13/01/2026
NEIR চালুর মূল কারিগর ছিল টেকনো’র রেজওয়ান। আওয়ামী আমলে জব্বার আর পলকের সাথে খুবই ঘনিষ্ঠ এই ব্যক্তি দুই দফা NEIR চালুর উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হয়। ২০ লাখ মানুষের পেটে লাথি মারার যে কাজটি ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ করেনি, সেটি ফয়েজ তৈয়্যবকে দিয়ে করেছেন রেজওয়ান। ফয়েজের সাথে রেজওয়ানের ঘনিষ্ঠতার খবর দ্রুতই সামনে আসলে, নিজে ব্যাক-ফুটে গিয়ে সামনে আনেন স্মার্ট টেকনোলজিসের জহিরুল ইসলামকে।
জানা যাক, জহিরুল ইসলামের আমলনামা।
আওয়ামী লীগের ব্যাপক ঘনিষ্ঠ জহিরুল ইসলামের গডফাদার ছিল সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। জব্বারের তৈরি বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিএস) সভাপতি হিসেবে বর্তমানে হাল ধরেছেন তিনিই। এক সময় জব্বারের সাথে কম্পিউটার পার্টসের ব্যবসা করে আজ সে ‘স্মার্ট টেকনোলজিস’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। দেশে ও বিদেশে অঢেল সম্পত্তির মালিক জহিরুল।
জহিরুল ইসলামের ভাই এবং স্মার্ট টেকনোলজিসের চেয়ারম্যান মাযহারুল ইসলাম জুলাই আন্দোলনের অন্যতম আসামী। ২০২৫ সালের ১৫ জুনে রাজধানীর রামপুরা থানায় দায়েরকৃত ২০ নম্বর মামলার ১৭ নম্বর আসামী মাযহারুল ইসলাম।
এদিকে জহিরুলের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্ত করছে দুদক। ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ কমিশনের সহকারী পরিচালক হফিজুর রহমানকে জহিরুলের এই তদন্তের তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। খাতা কলমে এই তদন্ত এখনও চলমান তবে ফয়েজ তৈয়্যবের তদবিরে তদন্ত আটকে আছে। অপরাধীদের বাঁচাতে ফয়েজ তৈয়্যবের দুদকে চিঠি দেওয়ার খবরে আগেও দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছিল।
এখানেই শেষ নয়। সাবেক অর্থমন্ত্রী লোটাস কামালের মেয়ে নাফিসা কামালের সাথে মিলে বিমা উন্নয়ন প্রকল্পের ৬৭ মিলিয়ন ডলার বা ৮০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে এই স্মার্ট টেকনোলজিস। পুলিশের শরীরে ক্যামেরা (বডি ওর্ন ক্যামেরা) ক্রয় বিষয়ক এক বিতর্কেও নাম আসে প্রতিষ্ঠানটির।
নিজেদেরকে বাঁচাতে ৫ আগস্টের পর ভোল পালটে বিএনপিতে ভেড়ার চেষ্টা করে এই জহির। এজন্য ফেসবুকে নতুন পেইজ খুলে বিএনপি’কে নিয়ে তেল দেওয়া পোস্ট করতে থাকে জহির। উদ্দেশ্য ছিল লক্ষীপুরের রামগঞ্জ থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে এমপি নির্বাচন করা। কিন্তু এজন্য গত বছরের জুলাইতে রামগঞ্জ পৌরসভা বিএনপি’র সদস্য হতে ফর্ম জমা দেন। তবে যাচাই বাছাই কমিটি তার সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে তার আবেদন খারিজ করে দেন।
আবেদন বাতিলের চিঠিতে রামগঞ্জ পৌরসভা বিএনপি স্পষ্ট জানায় যে,
১) জুলাই আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা যে চিন সফরে ছিল, সে সময় হাসিনার সফরসঙ্গী ছিল এই জহিরুল।
২) পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সময় হাসিনার ভূয়সী প্রসংসা করেন এবং বিএনপি নিয়ে কটূক্তি করে বক্তব্য দেন!
৩) জুলাই আন্দোলনের সময় আন্দোলনের বিপক্ষে বক্তব্য দেন এবং বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মন্ত্রী এবং এমপি’দের সাথে তার সখ্যতার প্রমাণ পেয়েছে রামগঞ্জ পৌরসভা বিএনপি।
এই রেজওয়ান-জহিরুল গংই এখন ফয়েজ তৈয়্যবকে অর্থ দিয়ে সাধারণ মোবাইল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছে। পুলিশকে নিজের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করছে এই জহিরুল।
ফয়েজ তৈয়্যব নির্বাচনের পর তোমার দুর্নীতি অনুসন্ধান করানো হবে সরকারকে দিয়ে,তোমার টাকে দুর্নীতির ছবি সত্যায়িত করে দেয়া হবে। রেজওয়ান এবং জহিরুল তোমাদের চিবিও ফাটানো হবে। তোমাদের টাকলা ফয়েজের সময় শেষের পথে.....