23/06/2023
যাদের অগাধ টাকা-পয়সা। শত শত কোটি টাকার মালিক যারা, তাদের শখের কমতি নেই।
আমাদের শখগুলোও আমরা আমাদের আর্থিক সঙ্গতি অনুযায়ী নির্ধারণ করি। যে রিকশা চালায় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্ব-গতির এই বাজারে তার শখ হতে পারে শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়ে গরুর গোস্ত দিয়ে পেট পুরে ভাত খাওয়ার। কেউ ঈদের ছুটিতে কিংবা ভার্সিটি বন্ধ হলে কক্সবাজার বা সেন্টমার্টিন ট্যুর দেওয়ার প্লেন করে, এটাই তার শখ,ইচ্ছা, একটু বাড়তি আনন্দ পাওয়ার। এইতো কিছুদিন আগে আমার স্টুডেন্টের পরীক্ষা শেষ হল। তার এক বন্ধু এই ছুটিতে সিঙ্গাপুর থেকে ঘুরে আসল।
এভাবে প্রতিটি মানুষ তার শখ পূরণ করে, এখানে তার আর্থিক সামর্থ্য মেইন ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। কেউ নিজ ঘরে ভালো-মন্দ খাওয়ার মাঝেই তার রিফ্রেশমেন্ট খুঁজে পায়, কেউবা দেশের গন্ডি পাড়ি দিয়ে ঘুরে এসে রিফ্রেশ ফিল করে।
আবার যারা সমাজের সবচেয়ে উঁচু স্তরে বাস করে তাদের শখগুলো অদ্ভুত। এরা সারা বিশ্ব ঘুরে আসলেও তাদের সম্পত্তির হাজার ভাগের একভাগও খরচ হবে না। তাই এরা এখন মহাকাশে ঘুরে আসে শত কোটি টাকা খরচ করে।
আমরা ইউটিউবে টাইটানিকের বর্তমান অবস্থা দেখেই পুলকিত অনুভব করি। সেখানেও যাওয়া যায় বা কোন কোম্পানি সেখানে টাকার বিনিময়ে নিয়ে যায় এইটা আমরা জানি না, জানার প্রয়োজনও অনুভব করি না। কারণ আমরা জানি ওখানে যাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নই, তাই সেখানে যাওয়ার কোন তাড়না আমরা অনুভব করি না। এখন যাদের নিয়ে কথা হচ্ছে, যারা সমুদ্রের প্রায় চার কিলোমিটার নিচে ঢুবে থাকা টাইটানিক নিজ চোখে দেখার জন্য গিয়েছে তারা সবাই বিলিওনিয়ার। শত হাজার কোটি টাকার মালিক এরা। তাই তাদের শখগুলোর কোটি টাকার। একেকজন আড়াই লক্ষ ডলার গুনেছেন ওই পর্যন্ত যেতে।
কিন্তু দেখুন ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস হঠাৎ করে তারা 'আউট-অফ-সিগন্যালে' চলে গেলেন। তাদের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। প্রায় তিনদিন হয়ে গেল, আমেরিকা-কানাডা যৌথভাবে তাদের খুঁজে চলছে কিন্তু সমুদ্রের নিচে কোথায় তারা আটকে আছে এখনো জানা যায় নি। ছিয়ানব্বই ঘন্টার ভিতর অধিকাংশ সময় চলে গিয়েছে। তাদের খুঁজে পেয়ে জীবিত উদ্ধার করা যাবে কিনা তা এখন অনিশ্চিত।
আমি ভাবছি যেই চার বিলিওনিয়ার ওই ক্ষুদ্র যন্ত্রটার ভিতর আটকে পরে আছেন, তাদের মনের এখন কি অবস্থা। তারা হয়ত বুঝতে পারছেন তারা ভীষণ বিপদে পরেছেন, কয়েকঘন্টা পর অক্সিজেন শেষ হয়ে গেলে অক্সিজেনের অভাবে তাদের জীবন-প্রাণ বের হয়ে যাবে। সমুদ্রের উপর রেখে আসা শত শত কোটি টাকা তাদের জন্য একটু অক্সিজেন পাঠাতে পারছে না। জীবন কত অনিশ্চিত।
তাদের কেউ হয়ত কখনো ভাবতেও পারেনি এভাবে সামনে এসে মৃত্যু দাঁড়িয়ে যাবে। তারা জানবে আর একটু পরই চলে যেতে হবে, কিন্তু কিছুই করার থাকবে না। ছোট্ট এই জীবনে কেউ টাকা ইনকাম না করতে পারার হতাশা থেকে সুই*সাইড করে বসে আর কারো অধিকারে হাজার কোটি টাকা থাকা সত্ত্বেও অসহায় হয়ে মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
যারা সমুদ্রের নিচে আটকে পরে আছে তারা সবাই জীবিত অবস্থায় ফিরে আসুক, ফিরে এসে আমাদের তাদের মনের কথা শুনিয়ে যাক, এই প্রার্থনা।
Cp.