গুল নাড়ানর দিকে রাখতে হবে। তাশাহুদ পাঠ করা। দুরুদ পাঠ করা ওয়াজিব। দুয়া মাসুরা হিসেবে কবরের আজাব, জাহান্নামের আজাব, দাজ্জাল থেকে পানাহ চাওয়াকেও কেউ কেউ ওয়াজিব বলেন।
এসময় ইচ্ছামত দুয়া করা যায়।
১৯/ দুয়া শেষে দুই পাশে প্রথমে ডানে পরে বামে সালাম ফিরিয়ে সালাতের সমাপ্তি হয়।
২০/ তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাতের সালাতে দ্বিতীয় রাকাতে শুধু তাশাহুদ পড়ে আল্লাহু আকবার বলে দাড়াতে হয় দাড়িয়ে রফল ইয়াদাইন করতে হয়। তার পর সব কিছু পুর্বের মত। ফরয সালাতে তৃতীয় চতুর্থ রাকাতে একাকী হোক জামায়াতে হোক সুরা ফাতেহা বাধ্যতামূলক। সাথে অন্য সুরা পাঠ মুস্তাহাব।
২১/ সালাম ফেরানোর পর কম পক্ষে আস্তাগফিরুল্লাহ তিনবার বলা এবং লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু লাহুল মূলক ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুললি শায়্যিন ক্বাদির বলা।
সমাপ্ত।
গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সংশোধনঃ
১/ জায়নামাজের কোন দুয়া পাঠ না করা
২/ উচ্চারণ করে বিড়বিড় করে কোন নিয়ত পাঠ না করা, সরাসরি আল্লাহু আকবার বলেই সালাত শুরু করতে হবে।
৩/ সালাতে রুকুতে পায়ের আঙ্গুলের দিকে দৃষ্টি না দেওয়া, সিজদার স্থানের দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।
৪/ জামায়াতে সালাত আদায়ে সম্মিলিত মুনাজাতে অংশ নিয়ে সালাতকে ক্ষতিগ্রস্থ না করা।
আমাদের জ্ঞান মতে এটাই সালাতের নুন্যতম বিশুদ্ধতম সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি। রফল ইয়াদাইন করলে সওয়াব আছে না করলে সওয়াব নাই। করলেই বেশি সওয়াব। এটাই বেশি শুদ্ধ।
দলিলঃ সহিহুল বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে খুজায়মা, আহমাদ সহ সকল হাদিস গ্রন্থ সমূহ।
আল্লাহু আ'লেম।
সংগৃহীত