Knowledge is need for life.

Knowledge is need for life. Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Knowledge is need for life., Book shop, Barishal.

03/07/2025

কর্ণফুলী নদীর উপনদী কোনটি?

ক) হালদা খ) গোমতী

Bookstore

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাগণের মধ্যে মন্ত্রণালয়-বিভাগের দায়িত্ব বন্টন৯ আগস্ট ২০২৪প্রধান...
09/08/2024

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাগণের মধ্যে মন্ত্রণালয়-বিভাগের দায়িত্ব বন্টন
৯ আগস্ট ২০২৪

প্রধান উপদেষ্টা :
ড. মুহাম্মদ ইউনূস

উপদেষ্টা:
১. সালেহ উদ্দিন আহমেদ (বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর)
২. ড. আসিফ নজরুল (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক)
৩. আদিলুর রহমান খান (মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সম্পাদক)
৪. এ এফ হাসান আরিফ (তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল)
৫. তৌহিদ হোসেন (সাবেক পররাষ্ট্র সচিব)
৬. সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান (বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী)
৭. মো. নাহিদ ইসলাম (সমন্বয়ক)
৮. আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া (সমন্বয়ক)
৯. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন (নিরাপত্তা বিশ্লেষক)
১০. সুপ্রদিপ চাকমা (পররাষ্ট্র ক্যাডারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সাবেক রাষ্ট্রদূত)
১১. ফরিদা আখতার (বেসরকারি সংস্থা উবিনীগের (উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা) নির্বাহী পরিচালক)
১২. বিধান রঞ্জন রায় (জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক)
১৩. আ.ফ.ম খালিদ হাসান (হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক নায়েবে আমীর)
১৪. নুরজাহান বেগম (গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক)
১৫. শারমিন মুরশিদ (ব্রতী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা)
১৬. ফারুক–ই–আজম (নৌকমান্ডো, বীর প্রতীক)

26/08/2023
না জানা থাকলে জেনে নিন কাজে আসবে।
01/07/2023

না জানা থাকলে জেনে নিন কাজে আসবে।

25/05/2016

1.পোলিও টিকা
আবিষ্কার করেন কে?
উঃ জোনাস সাল্ক
-
2.হোমিওপ্যাথির
আবিষ্কারক কে?
উঃ এস সি এফ
হ্যানিমেন
-
3.ডিনামাইট
আবিষ্কার করেন কে?
উঃ আলফ্রেড নোবেল
-
4.আলফ্রেড নোবেল
কোন দেশের
বিজ্ঞানী?
উঃ সুইডেন
-
5.আধুনিক
কম্পিউটারের জনক
কে?
উঃ চার্লস ব্যাবেজ
-
6.টাচ স্ক্রিন মোবাইল
সেট উদ্ভাবন করে
কে?
উঃ স্টিভ জবস
-
7.বল পয়েন্ট কলম
আবিষ্কার করেন কে?
উঃ Laszlo Biro
-
8.জেনেটিক্স এর
জনক কে?
উঃ গ্রেগর জোহান
মেন্ডেল
-
9.'বোসন' কণার সাথে
কোন দুজনের নাম
জড়িত?
উঃ সত্যেন্দ্রনাথ বসু
ও আইনস্টাইন
-
10.কোষ আবিষ্কার
করেন কে?
উঃ রবার্ট হুক
-
11.মাদাম কুরি ও জুলিও
কুরি কে ছিলেন?
উঃ বিজ্ঞানী
-
12.সিগমন্ড ফ্রয়েড
কে ছিলেন?
উঃ মনোবিজ্ঞানী
-
13.কোপার্নিকাস কে
ছিলেন?
উঃ জ্যোর্তিবিজ্ঞান

-
14.আবদুল কাদির খান
কোন দেশের পরমাণু
বিজ্ঞানী?
উঃ পাকিস্তান
-
15.কলকাতা নগরীর
প্রতিষ্ঠাতা কে?
উঃ জব চার্নক
-
16.শূণ্যের ধারণা কোন
দেশের গণিতবিদদের?
উঃ ভারত

25/05/2016

Please like my page

06/05/2016

╔═══╗───────────────╔╗
║╔══╝───────────────║║
║╚══╗╔═╗╔╗╔══╗╔═╗─╔═╝║╔══╗
║╔══╝║╔╝╠╣║║═╣║╔╗╗║╔╗║║══╣
║║───║║─║║║║═╣║║║║║╚╝║╠══║
╚╝───╚╝─╚╝╚══╝╚╝╚╝╚══╝╚══╝
╔╗╔╗╔╗────╔╗
║║║║║║────║║
║║║║║║╔══╗║║─╔══╗╔══╗╔╗╔╗╔══╗
║╚╝╚╝║║║═╣║║─║╔═╝║╔╗║║╚╝║║║═╣
╚╗╔╗╔╝║║═╣║╚╗║╚═╗║╚╝║║║║║║║═╣
─╚╝╚╝─╚══╝╚═╝╚══╝╚══╝╚╩╩╝╚══╝
─╔╗
╔╝╚╗
╚╗╔╝╔══╗
─║║─║╔╗║
─║╚╗║╚╝║
─╚═╝╚══╝
╔═╗╔═╗╔╗──╔╗
║║╚╝║║║╚╗╔╝║
║╔╗╔╗║╚╗╚╝╔╝
║║║║║║─╚╗╔╝
║║║║║║──║║
╚╝╚╝╚╝──╚╝
────────────╔═╗──╔╗
────────────║╔╝──║║
╔══╗╔═╗╔══╗╔╝╚╗╔╗║║─╔══╗
║╔╗║║╔╝║╔╗║╚╗╔╝╠╣║║─║║═╣
║╚╝║║║─║╚╝║─║║─║║║╚╗║║═╣
║╔═╝╚╝─╚══╝─╚╝─╚╝╚═╝╚══╝
║║
╚╝

30/10/2015

Name :
☞Balance Check : *566 #
☞Show SIM Number : *2 #
☞Package Check : *111*7*2 #
☞Minute Check : *566*24 # , *566*20 #
☞SMS Check : *566*2 #
☞MMS Check : *566*14 #
☞Data (MB) Check : *566*10 # , *567 #
☞Call Me Back : *123*Number #
☞Net Setting Request : *111*6*2 #
☞Miss Call Alert (On) : type START MCA &
Send to 6222
☞Miss Call Alert (Off) : Type STOP MCA &
Send to 6222
☞Emergency Balance : *1010*1 # (Check:
*566*28 #)
☞ Check Offer :*444*1*2 #
Name :
☞Balance Check : *124 #
☞Show SIM Number : *511 #
☞Package Check : *125 #
☞Minute Check : *124*2 #
☞SMS Check : *124*3 #
☞MMS Check : *124*2 #
☞Data (MB) Check : *124*5 # , *222*3 #
☞Call Me Back : *123*Number #
☞Net Setting Request : Type ALL & Sent to
3343
☞Miss Call Alert (On) : Type START & Send to
622
☞Miss Call Alert (Off) : Type STOP & Send to
622
☞Emergency Balance : *874 #
☞ Check Offer :*7323 #
Name :
☞Balance Check : *222 #
☞Show SIM Number : *140*2*4 #
☞Package Check : *140*14 #
☞Minute Check : *222*3 #
☞SMS Check : *222*11 #
☞MMS Check : *222*13 #
☞Data (MB) Check : *222*81 # , 8444*88 #
☞Call Me Back : unknown
☞Net Setting Request : *140*7 #
☞Miss Call Alert (On) : Type ON & Send to
8272
☞Miss Call Alert (Off) : Type OFF & Send to
8272
☞Emergency Balance : *8811*1 # (OFF
:*8811*2 # & check : *222*16 #)
☞ Check Offer :*999 #
Name :
☞Balance Check : *778 #
☞Show SIM Number : *121*6*3 #
☞Package Check : *121*8 #
☞Minute Check : *778*5 *778*8 #
☞SMS Check : *778*2 #
☞MMS Check : *222*13 #
☞Data (MB) Check : *778*39 *778* 4 #
☞Call Me Back : *121*5 #
☞Net Setting Request : *140*7 #
☞ Miss Call Alert (On) : *121*3*4 #
☞ Miss Call Alert (Off) : unknown
☞Emergency Balance: unknown
☞ Check Offer :*222*1 #
Name :
☞Balance Check : *152 #
☞Show SIM Number : Type “Tar” & send to
222
☞Package Check : unknown
☞Minute Check : *152 #
☞SMS Check : *152 #
☞MMS Check : *152 #
☞Data (MB) Check : *152 #
☞Call Me Back : unknown
☞Net Setting Request : Type SET & Send to
738
☞Miss Call Alert (On) : Type REG & Send to
2455
☞Miss Call Alert (Off) : Type CAN & Send to

03/10/2015

কেন অামরা তুলসীর মালা গ্রহণ করি??
সনাতন ধর্মে তুলসী মহারাণী দেবী হচ্ছেন
শ্রীকৃষ্ণের প্রিয়জন, নমো নমো তুলসী কৃষ্ণ প্রেয়সী
নমো,নমো।
তুলসীর মালা গলাই ধারণ করলে ৪/টি জিনিস থেকে
রহ্মা পাওয়া যাই,১/ব্রজর্পাত মৃত্যুর হাত থেকে
রহ্মা পাওয়া যাই,২/রুড এক্সিডেন্ট থেকে রহ্মা
পাওয়া যাই,৩/সর্প ছোবল থেকে রহ্মা পাওয়া
যাই,,যেমন সাপুড়িয়া যখন সাপের খেলা দেখাই
তখন তাদের হাতে একটা লাঠির ডাল থাকে সে
লাঠির মাথায় তুলসীর ডাল থাকে,,৪/রাতে বা
দিনে ঘোমানির পর অামরা বাজে স্বপ্ন বা ভয়ানক
স্বপ্ন দেখি যা দেখে ভয় পেয়ে অামার হাত পা
প্যারালাইজ হতে পারে সেটা থেকে রহ্মা পাওয়া
যাই,, অার অনেক উপকার পাওয়া যাই ইত্যাদি।যদি
তুলসীর মালা গলাই দিয়ে তার মৃত্যু হয় সে যদি ভক্ত
না থাকে তবুও তার নরকগামী হতে হবে না, যেমন
কুকুরের গলাই যদি বেল থাকে তাকে কি কেউ
মারতে পারে??না,, কারণ তার গলাই বেল অাছে
সে পালিত কুকুর মারলে তার নামে কেছ হয়ে যাবে
পৌরসভা লোকও তাকে মারতে পারবে না।তাই যার
গলাই তুলসীর মালা অাছে তাকে যমে স্পর্শ করতে
পারবে না, দূর থেকে দেখে প্রণাম করে বায়ুর
বেগের মত চলে যাবে কারণ সে ভগবানের ভক্ত তার
নাম ভগবানের খাতাই লিখা হয়েগেছে,, অার যদি
তুলসীর মালা ধারণ করে মায়াতে পরে কৃষ্ণ কে ভুলে
যাই তবুও তাকে নরকগামী হতে হবে না,, তার
সৎগতি হবে পরের জন্মে ভগবান তাকে ভক্ত ঘরে
জন্ম দিবে ও সুযোগ করে দিবে।তুলসীর জল দিয়া
গঙ্গা জল বানাই পবিত্র হওয়ার জন্য অার যদি
তুলসীর মালা গলাই থাকে যদি প্রতিদিন স্নান
করি সে মালার স্নানের জল শরীরে স্পর্শে করলে
এমনি পবিত্র হয়ে যাব,,অনেকে বলে তুলসীর মালা
গলাই ধারণ করলে মিথ্যা কথা বলা যাবে না,,যদি
তাই হয় তাহলে,ত শাস্ত্রে লিখা অাছে মিথ্যা
কথা বলা মহাপাপ তুলসীর মালা না ধারণ করলেও
মিথ্যা কথা মহাপাপ, ধারণ করলেও পাপ তাহলে
কোনটা ভাল?? তাহলে তুলসীর মালা ধারণ করে
মিথ্যা কথাই ভাল কারণ যেখানে অামি ১০০/
মিথ্যা কথা বলতাম তুলসীর মহারাণী কৃপাই
অাসতে,অাসতে ১টা করে কমতে থাকবে একসময়
অামি অার মিথ্যা বলব না, অার যদি মৃত্যু হয়
তাহলে,ত নরকগামী,ত হতে হবে না, সৎ গতি হবে।
অাবার কেউ বলে তুলসীর মালা ধারণ করে
মাছ,মাংস,অামিষ খেলে পাপ হয়,,হা ঠিক কিন্তুু
ভাগবতে ভগবান বলেছেন যে অামার চেয়ে অামার
নাম বড় নামের চেয়ে অামার ভক্ত বড় ভক্তের চেয়ে
ভক্তের চরণ ধূলি বড়,ভগবান তার ভক্তকে সবসময়
উপরে রেখেছে, সেই শুদ্ধ ভক্ত ভগবানের যিনি
ভগবানের নাম ও প্রচার করে তার হাতে তুলসীর
মালা গলাই ধারণ করলে অাপনার পাপ সেই শুদ্ধ
ভক্তের ম্যাধমে ভগবান গ্রহণ করে এটা প্রচারের
জন্য ভক্ত সবরকম পাপ বহণ করে জীবকে উদ্ধার করার
জন্য, ভক্তি পথে অাগে অাসতে হলে তুলসীর মালা
ধারন করতে হবে তাই ৮ বছর থেকে বাধ্যতা মূলক
তুলসীর মালা ধারণ করতে হবে, অাপনি যে সনাতন
ধর্মের লোক মানুষ বোঝবে কি করে এটাই তার
পরিচয় গলাই মালা থাকলে, তাই এক লাফে কেউ
গাছে ওঠতে পারে না তাহলে সে পরে যাবে বা
চিন্তা করতে করতে সময় চলে যাবে, তাই ভক্তি পথে
কেউ একবারে সব ছেড়ে অাসতে পারে না, অাসতে,
অাসতে সে এই পারমার্থিক পথ অবলম্বন করে।
সব কথার মূল কথা হল যে ভগবানকে যত কিছু রান্না
করে দেন না কেন ভগবান একটা তুলসীর পত্র ছাড়া
কিছু নিবেদন করে না, অার যার কন্ঠে তুলসীর
মালা নাই তার হাতে ভগবান গ্রহণ করবে?? অাবার
অনেকে বলতে পারেন ভক্তি থাকলে ভগবান সব গ্রহণ
করে, হা কিন্তুু অাপনি বলতেন পারেন অামার
ভক্তি অাছে যে সবসময় কৃষ্ণ নামে মগ্ন থাকি,?
অাপনি যে বৈদিক কর্ম করেন না কেন তুলসী
লাগবে এবং কি মৃত্যুর পরে দেহের চোখের উপর এই
তুলসীর পাতা দেই,, কেন গাছে, ত অনেক পাতা
অাছে বট পাতা কাঠাল পাতা চোখ ভরে যাবে এমন
পাতা অাছে কিন্তুু সেটা দিবে না কেন?? এই
তুলসীর পাতা লাগবে চিন্তা করে দেখুন যে ব্যক্তি
কখনো গলাই তুলসীর মালা ধারণ করে নাই, সাধুরা
গিয়ে তাকে তুলসীর মালা পরার কথা বলে সে
সাধুদের কে এমন জ্ঞান দেই যে সাধুদের সাথে
খারাপ অাচরণ করতে থাকে টিটকারি মারতে থাকে
তাদের বয়স হয় নাই মালা পরার, তাহলে চিন্তা
করুন যারা বলে এখন অামার বয়স হয় নাই হরি ভজন
করার, তারা কত বড় মহাপুরুষ তারা মৃত্যুকে জানে
যে অামার এখন মৃত্যু হবে না। মূর্খ তারা হরিভজন
করতে বয়স লাগে না, কিন্তুু মৃত্যুর সময় চোখে তুলসীর
পাতা দিয়া কোন লাভ হবে অাত্মা,ত চলে গেছে
মরা দেহের মধ্যে দিয়ে কি লাভ বাইচা থাকতে
সাধুরা বলেছে মালা ধারন করতে পরি নাই কারণ
অামি বড় পণ্ডিত ছিলাম তাই কিন্তুু মৃত্যুর পর
অামার পণ্ডিত গিরি শেষ তাই মৃত্যুর সময় কোন লাভ
হবে না,যদি সারাজীবন হরিভজনে যুক্ত না হন।
অাশা করি এই হরি কথা বোঝতে পেরেছেন অামার
কোন ভুল থাকলে অামকে খমা করবেন,

01/10/2015

নামকরণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
৩। ঢাকা বিভাগঃ-
১. ঢাকা জেলাঃ-
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা মোঘল-পূর্ব যুগে
কিছু গুরুত্বধারন করলেও শহরটি ইতিহাসে প্রসিদ্ধি
লাভ করে মোঘল যুগে। ঢাকা নামের উৎপত্তি
সম্পর্কে স্পষ্ট করে তেমন কিছু জানা যায় না। এ
সম্পর্কে প্রচলিত মতগুলোর মধ্যে কয়েকটি নিম্নরূপঃ
ক) একসময় এ অঞ্চলে প্রচুর ঢাক গাছ (বুটি ফুডোসা)
ছিল; খ) রাজধানী উদ্বোধনের দিনে ইসলাম খানের
নির্দেশে এখানে ঢাক অর্থাৎ ড্রাম বাজানো
হয়েছিল; গ) ‘ঢাকাভাষা’ নামে একটি প্রাকৃত ভাষা
এখানে প্রচলিত ছিল; ঘ) রাজতরঙ্গিণী-তে ঢাক্কা
শব্দটি ‘পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র’ হিসেবে উল্লেখিত
হয়েছে অথবা এলাহাবাদ শিলালিপিতে উল্লেখিত
সমুদ্রগুপ্তের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ডবাকই হলো ঢাকা।
কথিত আছে যে, সেন বংশের রাজা বল্লাল সেন
বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভ্রমণকালে
সন্নিহিত জঙ্গলে হিন্দু দেবী দুর্গার বিগ্রহ খুঁজে
পান। দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ রাজা বল্লাল
সেন ঐ এলাকায় একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।
যেহেতু দেবীর বিগ্রহ ঢাকা বা গুপ্ত অবস্থায়
পাওয়া গিয়েছিল তাই রাজা মন্দিরের নাম
ঢাকেশ্বরী মন্দির। মন্দিরের নাম থেকেই
কালক্রমে স্থানটির নাম ঢাকা হিসেবে গড়ে ওঠে।
আবার অনেক ঐতিহাসিকদের মতে, মোঘল সম্রাট
জাহাঙ্গীর যখন ঢাকাকে সুবা বাংলার রাজধানী
হিসেবে ঘোষণা করেন, তখন সুবাদার ইসলাম খান
আনন্দের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ শহরে ‘ঢাক’ বাজানোর
নির্দেশ দেন। এই ঢাক বাজানোর কাহিনী
লোকমুখে কিংবদন্দির রূপ ধারণ করে এবং তা
থেকেই এই শহরের নাম ঢাকা হয়ে যায়। এখানে
উল্লেখ্য যে, ১৬১০ খ্রিষ্টাব্দে ইসলাম খান চিশতি
সুবাহ বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায়
স্থানান্তর করেন এবং সম্রাটের নামানুসারে এর
নামকরণ করে জাহাঙ্গীরনগর।
২. ফরিদপুর জেলাঃ-
ফরিদপুরের নামকরণ করা হয়েছে এখানকার প্রখ্যাত
সুফী সাধক শাহ শেখ ফরিদুদ্দিনের নামানুসারে।
৩. গাজীপুর জেলাঃ-
বিলু কবীরের লেখা ‘বাংলাদেশের জেলা :
নামকরণের ইতিহাস’ বই থেকে জানা যায়, মহম্মদ
বিন তুঘলকের শাসনকালে জনৈক মুসলিম কুস্তিগির
গাজী এ অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিলেন এবং
তিনি বহুদিন সাফল্যের সঙ্গে এ অঞ্চল শাসন
করেছিলেন। এ কুস্তিগির/পাহলোয়ান গাজীর
নামানুসারেই এ অঞ্চলের নাম রাখা হয় গাজীপুর
বলে লোকশ্রুতি রয়েছে। আরেকটি জনশ্রুতি এ রকম
সম্রাট আকবরের সময় চবি্বশ পরগনার জায়গিরদার
ছিলেন ঈশা খাঁ। এই ঈশা খাঁরই একজন অনুসারীর
ছেলের নাম ছিল ফজল গাজী। যিনি ছিলেন
ভাওয়াল রাজ্যের প্রথম ‘প্রধান’। তারই নাম বা
নামের সঙ্গে যুক্ত ‘গাজী’ পদবি থেকে এ অঞ্চলের
নাম রাখা হয় গাজীপুর। গাজীপুর নামের আগে এ
অঞ্চলের নাম ছিল জয়দেবপুর। এ জয়দেবপুর নামটি
কেন হলো, কতদিন থাকল, কখন, কেন সেটা আর
থাকল না সেটিও প্রাসঙ্গিক ও জ্ঞাতব্য।
ভাওয়ালের জমিদার ছিলেন জয়দেব নারায়ণ রায়
চৌধুরী। বসবাস করার জন্য এ জয়দেব নারায়ণ রায়
চৌধুরী পীরাবাড়ি গ্রামে একটি গৃহ নির্মাণ
করেছিলেন। গ্রামটি ছিল চিলাই নদীর দক্ষিণ
পাড়ে। এ সময় ওই জমিদার নিজের নামের সঙ্গে
মিল রেখে এ অঞ্চলটির নাম রাখেন ‘জয়দেবপুর’ এবং
এ নামই বহাল ছিল মহকুমা হওয়ার আগ পর্যন্ত। যখন
জয়দেবপুরকে মহকুমায় উন্নত করা হয়, তখনই এর নাম
পাল্টে জয়দেবপুর রাখা হয়। উল্লেখ্য, এখনো
অতীতকাতর-ঐতিহ্যমুখী স্থানীয়দের অনেকেই
জেলাকে ‘জয়দেবপুর’ বলেই উল্লেখ করে থাকেন।
গাজীপুর সদরের রেলওয়ে স্টেশনের নাম এখনো
‘জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন’। তবে বিস্তারিত
আলোচনায় গেলে বলতেই হয়, গাজীপুরের আগের
নাম জয়দেবপুর এবং তারও আগের নাম ভাওয়াল।
গাজীপুরকে ১৯৮৪খ্রিস্টাব্দের ১ মার্চ জেলা এবং
২০১৩ খ্রিস্টাব্দের ৭ জানুয়ারী রোজ: সোমবার
সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা করা হয়।
৪. গোপালগঞ্জ জেলাঃ-
গোপালগঞ্জ জেলা শহরের রয়েছে প্রাচীন
ইতিহাস। অতীতের রাজগঞ্জ বাজার আজকের জেলা
শহর গোপালগঞ্জ। আজ থেকে প্রায় শতাব্দীকাল
পূর্বে শহর বলতে যা বুঝায় তার কিছুই এখানে
ছিলোনা। এর পরিচিতি ছিলো শুধু একটি ছোট্ট
বাজার হিসেবে। এঅঞ্চলটি মাকিমপুর ষ্টেটের
জমিদার রানী রাসমণির এলাকাধীন ছিলো।
উল্লেখ্য রানী রাসমণি একজন জেলের মেয়ে
ছিলেন। সিপাই মিউটিনির সময় তিনি একজন উচ্চ
পদস্থ ইংরেজ সাহেবের প্রাণ রক্ষা করেন।
পরবর্তীতে তারই পুরস্কার হিসাবে বৃটিশ সরকার
রাসমণিরকে মাকিমপুর ষ্টেটের জমিদারী প্রদার
করেন এবং তাঁকে রানী উপাধিতে ভূষিত করেন।
রানী রাসমণির এক নাতির নাম ছিলো নব-গোপাল
তিনি তাঁর স্নেহাস্পদ নাতির নাম এবং পুরানো
ইতিহাসকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য নাতিন
নামের ‘গোপাল’ অংশটি প্রথমে রেখে তার সাথে
রাজগঞ্জের ‘গঞ্জ’ যোগ করে এ জাযগাটির নতুর
নামকরণ করেন গোপালগঞ্জ। ১৯৮৪ সালে ফরিদপুর
জেলার মহকুমা থেকে গোপালগঞ্জ জেলা সৃষ্টি হয়।
৫. জামালপুর জেলাঃ-
সাধক দরবেশ হযরত শাহ জামাল (র) এর পূণ্যস্মৃতি
বিজড়িত নয়নাভিরাম সৌন্দর্যমন্ডিত গরো
পাহাড়ের পাদদেশে যমুনা-ব্রক্ষ্মপুত্র বিধৌত
বাংলাদেশের ২০-তম জেলা জামালপুর। হযরত শাহ
জামাল (র) এর নামানুসারে জামালপুরের নামকরণ
হয়।
৬. কিশোরগঞ্জ জেলাঃ-১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে
কিশোরগঞ্জ মহকুমার জন্ম হয়। মহকুমার প্রথম
প্রশাসক ছিলেন মিঃ বকসেল। বর্তমান কিশোরগঞ্জ
তৎকালীন জোয়ার হোসেনপুর পরগনার অন্তর্ভক্ত
ছিল। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকেও কিশোরগঞ্জ
এলাকা ‘কাটখালী’ নামে পরিচিত ছিল।
ইতিহাসবিদদের ধারণা ও জনশ্রুতি মতে এ জেলার
জমিদার ব্রজকিশোর মতান্তরে নন্দকিশোর
প্রামানিকের ‘কিশোর’ এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত হাট
বা গঞ্জের ‘গঞ্জ’ যোগ করে কিশোরগঞ্জ নামকরণ
করা হয়।
৭. মাদারীপুর জেলাঃ-
মাদারীপুর জেলা একটি ঐতিহাসিক সমৃদ্ধ জনপদ
ছিল। পঞ্চদশ শতাব্দীতে সাধক হযরত বদরুদ্দিন শাহ
মাদার (র) এর নামানুসারে এই জেলার নামকরণ করা
হয়। প্রাচীনকালে মাদারীপুরের নাম ছিল ইদিলপুর।
১৯৮৪ সালে মাদারীপুর জেলা হিসেবে স্বীকৃতি
লাভ করে।
৮. মানিকগঞ্জ জেলাঃ-
মূরত সংস্কৃত ‘মানিক্য’ শব্দ থেকে মানিক শব্দটি
এসেছে। মানিক হচ্ছে চুনি পদ্মরাগ। গঞ্জ শব্দটি
ফরাসী। মানিকগঞ্জের নামের ঋৎপত্তি ইতিহাস
আজও রহস্যবৃত। অষ্টাদশ শতকের প্রথমার্ধে সুফি
দরবেশ মানিক শাহ সিংগাইর উপজেলার
মানিকনগরে আসেন এবং খানকা প্রতিষ্ঠা করে
ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু করেন।কারও মতে দূর্ধর্ষ
পাঠান সর্দার মানিক ঢালীর নামানুসারে
মানিকগঞ্জ নামের উৎপত্তি। আবার কারো মতে,
নবাব সিরাজ উদ-দৌলার বিশাবাস ঘাতক মানিক
চাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ তার নমানুসারে ১৮৪৫
সালের মে মাসে মানিকগঞ্জ মহকুমার নামকরণ হয়।
মানিকগঞ্জ মহকুমার নামকরণ সম্পর্কীত উল্লেখ্য
তিনটি পৃথক স্থানীয় জনশ্রুতি এবং অনুমান নির্ভর।
এর কোন ঐতিহাসিক ভিত্তি পাওয়া যায়নি, তবে
মানিক শাহের নামানুসারে মানিকগঞ্জ মহকুমার
নামকরণ সম্পর্কীত জনশ্রুতি এবং ঘটনা প্রবাহ থেকে
যে চিত্র পাওয়া যায় তাই সঠিক বলে ধরা হয়।
৯. মুন্সীগঞ্জ জেলাঃ-
মুন্সিগঞ্জে প্রাচীন নাম ছিল ইদ্রাকপুর। মোঘল
শাসনামলে এই ইদ্রাকপুর গ্রামে মুন্সী হায়দার
হোসেন নামে একজন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি মোঘল
শাসক দ্বারা ফৌজদার নিযুক্ত ছিলেন। অত্যন্ত
সজ্জন ও জনহিতৈষী মুন্সী হায়দার হোসেনের
নামে ইদ্রাকপুরের নাম হয় মুন্সীগঞ্জ। কারো কারো
মতে জমিদার এনায়েত আলী মুন্সীর নামানুসারে
মুন্সীগঞ্জে নামকরণ করা হয়।
১০. ময়মনসিংহ জেলাঃ-
ময়মনসিংহ জেলার নাম নিয়ে ইতিহাসবিদদের
মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রচলিত আছে। ষোড়শ
শতাব্দীতে বাংলার স্বাধীন সুলতান সৈয়দ
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ তাঁর পুত্র সৈয়দ নাসির
উদ্দিন নসরত শাহ’র জন্য এ অঞ্চলে একটি নুতুন রাজ্য
প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই থেকে নসরতশাহী বা
নাসিরাবাদ নামের সৃষ্টি। সলিম যুগের উৎস
হিসেবে নাসিরাবাদ, নাম আজও শিক্ষা
প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোথাও নাসিরাবাদ কথাটি
উল্লেখ্য করা হচ্ছে না। ১৭৭৯ সালে প্রকাশিত
রেনেল এর ম্যাপে মোমেসিং নামটি ‘ময়মনসিংহ’
অঞ্চলকেই নির্দেশ করে। তার আগে আইন-ই-
আকবরীতে ‘মিহমানশাহী’ এবং ‘মনমনিসিংহ’
সকার বাজুহার পরগনা হিসেবে লিখিত আছে। যা
বর্তমান ময়মনসিংহকেই ধরা হয়।
১১. নারায়ণগঞ্জ জেলাঃ-
১৭৬৬ সালে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা বিকন লাল
পান্ডে( বেণু ঠাকুর বা লক্ষীনায়ায়ণ ঠাকুর) ইস্ট
ইন্ডিয়া কোম্পানির নিকট থেকে এ অঞ্চলের
মালিকানা গ্রহণ করে। তিনি প্রভু নারায়ণের
সেবার ব্যয়ভার বহনের জন্য একটি উইলের মাধ্যমে
শীতলক্ষা নদীর তীরে অবস্থিত মার্কেটকে
দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করেন। তাই
পরবর্তীকালে এ স্থানের নাম হয় নারায়ণগঞ্জ।
১২. নেত্রকোণা জেলাঃ-
নেত্রকোণার নামকরণ হয়েছে নাটেরকোণা নামক
গ্রামের নাম থেকে।
১৩. নরসিংদী জেলাঃ-
কথিত আছে, প্রাচীনকালে এ অঞ্চলটি নরসিংহ
নামক একজন রাজার শাসনাধীন ছিল। আনুমানিক
পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে রাজা নরসিংহ
প্রাচীন ব্যক্ষ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরে নরসিংহপুর
নামে একটি ছোট নগর স্থাপন করেছিলেনঅ তাঁরই
নামানুসারে নরসিংদী নামটি আবির্ভূত হয়।
নরসিংহ নামের সাথে ‘দী’ যুক্ত হয়ে নরসিংদী
হয়েছে। নরসিংহদী শব্দের পরিবর্তিত রূপই
“নরসিংদী”।
১৪. রাজবাড়ী জেলাঃ-
রাজা সূর্য্য কুমারের নামানুসারে রাজবাড়ীর
নামকরণ করা হয়। রাজা সূর্য্য কুমারের পিতামহ
প্রভুরাম নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার রাজকর্মী
থাকাকালীন কোন কারণে ইংরেজদের বিরাগভাজন
হলে পলাশীর যুদ্ধের পর লক্ষীকোলে এস আত্মগোপন
করেন। পরে তাঁর পুত্র দ্বিগেন্দ্র প্রসাদ এ অঞ্চলে
জমিদারী গড়ে তোলেন। তাঁরই পুত্র রাজা সূর্য্য
কুমার ১৮৮৫ সালে জনহিতকর কাজের জন্য রাজা
উপাধি প্রাপ্ত হন। ১৯৮৪ সালে ১মার্চ জেলা
হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
১৫. শরীয়তপুর জেলাঃ-
বৃটিশ বিরোধী তথা ফরায়েজী আন্দোলনের অন্যতম
নেতা হাজী শরীয়ত উল্লাহর নামানুসারে
শরীয়তপুরের নামকরণ করা হয়। ১৯৮৪ সালে ১লা মার্চ
শরীয়তপুর জেলা শুভ উদ্বোধন করেন তৎকালীন তথ্য
মন্ত্রী জনাব নাজিম উদ্দিন হাসিম।
১৬. শেরপুর জেলাঃ-
বাংলার নবাবী আমলে গাজী বংশের শেষ
জমিদার শের আলী গাজী দশ কাহনিয়া অঞ্চল দখল
করে স্বাধীনভাবে রাজত্ব করেন। এই শের আলী
গাজীর নামে দশ কাহনিয়ার নাম হয় শেরপুর।
১৭. টাঙ্গাইল জেলাঃ-
টাঙ্গাইলের নামকরণ বিষয়ে রয়েছে বহুজনশ্রুতি ও
নানা মতামত। ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত রেনেল
তাঁর মানচিত্রে এ সম্পূর্ণ অঞ্চলকেই আটিয়া বলে
দেখিয়েছেন। ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দের আগে টাঙ্গাইল
নামে কোনো স্বতন্ত্র স্থানের পরিচয় পাওয়া যায়
না। টাঙ্গাইল নামটি পরিচিতি লাভ করে ১৫
নভেম্বর ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে মহকুমা সদর দপ্তর আটিয়া
থেকে টাঙ্গাইলে স্থানান্তরের সময় থেকে।
টাঙ্গাইলের ইতিহাস প্রণেতা খন্দকার আব্দুর রহিম
সাহেবের মতে, ইংরেজ আমলে এদেশের লোকেরা
উচু শব্দের পরিবর্তে ‘টান’ শব্দই ব্যবহার করতে
অভ্যস্ত ছিল বেশি। এখনো টাঙ্গাইল অঞ্চলে ‘টান’
শব্দের প্রচলন আছে। এই টানের সাথে আইল শব্দটি
যুক্ত হয়ে হয়েছিল টান আইল। আর সেই টান আইলটি
রূপান্তরিত হয়েছে টাঙ্গাইলে। টাঙ্গাইলের
নামকরণ নিয়ে আরো বিভিন্নজনে বিভিন্ন সময়ে
নানা মত প্রকাশ করেছেন। কারো কারো মতে,
বৃটিশ শাসনামলে মোগল প্রশাসন কেন্দ্র আটিয়াকে
আশ্রয় করে যখন এই অঞ্চল জম-জমাট হয়ে উঠে। সে
সময়ে ঘোড়ার গাড়িছিল যাতায়াতের একমাত্র
বাহন, যাকে বর্তমান টাঙ্গাইলের স্থানীয়
লোকেরা বলত ‘টাঙ্গা’। বর্তমান শতকের
মাঝামাঝি পর্যন্তও এ অঞ্চলের টাঙ্গা গাড়ির
চলাচল স্থল পথে সর্বত্র। আল শব্দটির কথা এ
প্রসঙ্গে চলে আসে। বর্তমান টাঙ্গাইল অঞ্চলের
বিভিন্ন স্থানের নামের সাথে এই আল শব্দটির
যোগ লক্ষ্য করা যায়। আল শব্দটির অর্থ সম্ভবত
সীমা নির্দেশক যার স্থানীয় উচ্চারণ আইল। একটি
স্থানকে যে সীমানা দিয়ে বাঁধা হয় তাকেই আইল
বলা হয়। টাঙ্গাওয়ালাদের বাসস্থানের
সীমানাকে ‘টাঙ্গা+আইল’ এভাবে যোগ করে
হয়েছে ‘টাঙ্গাইল’ এমতটি অনেকে পোষণ করেন।
আইল শব্দটি কৃষিজমির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই শব্দটি
আঞ্চলিক ভাবে বহুল ব্যবহৃত শব্দ। টাঙ্গাইলের ভূ-
প্রকৃতি অনুসারে স্বাভাবিক ভাবে এর ভূমি উঁচু এবং
ঢালু। স্থানীয়ভাবে যার সমার্থক শব্দ হলো টান।
তাই এই ভূমিরূপের কারণেই এ অঞ্চলকে হয়তো পূর্বে
‘টান আইল’ বলা হতো। যা পরিবর্তীত হয়ে টাঙ্গাইল
হয়েছে।
২। চট্টগ্রাম বিভাগঃ-
১. বান্দরবন জেলাঃ-
বান্দরবন জেলার নামকরণ নিয়ে একটি কিংবদন্তি
আছে, এলাকার বাসিন্দাদের মুখে প্রচলিত রূপকথায়
অত্র এলাকায় এ সময় অসংখ্য বানর বাস করত। আর এ
ই বানরগুলো শহরের প্রবেশ মুখে ছড়ার পাড়ে
প্রতিনিয়ত লবণ খেতে আসত। এক সময় অতি বৃষ্টির
কারণে ছড়ার পানি বৃদ্ধি পেলে বানরের দল ছড়া
পাড় থেকে পাহাড়ে যেতে না পারায় একে অপরকে
ধরে সারিবদ্ধভাবে ছড়া পার হয়। বানরের ছড়া
পারাপারের এই র্দশ্য ধেকতে পায় এই জনপদের
মানুষ। এই সময় থেকে জায়গাটি “ম্যাঅকছি ছড়া”
হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। মার্মা ভাষায়
ম্যাঅক শব্দটির অর্থ হল বানর আর ছিঃ শব্দটির
অর্থ হল বাধঁ। কালের প্রবাহে বাংল ভাষাভাষির
সাধারণ উচ্চারণে এই এলাকার নাম বান্দরবন
হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তবে মার্মা ভাষায়
বান্দরবনের প্রকৃত নাম “রদ ক্যওচি চিম্রো’।
২. ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলাঃ-
১৯৮৪ সালে ব্রাক্ষ্মবাড়িয়া জেলা হিসেবে
আত্মপ্রকাশ করে। তার আগে এটি কুমিল্লা জেলার
একটি মহকুমা ছিল। ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলার
নামকরণের সঠিক ইতিহাস খুঁজে পাইনি, আপনাদের
জানা থাকলে দয়া করে জানাবেন।
৩. চাঁদপুর জেলাঃ-
১৭৭৯ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজ
জরিপকারী মেজর জেমস রেনেল তৎকালনি
বাংলার যে মানচিত্র অংকন করেছিলেন তাতে
চাঁদপুর নামে এক অখ্যাত জনপদ ছিল। তখন চাঁদপুরের
দক্ষিণে নরসিংহপুর নামক ( বর্তমানে যা নদীগর্ভে
বিলীন) স্থানে চাঁদপুরের অফিস-আদালত ছিল।
পদ্মা ও মেঘনার সঙ্গমস্থল ছিল বতৃমান স্থান থেকে
পাওয়া প্রায় ৬০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে। মেঘনা
নদীর ভাঙ্গাগড়ার খেলায় এ এলাকা বর্তমানে
বিলীন। বার ভূঁইয়াদের আমলে চাঁদপুর অঞ্চল
বিক্রমপুরের জমিদার চাঁদরায়ের দখলে ছিল।
ঐতিহাসিক জে.এম সেনগুপ্তের মতে চাঁদরায়ের
নামানুসারে এ অঞ্চলের নাম চাঁদপুর। কথিত আছে
চাঁপুরের (কোড়ালিয়া) পুরিন্দপুর মহল্লার চাঁদ
ফকিরের নামানুসারে এ অঞ্চলের নাম চাঁদপুর।
কারো কারো মতে, শাহ আহমেদ চাঁদ নামে একজন
প্রশাষক দিল্লী থেকে পঞ্চদশ শতকে এখানে এসে
একটি নদী বন্দর স্থাপন করেছিলেন। তাঁর
নামানুসারে চাঁদপুর। ১৮৭৮ সালে প্রথম চাঁদপুর
মহকুমার সৃষ্টি হয়। ১৮৯৬ সালের ১ অক্টোবর চাঁদপুর
শহরকে পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৮৪
সালের ১৫ ই ফেব্রুয়ারী চাঁদপুর জেলা হিসেবে
আত্মপ্রকাশ করে।
৪. চট্টগ্রাম জেলাঃ-
চট্টগ্রামের প্রায় ৪৮ টি নামের খোঁজ পাওয়া যায়।
এর মধ্যে রম্যভূমি, চাটিগাঁ, চাতগাও, রোসাং,
চিতাগঞ্জ, জাটিগ্রাম ইত্যাদি। চট্টগ্রাম নামের
উৎপত্তি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতপার্থক্য
আছে, পন্ডিত বার্নোলির মতে, আরবি ‘শ্যাত (খন্ড)
অর্থ বদ্বীপ, গাঙ্গ অর্থ গঙ্গা নদী থেকে চট্টগ্রাম
নামের উৎপত্তি। অপর এক মতে ত্রয়োদশ শতকে এ
অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করতে এসেছিলেন বার জন
আউলিয়া। তাঁরা একটি বড় বাতি বা চেরাগ
জ্বালিয়ে উঁচু জায়গায় স্থাপন করেছিলেন।
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় ‘চাটি’ অর্থ বাতি বা
চেরাগ ্এবং গাঁও অর্থ গ্রাম। এ থেকে নাম হয়
”চাটিগাঁও”। এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা
স্যার উইলিয়াম জোন্সের মতে, এ এলাকার একটি
ক্ষুদ্র পাখির নাম থেকে চট্টগ্রাম নামের উৎপত্তি।
১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম মোঘল সম্রাজের অংশ
হয়। আরাকানদের পরাজিত করে মোঘল এর নাম
রাখেন ইসলামাবাদ। ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে মীর কাশিম
আলী খান ইসলামাবাদকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া
কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করেন। পরে কোম্পানি
এর নাম রাখেন চিটাগাং।
৫. কুমিল্লা জেলাঃ-
প্রাচীনকালে এটি সমতট জনপদের অন্তর্গত ছিল এবং
পরবর্তীতে এটি ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ হয়।
কুমিল্লা নামকরণের অনেকগুলো প্রচলিত লোককথা
আছে, যার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য চৈনিক পরিব্রাজক
ওয়াং চোয়াং কর্তৃক সমতট রাজ্য পরিভ্রমণের
বৃত্তান্ত। তাঁর বর্ণনায় কিয়া-মল-ঙ্কিয়া
( Kiamolonkia) নামক স্থানের বর্ণনা রয়েছে তা
থেকে কমলাঙ্ক বা কুমিল্লার নামকরণ হয়েছে। ১৯৮৪
সালে কুমিল্লা জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
৬. কক্সবাজার জেলাঃ-
আরব ব্যবসয়ী ও ধর্ম প্রচারকগণ ৮ম শতকে চট্টগ্রাম ও
আকিব বন্দরে আগমন করেন। এই দুই বন্দরের মধ্যবর্তী
হওয়ায় কক্সবাজার এলাকা আরবদের ঘনিষ্ঠ
সংস্পর্শে আসে। নবম শতাব্দীতে কক্সবাজার সহ
বৃহত্তর চট্টগ্রাম হরিকেলার রাজা কান্তিদেব
দ্বারা শাসিত হয়। ৯৩০ খ্রিস্টাব্দে আরাকান
রাজা সুলাত ইঙ্গ চট্টগ্রাম দখল করে নেবার পর
থেকে কক্সবাজার আরাকান রাজ্যের অংশ হয়। ১৭৮৪
সালে রার্মারাজ বোধাপায়া আরাকান দখল করে
নেয়। ১৭৯৯ সালে বার্মারাজের হাত থেকে বাঁচার
জন্য প্রায় ১৩ হাজার আরাকনি কক্সবাজার থেকে
পালিয়ে যায়। এদর পূনর্বাসন করার জন্য ইস্ট
ইন্ডিয়া কোম্পানি একজন হিরাম কক্সকে নিয়োগ
করে। পূনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ হবার পূর্বেই হিরাম
কক্স মৃত্যু বরণ করেন। পূনর্বাসন প্রক্রিয়ায় তাঁর
অবদানের জন্য কক্স-বাজার নামক একটি বাজার
প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই কক্স-বাজার থেকে
কক্সবাজার নামের উৎপত্তি।
৭. ফেনী জেলাঃ-
ফেনী নদীর নাম অনুসারে এ অঞ্চলের নাম রাখা হয়
ফেনী। মধ্যযুগে কবি ও সাহিত্যিকদের কবিতা ও
সাহিত্যে একটি বিশেষ নদীর স্রোদধা ও ফেনী
পরাপারের ঘাট হিসেবে আমরা ফনী শব্দটি পাই।
ষোড়শ শতাব্দীতে কবি কবীন্দ্র পরমেশ্বর
পরাগলপুরের বর্ণনায় লিখেছেন, ‘ফনী নদীতে
বেষ্টিত চারিধার, পূর্বে মহাগিরি পার পাই তার’।
সতের শতকে মির্জা নাথানের ফার্সী ভাষায়
রচিত ‘বাহরিস্থান-ই-গায়েরীতে’ ফনী শব্দ
ফেনীতে পরিণত হয়। আটারো শতকের ষেষ ভাগে
কবি আলী রেজা প্রকাশ কানু ফকির তাঁর পীরের
বসতি হাজীগাঁওয়ের অবস্থান সম্পর্কে বর্ণনা দিতে
গিয়ে লিখেছেন, ‘ফেনীর দক্ষিণে এক বর উপাম,
হাজীগাঁও করিছিল সেই দেশের নাম’। মোহাম্মদ
মুকিম তাঁর পৈতৃক বসতির বর্ণনাকালে
বলেছেন,”ফেনীর পশ্চিমভঅগে জুগিদিয়া
দেশ…………….। বলাবাহুল্য তাঁরাও নদী অর্থে
ফেনী শব্দ ব্যবহার করেছেন। মুসলমান কবি-
সাহিত্যিকদের ভাষায় আদি শব্দ ‘ফনী’ ফেনীতে
পরিণত হয়েছে।
৮. খাগড়াছড়ি জেলাঃ-
খাগড়াছড়ি একটি নদীর নাম। নদীর পাড়ে খাগড়া
বন থাকায় খাগড়াছড়ি নামে পরিচিতি লাভ করে।
৯. লক্ষীপুর জেলাঃ-
লক্ষীপুর জেলার নামকরণের সঠিক ইতিহাস খুঁজে
পাইনি, আপনাদের জানা থাকলে দয়া করে
জানাবেন।
১০. নোয়াখালী জেলাঃ-
নোয়াখালী জেলা প্রচীন নাম ছিল ভুলুয়া।
নোয়াখালী সদর থানার আদি নাম ছিল সুধারাম।
ইতিহাসবিদদের মতে, একবার ত্রিপুরার পাহাড়
থেকে প্রবাহিত ডাকাতিয়া নদীর পানিতে ভুলুয়ার
উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভয়াবহভঅবে প্লাবিত হয়ে ফসলি
জমির ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি করে।এ অবস্থা থেকে
পরিত্রাণের উপায় হিসেবে ১৬৬০ সালে একটি
বিশাল খাল খনন করা হয়, যা পানি প্রবাহকে
ডাকাতিয়া নদী হতে রামগঞ্ঝ, সোইমুড়ী ও চৌমুহনী
হয়ে মেঘনা এবং ফেনী নদীর দিকে প্রবাহিত করে।
এই বিশাল খালকে নোয়াখালীর ভাষায় ‘নোয়া
(নুতুন) খাল’ বলা হত এর ফলে ‘ভুলুয়া’ নামটি
পরিবর্তিত হয়ে ১৬৬৮ সালে নোয়াখালী নামে
পরিচিতি লাভ করে।
১১. রাঙ্গামাটি জেলাঃ-
রাঙামাটি জেলা নামকরণ সম্পর্কে বিলু কবীরের
লেখা ‘বাংলাদেশ জেলা : নামকরণের ইতিহাস’ বই
থেকে জানা যায় তা হলো- এই এলাকায় পর্বতরাজি
গঠিত হয়েছিল টারশিয়রি যুগে। এই যুগের মাটির
প্রধান ব্যতিক্রম এবং বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর রঙ লালচে
বা রাঙা। এই এলাকার গিরিমৃত্তিকা লাল এবং
মাটিও রাঙা বলেই এই জনপদের নাম হয়েছে
রাঙামাটি। প্রকৃতি সূচক এই নামকরণটির বিষয়ে অন্য
প্রচলিত কথাপরম্পরা হলো- বর্তমান রাঙামাটি
জেলা সদরের পূর্বদিকে একটি ছড়া ছিল, যা এখন
হ্রদের মধ্যে নিমজ্জিত। এই হ্রদের স্বচ্ছ পানি যখন
লাল বা রাঙামাটির উপর দিয়ে ঢাল বেয়ে প্রপাত
ঘটাতো, তখন তাকে লাল দেখাতো। তাই এই ছড়ার
নাম হয়েছিল ‘রাঙামাটি’। এই জেলা সদরের
পশ্চিমে আরও একটি ছাড়া ছিল। অনুরূপ কারণে তার
নাম দেয়া হয়েছিল ‘রাঙাপানি’। এই দুই রাঙা
ছড়ার মোহনার বাঁকেই গড়ে উঠেছে বর্তমান জেলা
শহর। যা মূলত ছিল অনাবাদী টিলার সমষ্টি এবং বহু
উপত্যকার এক নয়নাভিরাম বিস্ময়ভূমি। এই দুটি ছড়া
রাঙামাটি ও রাঙাপানি হতে ‘রাঙামাটি’ জেলার
নামকরণ হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ১৯৮৩ সালে
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা গঠন করা হয়।
বরিশাল বিভাগঃ-
বরিশাল বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৩ সালে।
বরিশাল, বরগুনা, ঝালকাঠী, পটুয়াখালি, পিরোজপুর
ও ভোলা এই ৬ জেলা নিয়ে বরিশাল বিভাগ গঠিত
হয়। অবশেষে ২০০০ সালে বরিশাল সিটি
কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়।
১. বরগুনা জেলাঃ-
বরগুনা নামের সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য পাওয়া না
গেলেও জানা যায় যে, উত্তরাঞ্চলের কাঠ
ব্যবসায়ীরা এ অঞ্চলে কাঠ নিতে এস খরস্রোতা
খাকদোন নদী অতিক্রম করতে গিয়ে অনুকুল প্রবাহ
বা বড় গোনের জন্য এখানে অপেক্ষা করত বলে এ
স্থানের নাম হয় বড় গোনা।কারো মতে আবার
স্রোতের বিপরীতে গুন (দড়ি) টেনে নৌকা অতিক্রম
করতে হতো বলে এ স্থানের নাম বরগুনা। কেউ কেউ
বলেন, বরগুনা নামক কোন প্রভাবশালী রাখাইন
অধিবাসীর নামানুসারে বরগুনা। আবার কারো মতে
বরগুনা নামক কোন এক বাওয়ালীর নামানুসারে এ
স্থানের নাম করণ করা হয় বরগুনা।
২. বরিশাল জেলাঃ-
বরিশাল নামকরণ সম্পর্কে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে।
এক কিংবদন্তি থেকে জানা যায় যে, পূর্বে এখানে
খুব বড় বড় শাল গাছ জন্মাতো, আর এই বড় শাল
গাছের কারণে (বড়+শাল) বরিশাল নামের উৎপত্তি।
কেউ কেউ দাবি করেন, পর্তুগীজ বেরি ও শেলির
প্রেমকাহিনীর জন্য বরিশাল নামকরণ করা হয়েছে।
অন্য এক কিংবদন্তি থেকে জানা যায় যে, গিরদে
বন্দরে (গ্রেট বন্দর) ঢাকা নবাবদের বড় বড় লবণের
গোলা ও চৌকি ছিল। ইংরেজ ও পর্তুগীজ বণিকরা
বড় বড় লবণের চৌকিকে ‘বরিসল্ট’ বলতো। অথাৎ বরি
(বড়)+ সল্ট(লবণ)= বরিসল্ট। আবার অনেকের ধারণা
এখানকার লবণের দানাগুলো বড় বড় ছিল বলে
‘বরিসল্ট’ বলা হতো । পরবর্তিতে বরিসল্ট শব্দটি
পরিবর্তিত হয়ে বরিশাল নামে পরিচিতি লাভ
করে।
৩. ভোলা জেলাঃ-
ভোলা জেলার নামকরণের পিছনে স্থায়ীভাবে
একটি লোককাহিনী প্রচলিত আছে যে, ভোলা
শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া বেতুয়া নামক খালটি
এখনকার মত অপ্রশস্ত ছিলনা। একসময় এটি পরিচিত
ছিল বেতুয়া নদী নামে। খেয়া নৌকার সাহায্যে
নদীতে পারাপার করা হত। বুড়ো এক মাঝি এখানে
খেয়া নৌকার সাহায্যে লোকজন পারাপার করতো।
তাঁর নাম ছিল ভোলা গাজী পাটনী। বর্তমানে
যোগীরঘোলের কাছেই তাঁর আস্তানা ছিল। এই
ভোলা গাজীর নামানুসারেই এক সময় স্থানটির নাম
দেয়া হয় ভোলা। সেই থেকে আজ অব্দী ভোলা
নামে পরিচিত।
৪. ঝালকাঠি জেলাঃ-
জেলার নামকরণের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এ জেলার
জেলে সম্প্রদায়ের ইতিহাস। মধ্যযুগ-পরবর্তী সময়ে
সন্ধ্যা, সুগন্ধা, ধানসিঁড়ি আর বিষখালী নদীর
তীরবর্তী এলাকায় জেলেরা বসতি স্থাপন করে। এর
প্রাচীন নাম ছিল ‘মহারাজগঞ্জ’। মহারাজগঞ্জের
ভূ-স্বামী শ্রী কৈলাশ চন্দ্র জমিদারি বৈঠক
সম্পাদন করতেন এবং পরবর্তীতে তিনি এ
স্থানটিতে এক গঞ্জ বা বাজার নির্মাণ করেন। এ
গঞ্জে জেলেরা জালের কাঠি বিক্রি করত। এ
জালের কাঠি থেকে পর্যায়ক্রমে ঝালকাঠি
নামকরণ করা হয় বলে ধারণা করা হয়। জানা যায়,
বিভিন্ন স্থান থেকে জেলেরা এখানে মাছ
শিকারের জন্য আসত এবং যাযাবরের মতো সুগন্ধা
নদীর তীরে বাস করত। এ অঞ্চলের জেলেদের
পেশাগত পরিচিতিকে বলা হতো ‘ঝালো’। এরপর
জেলেরা বন-জঙ্গল পরিষ্কার করে এখানে
স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তোলে। এভাবেই জেলে
থেকে ঝালো এবং জঙ্গল কেটে বসতি গড়ে তোলার
কারণে কাটি শব্দের প্রচলন হয়ে ঝালকাটি শব্দের
উৎপত্তি হয়। পরবর্তীকালে ঝালকাটি রূপান্তরিত হয়
ঝালকাঠিতে।১৯৮৪ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী
ঝালকাঠি পূর্ণাঙ্গ জেলার মর্যাদা লাভ করে।
৫. পটুয়াখালী জেলাঃ-
ঐতিহাসিক ঘটনাবলি থেকে জানা যায যে,
পটুয়াখালী চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের অন্তর্ভক্ত ছিল।
পটুয়াখালী নামকরণের পিছনে প্রায় সাড়ে তিনশত
বছরের লুন।টন অত্যাচারের ইতিহাস জড়িত আছে
বলে জানা যায়। পটুয়াখালী শহরের উত্তর দিক
দিয়ে প্রবাহিত নদীটি পূর্বে ভরনী খাল নামে
পরিচিত ছিল। ষোড়শ শতাব্দীর শুরু থেকে পর্তুগীজ
জলদস্যুরা এই খালের পথ দিয়ে এস সন্নিহিত
এলাকায় নির্বিচারে অত্যাচার হত্যা লুন্ঠন চালাত।
স্থানীয় লোকেরা এই হানাদারদের ‘নটুয়া’ বলত
এবং তখন থেকে খালটি নটুয়ার খাল নামে ডাকা
হয়। কথিত আছে, এই “নটুয়ার খাল” খাল থেকে
পরবর্তীতে এ এলাকার নামকরণ হয় পটুয়াখালী।
৬. পিরোজপুর জেলাঃ-
“ফিরোজ শাহের আমল থেকে ভাটির দেশের
ফিরোজপুর,
বেনিয়া চক্রের ছোয়াচ লেগে পাল্টে হলো
পিরোজপুর”
উপরোক্ত কথন থেকে পিরোজপুর নামকরণের একটা
সূত্র পাওয়া যায়। নাজিরপুর উপজেলার শাখারী
কাঠির জনৈক হেলাল উদ্দীন মোঘল নিজেকে
মোঘল বংশের শেয় বংশধর হিসেবে দাবি
করেছিলেন বলে জানা যায়। বাংলার সুবেদার
শাহ।। সুজা আওরঙ্গজেবের সেনাপতি মীর জুমলার
নিকট পরাজিত হয়ে বাংলার দক্ষিণ অঞ্চলে এসে
আত্মগোপন করেন। এক পর্যায়ে নলছিটি উপজেলার
সুগন্ধা নদীর পাড়ে একটি কেল্লা তৈরি করে
কিছুকাল অবস্থান করেন। মীর জুমলার বাহিনী
এখানেও হানা দেয়, শাহ সুজা তাঁর দুই কন্যাসহ
আরাকান রাজ্যে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি
অপর এক রাজার চক্রান্তে নিহত হন। পালিয়ে
যাওয়ার সময় তাঁর স্ত্রী ও এক শিশুপ্রত্র রেখে যান।
পরবর্তীতে তারা অবস্থান পরিবর্তন করে ধীরে
ধীরে পশ্চিমে চলে আসে এবং বর্তমান
পিরোজপুরের পাশ্ববর্তী দামোদর নদীর মুখে
আস্তানা তৈরি করেন। এ শিশুর নাম ছিল ফিরোজ
এবং তাঁর নামানুসারে হয় ফিরোজপুর। কালের
বিবর্তনে ফিরোজপুরের নাম হয় ‘পিরোজপুর’।
পিরোজপুর ১৯৫৯ সালের ২৮ অক্টোবর পিরোজপুর
মহকুমা এবং পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে জেলার
রূপান্তরিত হয়।
৫। রাজশাহী বিভাগঃ-
১. বগুড়া জেলাঃ-
১২৮১-১২৯০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লরি সুলতান
গিয়াসউদ্দীন বলবনের ২য় পুত্র সুলতান নাসিরউদ্দীন
বগরা খান বাংলার শাসনকর্তা নিযুক্ত হন। তাঁর
নামানুসারে বগুড়া জেলার নামকরণ করা হয়েছে।
২. জয়পুরহাট জেলাঃ-
জেলার নামকরণের সঠিক ইতিহাস খুঁজে পাইনি,
আপনাদের জানা থাকলে দয়া করে জানাবেন।
৩. নওগাঁ জেলাঃ-
নওগাঁ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে ‘নও’(নুতুন) ও ‘গাঁ
(গ্রাম) শব্দ থেকে শব্দ দুটি ফরাসী। নওগাঁ শব্দের
অর্থ হলো নুতুন গ্রাম। ১৯৮৪ সালে ১ মার্চ নওগাঁ ১১
টি উপজেলা নিয়ে জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ
করে।
৪. নাটোর জেলাঃ-
নাটোর জেলার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নারদ নদী
কথিত আছে এই নদীর নাম থেকেই ‘নাটোর’ শব্দটির
উৎপত্তি। ভাষা গবেষকদের মতে নাতোর হচ্ছে মুল
শব্দ। উচ্চারণগত কারণে নাটোর হয়েছে। নাটোর
অঞ্চল নিম্নমুখী হওয়ায় চলাচল করা ছিল প্রায়
অসম্ভব। জনপদটির দুর্গমতা বোঝাতে বলা হত
নাতোর। নাতোর অর্থ দুর্গম। আরেকটি জনশ্রুতি
আছে জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতার আমোদ-প্রমোদের
জন্য গড়ে উঠেছিল বাইজিবাড়ি, নটিপাড়া জাতীয়
সংস্কৃতি। এই নটি পাড়া থেকে নাটোর শব্দটির
উৎপদ্দি হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। ১৯৮৪ সালে
নাটোর পূর্ণাঙ্গ জেলা লাভ করে।
৫. নবাবগঞ্জ জেলাঃ-
‘চাপাইনবাবগঞ্জ’ নামটি সাম্প্রতিকালের।এই
এলাকা ‘নবাবগঞ্জ নামে পরিচিত ছিল। চাঁপাইগঞ্জ
নামকরণ সম্পর্কে জানা যায়, প্রাক-ব্রিটিশ আমলে
এ অঞ্চল ছিল মুর্শিদাবাদের নবাবদের বিহারভূমি
এবং এর অবস্থান ছিল বর্তমান সদর উপজেলার
দাউদপুর মৌজায়। নবাবরা তাঁদের পাত্র-মিত্র ও
পরিষদ নিয়ে এখানে শিকার করতে আসতেন বলে এ
স্থানের নাম হয় নবাবগঞ্জ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ নামের
ইতিবৃত্ত নবাব আমলে মহেশপুর গ্রামে চম্পাবতী
মতান্তরে ‘চম্পারানী বা চম্পাবাঈ’ নামে এক
সুন্দরী বাঈজী বাস করতেন। তাঁর নৃত্যের খ্যাতি
আশেপাশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি
নবাবের প্রিয়পাত্রী হয়ে ওঠেন। তাঁর নামানুসারে
এই জায়গার নাম ‘চাঁপাই”। এ অঞ্চলে রাজা
লখিন্দরের বাসভূমি ছিল। লখিন্দরের রাজধানীর
নাম ছিল চম্পক। চম্পক নাম থেকেই চাঁপাই।
ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর (১৮৮৫-১৯৬৯ খ্রি)
‘বাঙলা সাহিত্যের কথা’ গ্রন্থের প্রথম খন্ডে
বর্ণিত লাউসেনের শত্রুরা জামুতিনগর দিয়ে গৌড়ে
প্রবেশ করে। বর্তমান ভোলাহাট উপজেলার
জামবাড়িয়া পূর্বে জামুতিনগর নামে পরিচিত ছিল।
এসবের ওপর ভিত্তি করে কোনো কোনো গবেষক
চাঁপাইকে বেহুলার শ্বশুরবাড়ি চম্পকনগর বলে স্থির
করেছেন এবং মত দিয়েছেন যে, চম্পক নাম থেকেই
চাঁপাই নামের উৎপত্তি।
৬. পাবনা জেলাঃ-
‘পাবনা’ নামকরণ নিয়ে কিংবদন্তির অন্ত নেই। এক
কিংবদন্তি মতে গঙ্গার ‘পাবনী’ নামক পূর্বগামিনী
ধারা হতে পাবনা নামের উৎপত্তি হয়েছে। অপর
একটি সূত্রে জানা যায় ‘পাবন’ বা ‘পাবনা’ নামের
একজন দস্যুর আড্ডাস্থলই এক সময় পাবনা নামে
পরিচিতি লাভ করে। অপরদিকে কিছু ঐতিহাসিক
মনে করেন, ‘পাবনা’ নাম এসেছে ‘পদুম্বা’ থেকে।
কালক্রমে পদুম্বাই স্বরসঙ্গতি রক্ষা করতে গিয়ে বা
শব্দগত অন্য ব্যুৎপত্তি হয়ে পাবনা হয়েছে। ‘পদুম্বা’
জনপদের প্রথম সাক্ষাৎ মিলে খ্রিষ্টীয় একাদশ
শতকে পাল নৃপতি রামপালের শাসনকালে।
৭. রাজশাহী জেলাঃ-
এই জেলার নামকরণ নিয়ে প্রচুর মতপার্থক্য রয়েছে।
তবে ঐতিহাসিক অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়র মতে
রাজশাহী রাণী ভবানীর দেয়া নাম। অবশ্য মিঃ
গ্রান্ট লিখেছেন যে, রাণী ভবানীর জমিদারীকেই
রাজশাহী বলা হতো এবং এই চাকলার বন্দোবস্তের
কালে রাজশাহী নামের উল্লেখ পাওয়া যায়।
পদ্মার উত্তরাঞ্চল বিস্তীর্ন এলাকা নিয়ে পাবনা
পেরিয়ে ঢাকা পর্যন্ত এমনকি নদীয়া, যশোর,
বর্ধমান, বীরভূম নিয়ে এই এলাকা রাজশাহী চাকলা
নামে অভিহিত হয়। অনুমান করা হয় ‘রামপুর’ এবং
‘বোয়ালিয়া’ নামক দু’টি গ্রামের সমন্বয়ে
রাজশাহী শহর গ’ড়ে উঠেছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে
‘রামপুর-বোয়ালিয়া’ নামে অভিহিত হলেও
পরবর্তীতে রাজশাহী নামটিই সর্ব সাধারণের
নিকট সমধিক পরিচিতি লাভ করে। বর্তমানে আমরা
যে রাজশাহী শহরের সঙ্গে পরিচিত, তার আরম্ভ
১৮২৫ সাল থেকে। রামপুর-বোয়ালিয়া শহরের
নামকরণ রাজশাহী কী করে হলো তা নিয়ে বহু
মতামত রয়েছে। রাজাশাহী শব্দটি বিশ্লেষণ করলে
দুটি ভিন্ন ভাষার একই অর্থবোধক দুটি শব্দের
সংযোজন পরিলতি হয়। সংস্কৃত ‘রাজ’ ও ফারসি
‘শাহ’ এর বিশেষণ ‘শাহী’ শব্দযোগে ‘রাজশাহী’
শব্দের উদ্ভব, যার অর্থ একই অর্থাৎ রাজা বা
রাজা-রাজকীয় বা বা বাদশাহ বা বাদশাহী। তবে
বাংলা ভাষায় আমরা একই অর্থের অনেক শব্দ দু-
বার উচ্চারণ করে থাকি। যেমন– শাক-সবজি,
চালাক-চতুর, ভুল-ভ্রান্তি, ভুল-ত্র“টি, চাষ-আবাদ,
জমি-জিরাত, ধার-দেনা, শিক্ষা-দীক্ষা, দীন-
দুঃখী, ঘষা-মাজা, মান-সম্মান, দান-খয়রাত,
পাহাড়-পর্বত, পাকা-পোক্ত, বিপদ-আপদ ইত্যাদি।
ঠিক তেমনি করে অদ্ভূত ধরনের এই রাজশাহী শব্দের
উদ্ভবও যে এভাবে ঘটে থাকতে পারে তা মোটেই
উড়িয়ে দেয়া যায় না। এই নামকরণ নিয়ে অনেক
কল্পকাহিনীও রয়েছে। সাধারণভাবে বলা হয় এই
জেলায় বহু রাজা-জমিদারের বসবাস, এজন্য এ
জেলার নাম হয়েছে রাজশাহী। কেউ বলেন রাজা
গণেশের সময় (১৪১৪-১৪১৮) রাজশাহী নামের উদ্ভব।
১৯৮৪ সালে রাজশাহীর ৪টি মহকুমাকে নিয়ে
রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর এবং নবাবগঞ্জ- এই
চারটি স্বতন্ত্র জেলায় উন্নীত করা হয়।
৮. সিরাজগঞ্জ জেলাঃ-
বেলকুচি থানায় সিরাজউদ্দিন চৌধুরী নামক এক
ভূস্বামী (জমিদার) ছ

Address

Barishal

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Knowledge is need for life. posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category