28/04/2025
স্বামীর মতো স্বামী হলে, স্ত্রী'র-ও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চিন্তা করার ঠ্যাকা পড়তো না।
আজকের সমাজে অনেক নারী নিজেকে গড়ে তুলছেন, ক্যারিয়ার করছেন, স্বপ্ন নিয়ে বাঁচছেন। কিন্তু, তাদের সবার গল্পই কি শুধুই ‘স্বপ্নপূরণের আনন্দ’ থেকে শুরু হয়?
না! অনেকের গল্প শুরু হয় ‘বেঁচে থাকার লড়াই’ থেকে।
একজন নারী যখন বিয়ের পর নিজের সংসার, ভালোবাসা আর স্বামীর পাশে একনিষ্ঠভাবে দাঁড়ায়, তখন তার একটাই আশা, সে চায়, স্বামী হোক তার আশ্রয়, তার নিরাপত্তা, তার আত্মার বন্ধু।
কিন্তু, যখন সেই স্বামী দায়িত্বে অবহেলা করে, বোঝে না তার অনুভব, অবমূল্যায়ন করে তার শ্রম, তখনই নারীকে বাধ্য হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর কথা ভাবতে হয়।
তাকে নিজের উপার্জনের পথ খুঁজতে হয়, নিজের অস্তিত্ব রক্ষা করতে হয়। নিজের সন্তানের জন্য।
কোনো স্ত্রী নিজের স্বাধীনতা চাইলে সেটা গর্বের বিষয়। কিন্তু, যদি তাকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হয় কেবল নিরাপত্তাহীনতা, অবহেলা, বা একা যুদ্ধ করার জন্য, তবে সেটা ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। তবে তার নয়; বরং সেই স্বামীর, যে “সঙ্গী” হয়ে উঠতে পারে নি।
স্বামীর ভূমিকা শুধু উপার্জন নয়, বরং আসল ভূমিকা হলো, স্ত্রীকে মানসিকভাবে সাহস দেওয়া, তার ভালোবাসার জায়গা হওয়া, তার সম্মান আর ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়া।
যদি একজন নারী সংসার করে, সন্তান পালন করে, হাজারো দায়িত্ব নেয়, তাহলে সেই নারীকেই আবার কেন নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য যুদ্ধ করতে হবে? কেন তাকে নিজের ও সন্তানের এবং সংসারের হাজারটা খরচের জন্য খোঁটা শুনতে হবে?
সে উপার্জন করবে না ঠিক আছে! তবে কেন উপার্জনের কষ্ট, শ্রমের প্রসঙ্গ তুলে চাহিদা সীমিতের পাশাপাশি তাকে তার অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হবে?
নারীকে তার স্বপ্নের জন্য উড়তে দিন, কিন্তু সে যেন কখনো নিজেকে রক্ষা করার জন্য বাধ্য হয়ে উড়তে না শিখে। স্বামী যদি যথার্থ সঙ্গী হন, তাহলে স্ত্রী কখনোই একা যুদ্ধ করতে বাধ্য হতেন না।
কপি পোস্ট